পল্লিকবি জসীমউদ্দীন ফরিদপুরের তাম্বুলখানা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
আলোচ্য পঙ্ক্তিতে কবি অনিষ্টকারীকে ক্ষমা করে তার উপকার করার কথা বলেছেন।
কবি প্রতিশোধ, প্রতিহিংসা আর হানাহানিতে বিশ্বাস করেন না। তিনি মহৎ হৃদয়ের মানুষ। শান্তিময়, নিরাপদ পৃথিবীর স্বপ্ন দেখেন বলেই তাঁর ঘর যে ভেঙেছে তিনি তাকেই ঘর তৈরি করে দিয়েছেন। অর্থাৎ শত্রুকে ক্ষমা করে পরম আপন করে নিয়েছেন।
অনিষ্টকারীকে ক্ষমা করে তার উপকার করার মধ্য দিয়ে ভালোবাসাপূর্ণ পৃথিবী বিনিমার্ণের প্রেক্ষিতে উদ্দীপকের রহিমউদ্দীনের সাথে 'প্রতিদান' কবিতার কবিভাবনার সাদৃশ্য রয়েছে।
'প্রতিদান' কবিতায় কবি অনিষ্টকারীকে ক্ষমা করে তার উপকার করার মাধ্যমে সুন্দর, নিরাপদ পৃথিবী নির্মাণ করতে চেয়েছেন। কবি তাকেই ঘর বেঁধে দিতে চেয়েছেন যে কবির ঘর ভেঙে দিয়েছে। যে কবিকে পর করেছে তাকেই কবি আপন করতে কেঁদে বেড়িয়েছেন। কবি বিষে-ভরা বাণের পরিবর্তে বুকভরা গান দিতে চেয়েছেন। মূলত কবি সমাজ-সংসারের যাবতীয় বিভেদ-হিংসা-হানাহানির বিপরীতে প্রেম ভালোবাসা ও উদারতার বার্তা পৌছাতে চেয়েছেন।
উদ্দীপকের রহিমউদ্দীন তার বড়ো ভাই সমিরউদ্দীন দ্বারা বাবার সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হয়। তবুও রহিমউদ্দীন তার ভাইকে ক্ষমা করে দেয় এবং ভাইয়ের বিপদে সাহায্যের হাত বাড়ায়। 'কোভিড-১৯'-এ আক্রান্ত সমিরউদ্দীন যখন সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন জীবনযাপন করছিল তখন রহিমউদ্দিন ভাইয়ের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করে। তাই বলা যায়, 'প্রতিদান' কবিতায় কবি যেমন অনিষ্টকারীকে ক্ষমা করে তার উপকারের মধ্য দিয়ে সর্বময়।
কল্যাণের কথা বলেছেন, উদ্দীপকের রহিমউদ্দীনও তেমনই চেতনা ধারণ করে বড়ো ভাইয়ের অপরাধ ক্ষমা করে তার সেবার ব্রত নিয়েছে
প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও উদ্দীপক ও 'প্রতিদান' কবিতার মূল লক্ষ্য মানবতার জয়গান।
'প্রতিদান' কবিতায় কবি ক্ষুদ্র স্বার্থকে বিসর্জন দিয়ে মানবতার বৃহৎ কল্যাণে আত্মনিয়োগের কথা বলেছেন। অন্যের উপকারের মধ্যেই ব্যক্তির প্রকৃত সুখ ও জীবনের সার্থকতা নিহিত বলে কবি মনে করেন। সমাজ-সংসারে বিদ্যমান বিভেদ-হিংসা-হানাহানি দ্বারা আক্রান্ত হলেও কবি সকল সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে মানবতার জয়গান গেয়েছেন।
উদ্দীপকের রহিমউদ্দীন বড়ো ভাই দ্বারা বাবার সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হয়েছে। কিন্তু এ কারণে সে বড়ো ভাইয়ের সাথে বিবাদে লিপ্ত হয়নি। বরং তাকে ক্ষমা করে দিয়েছে। তাছাড়া বড়ো ভাই 'কোভিড-১৯'-এ আক্রান্ত হলে ভাইয়ের সুস্থতার জন্য তার পাশে দাঁড়িয়েছে। অনিষ্টকারীর প্রতি ক্ষোভ পোষণ না করে তার প্রতি ভালোবাসার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার কথা 'প্রতিদান' কবিতায়ও বলা হয়েছে।
'প্রতিদান' কবিতায় কবি ক্ষমাশীলতা ও উদারতার পথ নির্দেশ করেছেন। কবিতায় কবি তাদের জন্য এগিয়ে এসেছেন যারা তার ক্ষতি করে। যারা তাঁকে কাঁদিয়েছে, তাদের মঙ্গলের জন্য তিনি আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন। বিষে-ভরা বাণ পেলেও কবি বুকভরা গান উপহার দিয়েছেন। অন্যদিকে উদ্দীপকে বড়ো ভাই দ্বারা শোষণের শিকার রহিমউদ্দীনের মহানুভবতা ফুটে উঠেছে। বড়ো ভাই সমিরউদ্দীন তাকে সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করলেও সে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সংক্রামক রোগে আক্রান্ত ভাইয়ের প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়েছে। তাই উদ্দীপক ও আলোচ্য কবিতার প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও মূল লক্ষ্য এক ও অভিন্ন। আর তা হলো প্রতিশোধ ও হিংসার মনোভাব পরিত্যাগ করে উদার ও মানবিক হয়ে ওঠা।
Related Question
View Allকি
অবিরাম,অনবরত। ।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!