'মানুষ জাতি' কবিতাটির মূল নাম ছিল 'জাতির পাঁতি'।
'দুনিয়া সবারি জনম-বেদি'- এ কথা দ্বারা বোঝানো হয়েছে, এ পৃথিবী সব মানুষেরই জন্মক্ষেত্র।
এই পৃথিবী জাতি-ধর্ম-বর্ণ-গোত্র নির্বিশেষে সব মানুষেরই বাসভূমি। গর্ভধারিণী মায়ের দুধ পান করে সন্তান যেমন বড় হয়ে ওঠে, তেমনই পৃথিবীর সব মানুষ একই পৃথিবীর খাদ্য ও পানীয় গ্রহণ করে, একই সূর্য ও চাঁদের আলোয় প্রতিপালিত হচ্ছে।
উদ্দীপকে 'মানুষ জাতি' কবিতার জগৎজুড়ে নানা বর্ণ-গোত্র, জাতি-ধর্মের মানুষের বসবাসের দিকটি ফুটে উঠেছে।
আমাদের এই পৃথিবী জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষেরই বাসভূমি। বিচিত্র বর্ণ, ভাষা, আচরণ ও নানা বৈশিষ্ট্যে মানুষ পৃথিবীকে বর্ণিল করে তুলছে।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, পৃথিবীতে বিভিন্ন রকমের মানুষ বসবাস করছে। আফ্রিকার নিগ্রো অধিবাসীরা কালো, আবার ইউরোপিয়ানরা সাদা। এভাবে পৃথিবীতে নানা জাতি, ধর্ম ও বর্ণের লোক বাস করে। উদ্দীপকে ফুটে ওঠা এ বিষয়টি 'মানুষ জাতি' কবিতার জগৎজুড়ে কালো-ধলো আর বামন-শূদ্র বলতে এক মানুষ জাতিকেই মনে করিয়ে দেয়।
নানা বর্ণ-গোত্র, জাতি-ধর্মমতকে এড়িয়ে ক্ষুধা-তৃষ্ণা, সুখ-অভিন্ন অনুভূতি যে পরিচয়কে 'বড় করে তোলে তা হলো আমরা মানুষ।
দেশে দেশে ধর্ম-ও বর্ণের পার্থক্য সৃষ্টি করে মানুষে মানুষে যে ভেদাভেদ সৃষ্টি করা হয়েছে, তা কৃত্রিম। পৃথিবীজুড়ে ধর্ম-বর্ণ-গোত্র পরিচয়ের ঊর্ধ্বে যে সমগ্র মানবসমাজ, সেটিই মানুষের প্রকৃত পরিচয়।
উদ্দীপকে পৃথিবীতে বিভিন্ন রকমের মানুষের বসবাসের কথা বলা হয়েছে। আফ্রিকার কালো নিগ্রো আর ইউরোপের ফরসা শ্বেতাঙ্গদের উল্লেখ করে বলা হয়েছে, এভাবে পৃথিবীতে নানা জাতি ও বর্ণের লোক বাস করে। কিন্তু মানুষের ধর্ম ও বর্ণে বিভিন্নতা থাকলেও ক্ষুধা, তৃষ্ণা, সুখ-দুঃখের অনুভূতি সবার একই রকম। সবার রক্তের রংও লাল। নানা, ধর্ম-বর্ণের মানুষের অভিন্ন এই মিলের বিষয়টি 'মানুষ জাতি' কবিতারও মূল বিষয়।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, জাতি-ধর্ম ও বর্ণের ঊর্ধ্বে আমাদের পরিচয় হলো আমরা মানুষ। 'মানুষ জাতি' কবিতায়ও সারা পৃথিবীতে জাতি, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র-পরিচয়ের ঊর্ধ্বে যে সমগ্র মানবসমাজ, কবি সেই পরিচয়কেই তুলে ধরেছেন। প্রদত্ত উদ্দীপক এবং 'মানুষ জাতি' কবিতার আলোকে আমাদের সর্বাত্মক ও সর্বাঙ্গীণ পরিচয়- আমরা মানুষ জাতি।
Related Question
View All'মানুষ জাতি' কবিতাটি 'অভ্র আবীর' কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে।
'দুনিয়া সবারি জনম-বেদি'- এ কথা দ্বারা বোঝানো হয়েছে-এ পৃথিবী সব মানুষেরই জন্মক্ষেত্র।
আমাদের এই পৃথিবী জাতি-ধর্ম-বর্ণ-গোত্র নির্বিশেষে সব মানুষেরই বাসভূমি। একই মায়ের দুধ পান করে যেমন সন্তান বড় হয়ে ওঠে, তেমনি পৃথিবীর সব মানুষ একই পৃথিবীর খাদ্য ও পানীয় গ্রহণ করে একই সূর্য ও চাঁদের আলোয় প্রতিপালিত হচ্ছে।
সারা পৃথিবীতে জাতি, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র পরিচয়ের ঊর্ধ্বে সমগ্র মানবসমাজ- রহিম, শ্যামল ও রোজারিওর বন্ধুত্বে 'মানুষ জাতি' কবিতার এই বক্তব্যটি ফুটে উঠেছে।
মানুষের সত্যিকার পরিচয় সে মানুষ। জাতি-ধর্ম-বর্ণ দিয়ে মানুষকে আলাদা করা হয়েছে। এ পৃথিবী জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষেরই আবাসভূমি।
উদ্দীপকের রহিম, শ্যামল ও রোজারিও তিন বন্ধু তিন ধর্মের অনুসারী। তারা আনন্দ-উৎসবে, সুখে-দুঃখে একে অন্যকে সাহায্য-সহযোগিতা করে। 'মানুষ জাতি' কবিতায় কবি বলেছেন, জগৎজুড়ে একটি জাতি আছে, সে জাতি হচ্ছে মানুষ জাতি। বাইরে যার রং যেমনই হোক, ভিতরে সবার রক্তের রং লাল। জাতি-ধর্ম-বর্ণের কৃত্রিম ভেদাভেদ ভুলে মানুষকে মানুষ হিসেবে বিচার করা উচিত। 'মানুষ জাতি' কবিতার এই ভাবনা রহিম, শ্যামল ও রোজারিওর বন্ধুত্বের মাঝে ফুটে উঠেছে।
"উদ্দীপকের রহিমের বাবার বক্তব্যই যেন 'মানুষ জাতি' কবিতার মূল সুর।"- উক্তিটি যথার্থ।
এ পৃথিবীর একই আলো-ছায়ায় সবাই বেড়ে ওঠে। গরম বা শীতের অনুভূতি, ক্ষুধা, তৃষ্ণা সবাই সমানভাবে অনুভব করে। এ পৃথিবীর কিছু সংকীর্ণ মনের মানুষ তাদের হীনস্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য জাতি-ধর্ম-বর্ণের পার্থক্য করেছে।
উদ্দীপকে রহিম, শ্যামল ও রোজারিও তিন ধর্মের অনুসারী হলেও তারা সুখে-দুঃখে, আনন্দ-উৎসবে একে অন্যের পাশে থাকে। রহিমের বাবা বলেন, তোমাদের মতো সবাই বন্ধুসুলভ হলে এ পৃথিবী আরও সুন্দর বাসস্থান হবে। 'মানুষ জাতি' কবিতায় কবি বলতে চেয়েছেন, সারা পৃথিবীতে মানুষ নামে শুধু একটাই জাতি আছে। কবি এ কবিতায় মানুষের সেই পরিচয়কেই তুলে ধরেছেন।
উদ্দীপকের বন্ধুরা ধর্মের কারণে কাউকে আলাদা করে দেখেনি। সবাই সবার সবকিছু ভাগাভাগি করে নিয়েছে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের রহিমের বাবার মন্তব্যই যেন 'মানুষ জাতি' কবিতার মূল সুর মন্তব্যটি যথার্থ।
শীতাতপ, ক্ষুধা, তৃষ্ণার জ্বালা সবাই সমানভাবে বুঝি।
পৃথিবীতে সব মানুষের বাস। তাই চাঁদ, সূর্য, আলো, বাতাসও সব মানুষ একইভাবে পায়। তাই প্রশ্নোক্ত উক্তিটি করা হয়েছে।
সব মানুষ একই পৃথিবীতে একই চাঁদ-সূর্যের আলো পেয়ে থাকে। তাহলে কেন মানুষে মানুষে এত ভেদাভেদ, বৈষম্য, হানাহানি? সব মানুষ একই সঙ্গে এক পৃথিবীর মাঝে থাকলে অবশ্যই তাদের মধ্যে সৌহার্দ্যবোধ বিদ্যমান থাকা উচিত। মানুষের সঙ্গে মানুষের যেন কোনো পার্থক্য না থাকে সে কারণে কবিতায় এমন কথা বলা হয়েছে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!