পৃথিবীর উৎপত্তি ও জীবনের উৎপত্তির ঘটনাপ্রবাহই হলো অভিব্যক্তি।
কৃত্রিম উপায়ে দেহের বাইরে শুক্রাণু ও ডিম্বাণুর মিলন ঘটিয়ে প্রাথমিক ভূণ সৃষ্ট করে তাকে স্ত্রীলোকের জরায়ুতে প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে শিশুর জন্ম হলে তাকে টেস্ট টিউব বেবি বলা হয়, দেহের বাইরে ডিম্বানু ও শুক্রানুর মিলন ঘটানোকে বলে ইনভিট্রো ফার্টিলাইজেশন।
উদ্দীপকে প্রথম বিজ্ঞানীর বিবর্তনবাদ বলতে ল্যামার্কের বিবর্তনবাদ বোঝানো হয়েছে। নিচে ল্যামার্কের বিবর্তনবাদ তত্ত্বের বিষয়গুলো ব্যাখ্যা করা হলো-
১. ব্যবহার ও অব্যবহারের সূত্র: ল্যামার্কের মতে, জীবের প্রয়োজনে
জীবদেহে কোনো নতুন অঙ্গের উৎপত্তি অথবা কোনো পুরনো অঙ্গের অবলুপ্তি ঘটতে পারে। তাঁর মতে, যদি কোনো জীবের কোনো অঙ্গ ধারাবাহিকভাবে ক্রমাগত ব্যবহৃত হয়, তবে সেই অঙ্গ পরিবেশের প্রয়োজনীয়তার জন্য ধীরে ধীরে সবল ও সুগঠিত হবে। অন্যদিকে, জীবের কোনো অঙ্গ পরিবেশের সাথে অপ্রয়োজনীয় হলে ঐ অঙ্গের আর ব্যবহার থাকে না। সুতরাং ক্রমাগত অব্যবহারের ফলে অঙ্গটি নিষ্ক্রিয় অঙ্গে পরিণত হবে এবং অবশেষে অবলুপ্ত হয়ে যাবে। ল্যামার্কের মতে, অঙ্গের ব্যবহার ও অব্যবহার জীবদেহে পরিবর্তন সূচিত করে, যা জীবের বংশপরম্পরায় অর্জিত বৈশিষ্ট্য।
২. পরিবেশের প্রভাব সদা পরিবর্তনশীল পরিবেশে জীব নিজেকে
উপযুক্তভাবে মানিয়ে নেয়ার জন্য সব সময় চেষ্টা করে। এটি জীবের একটি সহজাত প্রবৃত্তি। স্বাভাবিকভাবে পরিবর্তনশীল পরিবেশে নিজেকে অভিযোজিত করতে জীবদেহে নানা রকমের পরিবর্তন দেখা যায়। ল্যামার্কের মতে, পরিবেশের পরিবর্তন ঘটলে জীবের স্বভাব এবং দৈহিক পরিবর্তন ঘটে।
৩. অর্জিত বৈশিষ্ট্যের বংশানুসরণ ও নতুন প্রজাতির উৎপত্তি: ল্যামার্কের মতে, কোনো জীবের জীবনকালে যে সকল বৈশিষ্ট্য অর্জিত হয়, সেই সমস্ত বৈশিষ্ট্য এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজন্মে সঞ্চারিত হয় অর্থাৎ অর্জিত বৈশিষ্ট্যের বংশানুসরণ ঘটে।
উদ্দীপকে বর্ণিত দ্বিতীয় বিজ্ঞানী অর্থাৎ ডারউইনের দৃষ্টিতে প্রকৃতিতে সংঘটিত তত্ত্বগুলো নিচে দেওয়া হলো-
i.
অত্যধিক হারে বংশবৃদ্ধি: ডারইউনের মতে, অত্যধিক হারে বংশবৃদ্ধি করাই জীবের সহজাত বৈশিষ্ট্য।ii.
সীমিত খাদ্য ও বাসস্থান: ভূপৃষ্ঠের আয়তন সীমিত হওয়ায় জীবের বাসস্থান এবং খাদ্যও সীমিত।
iii. অস্তিত্বের জন্য সংগ্রাম: জীবের অত্যধিক হারে সংখ্যা বৃদ্ধি এবং
খাদ্য ও বাসস্থান সীমিত থাকায় জীবকে বেঁচে থাকার জন্য কঠিন প্রতিযোগিতার সম্মুখীন হতে হয়। ডারউইন এ ধরনের সংগ্রামকে "অস্তিত্বের জন্য সংগ্রাম" বলে অভিহিত করেছেন।
iv. প্রকরণ বা জীবদেহে পরিবর্তন: ডারউইনের মতে, পৃথিবীতে দুটি
জীব অবিকল একই ধরনের হয় না। এদের কিছু না কিছু পার্থক্য থাকে। জীব দুটির মধ্যে যে পার্থক্য থাকে, তাকে প্রকরণ বা
পরিবৃত্তি বলে। যোগ্যতমের জয়: ডারউইনের মতে, যেসব প্রকরণ জীবের জীবন
V. সংগ্রামের পক্ষে সহায়ক এবং পরিবেশের সঙ্গে অভিযোজনমূলক, তারাই কেবল বেঁচে থাকে, অন্যরা কালক্রমে পৃথিবী থেকে অবলুপ্ত হয়ে যায়।
vi.
প্রাকৃতিক নির্বাচন: অনুকূল প্রকরণ সমন্বিত জীবেরা প্রকৃতির দ্বারা নির্বাচিত হলে তুলনামূলক বেশি সংখ্যায় বেঁচে থাকে এবং অত্যধিক হারে বংশবৃদ্ধি করে। অন্যান্য জীব ধীরে ধীরে অবলুপ্ত হয়।
vii. নতুন প্রজাতির উৎপত্তি: সুবিধাজনক প্রকরণযুক্ত জীবেরা
নিজেদেরকে পরিবেশের সাথে মানিয়ে নিতে পারে এবং অযোগ্যদের তুলনায় বেশি হারে বংশবিস্তারের মাধ্যমে নতুন প্রজাতির উৎপত্তি ঘটে।
Related Question
View All"জীবন্ত জীবাশ্ম" বলতে এমন কিছু জীবিত অর্গানিজম বোঝায় যাদের বিশেষ কোনো বৈশিষ্ট্যের কারণে তারা জীবাশ্মের মতো দেখায় কিন্তু তারা আসলে জীবিত। এটি সাধারণত কিছু প্রজাতির উদ্ভিদ ও প্রাণীকে নির্দেশ করে, যেমন:
মরীচিকা জীবাশ্ম (Living Fossils): কিছু জীবন্ত প্রজাতি, যেমন গিঞ্জো গাছ বা কোয়ালাক্যান্থ মাছ, যারা অনেক পুরানো জীবাশ্মগুলোর সাথে অতি সাদৃশ্যপূর্ণ, কিন্তু তারা আজও জীবিত।
বিশেষ পরিবেশে টিকে থাকা জীব: কিছু প্রজাতি যেমন সামুদ্রিক জীব বা এডাপটিভ প্রজাতি যে পরিবেশ পরিবর্তনের প্রতি খুব কম সাড়া দেয়, তারা আজও টিকে আছে এবং জীবাশ্মের মতো দেখতে পারে।
এটি একটি গবেষণার বিষয় হিসেবে অনেক গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি জীববৈচিত্র্য এবং প্রজাতির বিবর্তন সম্পর্কে মূল্যবান তথ্য সরবরাহ করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!