প্রকৃতির বিভিন্ন উপাদান নিয়ে প্রাকৃতিক পরিবেশ গঠিত হয়। প্রকৃতির উপাদানগুলো হলো মাটি, পানি, বাতাস, তাপ, আলো, গাছপালা, সাগর-মহাসাগর, নদী, পশুপাখিসহ নানা প্রাণী ইত্যাদি। পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলের প্রাকৃতিক পরিবেশের মধ্যে বৈচিত্র্য রয়েছে। কোনো অঞ্চল তুষারে ঢাকা। আবার কোনো কোনো অঞ্চল শুষ্ক মরুভূমি। বিভিন্ন স্থানের জলবায়ুর মধ্যেও রয়েছে ভিন্নতা। কোথাও জলবায়ু শীতল কোথাও উষ্ণ, কোথাও আবার নাতিশীতোষ্ণ। কোনো স্থান শুষ্ক, কোথাও বৃষ্টির পরিমাণ বেশি।
বাংলাদেশের উত্তর ও দক্ষিণ অঞ্চলের প্রাকৃতিক পরিবেশে ভিন্নতা রয়েছে। উত্তর অঞ্চলের ভূমি উঁচু, নদ-নদীর সংখ্যা কম। গ্রীষ্মকালে অনেক গরম পড়ে। শীতকালে বেশ ঠান্ডা পড়ে। আবার দেশের দক্ষিণ অঞ্চলের ভূমি নিচু, সেখানে অনেক নদী মিলিত হয়েছে। প্রচুর খাল-বিল ও জলাশয় আছে। আবার উত্তর-পূর্বে আছে হাওড়-বাঁওড়। এসব কারণে এ অঞ্চলে বন্যার প্রবণতা বেশি। আবার দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমে আছে উপকূলীয় বনাঞ্চল, যেখানে জলাবদ্ধতা ও লবণাক্ততার পরিমাণ বেশি। তেমনি বড় জলোচ্ছ্বাসের সংখ্যাও কম নয়। দক্ষিণে ঢাল হয়ে সুন্দরবন আমাদের এসব দুর্যোগ থেকে অনেকখানি রক্ষা করে।
আমাদের সামাজিক পরিবেশ প্রাকৃতিক পরিবেশের ওপর নির্ভরশীল। কোনো অঞ্চলে ঠান্ডা বেশি আবার কোনো অঞ্চলে গরম বেশি। যেখানে শীত বেশি সেখানে আমরা শীতের প্রকোপ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য মোটা জামাকাপড় পরি। এ সময়ে আমরা ভিন্ন ধরনের খাবার খাই। এমনভাবে ঘরবাড়ি তৈরি করি যেন ঘর গরম থাকে। শুষ্ক এলাকায় গাছ ও ফসল কম জন্মে। এছাড়া যেসব এলাকায় জলাশয় ও নদ-নদী বেশি, সেসব এলাকায় মাছের চাষ বেশি হয় এবং সহজেই সেচের কাজও করা যায়। শুষ্ক এলাকায় জীরিকা ও উর্বর বা জলজ এলাকায় জীবিকা ও জীবনপ্রণালিসহ সংস্কৃতি আলাদা হয়।
সামাজিক পরিবেশ প্রকৃতির ওপর প্রভাব ফেলে। মানুষ তার জীবনধারণের প্রয়োজনে প্রযুক্তি আবিষ্কার করেছে, যা আমাদের প্রকৃতির ওপর অনেক সময় দূষণ ও সমস্যা তৈরি করেছে। উন্নত জীবনযাপনের জন্য নানা অবকাঠামো যেমন বাড়ি, রাস্তা, সেতু, কারখানা বানাতে গিয়ে গাছ কেটে, নদী ভরাট করে প্রকৃতিকে ধ্বংস করা হয়েছে; যা অগ্রহণযোগ্য।
আমাদের পরিবেশ নিয়ে সচেতন হতে হবে। আমাদের বেশি করে গাছ লাগানো উচিত। প্রচুর গাছপালা থাকলে আবহাওয়া ঠান্ডা থাকে, বায়ু দূষণ কমে এবং বৃষ্টিপাত হয়। বৃষ্টি মাটির জন্য উপকারী। আমাদের প্লাস্টিকের ব্যবহার বন্ধ করতে হবে যাতে দূষণ কমে।
Related Question
View Allপৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে প্রাকৃতিক পরিবেশের মধ্যে বৈচিত্র্য রয়েছে।
উত্তর অঞ্চলের ভূমি কিছুটা উঁচু।
গ্রীষ্মকালে অনেক গরম পড়ে।
দক্ষিণ অঞ্চলের ভূমি বেশ নিচু।
কোনো এলাকায় গাছপালা বেশি থাকলে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়।
প্রকৃতির বিভিন্ন উপাদান নিয়ে প্রাকৃতিক পরিবেশ গঠিত হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!