উত্তরঃ
GSP+ (Generalised Scheme of Preferences Plus) হলো ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU) কর্তৃক উন্নয়নশীল দেশগুলোকে প্রদত্ত একটি বিশেষ বাণিজ্য সুবিধা, যার মাধ্যমে দেশগুলো ২৭টি আন্তর্জাতিক কনভেনশন কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের শর্তে EU বাজারে তাদের প্রায় সকল পণ্য শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত প্রবেশাধিকার পায়।
GSP+ সুবিধা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের প্রধান ৪টি শর্ত বা বাক্য হলো:
- ২৭টি আন্তর্জাতিক কনভেনশন (যেমন - মানবাধিকার, শ্রম অধিকার, পরিবেশ সুরক্ষা ও সুশাসন সম্পর্কিত) অনুসমর্থন এবং কার্যকর বাস্তবায়ন।
- আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (ILO) মূল নীতিগুলো মেনে চলা এবং শ্রম অধিকারের উন্নতি ঘটানো।
- পরিবেশগত মানদণ্ড বজায় রাখা এবং পরিবেশ সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ।
- সুশাসন ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অগ্রগতি প্রদর্শন।
GSP+ (Generalised Scheme of Preferences Plus) ইউরোপীয় ইউনিয়নের একটি বিশেষ বাণিজ্য নীতি, যা স্বল্পোন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোকে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণের বিনিময়ে তাদের পণ্য ইইউ বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশের সুযোগ দেয়। এর প্রধান উদ্দেশ্য কেবল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নয়, বরং মানবাধিকার, শ্রম অধিকার, পরিবেশ সুরক্ষা এবং সুশাসনের মতো মৌলিক আন্তর্জাতিক মানদণ্ডগুলোকে উৎসাহিত করা।
বাংলাদেশের জন্য GSP+ সুবিধা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে ২০২৬ সালে স্বল্পোন্নত দেশ (LDC) থেকে উত্তরণের পর। LDC হিসেবে বাংলাদেশ বর্তমানে EBA (Everything But Arms) সুবিধার আওতায় প্রায় সকল পণ্য শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পায়। LDC থেকে উত্তরণের পর EBA সুবিধা আর থাকবে না। তখন GSP+ সুবিধা পাওয়া গেলে বাংলাদেশের রপ্তানি খাত, বিশেষ করে তৈরি পোশাক শিল্প, ইউরোপীয় বাজারে তার প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান ধরে রাখতে পারবে।
এই সুবিধা প্রাপ্তির জন্য বাংলাদেশকে নিম্নলিখিত ক্ষেত্রগুলোতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি ও ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে:
- আন্তর্জাতিক কনভেনশনসমূহের কার্যকর বাস্তবায়ন: ইইউ-এর GSP+ সুবিধার জন্য মানবাধিকার (যেমন - শিশুশ্রম, জোরপূর্বক শ্রম), শ্রম অধিকার (যেমন - ট্রেড ইউনিয়ন করার অধিকার, নিরাপদ কর্মপরিবেশ), পরিবেশ সুরক্ষা (যেমন - জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত চুক্তি) এবং সুশাসন (যেমন - দুর্নীতি দমন) সম্পর্কিত ২৭টি আন্তর্জাতিক কনভেনশন কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা আবশ্যক। শুধু অনুসমর্থন নয়, এর মাঠ পর্যায়ের প্রয়োগও ইইউ কর্তৃপক্ষ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে।
- শ্রমমান উন্নয়ন: পোশাক ও অন্যান্য রপ্তানি খাতে শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত করা, নিরাপদ কর্মপরিবেশ বজায় রাখা এবং আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (ILO) মানদণ্ড অনুসরণ করা GSP+ প্রাপ্তির পূর্বশর্ত। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের শ্রম আইন ও এর বাস্তবায়নে ধারাবাহিক উন্নতি অপরিহার্য।
- পরিবেশগত দায়বদ্ধতা: কার্বন নিঃসরণ হ্রাস, নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং পরিবেশবান্ধব উৎপাদন প্রক্রিয়া অবলম্বনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পরিবেশগত চুক্তি ও মানদণ্ড পূরণ করতে হবে।
- সুশাসন ও স্বচ্ছতা: দুর্নীতি দমন কমিশনকে শক্তিশালী করা, সরকারি সেবায় স্বচ্ছতা আনা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা GSP+ সুবিধার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।
এই শর্তগুলো পূরণ করতে পারলে বাংলাদেশ LDC উত্তরণের পরেও ইউরোপীয় বাজারে তার প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান ধরে রাখতে পারবে এবং টেকসই উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাবে।