গির্জায় আমি অনেক ধরনের ভালো কাজ ও উপহার দিতে পারি। আমি প্রথমে ঈশ্বরের কাছে আন্তরিক প্রার্থনা করতে পারি। প্রার্থনার মাধ্যমে ঈশ্বরের সঙ্গে আমার আন্তরিক বন্ধনকে আরও শক্ত করতে পারি। সেই সাথে আমি গির্জায় আমার মূল্যবান সময় দিতে পারি। যদি কেউ গির্জায় গান গাইতে চায় তাহলে বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে সাহায্য করতে পারি। অন্যদের বাইবেল পড়ে শোনাতে পারি। আমি আমার প্রতিভা দিয়ে গির্জাকে আরও সুন্দর করতে পারি। গির্জার জন্য টাকা, খাবার ও কাপড় দান করতে পারি। সবার প্রতি ভলোবাসা ও ভদ্র আচরণ দেখাতে পারি। ঈশ্বরের পথ অনুসরণ করাও একটি বড়ো উপহার। এভাবে আমি গির্জাকে আমার দানের মাধ্যমে শক্তিশালী করতে পারি।
আমার পরিবার আমাকে দান করার ব্যাপারে উৎসাহ দেয়। কারণ তারা নিজেরাই একটি উদাহরণ। তাদের কাছ থেকে আমি দান করার ব্যাপারে শিক্ষা পেয়েছি। আমি তাদেরকে দান করার ব্যাপারে আমার আদর্শ হিসেবে মনে করি। কারণ তারা আমাকে শিখিয়েছেন দান করার উপকারিতা। তারা বলেছেন যেন আমি দান করার মাধ্যমে নিজেকে মহান মনে না করি। নিঃস্বার্থভাবে যেন আমি দান করি। তাদের শিক্ষা হলো আমি যদি দান করি তা যেন নিজেকেই উপকার করছি। দান করার মাধ্যমে যীশুর ভালোবাসা অন্যের কাছে পৌঁছে দিচ্ছি। তাই আমার পরিবার আমাকে দান করার ব্যাপারে উৎসাহ দেয়।
আমি আজও বুঝতে পারি যে যীশু অলৌকিক কাজ করেন। যীশু আমাদের জীবন বদলে দেন। আর তা একটি বড়ো আশ্চর্য শক্তি। যখন আমি প্রার্থনা করি, যীশু উত্তর দেন। এতে আমি বুঝতে পারি যে যীশু এখনও কাজ করছেন। অনেক মানুষ অসুস্থতা থেকে সুস্থ হয়ে যায় যীশুর দয়ায়। কেউ দুঃখের বা ভয়ের সময় শান্তি পায়। সেটিও যীশুর আশ্চর্য কাজ'। যীশু এখনও আমাকে বিপদ থেকে রক্ষা করেন। তিনি আমাকে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার জ্ঞান দেন। আমি দুঃখের মধ্যেও সাহস পাই। এভাবেই আমি বুঝতে পারি যে, যীশু এখনও আশ্চর্য কাজ করেন।
আমি যীশুর উদারতা বুঝে অন্যদের প্রতি উদারতা দেখাতে পারি। প্রথমে, আমি অসহায় ও দরিদ্রদের সাহায্য করতে পারি। আমরা অসুস্থ রা দুঃখী মানুষকে খুশি করার চেষ্টা করতে পারি। আমি সকলের প্রতি ভালোবাসা দেখাতে পারি। যারা আমাকে কষ্ট দেয় তাদের আমি ক্ষমা করতে পারি। আমার পরিবার ও বন্ধুদের জন্য প্রার্থনা করতে পারি। খাবার, কাপড় বা সময় শেয়ার করেও সাহায্য করতে পারি। আমি সবার সাথে ভদ্র ও সম্মানজনকভাবে আচরণ করতে পারি। মানুষকে উৎসাহিত ও সান্ত্বনা দেওয়ার জন্য মধুর কথা বলতে পারি। এসব কাজের মাধ্যমে আমি যীশুর উদারতা অন্যের মধ্যে প্রকাশ করতে পারি।
যীশু' বলেছেন যারা তাঁকে অনুসরণ করতে চায়, তাকে নিজেদের ক্রুশ বহন করতে হবে। ক্রুশ বহন করা মানে হলো কঠিন সময়েও ধৈর্য ধরে ঈশ্বরের কথা মানা। এর মানে হলো নিজের স্বার্থের চেয়ে অন্যদের ভালোবাসা ও সাহায্যকে গুরুত্ব দেওয়া। আমি আমার জীবনে অসুস্থ ও দরিদ্রদের সেবা করেছি। আমি আমার সময়, খাবার ও অন্যান্য জিনিস অন্যদের সঙ্গে ভাগ করি। আমি বন্ধুদের জন্য প্রার্থনা করি এবং তাদের ভালোবাসা দেখাই। আমি নরম মধুর কথা বলি এবং সবাইকে সম্মান করি। কঠিন সময়েও আমি ধৈর্য ধরে বিশ্বাস রাখি। আমি অহংকার করি না, নম্র ও দয়ালু হই। এভাবে আমি যীশুর শিক্ষা মেনে চলি এবং সত্যিকারের জীবন লাভ করি।
যদি আমার কোনো সহপাঠীর সমস্যা থাকে আমি তাদের কথা মন দিয়ে শুনর। আমি তাদের অনুভূতি বুঝতে চেষ্টা করব। তাদের জন্য প্রার্থনা করব এবং ঈশ্বরের সাহায্য চাইব। তাকে উৎসাহমূলক কথা বলব যাতে সে ভালো অনুভব করে। আমি ধৈর্য ধরে তাদের পাশে থাকব। বন্ধু হিসেবে তার প্রতি সদয় ও সহানুভূতিশীল থাকব। তার সকল সমস্যার কথা ধৈর্য সহকারে শুনব যাতে সে নিজেকে চিন্তামুক্ত করতে পারে। এভাবেই আমি আমার সহপাঠীকে সাহায্য করতে পারব।
যীশু এক বিশ্রামবারে সমাজগৃহে শিক্ষা দিচ্ছিলেন। তখন একজন নুলো লোক তার সামনে আসে। তখন যীশু তাকে সবার সামনে সুস্থ করলেন। তবে সেখানে উপস্থিত ফরিসিরা যীশুর এই কাজে খুশি হননি। তারা যীশুর নিন্দা করতে লাগল। তবে আমি যদি সেখানে উপস্থিত থাকতাম তাহলে যীশুকে ধন্যবাদ দিতাম। কারণ একজন অসুস্থ লোককে সুস্থ করা কোনো অপরাধ নয়। আমি তার কাজের জন্য তাকে সাধুবাদ জানাতাম। কারণ তিনি একটি মহৎ কাজ করেছেন। এভাবেই আরও অনেকে সুস্থ হওয়ার জন্য যীশুর কাছে আসত।
সুমনের গল্প থেকে প্রতিবেশীকে নিজের মতো করে ভালোবাসার শিক্ষা পেয়েছি। সেই সাথে তাদের অসুস্থতার জন্য প্রার্থনা করাও শিখেছি। সুমনের মতো সবসময় সত্যের পথে চলব। কারণ আমি এভাবে আমার প্রতিবেশীকে নিজের মতো ভালোবাসতে পারব। সে তার অসুস্থ প্রতিবেশীর অসুস্থতার সময় তাকে দেখতে গিয়েছে এবং তার জন্য প্রার্থনা করেছে। এতে তার প্রতিবেশী মনোবল পেয়েছেন। সেই সাথে সুমন সত্যের পথ বেছে নিয়েছে। সে তার দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেনি। তবে মিথ্যা কথা বলেনি। আমিও তার মতো আমার প্রতিবেশীকে ভালোবাসব। সবসময় সত্য কথা বলব। আমার কোনো ভুল হলে আমি স্বীকার করব। কিন্তু মিথ্যা কথা বলব না।
যীশুর শিশুদের প্রতি ভালোবাসা দেখে আমি অনেক গুরুত্বপূর্ণ জিনিস শিখেছি। প্রথমত, তিনি দেখিয়েছেন যে, প্রতিটি শিশু খুব মূল্যবান। তিনি কখনো কাউকে ছোটো মনে করেননি। এতে আমি শিখি যে, আমাকেও সবাইকে সম্মান করতে হবে। দ্বিতীয়ত, যীশু শিশুদের খুব আদর ও যত্ন করতেন। তাই আমিও ছোটোদের ভালোবাসব ও আদর করব। তৃতীয়ত, যীশু বলেছেন যে, শিশুদের মতো সরল ও সৎ হওয়া ভালো। এতে আমি বুঝি যে, মনের সরলতা খুব গুরুত্বপূর্ণ। চতুর্থত, তিনি শিশুদের রক্ষা করতেন কারণ তারা দুর্বল। শেষ পর্যন্ত, যীশুর এ ভালোবাসা আমাকে শেখায় যে দয়া, ভালোবাসা ও বিনয়ী হওয়া আমার জীবনে খুব দরকার।
সুরেশের ব্যবহার আমাকে অন্যের প্রতি পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধে অনুপ্রাণিত করেছে। পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ আমাকে অনেকভাবে অনুপ্রাণিত করে। এটি আমাকে শেখায় যে সবাইকে সম্মান করা খুব জরুরি। আমি বুঝতে পারব যে, বড়ো বা ছোটো সবাই সমান মূল্যবান। স্কুলে আমি আমার বন্ধুদের সঙ্গে ভদ্রভাবে কথা বলব। বাড়িতে আমি বাবা-মা ও পরিবারের সদস্যদের কথা মন দিয়ে শুনব। রাস্তায় বা খেলাধুলায়ও আমি সবার সঙ্গে ভালো আচরণ করব। যখন কেউ আমাকে সম্মান করবে, আমিও তাকে সম্মান দিতে শিখব। এতে আমাদের মধ্যে বন্ধুত্ব আরও বাড়বে। এটি আমাকে শান্ত ও ধৈর্যশীল হতে শেখাবে। আমি জানর যে, সম্মান দিলে মানুষ সুখী হয়। তাই আমি প্রতিদিন সবার সঙ্গে সমান ও ভদ্রতার সঙ্গে আচরণ করার চেষ্টা করব।
পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ দেখানোর জন্য আমি অনেক ভালো কাজ করতে পারি। আমি সবার সঙ্গে ভদ্রভাবে কথা বলতে পারি। কেউ কথা বলার সময় তাকে থামিয়ে দেব না। কেউ যদি কিছু বলে আমি মনোযোগ দিয়ে শুনব। আমি বড়োদের সম্মান করব এবং ছোটোদের ভালোবাসব। বন্ধুদের সঙ্গে খেলতে গিয়ে আমি ন্যায্যভাবে খেলব। কারো জিনিস আমি অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করব না। কেউ ভুল করলে আমি রাগ করব না, বরং তাকে সাহায্য করব। আমি সবার মতামতকে গুরুত্ব দিব। স্কুলে আমি শিক্ষক ও সহপাঠীদের কথা শুনব। বাড়িতে বাবা-মার কথা অনুযায়ী চলব। আমি প্রতিদিন চেষ্টা করব যেন আমার আচরণে সবাই বুঝতে পারে যে, আমি তাদের সম্মান করি।
যীশু লাজারের মৃত্যুর সময় মার্থার প্রতি অনেক সহানুভূতি দেখিয়েছেন। যখন লাজার মারা গেল, মার্থা খুব ভেঙে পড়ে। সে যীশুকে বলল যে, যদি তিনি এখানে থাকতেন তবে তার ভাই মারা যেত না। যীশু তার দুঃখ বোঝেন এবং তাকে সান্ত্বনা দিলেন। তিনি তাকে আশ্বাস দিলেন যে, লাজার আবার জীবিত হবে। তিনি মার্থার' বিশ্বাসকে শক্তি দিলেন এবং তাকে সাহসী হতে সাহায্য করলেন। তিনি শুধু লাজারকে বাঁচাননি; বরং মার্থার দুঃখ ও উদ্বেগও ভাগ করেছেন। এতে মার্থা যীশুর সহানুভূতি দেখে শান্তি পেল। যীশু তাকে শেখালেন ঈশ্বরের ওপর বিশ্বাস রাখা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি মার্থার হৃদয় বুঝে-ধৈর্য এবং ভালোবাসা দেখিয়েছেন।
চন্দনা ও মোহনার মধ্যে ভালোবাসার সম্পর্ক ছিল। কারণ যখন চন্দনার বাবা অসুস্থ ছিল তখন মোহনা তাকে দেখতে যায়। সে লক্ষ করেছিল যে, চন্দনা দুই দিন ধরে স্কুলে আসেনি। তার বাবা যেহেতু একজন ডাক্তার, তাই সে চন্দনার বাবাকে সুস্থ করতে পারবে। তখন সে সময় নষ্ট না করে তার বাবাকে নিয়ে আসে। তিনি প্রয়োজনীয় ওষুধ দেন এবং ওষুধ সেবন করেই চন্দনার বাবা সুস্থ হয়ে ওঠেন। তাই বলা যেতে পারে যে, তাদের মধ্যে ভালোবাসার সম্পর্ক, ছিল। এই ভালোবাসা জন্ম হয়েছে সহানুভূতি থেকে। কারণ মোহনা তার বান্ধবী চন্দনার জন্য সহানুভূতি প্রকাশ করেছে। তার বান্ধবীর -কষ্টের সময়ে সে তাকে ছেড়ে যায়নি। তাই শেষে বলা যায়, তাদের মধ্যে ভালোবাসার সম্পর্ক ছিল।
আমি আমার জীবনে অনেকভাবে সহানুভূতি দেখাতে পারি। যারা দুঃখে আছে তাদের সাহায্য করব। আমি তাদের কথা মন দিয়ে শুনব। যদি কেউ কষ্টে থাকে, আমি তাকে সাহস দেব। আমি বড়োদের ও ছোটোদের সাথে ভদ্রভাবে আচরণ করব। আমি আমার বন্ধুদের সমস্যা বোঝার চেষ্টা করব। যদি কেউ ভুল করে, আমি তাকে রাগ দেখাব না; বরং বুঝিয়ে সাহায্য করব। আমি দুঃখী বা অসহায় প্রাণীরও যত্ন নেব। স্কুলে আমার সহপাঠীদের সাথে সদয় আচরণ করব। বাড়িতে আমার পরিবারকে সাহায্য করব এবং তাদের ভালো রাখার চেষ্টা করব। আমি সবাইকে সম্মান ও ভালোবাসা দেখাব। শেষ পর্যন্ত আমি চেষ্টা করব যেন আমার প্রতিটি কাজ-অন্যদের আনন্দ ও শান্তি দিতে পারে।
দেশপ্রেমকে একটি মহৎ গুণ হিসেবে গণ্য করা হয় কারণ এটি একজন মানুষকে ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে দেশের কল্যাণে কাজ করতে অনুপ্রাণিত করে। এটি দেশ ও দেশের মানুষের প্রতি গভীর ভালোবাসা, ভক্তি এবং আনুগত্যের অনুভূতি থেকে উৎসারিত হয়। দেশপ্রেমের মহত্ত্বের বিভিন্ন দিক নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:
- প্রকৃত দেশপ্রেমিক দেশের স্বার্থরক্ষায় নিজের সুখ, স্বাচ্ছন্দ্য, এমনকি জীবন পর্যন্ত উৎসর্গ করতে পিছপা হন না।
- দেশপ্রেম মানুষকে সংকীর্ণতা ও স্বার্থপরতা থেকে মুক্ত করে।
- দেশপ্রেম নাগরিকদের মধ্যে দায়িত্ববোধ ও কর্তব্যনিষ্ঠা তৈরি করে।
- দেশপ্রেম একটি জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে একটি অভিন্ন লক্ষ্যে পৌঁছতে সাহায্য করে।
- দেশপ্রেমিক নাগরিকেরা দেশের অবকাঠামো, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং টেকসই উন্নয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে উৎসাহিত হয়।
প্রকৃত দেশপ্রেম দেশের ভালো ও মঙ্গলের জন্য কাজ করার অনুপ্রেরণা দেয় এবং একই সাথে মানবিক মূল্যবোধকে সমুন্নত রাখে। তাই বলা যায়, দেশপ্রেম একটি মহৎ গুণ, যা একটি জাতিকে উন্নত ও সমৃদ্ধ করার পাশাপাশি মানবতাকে মহিমান্বিত করে।
আমি আমার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের জন্য অনেক কাজ করতে পারি। আমি ভালোভাবে পড়াশোনা করব এবং সব কাজ ঠিকভাবে করব। আমি আমার ক্লাসরুম এবং স্কুল পরিষ্কার রাখব।. আমার সহপাঠীদের সাহায্য করব যদি তারা কোনো বিষয় বুঝতে না পারে। স্কুলে বিভিন্ন প্রোগ্রাম, প্রতিযোগিতা এবং অনুষ্ঠানে অংশ নেব। স্কুলের সব নিয়ম মেনে চলব এবং অন্যদেরও মানতে উৎসাহ দেব। আমার শিক্ষক এবং বড়োদের কথা মন দিয়ে শুনব। স্কুলের বাগান ও গাছের যত্ন নিব। আমি নতুন ধারণা বা পরামর্শ দিয়ে স্কুলের কার্যক্রম উন্নত করতে সাহায্য করব। সবসময় সৎ ও দয়ালু আচরণ করব। আমি চেষ্টা করব যেন আমার ভালো আচরণ অন্যদের জন্য উদাহরণ হয়। এভাবে আমি আমার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন করতে পারি।
সাফিরা ও আনানিয়াসের অন্যায় থেকে আমি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা নিতে পারি। ন্যায়ের পথে চলা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমি সবসময় সত্য, সততা, সাহস ও নৈতিকতার পথে চলাফেরা করব। আমি কোথায় অন্যায় দেখলে নীরব না থেকে শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করব এবং সর্বদা ন্যায়ের সমর্থ করে যাব। আমি কয়নো মিথ্যার আশ্রয় নেব না। কারণ মিথ্যা কথা বলা নিজের ক্ষতি করা একই। 'ঈশ্বর আমার হৃদয় জানেন, তাই কোনোকিছুই লুকানো সম্ভব নয়। ন্যায়ের পথে চললে মানুষের বিশ্বাস অর্জন করতে পারব। আমি সব কাজ হৃদয় থেকে সৎভাবে করব। আমি আমার স্বার্থের জন্য অন্যকে ঠকাব না। ন্যায়ের পথ সবসময় অবলম্বন করব।
আনানিয়াসের ঘটনা শুনে আমি খুব ভয় পেয়েছি। কারণ আমি বুঝতে পেরেছি যে মিথ্যা বলা খুব ক্ষতিকর হতে পারে। এটি আমাকে শিখিয়েছে আমি যেন সবসময় সৎ এবং সত্যবাদী হতে পারি। আমি আরও ধারণা করতে পারছি, একটি ছোটো মিথ্যাও বড়ো সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। একই সঙ্গে, আমি প্রেরণা পেয়েছি সব কাজ আন্তরিকভাবে করার জন্য। ঘটনাটি আমাকে শিখিয়েছে যে, বাহ্যিকভাবে দেখানোর চেয়ে সত্যিকার সততা বেশি মূল্যবান। আমি অনুভব করতে পারছি যে, বিশ্বাস খুবই মূল্যবান এবং তা কখনো ভঙ্গ করা উচিত নয়। আমি বুঝতে পারছি ঈশ্বর আমাদের 'অন্তর জানেন। এই ঘটনা আমাকে সবসময় সঠিক কাজটি করার জন্য অনুপ্রাণিত করেছে। কখনো লোভ ও অহংকার করব না। আমার যা কিছু আছে তা নিয়ে সন্তুষ্ট এবং কৃতজ্ঞ থাকব।
সক্কেয়ের জীবন আমাকে ন্যায়বিচার করতে শেখায়। সন্ধেয় একজন কর সংগ্রাহক ছিলেন এবং অনেক সময় অন্যায় করতেন। তিনি অনেক টাকা অন্যায়ভাবে আদায় করতেন। কিন্তু যীশুর সঙ্গে দেখা হওয়ার পর তিনি অনুতপ্ত হলেন। তিনি ঠিক করলেন যে, অন্যায়ভাবে নেওয়া টাকা ফেরত দেবেন। এতে আমি শিখেছি যে, ভুল বুঝতে পারা এবং তা ঠিক করা ন্যায়বিচারের অংশ। ন্যায় করা মানে কেবল আইন মানা নয়, অন্যকে সাহায্য করা ও সততা দেখানোও'। সন্ধেয় দেখালেন যে, কেউ যদি অতীতের ভুল সংশোধন করতে চায়, তবে তাকে ন্যায়বিচার করতে হবে। আমি সততা ও উদারতার সঙ্গে জীবনযাপন করব। সক্কেয়ের গল্প আমাদের অনুপ্রাণিত করে যাতে আমি সবসময় সঠিক কাজ করি এবং অন্যের ক্ষতি করা থেকে নিজেকে বিরত রাখি।
রাজা এবং কর্মচারীর মধ্যে অনেক পার্থক্য আছে। রাজা খুব দয়ালু এবং ক্ষমাশীল ছিলেন। তিনি তার কর্মচারীর বড়ো ঋণ মাফ করে দিলেন। রাজা অন্যের কল্যাণের কথা চিন্তা করতেন। তিনি উদার এবং সৎ ছিলেন। সেই সাথে তিনি ন্যায়ের পথে চলতেন। অন্যদিকে, কর্মচারী স্বার্থপর ও লোভী ছিল। সে তার সহকর্মীর ছোটো ঋণ মাফ করতে চায়নি। তার হৃদয় কঠিন এবং করুণাহীন ছিল। রাজা সদয় এবং অন্যকে বোঝার ক্ষমতা রাখতেন। রাজা ন্যায়পরায়ণ এবং ভালো উদাহরণ ছিলেন। কিন্তু কর্মচারী অন্যদের প্রতি অন্যায় করেছিল। এবং খারাপ উদাহরণ তৈরি করেছিল। তাই অন্যের প্রতি উদার হওয়া ভালো এবং স্বার্থপরতা ভালো ফলাফলের জন্ম দেয়-না।
বিলি গ্রাহাম একজন সুপরিচিত প্রচারক ছিলেন। তিনি ৭ নভেম্বর ১৯১৮ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলাইনা রাজ্যের শার্লট শহরে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তিনি-ছোটোবেলা থেকেই খ্রীষ্টান পরিবারে বড়ো হয়েছেন। ছোটোবেলায়ই ঈশ্বরের ডাক শুনে প্রচারক হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি অনেক বড়ো বড়ো সভা 'ক্রুসেড' আয়োজন করতেন। তাঁর উপদেশ বিভিন্ন রাষ্ট্রপতি ও বিশ্বনেতাদেরকেও বিস্মিত করত। তার উদ্দেশ্য ছিল মানুষকে যীশুর দিকে ফিরিয়ে আনা। সেই সাথে টেলিভিশন ও রেডিওতে প্রচার করতেন। ২০১৮ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি. মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর জীবন আজও কোটি কোটি মানুষের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস।
আমরা জীবনের একটি ভুলের কথা মনে পড়ছে। একদিন আমি বন্ধুর টিফিন থেকে না বলে খাবার খেয়েছিলাম। এটা যে একরকম চুরি, তখন সেটা বুঝতে পারিনি। কিন্তু পরে বুঝলাম যে, এটি বন্ধুর প্রতি অন্যায় এবং বিশ্বাসঘাতকতা হয়েছে। পরে আমি তার কাছে ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চেয়েছি এবং প্রতিজ্ঞা করেছি যে, আর কখনো এমন অন্যায় কাজ কররো না। সেই দিন থেকে আমি ঠিক করেছি, সকল কাজ সততার সঙ্গে করব এবং অন্যকে কষ্ট দিব না। এ অভিজ্ঞতা আমাকে শিখিয়েছে যে, অন্যায়ের পথ পরিহার করাই শান্তি ও ও খুশির সঠিক পথ।
রাজা শলোমন ন্যায়বিচারকে খুব গুরুত্ব দিতেন। তিনি ঈশ্বরের কাছে জ্ঞান চেয়েছিলেন যাতে তিনি সঠিকভাবে বিচার করতে পারেন। শলোমন সবসময় দুই পক্ষের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন। তিনি কখনো তাড়াহুড়া করে সিদ্ধান্ত নিতেন না। দুই মায়ের শিশুকে নিয়ে যে বিখ্যাত ঘটনা আছে, সেখানে তিনি অসাধারণ জ্ঞান দিয়ে সত্য উদঘাটন করেছিলেন। এতে সবাই বুঝেছিল যে, তিনি ন্যায়বিচার করতে পারেন। রাজা শলোমন রাজ্যের সবাইকে সমানভাবে আচরণ করতেন। অন্যায় করলে তিনি শাস্তি দিতেন। তিনি গরিব ও অসহায়দের কথা বিশেষভাবে ভাবতেন। তিনি রাজ্যকে ন্যায় ও শাস্তি দিয়ে শাসন করতেন। তাঁর জীবন আমাদের দেখায় যে জ্ঞান, সততা এবং ন্যায়বিচার একজন মানুষকে মহান করে তোলে।
দুজন স্ত্রীলোকের মধ্যে আমি সেই সত্যবাদী মহিলাকে অনুসরণ করব। তিনি সত্যকে ভয় পাননি। তিনি তার সন্তানের জন্য নিজের প্রাণ পর্যন্ত ঝুঁকিতে ফেলতে প্রস্তুত ছিলেন। তার সত্য কথা রাজা শলোমনকে সঠিক বিচার করতে সাহায্য করেছিল। এতে দেখা যায় যে, সত্য সবসময় আলোয় আসে। তিনি দেখিয়েছেন যে মিথ্যার মাধ্যমে কিছু পাওয়া যায় না। তার ভালোবাসা ও সততা সবাইকে ছুঁয়ে যায়। তিনি নিজের স্বার্থের চেয়ে ন্যায়কে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁর কাজ আমাকে সাহসী হতে শেখায়। আমি শিখি যে, সত্য বলা সবসময় সঠিক পথ। তাই আমি তার মতো সত্যবাদী হতে চাই। তার জীবন আমাকে সত্যের পথে চলতে অনুপ্রাণিত করে।
আমাদের দেশের প্রতি আমার ভালোবাসা অনেক বেশি। আমি আমার দেশকে সুন্দর প্রকৃতি, নদী, পাহাড় এবং বনভূমির জন্য ভালোবাসি। দেশের ভাষা, সংস্কৃতি এবং উৎসব আমাকে গর্বিত করে। 'আমি চাই আমাদের দেশ সবসময় শান্তিপূর্ণ হোক। দেশের স্বাধীনতা এবং মানুষের অধিকার রক্ষা করা খুব জরুরি। দেশের নদী, গাছপালা এবং পরিবেশ. আমি রক্ষা করতে পারি। আমি চাই আমার দেশ আবুও, উন্নত ও সমৃদ্ধশালী হোক। শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভালো হলে' দেশের মানুষ সুখী হয়। দেশের ইতিহাস এবং মহান মানুষের কথা মনে রাখা উচিত। ছোটো ছোটো ভালো কাজ করে আমি দেশের উন্নয়নে সাহায্য করতে পারি। এভাবেই আমি আমার দেশকে ভালোবাসি।
Contribute high-quality content, help learners grow, and earn for your efforts! 💡💰'
Related Question
View Allযীশুর দয়া হলো লোকের সমাগম দেখে।
শিষ্যরা দেখলেন সূর্য ডুবে যাচ্ছে
আমরা এসব লোকের জন্য কোথায় খাবার কিনতে পারি।
এখানে কত লোক আছে।
রান্ধবীকে প্রয়োজনে কলম দিয়ে সাহায্য করতে পারি।
শেয়ালের থাকবারগর্ত আছে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!