মহান আল্লাহর চারটি গুণবাচক নাম।
১. আররাহমানু )اَرَّحْمٰن( : রাহমানুন (كَرِيمٌ) অর্থ পরম الرَّحْمَنُ করুণাময়। মহান আল্লাহ তার সকল সৃষ্টির প্রতি অত্যন্ত দয়াবান। তার অসীম দয়ার কোনো তুলনা হয় না। তিনি ফল-ফসল, আলো-বাতাস, মেঘ-বৃষ্টি-পানি দিয়ে আমাদের বাঁচিয়ে রাখেন। মহান আল্লাহর এসব দান সবার জন্য। পৃথিবীতে কেউ করুণা দান থেকে বঞ্চিত হয় না।
২. আলখালিকু )اَلْخَالِيُّ(: খালিকুন )خَالِيٌّ( অর্থ সৃষ্টিকর্তা। মহান আল্লাহ বিশ্বজগতের সবকিছুর সৃষ্টিকর্তা। এ পৃথিবী তারই সৃষ্টি। পৃথিবীতে রয়েছে মানুষ, গাছপালা, পাহাড়-পর্বত, নদ-নদী, সাগর-মহাসাগর, পশু-পাখি ফুল-ফল, বন-বনানীসহ আরও কত কিছু। সবকিছু তিনিই সৃষ্টি করেছেন।
৩. আলকারীমু )الكَرِيمُ( : কারীমুন )کَرِيمْ( অর্থ মহাসম্মানিত। 'বিশ্বজগতে মহান আল্লাহ সকল সম্মানের অধিকারী। তার মর্যাদা অতি সুমহান।
৪. আলগাফুরু )الغَفُورُ গাফুরুন ((غَفُورٌ)) অর্থ অতিশয় ক্ষমাশীল। আমরা অপরাধ করে অনুতপ্ত হয়ে মহান আল্লাহর কাছে আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাইলে তিনি যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন। আল্লাহ ক্ষমাশীলদের পছন্দ করেন।
দৈনন্দিন জীবনে ইবাদতের গুরুত্ব অপরিসীম। ব্যক্তিগত জীবনে ইবাদত আমাদের আত্মাকে পরিশুদ্ধ করে। আমাদের মনে প্রশান্তি নিয়ে আসে। ইবাদতের মাধ্যমে আমরা সময়ানুবর্তিতা ও নিয়মানুবর্তিতার অনুশীলন করতে পারি। নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধের চর্চা করতে শিখি। ইবাদত 'আমাদের উত্তম আচরণ অনুশীলন করতে অনুপ্রাণিত করে। ইবাদত পরিবারের সদস্যদের নৈতিক মূল্যবোধের বিকাশ ঘটায়। সকলে মিলে ইবাদত পালনের ফলে পরিবারের সকলের মধ্যে সম্ভাব ও সম্প্রীতি তৈরি করে। পরিবারে শান্তি ও সৌহার্দপূর্ণ পরিবেশ বিরাজ করে। পারস্পরিক স্নেহ-ভালোবাসা ও বন্ধন সুদৃঢ় হয়। ইবাদত সমাজে পারস্পরিক ঐক্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ সৃষ্টি করে। জাকাত, সদকা (দান) ও কুরবানি সমাজ থেকে দারিদ্র্য দূর করে। সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করে। এর মাধ্যমে মুসলমানগণ একে অন্যের সহায়তায় এগিয়ে আসে। জাকাত আদায়ের মাধ্যমে দেশপ্রেমের। পরিচয় ফুটে ওঠে। জাকাত আদায় করলে সমাজ ও রাষ্ট্র থেকে দারিদ্র্য ও শ্রেণিবৈষম্য দূর হয়। এতে দেশের কল্যাণ হয়।
ইমানে মুফাসসালের সাতটি বিষয় ক্রমানুসারে লেখা হলো-
১. মহান আল্লাহর প্রতি ইমান বা বিশ্বাস।
২. ফেরেশতাগণের প্রতি বিশ্বাস।
৩. আসমানি কিতাবসমূহে বিশ্বাস।
৪. রাসুলগণের প্রতি বিশ্বাস।
৫. শেষ দিবস বা কিয়ামতের দিবসের প্রতি বিশ্বাস।
৬. তাকদির বা ভাগ্যের ভালো-মন্দ আল্লাহর পক্ষ থেকে হয়ে থাকে এর প্রতি বিশ্বাস।
৭. মৃত্যুর পর পুনরুত্থানের প্রতি বিশ্বাস।
দুই রাকাত বিশিষ্ট সালাত আদায়ের নিয়ম-
দুই রাকাত সালাত আদায়ের জন্য আমরা নিচের নিয়মগুলো অনুসরণ করব-
১. ওজু করব।
২. পবিত্র পোশাক পরিধান করব।
৩. পবিত্র জায়গায় কিবলার দিকে মুর্খ করে সোজা হয়ে দাঁড়াব (আমাদের কিবলা হচ্ছে কাবা শরিফ, এটি মক্কা নগরীতে অবস্থিত)।
চিত্র: সালাতের শুরুতে কিবলামুখী হয়ে দাঁড়ানোর পদ্ধতি
৪. নিয়ত করব (নিঃশব্দে মনে মনে বলাই যথেষ্ট, শব্দ করে বলা জরুরি নয়)
৫. 'আল্লাহু আকবার' বলে সালাত শুরু করব (সালাতের শুরুতে এভাবে 'আল্লাহু আকবার' বলাকে তাকবির-ই-তাহরিমা বলে)
৮. এরপর সানা পড়ব। সানা অর্থ 'প্রশংসা'। সালাতে সানা পাঠ করা সুন্নত। সানা হলো- "সুবহানাকা আল্লাহুম্মা ওয়া বিহামদিকা ওয়া তাবারাকাসমুকা ওয়া তায়ালা জাদ্দুকা ওয়া লা ইলাহা গাইরুকা।"
৯. (আউযুবিল্লাহি মিনাশ শায়ত্বানির রাজিম এবং বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম) পড়ব।
১০. সূরা ফাতিহা পাঠ করব। অতঃপর অন্য কোনো সম্পূর্ণ সূরা বা সূরার অংশ পাঠ করব।
১১. আল্লাহু আকবার বলে রুকু করব। রুকুতে অন্তত তিনবার (সুবহানা রাব্বিয়াল আজিম) পড়ব।
রুকু করার নিয়ম: রুকুতে দুই হাত দুই হাঁটুর উপর
এমনভাবে রাখতে হবে যাতে মাথা, পিঠ ও কোমর এক বরাবর হয়। কনুই পাঁজর থেকে ফাঁকা করে রাখতে হবে।
মেয়েরা বাম পায়ের টাখনু ডান পায়ের টাখনুর সঙ্গে মিলিয়ে রাখবে। এরপর মাথা ঝুঁকিয়ে দুই হাতের আঙুলগুলো মেলানো অবস্থায় দুই হাঁটুর উপর রাখবে। কনুই পাঁজরের সঙ্গে মিলিয়ে রাখবে এবং মাথা এতটুকু ঝুঁকাবে যাতে হাত হাঁটু পর্যন্ত পৌঁছায়।
এরপর (সামিয়াল্লাহু লিমান হামিদাহ) বলে সোজা হয়ে দাঁড়াতে হবে। দাঁড়ানো অবস্থায় বলতে হবে (রাব্বানা লাকাল হামদ)। এরপর (আল্লাহু আকবার) বলে সিজদা করতে হবে।
সিজদা করার নিয়ম: ভূমিতে প্রথমে দুই হাঁটু রাখতে হবে।
তারপর দুই হাত রাখতে হবে। এরপর দুই হাতের মাঝখানে মাথা রেখে নাক ও কপাল রাখতে হবে। সিজদার সময় দুই হাতের আঙুলগুলো মিলিত অবস্থায় কিবলামুখী করে রাখতে হবে। উভয় পা খাড়া করে রাখতে হবে। তবে মেয়েরা পা খাড়া রাখবে না। তাদের উভয় পা ডান দিকে করে মাটিতে বিছিয়ে রাখবে। সর্বাঙ্গ মিলিত অবস্থায় সিজদা করবে।
সিজদায় অন্তত তিনবার (সুবহানা রাব্বিয়াল আ'লা) বলতে হয়। এরপর (আল্লাহু আকবার) বলে সোজা হয়ে বসে দুই হাত হাঁটুর উপরে রাখবে। তারপর (আল্লাহু আকবার) বলে দ্বিতীয় সিজদা করবে এবং পূর্বের মতো তাসবিহ পড়বে। এরপর (আল্লাহু আকবার) বলে সোজা হয়ে দাঁড়াতে হবে। এভাবে প্রথম রাকাত শেষ হবে। এরপর দ্বিতীয় রাকাত শুরু হবে। দ্বিতীয় রাকাতেও প্রথম রাকাতের মতো যথারীতি সূরা ফাতিহা ও অন্য সূরা বা সূরার অংশ পড়তে হবে। তারপর রুকু ও সিজদা করে সোজা হয়ে বসতে হবে। এরপরে তাশাহহুদ, দরুদ ও দু'আ মাসুরা পড়বে। এরপর প্রথমে ডানে ও পরে বাম দিকে মুখ করে সালাম ফিরাবে। সালামের বাক্য হলো (আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ)। এভাবে দুই রাকাত বিশিষ্ট সালাত শেষ হবে।
উদাহরণসহ 'জযম'-এর ব্যবহার: কোনো হরফে যবর, যের বা পেশ না থাকা অবস্থায় হরফটিকে পূর্বের হরফের সঙ্গে যুক্ত করে উচ্চারণ করতে যে চিহ্ন ব্যবহার করা হয় তাকে জযম বলে। জযম (^) যুক্ত হরফকে সাকিন বলে। জযমের আকৃতি বিভিন্ন রকমের হয়। যেমন, এএ। জযমযুক্ত হরফকে পূর্বের হরফের সঙ্গে মিলিয়ে উচ্চারণ করতে হয়। আমরা যদি হরকতযুক্ত মিম-এর সঙ্গে জযমযুক্ত নুনকে যুক্ত করি তাহলে উচ্চারণ হবে-

সূরা আল-কুরাইশ-এর তাৎপর্য: সূরা আল-কুরাইশ
পবিত্র কুরআনের ১০৬তম সূরা। এ সূরার রুকুর সংখ্যা একটি এবং আয়াত সংখ্যা চারটি। সূরাটি মক্কায় অবতীর্ণ হয়।
এ সূরায় মহান আল্লাহ কুরাইশ বংশের ওপর তার নেয়ামতের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তাদেরকে তার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ ও ইবাদত করার নির্দেশ দেন। কুরাইশরা মহান আল্লাহর ঘর কাবার খাদেম ছিল। এ কারণে তারা সম্মানিত, ছিল। ব্যবসার উদ্দেশ্যে তারা আরবের বিভিন্ন অঞ্চলে গমন করত। কারা শরিফের খাদেম হওয়ায় আরবের অন্যান্য গোত্রগুলো তাদেরকে আক্রমণ করত না। তাদের বাণিজ্যপথে কোনো রকম বাধা-বিপত্তি সৃষ্টি করত না। এটি ছিল মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশেষ নেয়ামত। এ সূরায় কুরাইশদের এ নেয়ামতের জন্য কৃতজ্ঞতাস্বরূপ তার ইবাদত করার নির্দেশ দিয়েছেন।
পবিত্র কুরআন মহানবি (স.)-এর ওপর নাজিলকৃত কিতাব। প্রধান চারখানা আসমানি কিতাবের মধ্যে এ কিতাব সর্বশেষ। সালাতে পবিত্র কুরআন থেকে তিলাওয়াত করা ফরজ। তাই সহিহ (শুদ্ধ) করে কুরআন শেখা আবশ্যক। মহানবি (স.) বলেছেন, "তোমাদের মধ্যে সে উত্তম যে নিজে কুরআন শিখে এবং অপরকে তা শেখায়।” (সহিহ বুখারি) পবিত্র কুরআন শুধু তিলাওয়াত করতে পারলেই হবে না, তা সহিহ (শুদ্ধ) হতে হবে। নির্দিষ্ট নিয়ম জেনে কুরআন ব্যবহৃত বর্ণের সঠিক উচ্চারণ করতে হয়। শুদ্ধভাবে কুরআন তিলাওয়াতের গুরুত্ব সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেন, "আপনি কুরআন আবৃত্তি করুন ধীরে ধীরে ও সুস্পষ্টভাবে।" (সূরা আল-মুযযাম্মিল, আয়াত: ৪)
আল্লাহ তায়ালার সিফাতি বা গুণবাচক নামসমূহকে একত্রে 'আল-আসমাউল হুসনা' বা সুন্দরতম নামসমূহ বলা হয়। প্রিয়নবি (স.)-এর মতে, যে ব্যক্তি আল্লাহর এই নিরানব্বইটি নাম মুখস্থ করবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। এই নামগুলো আল্লাহর সঠিক পরিচয় তুলে ধরে। আল্লাহর গুণবাচক নামগুলোর মাধ্যমে আমরা মহান আল্লাহর পরিচয় এবং আমাদের প্রতি তার অনুগ্রহ সম্পর্কে জানতে পারি। আল্লাহর গুণাবলি সম্পর্কে জেনে আমরা সেসব গুণ নিজেদের জীবনে রূপায়িত করতে পারি। যেমন- আল্লাহর 'রাহমান' গুণ দ্বারা উদ্বুদ্ধ হয়ে আমরা সকলের প্রতি দয়া প্রদর্শন করতে পারি। এভাবে আল্লাহর গুণে গুণান্বিত হয়ে আমরা ভালো কাজ করতে উৎসাহ পাই।
রাজ্জাক' শব্দের অর্থ হলো রিজিকদাতা। আমরা প্রতিদিন
যা কিছু পান করি এবং আহার করি, তার সবই হলো মহান আল্লাহর দেওয়া রিজিক্। জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় সকল উপাদান যেমন- খাদ্য, সুস্থতা ও ধন-সম্পদ সবই এই রিজিকের অন্তর্ভুক্ত। মহান আল্লাহ কেবল মানুষেরই নন, বরং পৃথিবীর সকল পশু-পাখি ও জীবজন্তুর রিজিকদাতা। তিনি আমাদের জন্য ভাত, মাছ, দুধ, ফলমূলসহ নানা রকমের সুস্বাদু খাবারের ব্যবস্থা করেছেন। আকাশ থেকে বৃষ্টি বর্ষণ করে তিনি জমিনকে সজীব করেন এবং শস্য ও ফল উৎপাদন করেন। আল্লাহর দেওয়া এই রিজিক খেয়েই পৃথিবীর সকল প্রাণী বেঁচে থাকে।
'সামিউন' অর্থ সর্বশ্রোতা এবং 'বাছীরুন' অর্থ সর্বদ্রষ্টা। মহান আল্লাহ সবকিছু দেখেন এবং সবকিছু শোনেন, এমনকি আমাদের মনে মনে বলা কথাও তিনি শোনেন। তার দৃষ্টি ও শ্রুতির বাইরে মহাবিশ্বের কোনো কিছুই গোপন থাকে না।
আমরা যদি বিশ্বাস করি আল্লাহ সবসময় আমাদের দেখছেন, তবে আমরা যেকোনো মন্দ বা অন্যায় কাজ করা থেকে বিরত থাকব। আমাদের কথাবার্তা ও কাজকর্মে আমরা সবসময় সত্য ও ন্যায়ের পথে থাকার চেষ্টা করব। কোনো গোপন অপরাধ করার সময় আল্লাহর ভয় আমাদের মনে জাগ্রত হরে। এই বিশ্বাসের ফলে আমাদের চরিত্রে সততা ও দায়িত্বশীলতা বৃদ্ধি পাবে।
ইমান (إيمان) অর্থ বিশ্বাস। আর মুফাসসাল )مُفَضَّلْ( অর্থ বিস্তারিত। ইমানে মুফাসসাল হলো ইমানের বিষয়গুলোর বিস্তারিত বিবরণ। প্রত্যেক মুসলমানকে কতকগুলো মূল বিষয়ের ওপর বিশ্বাস (ইমান) স্থাপন করতে হয়। ইমানে মুফাসসালে সে বিষয়গুলো বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইমানে মুফাসসালের বাংলা অর্থ: আমি ইমান আনলাম আল্লাহর প্রতি, তার ফেরেশতাগণের প্রতি, তার কিতাবসমূহের প্রতি এবং তার রাসুলগণের প্রতি। আরও ইমান আনলাম শেষ দিবসের প্রতি ও তকদিরের ভালো-মন্দ আল্লাহর পক্ষ থেকে হয়ে থাকে-এর প্রতি এবং মৃত্যুর পর পুনরুত্থানের প্রতি।
ইসলামে প্রধান ইবাদতগুলো ব্যতীত কুরআন ও হাদিসে পালন করার আদেশ রয়েছে এমন ৬টি ইবাদত হলো-
১. সকল মানুষের সঙ্গে উত্তম আচরণ করা।
২. বড়োদের সম্মান করা ও ছোটোদের স্নেহ করা।
৩: সর্বদা সত্য কথা বলা।
৪. রোগীর সেবা করা।
৫. পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত করা।
৬. বিসমিল্লাহ বলে কাজ শুরু করা।
সালাত শুরু করার আগের জরুরি কাজগুলোকে সালাতের আহকাম বা শর্তসমূহ বলা হয়। সালাতের আহকাম মোট সাতটি, যেমন- শরীর পবিত্র হওয়া, কাপড় পবিত্র হওয়া এবং জায়গা পবিত্র হওয়া। আহকামগুলো সঠিকভাবে পালন না করলে সালাত আদায় শুদ্ধ হয় না।
. সালাত আল্লাহর কাছে কবুল হওয়ার জন্য নির্ধারিত শর্তগুলো বা আহকামসমূহ পূরণ করা অত্যন্ত জরুরি। সঠিক ওয়াক্তে সালাত আদায় করা এবং কিবলামুখী হওয়া সালাতের অন্যতম প্রধান শর্ত। আহকাম পালনের মাধ্যয়ে একজন মানুষ পবিত্রতা এবং শৃঙ্খলার শিক্ষা লাভ করে। তাই নির্ভুল্ল্ভাবে সালাত আদায়ের জন্য প্রতিটি আহকাম পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে মেনে চলতে হয়।
সালাতের ভিতরের গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোকে আরকান বা সালাতের ভিত্তি বলা হয়। সালাতের আরকান মোট ছয়টি, যার শুরু হয় তাকবির-ই-তাহরিমা দিয়ে এবং শেষ হয়' শেষ বৈঠকের মাধ্যমে। আরকানসমূহ সালাতের অবিচ্ছেদ্য অংশ যা. শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পালন করতে হয়।
সালাত সঠিকভাবে সম্পাদন করার জন্য এর প্রতিটি আরকান বা ভিত্তি যথাযথভাবে আদায় করা ফরজ। দাঁড়িয়ে সালাত পড়া, কুরআন তিলাওয়াত করা, রুকু ও সিজদা করা সালাতের প্রাণস্বরূপ। কোনো একটি আরকান বাদ পড়লে সালাত পরিপূর্ণ হয় না এবং তা পুনরায় আদায় করতে হয়। আরকানসমূহ পালনের মাধ্যমে সালাতে একাগ্রতা এবং আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আনুগত্য প্রকাশ পায়।
সিজদা করার সময় ভূমিতে প্রথমে দুই হাঁটু, তারপর দুই হাত এবং সবশেষে নাক ও কপাল রাখতে হয়। সিজদায় অন্তত তিনবার 'সুবহানা রাব্বিয়াল আ'লা' বলতে হয় এবং দুই পা খাড়া রাখতে হয়। সিজদা হলো সালাতের একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আরকান।
সিজদা হলো আল্লাহর কাছে নিজের চরম বিনয় ও আনুগত্য প্রকাশ করার প্রধান মাধ্যম। সিজদা করার সময় কনুই পাঁজর থেকে এবং পেট উরু থেকে আলাদা রাখতে হয়। সঠিকভাবে সিজদা করলে সালাত প্রাণবন্ত হয় এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভকরা যায়। সিজদার মাধ্যমে সালাতের একাগ্রতা বৃদ্ধি পায় এবং ইবাদতের সৌন্দর্য ফুটে ওঠে।
সালাতে পবিত্র কুরআন থেকে তিলাওয়াত করা ফরজ, তাই কুরআন শুদ্ধ বা সহিহ হওয়া আবশ্যক। শুদ্ধ তিলাওয়াত ছাড়া সালাত আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য হয় না। মহানবি (স.) কুরআন শেখা ও শেখানোর ওপর অনেক গুরুত্ব দিয়েছেন।
কুরআন শুদ্ধভাবে তিলাওয়াত না করলে শব্দের অর্থ বিকৃত হয়ে যেতে পারে, যা সালাতকে নষ্ট করে দেয়। বর্ণের। সঠিক. উচ্চারণ এবং হররুতের ব্যবহার জানার মাধ্যমে তিলাওয়াত সুন্দর ও সহিহ হয়। শুদ্ধ। তিলাওয়াতের মাধ্যমে আমরা কুরআনের সঠিক মর্মার্থ বুঝতে পারি এবং আমাদের, ইমান সুদৃঢ় হয়। তাই প্রতিটি মুসলিমের উচিত ছোটোবেলা থেকেই তাজবিদসহ কুরআন শেখা।
আরবিতে কোনো কোনো হরফ টেনে পড়তে হয়। এই টেনে পড়াকে মাদ্দ বলে। যথা- مَا ليس الله ইত্যাদি। মাদ্দ-এর হরফ (বর্ণ) তিনটি। যথা- আলিফ ওয়াও এবং ইয়া ।
১. যবর -এর পরে আলিফ থাকলে এক আলিফ পরিমাণ টেনে পড়তে হয়। যেমন-
২. যের-এর পরে জযমযুক্ত ইয়া থাকলে এক আলিফ পরিমাণ টেনে পড়তে হয়। যেমন-।
৩. পেশ এর পরে; (জযমমুক্ত ওয়াও) থাকলে এক আলিফ পরিমাণ টেনে পড়তে হয়। যেমন- بو
সূরা আল-কুরাইশ পবিত্র কুরআনের ১০৬তম সূরা, যা মক্কায় অবতীর্ণ হয়েছে এবং এর আয়াত সংখ্যা চারটি। এই সূরায় আল্লাহ কুরাইশ বংশের ওপর তার অসীম নেয়ামতের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। কুরাইশরা কাবা শরিফের খাদেম হওয়ায় আরবে বিশেষ মর্যাদা লাভ করত।
এই সূরা থেকে আমরা শিখি যে আল্লাহ আমাদের যে নেয়ামত দান করেছেন তার জন্য কেবল তাত্রই ইবাদত করা উচিত। আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্য ও জানমালের যে নিরাপত্তা তিনি দেন, তার জন্য তার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা আমাদের কর্তব্য। আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করলে তিনি আমাদের ওপর আরও নেয়ামত বৃদ্ধি করে দেন। তাই সর্বাবস্থায় কেবল আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা এবং তার আনুগত্য করাই মুমিনের কাজ।
Related Question
View Allআল-আসমাউল হুসনা' অর্থ হলো সুন্দরতম নামসমূহ l
ইমানে মুফাসসাল হলো ইমানের বিষয়গুলোর বিস্তারিত বিবরণ।
কেউ বিপদে পড়লে তাকে সাহায্য করাও ইবাদত
যের' এর পরে জযমযুক্ত 'ইয়া' থাকলে এক আলিফ পরিমাণ টেনে পড়তে হয়।
সালাতে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত করা ফরজ
আকাইদ একটি আরবি শব্দ। এটি একটি বহুবচন, যার একবচন হলো আকিদা।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!