জগদলে ম্যালেরিয়া রোগ কুখ্যাত ছিল।
'ঝিমুতে ঝিমুতে মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা করছে' বলতে মহারাজার কুকুর বেঙ্গল টাইগারের জীবনের নির্মম পরিণতি বোঝানো হয়েছে।
'নিয়তি' গল্পে বেঙ্গল টাইগার মহারাজার কুকুর। মহারাজা এ দেশ ছেড়ে ইন্ডিয়ায় চলে যাওয়ার সময় তার কুকুরগুলোও সঙ্গে নিয়ে গেছেন। তখন এই বেঙ্গল টাইগারই রাজবাড়ি ছেড়ে যেতে চায়নি। রাজার আদরে পালিত কুকুর আজ বয়সের ভারে কাবু হয়ে পড়েছে। এটির জীবনে এখন মৃত্যু ছাড়া আর কিছুরই প্রত্যাশা নেই। এই বিষয়টি বোঝাতেই লেখক বলেছেন, 'ঝিমুতে ঝিমুতে মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা করছে।'
উদ্দীপকের গৃহপালিত প্রাণীর আকস্মিক মৃত্যু এবং এর প্রতিক্রিয়ার দিকটি 'নিয়তি' গল্পের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। প্রাণীর প্রতি মমত্ববোধের কারণে অনেকেই নানা ধরনের প্রাণী পোষে। তারা পোষা প্রাণীর প্রতি আলাদা আকর্ষণ বোধ করে। অন্যদিকে এসব প্রাণীও, বিশেষ করে কুকুর মনিবের জন্য জীবন দিতে পারে।
'নিয়তি' গল্পে বেঙ্গল টাইগার মহারাজার গৃহপালিত এক কুকুর। সে নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বিষধর সাপের ছোবলের হাত থেকে লেখকের ছোট ভাইকে রক্ষা করে নিজেই ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যায়। কুকুরটির মৃত্যু ছোটবেলায় লেখকের মনে ভীষণ দাগ কাটে। উদ্দীপকের ফরিদ একটি গরুর খামার গড়ে তোলে এবং এর মাধ্যমে সে সাবলম্বী হয়। এই খামারের গরুগুলো তার জীবন- জীবিকার প্রধান অবলম্বনই শুধু নয়, এগুলো তার ভালোবাসারও অংশ। হঠাৎ ক্ষুরা রোগে আক্রান্ত হয়ে গরুগুলোর মৃত্যু তাকে হতবাক করে দেয়। ভালোবাসার প্রাণীগুলোকে হারিয়ে বেদনায় মুষড়ে পড়ার দিক থেকে উদ্দীপক এবং 'নিয়তি' গল্পের মিল পাওয়া যায়। গৃহপালিত জীবজন্তু মানুষের ভালোবাসার অংশ যে কখন হয়ে ওঠে তা মানুষও বুঝতে পারে না। এদের জন্য মানুষের জীবনে হঠাৎ ছন্দপতন ঘটতে পারে, যা উদ্দীপক ও 'নিয়তি' গল্পে দেখা যায়।
"'নিয়তি' গল্পের লেখকের বাবা এবং উদ্দীপকের ফরিদ উভয়ই নিয়তির শিকার।"- মন্তব্যটি যথার্থ।
নিয়তির ওপর মানুষের কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকে না। নিয়তির নিষ্ঠুর পরিহাসে কেউ হয় দরিদ্র প্রজা, আবার নিয়তিই কাউকে রাজা- মহারাজা বানায়। কখনো কখনো নিয়তি মানুষের জীবনের সুখ-দুঃখ নিয়ন্ত্রণকারী নিয়ামক হিসেবে কাজ করে।
'নিয়তি' গল্পে একটি কুকুরের নিষ্ঠুর নিয়তি তুলে ধরা হয়েছে। মহারাজার কুকুর বেঙ্গল টাইগার একসময় বীরদর্পে ঘুরে বেড়াত। পরবর্তী সময়ে বয়সের ভারে সে ঝিমুতে ঝিমুতে মৃত্যুর প্রহর গুনতে থাকে। কুকুরটি লেখকের ছোট ভাইকে সাপের ছোবল থেকে বাঁচাতে গিয়ে নিজেই সাপের বিষ দ্বারা আক্রান্ত হয়ে এক করুণ অবস্থায় পতিত হয়। অন্যদিকে উদ্দীপকের ফরিদও নিয়তির নির্মমতায় নিঃস্ব হয়। একটি গরুর খামার গড়ে তুলে সে স্বাবলম্বী হলেও নিয়তির নিষ্ঠুর পরিহাস- ক্ষুরা রোগে আক্রান্ত হয়ে তার সব গরু মারা যায়। সব হারিয়ে সে নির্বাক হয়ে যায়।
উদ্দীপকের ফরিদ নিয়তির কাছে অসহায়। 'নিয়তি' গল্পের বেঙ্গল টাইগার একসময় রাজকীয়ভাবে জীবন কাটালেও আজ তার সেই অবস্থা নেই, এখন সে মৃত্যুর প্রহর গুনছে। অবশেষে লেখকের বাবা তাকে সেই যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দিয়েছেন। যদিও এটি তার নির্মমতা নয়- কুকুরটির অবর্ণনীয় কষ্ট তাঁকে এই দিকে ঠেলে দিয়েছে। এসব দিক বিচারে তাই বলা যায় যে, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
Related Question
View All১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!