ঈশ্বরের গুণাবলি নিচে বর্ণনা করা হলো-
১. ঈশ্বর হলেন পরম স্রষ্টা এবং সর্বশক্তিমান।
২. তাঁর ক্ষমতা অসীম এবং তিনি সকল শক্তির উৎস।
৩. তিনি দয়াময়, কৃপাময় এবং করুণাময়। অর্থাৎ সবার প্রতি দয়া ও কৃপা করেন।
৪. ঈশ্বর নিরাকার। তাঁকে চোখে দেখা না গেলেও তিনি একই সাথে সর্বত্র বিরাজমান।
তিনি জীবের মধ্যে আত্মারূপে অবস্থান করেন
অপরূপ সুন্দর এই পৃথিবীতে যা কিছু রয়েছে সবকিছুই ঈশ্বরের সৃষ্টি। মানুষ, গাছপালা, ফুল-ফল, জীব-জন্তু, পশু-পাখি, কীটপতঙ্গ, চন্দ্র-সূর্য, গ্রহ-নক্ষত্র, পাহাড়-পবর্ত, নদ-নদী, আকাশ-বাতাশ, মরু-প্রান্তর-এ সবকিছুর স্রষ্টা হলেন ঈশ্বর। তিনি নিজের অসীম ক্ষমতা দিয়ে এই সবকিছু সৃষ্টি করেছেন। -কেবল এই পৃথিবী নয়, পৃথিবীর বাইরেও যা কিছু আছে সবকিছুই তার সৃষ্টি এবং নিয়ন্ত্রণাধীন। এজন্যই বলা হয়, তিনিই পৃথিবীর সবকিছুর নিয়ন্ত্রক। তিনি আমাদের সৃষ্টি করেছেন এবং লালন-পালন করে আমাদের মঙ্গল করেন।
ঈশ্বর ও জীবের মধ্যে অত্যন্ত গভীর সম্পর্ক বিদ্যমান। ঈশ্বর হলেন স্রষ্টা বা সৃষ্টিকতা, আর জীব হলো তার সৃষ্টি। ঈশ্বর আমাদের সৃষ্টি করেছেন এবং লালন-পালন করেন। আমাদের দেহের ভিতর ঈশ্বর আত্মারূপে থাকেন। তাই সব জীবকে ঈশ্বরের অংশ বলে মনে করা হয়। ঈশ্বর আমাদের মেঙ্গাল করেন। তাই আমাদের উচিত তাঁকে শ্রন্থা, ভক্তি ও ভালোবাসা জানানো। সব জীবকে ভালোবাসা মানেই ঈশ্বরের সৃষ্টিকে ভালোবাসা এবং জীবসেবাই হলো ঈশ্বরসেবা।
আমাদের পাঠ্যাংশে উদ্ধৃত স্বামী বিবেকানন্দের বাণীটি হলো-"বহুরূপে সম্মুখে তোমার, ছাড়ি কোথা খুঁজিছ ঈশ্বর? জীবে প্রেম করে যেই জন, সেই জন সেবিছে ঈশ্বর।"
উপাসনা একটি নিত্যকর্ম। তবে উপাসনা করার আগে দেহ ও মনকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হয়। এরপর পূর্ব বা উত্তর দিকে মুখ করে সোজা হয়ে বসতে হয়। বসার জন্য বিশেষ আসন ব্যবহার করা হয়। যেমন- পদ্মাসন ও সুখাসন। এরপর একাগ্রচিত্তে ঈশ্বরের নাম স্মরণ করে তাঁর ধ্যান, জপ ও-প্রার্থনা করতে হয়। উপাসনায় ভক্তিভরে ঈশ্বরের গুণগান, স্তব-স্তুতি ও কীর্তন করা হয়। ঈশ্বরের প্রতি শ্রদ্ধা, কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা প্রকাশ করা হয় এবং তাঁর আশীর্বাদ প্রার্থনা করা হয়। প্রতিদিন সকাল, দুপুর ও সন্ধ্যায় উপাসনা করতে হয়। একা একাগ্রচিত্তে উপাসনা করা যায়, আবার অনেকের সঙ্গে মিলেও করা যায়।
উপাসনার একটি দিক হচ্ছে প্রার্থনা। প্রার্থনা করার আগে নিজেকে পবিত্র (শুচি) করতে হয়। এরপর ধীরস্থির হয়ে বসতে হয়' এবং মনে বিনয়ী ভাব রাখতে হয়। ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করার জন্য হাত জোড় করে তাঁকে ডাকতে হয় এবং তাঁর গুণকীর্তন করতে হয়। প্রার্থনায় নিজের ভালো চাওয়ার পাশাপাশি অন্যের ভালো ও সকল জীবের কল্যাণ কামনা করতে হয়। ভালো মানুষ হওয়া এবং সৎ পথে চলার শক্তি, চেয়েও প্রার্থনা করা হয়। যেকোনো অবস্থায়, নীরবে বা সরবে, একা রা সমবেতভাবে ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করা যায়।
আমাদের পাঠ্যাংশ থেকে প্রার্থনা মন্ত্রটি সরলার্থসহ নিচে লেখা হলো-
অসতো মা সাময়
তমসো মা জ্যোতির্গময় মৃত্যোর্মা অমৃতং গময়।
(বৃহদারণ্যক উপনিষদ, ১/৩/২৮)
সরলার্থ: আমাকে অসৎ থেকে সতে নিয়ে যাও। অন্ধকার থেকে আলোতে নিয়ে যাও। মৃত্যু থেকে অমৃতে নিয়ে যাও।
ব্যক্তি ও সমাজজীবনে উপাসনা ও প্রার্থনার গুরুত্ব অপরিসীম। কেননা-
১. উপাসনা ও প্রার্থনার মাধ্যমে আমরা সৎ ও ধার্মিক হতে পারি।
২. ঈশ্বরকে ভালোবাসতে ও শ্রদ্ধা করতে পারি।
৩. ভালোবাসতে পারি ঈশ্বরের সৃষ্টিকে।
৪. কাজের প্রতি আমাদের মনোযোগ বাড়ে।
৫. দেহ-মন ভালো থাকে।
আমাদের পাঠ্যাংশ অবলম্বনে দেবী দুর্গার প্রণাম মন্ত্রটি
নিচে সরলার্থসহ লেখা হলো-
শরণাগতদীনার্ত পরিত্রাণপরায়ণে।
সর্বস্যার্তিহরে দেবি নারায়ণি নমোহস্তু তে।
(শ্রীশ্রীচণ্ডী, ১/১১)
সরলার্থ: হে দেবী, শরণগত, দরিদ্র ও পীড়িতজনের পরিত্রাণকারিণী,
সকলে দুঃখবিনাশিনী, হে নারায়ণি, তোমাকে নমস্কার।
পৃথিবীর সবকিছু সৃষ্টি করেছেন সর্বশক্তিমান ঈশ্বর। তিনি পরম স্রষ্টা, যার ইচ্ছায় এই বিশ্ব ও জীবজগতের সৃষ্টি ও পরিচালনা হয়। তাই তাঁর প্রতি আমাদের যেসব কর্তব্য রয়েছে নিচে তা পাঁচটি বাক্যে লেখা হলো-
১. তাঁর প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও ভক্তিপূর্ণ হতে হবে।
২. তাঁকে বিশ্বাস ও ভালোবাসতে হবে।
৩. তাঁর সৃষ্টিকে ভালোবাসতে হবে।
৪. তাঁর প্রতি আস্থাশীল হতে হবে।
৫. তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে হবে।
আমাদের ঈশ্বরের প্রতি আস্থাশীল হওয়া উচিত। কারণ তিনি আমাদের শ্রদ্ধা এবং সকল শক্তির উৎস। তিনি আমাদের সৃষ্টি করেছেন। তিনি আমাদের লালন-পালন করেন এবং তিনিই আমাদের মঙ্গল করেন। তিনি দয়াময়, কৃপাময় ও করুণাময়। তাঁর অসীম ক্ষমতা এবং সমগ্র সৃষ্টি তাঁর নিয়ন্ত্রণাধীন। এই কারণে তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে, তাঁকে বিশ্বাস করে এবং ভালোবেসে আমাদের আস্থাশীল হওয়া প্রয়োজন।
Related Question
View Allঅপরূপ সুন্দর আমাদের এই পৃথিবী।
সব কিছুর একজন স্রষ্টা বা সৃষ্টিকর্তা আছেন।
ঈশ্বর জীবের মধ্যে আত্মারূপে অবস্থান করেন।
ঈশ্বর ও তাঁর সকল সৃষ্টিকে ভালোবাসা আমাদের কর্তব্য।
উপাসনা শব্দের অর্থ নিকটে বসা।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!