উত্তরঃ
বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে D-8 (Developing-8) এর সদস্য হিসেবে বাংলাদেশ নিম্নলিখিত উপায়ে উপকৃত হতে পারে:
- বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি: D-8 সদস্য দেশগুলির মধ্যে অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি ও শুল্ক হ্রাস ব্যবস্থার মাধ্যমে বাংলাদেশের রপ্তানি বৃদ্ধি এবং নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ করা সম্ভব।
- অর্থনৈতিক বৈচিত্র্যকরণ: D-8 প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে বাংলাদেশ তার অর্থনীতিকে গার্মেন্টস নির্ভরতা থেকে বের করে এনে কৃষি, শিল্প, আইসিটি, পর্যটন ইত্যাদি খাতে বৈচিত্র্য আনতে পারে।
- প্রযুক্তিগত সহযোগিতা ও জ্ঞান বিনিময়: সদস্য দেশগুলোর মধ্যে প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন, গবেষণা ও উন্নয়ন (R&D) এবং জ্ঞান বিনিময়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ আধুনিক প্রযুক্তি ও দক্ষ জনবল তৈরিতে সহায়তা পেতে পারে।
- খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তা: D-8 দেশগুলো কৃষি উৎপাদন, খাদ্য সরবরাহ শৃঙ্খল এবং জ্বালানি সম্পদ বণ্টনে সহযোগিতা করতে পারে, যা বাংলাদেশের খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।
- অবকাঠামো উন্নয়ন: যৌথ বিনিয়োগে যোগাযোগ, পরিবহন ও জ্বালানি অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে আঞ্চলিক সংযোগ বৃদ্ধি পাবে, যা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।
- দারিদ্র্য বিমোচন ও মানবসম্পদ উন্নয়ন: সদস্য দেশগুলোর অভিজ্ঞতা ও সেরা অনুশীলন বিনিময়ের মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচন কর্মসূচি এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে সহযোগিতা জোরদার করা যেতে পারে।
- আন্তর্জাতিক ফোরামে সম্মিলিত কণ্ঠস্বর: বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় D-8 একটি সম্মিলিত প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করে, যেখানে বাংলাদেশ তার স্বার্থ তুলে ধরতে পারে এবং আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় একটি শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে পারে।
D-8 (Developing-8) হলো আটটি উন্নয়নশীল মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের একটি অর্থনৈতিক জোট, যা ১৯৯৭ সালে গঠিত হয়। এর সদস্য দেশগুলো হলো বাংলাদেশ, মিশর, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, মালয়েশিয়া, নাইজেরিয়া, পাকিস্তান এবং তুরস্ক। বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, যা কোভিড-১৯ মহামারী, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, মূল্যস্ফীতি এবং ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা দ্বারা চিহ্নিত, সেখানে D-8 এর মতো জোট বাংলাদেশের জন্য বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
এই জোটের মাধ্যমে বাংলাদেশ আন্তঃ-সদস্য বাণিজ্য বৃদ্ধি, বিনিয়োগ আকর্ষণ, এবং শুল্কমুক্ত বা স্বল্প-শুল্কে পণ্য ও সেবা বিনিময়ের সুযোগ পায়। প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন, এবং উদ্ভাবনে যৌথ সহযোগিতা বাংলাদেশের শিল্প খাতকে আধুনিকায়ন করতে পারে। এছাড়া, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, খাদ্য সরবরাহ শৃঙ্খল শক্তিশালীকরণ, এবং জ্বালানি বিষয়ক সহযোগিতার মাধ্যমে বাংলাদেশ তার খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে। আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ফোরামগুলোতে D-8 দেশগুলো সম্মিলিতভাবে দর কষাকষির ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে পারে, যা বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের স্বার্থ রক্ষায় সহায়ক। অবকাঠামো উন্নয়ন ও দারিদ্র্য বিমোচন কর্মসূচিতে যৌথ প্রকল্প গ্রহণও বাংলাদেশের জন্য সুফল বয়ে আনতে পারে।