যে প্রক্রিয়ায় মাটিতে থাকা গ্যাসের সাথে বায়ুমণ্ডলে থাকা বাতাসের গ্যাসের বিনিময় হয় অর্থাৎ বায়ুমণ্ডলের গ্যাস মাটিতে যায় এবং মাটিতে থাকা গ্যাস বায়ুমণ্ডলে চলে আসে সে প্রক্রিয়াকেই বায়বায়ন বলে।
হরাইজোন হলো মাটির স্তর। মাটির গঠন পর্যবেক্ষণ করলে এতে প্রধানত ৪টি স্তর দেখতে পাওয়া যায়। এসব স্তরের এক একটিকে এক একটি হরাইজোন বলা হয়। সবার উপরে যে স্তর থাকে তাকে টপ সয়েল বলা হয়। এই স্তরের মাটি বালুময় হয়। যে কারণে খনিজসমূহ পানির সাথে নিচের স্তরে চলে যায়। নিচের এই স্তরকে সাবসয়েল বলা হয়। এই স্তরে উপর থেকে আসা খনিজ পদার্থ প্রচুর পরিমাণে থাকে। এরপরের স্তরে শিলার রূপান্তর ঘটতে থাকে। এই স্তরে বড় এবং কঠিন শিলাসমূহ ছোট এবং তুলনামূলকভাবে নরম শিলাতে রূপান্তরিত হতে থাকে। এই স্তরের ঠিক নিচে পাওয়া যায় কঠিন শিলা স্তর। কঠিন শিলা স্তরের উপর মূলত ভূপৃষ্ঠের সবকিছু দাঁড়িয়ে আছে। এভাবে হরাইজোন স্তরগুলো তৈরি হয়।
বকুলদের এলাকার মাটি হচ্ছে বালু মাটি। বালু মাটির প্রধান বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এদের পানি ধারণক্ষমতা খুবই কম। এই মাটিতে বিদ্যমান মাটির কণার আকার সবচেয়ে বড় থাকে। এর ফলে কণাগুলোর মাঝে ফাঁকা জায়গা থাকে। এ কারণে এ মাটিতে বায়বায়ন অনেক বেশি হয়। বালু মাটিতে খুবই অল্প পরিমাণ শিলা ও খনিজ পদার্থ থাকে। এই মাটিতে যদি হিউমাস থাকে তবে তা চাষাবাদের জন্য উপযোগী হয়। বালু মাটিতে পানি খুব তাড়াতাড়ি নিষ্কাশিত হয়ে যায় বলে এ মাটি চাষাবাদের জন্য তেমন উপযোগী নয়। এটিই বালু মাটির প্রধান সমস্যা। উপরে উল্লেখিত বালু মাটির সকল বৈশিষ্ট্যই বকুলদের এলাকার মাটিতে উপস্থিত। তাই বলা যায় বকুলদের এলাকার মাটি হচ্ছে বালু মাটি।
উদ্দীপকে শাহীনদের এলাকার মাটির বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী এ মাটির কণাগুলো আকারে ছোট এবং জৈব ও খনিজ পদার্থ সমৃদ্ধ। উল্লেখিত বৈশিষ্ট্য পলিমাটির বৈশিষ্ট্যের সাথে মিলে যায়। পলিমাটি খুবই উর্বর হয়। এই মাটির কণাগুলো বালু মাটির কণার আকারের তুলনায় ছোট হয়। মূলত এই মাটির কণাগুলো খুবই ছোট বলে পানিতে ভাসমান অবস্থায় থাকে এবং এক পর্যায়ে জমিতে পড়ে স্তর সৃষ্টি করে। ছোট মাটির কণা বেশি পরিমাণে পুষ্টি উপাদান ধরে রাখতে পারে। একারণেই বালুমাটির
তুলনায় পলি মাটিতে পুষ্টি উপাদান বেশি থাকে। পলিমাটি বেশি পরিমাণে পানি ধরে রাখতে পারে। যা বালু মাটি পারে না। পানি উদ্ভিদের জন্য অত্যাবশ্যকীয় একটি উপাদান। এজন্য বালু মাটির তুলনায় পলিমাটিতে উদ্ভিদের জন্য প্রয়োজনীয় পানি বেশি সহজলভ্য হয়।
সুতরাং, সকল দিক বিবেচনায় বালু মাটি অপেক্ষা পলি মাটি উদ্ভিদের অর্থাৎ ফসলের জন্য বেশি উপযুক্ত। অতএব, বকুল ও শাহীনদের এলাকার মধ্যে শাহীনদের এলাকাতে ফসল ভালো ফলবে।
Related Question
View All১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!