বৌদ্ধদের নিত্যকরণীয় কিছু পূজার মধ্যে 'আহারপূজা'
অন্যতম। বৌদ্ধরা প্রতিদিন বুদ্ধের উদ্দেশ্যে আহারপূজা নিবেদন করেন। বেলা বারোটার পূর্বে আহারপূজা করতে হয়। যিনি পূজা করেন তাকে প্রথমে হাত-মুখ ভালো করে ধুয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে নিতে হয়। তারপর আহারপূজার উপকরণগুলো সুন্দরভাবে থালায় সাজানো হয়। এরপর বাড়িতে বুদ্ধের আসনের সামনে বা বিহারের বুদ্ধ প্রতিবিম্বের সামনে বেদিতে সাজানো উপকরণ রাখা হয়। উপকরণ, সাজানো হয়ে গেলে দু-হাত জোড় করে নতজানু হয়ে বসে পালি ভাষায় আহারপূজার উৎসর্গ গাথা আবৃত্তি করতে হয়। উৎসর্গ গাথা আবৃত্তির পর বুদ্ধকে বন্দনা করে প্রণাম নিবেদন করতে হয়।.
আষাঢ়ী পূর্ণিমা বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয়
তিথি। এই দিনে সিদ্ধার্থ গৌতমের জীবনে তিনটি মহৎ ঘটনা সংঘটিত হয়েছিলো। প্রথমটি হলো মাতৃগর্ভে প্রতিসন্ধি গ্রহণ। দ্বিতীয়টি হলো সংসার ত্যাগ। তিনি দুঃখ থেকে মুক্তির পথ খুঁজতে রাজ্য ও গৃহজীবন ছেড়ে সন্ন্যাস জীবন গ্রহণ করেন। তৃতীয়টি হলো প্রথম ধর্মপ্রচার, যেখানে তিনি পঞ্চবর্গীয় শিষ্যের উদ্দেশ্যে ধর্মচক্র প্রবর্তন সূত্র প্রদান করেন। এই ঘটনার স্মরণে বৌদ্ধরা আষাঢ়ী পূর্ণিমা মহাসমারোহে পালন করেন। এই দিনে পূজা, বন্দনা ও ধর্মসভা আয়োজন করা হয়। আষাঢ়ী পূর্ণিমা বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের ধর্মচেতনা উদ্দীপিত করে। এটি বুদ্ধের জীবনের মহৎ দিকগুলো স্মরণে রাখার মাধ্যমে মানুষকে ন্যায়পরায়ণ ও কল্যাণমুখী হতে অনুপ্রাণিত করে। তাই আষাঢ়ী পূর্ণিমা বৌদ্ধদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসব হিসেবে পালনীয়।
ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সহাবস্থন সমাজে শান্তি ও শৃঙ্খ
বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিভিন্ন ধর্মের মানুষ মিলেমিশে 'বাস করলে একে অপরের বিপরীতে সাহায্য করতে পারে। এতে পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ববোধ বৃদ্ধি পায় এবং মানুষদের মধ্যে বন্ধুত্ব গড়ে উঠে। ধর্মীয় সহাবস্থান দাঙ্গা, বিবাদ ও সংঘাত কমাতে সহায়তা করে। এতে মানুষের মধ্যে সহমর্মিতা ও সহিষ্ণুতা জাগ্রত হয়। ধর্মীয় সম্প্রীতি ব্যক্তি ও সমাজের মধ্যে প্রারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়ায়। শিশু-কিশোররা এতে ভালো মানসিকতা শিখে এবং মানুষ একে অপরকে সম্মান ও সাহায্য করতে শিখে। ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক উন্নতি সম্ভব হয় এবং দেশের সামগ্রিক কল্যাণে অবদান রাখে। তাই সকলের উচিত পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহাবস্থানের মাধ্যমে একটি শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠন করা।
বৌদ্ধদের নিত্যকরণীয় কিছু পূজার মধ্যে 'পানীয়পূজা' অন্যতম। বৌদ্ধরা প্রতিদিন বুদ্ধের উদ্দেশ্যে পানীয়পূজা নিবেদন করেন। নিচে পানীয়পূজার উৎসর্গগাথা পালি ও বাংলায় লেখা
হলো:পালি অধিবাসেতু নো ভন্তে পানীযং পরিকল্পিতং অনুকম্পং উপাদায 'পতিগন্থাতু উত্তমং। দুতিয়ম্পি অধিবাসেতু নো ভন্তে পানীযং পরিকল্পিতং অনুকম্পং উপাদায পতিগন্থাতু উত্তমং। ততিয়ম্পি অধিবাসেতু নো ভন্তে পানীযং পরিকল্পিতং অনুকম্পং উপাদায পতিগন্থাতু উত্তমং।
বাংলা হে ভন্তে! উপযুক্ত পূজার উপকরণ দিয়ে উত্তম পানীয় প্রস্তুত করা হয়েছে। অনুগ্রহপূর্বক আপনি আমাদের এ পূজা গ্রহণ করুন। দ্বিতীয়বার হে ভন্তে! উপযুক্ত পূজার উপকরণ দিয়ে উত্তম পানীয় প্রস্তুত করা হয়েছে। অনুগ্রহপূর্বক আপনি আমাদের এ পূজা গ্রহণ করুন।
তৃতীয়বার হে ভন্তে! উপযুক্ত পূজার উপকরণ দিয়ে উত্তম পানীয় প্রস্তুত করা হয়েছে। অনুগ্রহপূর্বক আপনি আমাদের এ পূজা গ্রহণ করুন।
ঐতিহাসিক ধর্মীয় স্থান সংরক্ষণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কারণ এগুলো আমাদের পূর্বপুরুষদের ধর্মীয় বিশ্বাস, সংস্কৃতি ও ইতিহাসের জীবন্ত সাক্ষ্য বহন করে। এসব স্থানের মাধ্যমে আমরা প্রাচীন সভ্যতা, স্থাপত্যশৈলী এবং ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের সঙ্গে পরিচিত হতে পারি। সংরক্ষিত ধর্মীয় স্থান পরিদর্শন করলে নতুন প্রজন্মের মধ্যে সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধা ও নৈতিক মূল্যবোধ জাগ্রত হয়। এছাড়া, ঐতিহাসিক ধর্মীয় স্থানগুলো শিক্ষার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে, যা দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে সাহায্য করে। সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা না হলে এগুলো ধ্বংস বা ক্ষয় হতে পারে, যার ফলে আমাদের ঐতিহ্য হারিয়ে যেতে পারে। তাই আমাদের দায়িত্ব হলো এসব স্থান রক্ষায় সচেষ্ট থাকা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এগুলো সংরক্ষিত রাখা
অধিবাসেতু নো ভন্তে ভোজনং পরিকল্পিতং অনুকম্পং উপাদায পতিগ হাতু উত্তমং। দুতিয়ম্পি অধিবাসেতু নো ভন্তে ভোজনং পরিকল্পিতং অনুকম্পং উপাদায পতিগ হাতু উত্তমং।। ততিয়ম্পি অধিবাসেতু নো ভন্তে ভোজনং পরিকল্পিতং অনুকম্পং উপাদায পতিগ হাতু উত্তমং।
বাংলা অনুবাদ
হে ভন্তে। উপযুক্ত পূজার উপকরণ দিয়ে উত্তম আহার প্রস্তুত করা হয়েছে। অনুগ্রহপূর্বক আপনি আমাদের এ পূজা গ্রহণ করুন। দ্বিতীয়বার হে ভন্তে! উপযুক্ত পূজার উপকরণ দিয়ে উত্তম-আহার প্রস্তুত করা হয়েছে। অনুগ্রহপূর্বক আপনি আমাদের এ পূজা গ্রহণ করুন।
তৃতীয়বার হে ভন্তে! উপযুক্ত পূজার উপকরণ দিয়ে উত্তম আহার প্রস্তুত করা হয়েছে। অনুগ্রহপূর্বক আপনি আমাদের এ পূজা গ্রহণ করুন।
বাংলাদেশে বহু প্রাচীন বৌদ্ধ ঐতিহাসিক স্থান রয়েছে;
যা আমাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের গৌরব বহন করে। এর মধ্যে কুমিল্লার ময়নামতি ও নওগাঁর পাহাড়পুর বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ময়নামতি প্রাচীন 'রোহিতগিরি' নামে পরিচিত ছিল যেখানে শ্রীভবদেব নির্মিত 'শালবন বৌদ্ধবিহার' অবস্থিত। এখানে-১১৫ টি কক্ষ ও একটি বৃহৎ প্রার্থনাগৃহ রয়েছে, যা একসময় ধর্মীয় ও শিক্ষাকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হতো। অপরদিকে, পাহাড়পুরের সোমপুর বৌদ্ধ মহাবিহার পাল রাজাদের সময় প্রতিষ্ঠিত, হয় এবং তা ছিল প্রাচীন বাংলাদেশের এক বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়। এখানে দর্শন, জ্যোতিষ, বিজ্ঞানসহ নানা বিষয়ে পাঠদান হতো। বর্তমান্যোয়টি প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধীনে সংরক্ষিত এবং ১৯৮৫ সালে ইউনেস্কো কর্তৃক বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। এসব ঐতিহাসিক স্থান আমাদের বৌদ্ধ সংস্কৃতির প্রাচীন ঐতিহ্য ও জ্ঞানচর্চার সাক্ষ্য বহন করে।
Related Question
View Allদেববংশের চতুর্থ রাজা শ্রীভবদেব শালবন বিহার নির্মাণ করেন।
একে অপরের ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করা উচিত।
সকল ধর্মের লোক একসাথে বসবাস করলে সমাজ উন্নতির শিখরে আরোহণ করে।
প্রত্যেক ধর্মের ঐতিহাসিক স্থানগুলোর প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা উচিত।
বড়দিন'খ্রীষ্ট ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব।
বেলা বারোটার পূর্বে আহারপূজা করতে হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!