'সেইদিন এই মাঠ' কবিতায় খেয়ানৌকাগুলো চরের খুব কাছে এসে লেগেছে।
প্রশ্নোক্ত উক্তিটি দ্বারা বোঝানো হয়েছে, বিচিত্র বিবর্তনের মধ্যেও প্রকৃতি তার রূপ-রস-গন্ধ কখনই হারিয়ে ফেলে না। কবি যখন থাকবেন না তখনও প্রকৃতি তার অফুরন্ত ঐশ্বর্য নিয়ে মানুষের স্বপ্ন, সাধ ও কল্পনাকে তৃপ্ত করে যাবে।
পৃথিবীতে মানবকল্যাণের বাণী বা কল্যাণকর্ম কোনোকিছুই বিলীন হয় না। শুধু ব্যক্তি হারিয়ে যায়। কারও মৃত্যুতেই পৃথিবীর গতিময়তা ও প্রকৃতির স্বাভাবিকতার কোনো ব্যাঘাত ঘটে না। কবি মনে করেন তিনি না থাকলে লক্ষ্মীপেঁচার গান বন্ধ হবে না। পৃথিবীর সবকিছুই স্বাভাবিক নিয়মে চলবে।
উদ্দীপকটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের বর্ণনা এবং প্রকৃতির চিরন্তন বহমানতার বিষয়টির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
প্রকৃতি তার রূপ-রস-গন্ধ নিয়ে চির প্রবহমান। প্রকৃতির সৌন্দর্য চিরন্তন এবং আপন গতিতে গতিময়। এর বিচিত্র গন্ধ, সৌন্দর্যের আস্বাদ, মৃদুমন্দ কোলাহলের মায়াবী আবেশ কখনো ম্লান হওয়ার নয়। প্রকৃতির সৌন্দর্য চিরকালীন, চির নতুন।
উদ্দীপকের কবিতাংশে প্রকৃতির মায়াময় শোভা বর্ণনা করা হয়েছে। বিস্তৃত বনবনানীর অপরূপ সৌন্দর্য, ফুলের সুবাস, আলো-ছায়ার খেলা দেখে কবির মনে হয় এ যেন কোনো পরির দেশ। এই অনাবিল সৌন্দর্যের দিকটি 'সেইদিন এই মাঠ' কবিতার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও প্রকৃতির চির প্রবহমানতার মধ্যে প্রকাশ পেয়েছে। কবিতায় কবি অবিনশ্বর প্রকৃতির চিরকালীন রূপটি আমাদের সামনে তুলে ধরেছেন মাঠের চঞ্চলতা, চালতাফুলের সৌন্দর্য, লক্ষ্মীপেঁচার কণ্ঠের মঙ্গলবার্তা, খেয়ানৌকার চলাচল ইত্যাদি বিষয়ের বর্ণনার মাধ্যমে। আলোচ্য কবিতায় বর্ণিত প্রকৃতির এই চিরকালীন সৌন্দর্য ও বহমানতার সঙ্গে উদ্দীপকটির সাদৃশ্য রয়েছে।
উদ্দীপকের চেয়ে 'সেইদিন এই মাঠ' কবিতার ভাব আরও তাৎপর্যপূর্ণ- মন্তব্যটি যথার্থ।
মানুষের তৈরি কোনো বস্তু টিকে থাকে না, প্রকৃতি টিকে থাকে। মানবজীবন প্রকৃতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারে না। চির বহমানতা প্রকৃতির ধর্ম, যাকে দেশকালের সীমা দিয়ে বিচার করা যায় না।
উদ্দীপকে প্রকৃতির চির সৌন্দর্যময় রূপের খণ্ডচিত্র প্রকাশিত হয়েছে। বনবনানীর বিশালতা, ফুলের অনাবিল শোভা, আলো-ছায়ার মায়াময় খেলা ইত্যাদি বিষয় উঠে এসেছে। এ বিষয়টি 'সেইদিন এই মাঠ' কবিতায়ও প্রকাশ পেয়েছে। তবে প্রকৃতির এ সৌন্দর্য ও চির বহমানতার বিষয়টি এ কবিতার খন্ডাংশের ধারকমাত্র। এটি ছাড়াও কবিতায় আরও অনেক ভাব ও বিষয় রয়েছে যেগুলো উদ্দীপকে নেই।
'সেইদিন এই মাঠ' কবিতায় প্রকৃতির চিরকালীন সৌন্দর্যের বর্ণনার পাশাপাশি আরও কিছু বিষয় ও ভাবের সমাবেশ ঘটেছে। এখানে কবির মৃত্যুচেতনা, প্রকৃতির চির প্রবহমানতা প্রকাশ পেয়েছে। কবি এ কবিতায় একদিকে ক্ষয়িষ্ণু সভ্যতা এবং অন্যদিকে তার বিনির্মাণের কথা বলেছেন। মরণশীল ব্যক্তিমানুষ মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। কিন্তু প্রকৃতিতে থাকে চিরকালীন ব্যস্ততা। প্রকৃতপক্ষে মানুষের মৃত্যু আছে, প্রকৃতির সৌন্দর্যের মৃত্যু নেই। একইভাবে মানুষের স্বপ্নেরও মরণ নেই। কবিতার এসব ভাব উদ্দীপকটি ধারণ করতে পারেনি। এসব দিক বিচারে তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
Related Question
View All১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!