বলরাম হলেন দেবকীর সপ্তম সন্তান এবং ভগবান শ্রীকৃষ্ণের বড় ভাই। ভগবান বলরামকে দেবকীর গর্ভ থকে বসুদেবের প্রথম স্ত্রী রোহিনীর গর্ভে নিয়ে যান।
ভারতবর্ষে অনেক মহাপুরুষ ও মহীয়সী নারী জন্মগ্রহণ করেছেন। আজীবন তাঁরা জগতের কল্যাণ করেছেন। মানুষের মঙ্গল করেছেন। তাঁদের জীবনী থেকে আমরা অনেক কিছু শিখতে পারি। আমাদের জীবন সুন্দরভাবে গড়ে তোলার অনুপ্রেরণা লাভ করতে পারি। তাই তাঁদের জীবনী আমাদের কাছে আদর্শ জীবনচরিত হিসেবে বিবেচ্য। এ অধ্যায়ে পাঁচজন আদর্শ মহাপুরুষ এবং মহীয়সী নারীর জীবনচরিত বর্ণনা করা হলো। তাঁরা হলেন শ্রীকৃষ্ণ, শ্রীলোকনাথ ব্রহ্মচারী, রাণী রাসমণি, শ্রীরামকৃষ্ণ ও বামাক্ষেপা।

এ অধ্যায় শেষে আমরা-
- শ্রীকৃষ্ণের শৈশবকালের জীবনাদর্শ বর্ণনা করতে পারব
- নৈতিক চরিত্র গঠনে শ্রীকৃষ্ণের জীবনাদর্শের শিক্ষা ব্যাখ্যা করতে পারব
- নৈতিকতা গঠনে শ্রীলোকনাথ ব্রহ্মচারীর জীবনাদর্শের শিক্ষা বর্ণনা করতে পারব
- রাণী রাসমণির জীবনাদর্শ সম্পর্কে জানতে পারব
- রাণী রাসমণির সংস্কারমূলক কার্য বর্ণনা করতে পারব
- নৈতিক চরিত্র গঠনে শ্রীরামকৃষ্ণের জীবনাদর্শ বর্ণনা করতে পারব
- নৈতিক চরিত্র গঠনে বামাক্ষেপার জীবনাদর্শ বর্ণনা করতে পারব
- মহাপুরুষ ও মহীয়সী নারীদের জীবনাদর্শের শিক্ষা নিজ জীবনাচরণে মেনে চলতে উদ্বুদ্ধ হব
- পাঠ্যপুস্তক বহির্ভূত মহাপুরুষ-মহীয়সী নারীদের জীবনী ও অবদান সম্পর্কে অনুসন্ধান পরিচালনা করতে পারব।
Related Question
View Allশ্রীকৃষ্ণ জন্মের পূর্বে মাথুরায় কংস রাজা জনগণের ওপর নানা ধরনের অত্যাচার করছিল। নিজের পিতাকে বন্দি করে কংস সিংহাসন দখল করে। এই কংসকে ধ্বংস করে জগতের কল্যাণের জন্য তিনি মানবরূপে জন্মগ্রহণ করেন। শ্রীকৃষ্ণ স্বয়ং ভগবান। জগতে যখন অধর্ম বেড়ে যায় তখন ধর্মকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য অবতাররূপে ভগবান পৃথিবীতে অবতরণ করেন। আর এ কারণেই শ্রীকৃষ্ণ মধুরা রাজ্যকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য মানবরূপে জন্মগ্রহণ করেন।
'রানি রাসমনি জমিদারির পাশাপাশি জনকল্যাণ ও ধর্মচর্চা সমানভাবে করে গেছেন। তিনি পুণ্যভূমি জগন্নাথ ক্ষেত্রে যান। সেখানকার রাস্তাঘাট ছিল জরাজীর্ণ। বর্ষাকালে সেখানে প্রচুর কাদামাটি তৈরি হতো। এ কারণে তীর্থযাত্রীদের খুব কষ্ট হতো চলাফেরা করতে। রাসমনি তাঁদের সুবিধার কথা চিন্তা করে সমস্ত রাস্তা - সংস্কার করেন। শুধু তা-ই নয়, ষাট হাজার টাকা ব্যয় করে তিনি জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রা এ তিন বিগ্রহের জন্য হীরকখচিত তিনটি মুকুট তৈরি করে দেন। তিনি জগন্নাথদেবের জন্য ১,২২,১১৫ টাকা ব্যয় করে জন্য রূপার রথ তৈরি করেন।
বামাক্ষেপা তারামায়ের ভক্ত হলেও নিজের মাকে খুব শ্রদ্ধা করতেন। মা রাজকুমারী মারা যাওয়ার পর তাঁর দেহ তারাপীঠে আনা হয়। বামা তখন দ্বারকা নদীর ওপারে তারাপীঠ শ্মশানে। বর্ষাকালে নদীতে প্রচন্ড ঢেউ। তাই ভয়ে কেউ মৃতদেহ ওপারে শ্মশানে নিতে চাইছে না। এপারেই দাহ করার আয়োজন করছে। কিন্তু মায়ের আত্মার সদ্গতির জন্য তারাপীঠের শ্মশানেই তাঁকে দাহ করা দরকার। এ কথা ভেবে বামাক্ষেপা মা তারার নাম নিয়ে নদীতে ঝাঁপ দিলেন। এপারে এসে মায়ের শরীর নিজের সঙ্গে বেঁধে সাঁতার কেটে ওপারে গেলেন এবং তারাপীঠ শ্মশানে মায়ের দেহ দাহ করলেন। এভাবে বামা মায়ের আত্মার সদ্গতি করেন।
লোকনাথকে এক গোয়ালিনী দুধ দিতেন তিনি গোয়ালিনীকে মা বলে ডাকতেন। কারণ লোকনাথ জাতি, ধর্ম, বর্ণের বিচার করতেন না। তাঁর কাছে সব মানুষই ছিল সমান। সমাজের উঁচু-নিচু সবাইকে সমান মর্যাদা দিতেন তিনি। জীবের সেবা করতেন। তিনি বিশ্বাস করতেন জীবসেবাই ইশ্বর সেবা। তিনি জীবের মধ্যেই ব্রহ্মের উপস্থিতি উপলব্ধি করতেন। জীবের কল্যাণে তিনি আনন্দ পেতেন। আর এ কারণে তিনি ছোট-বড়, উঁচু-নিচু ভেদাভেদ করতেন না। তাছাড়া গোয়ালিনীকে তিনি স্বপ্নে মা রূপে দেখেছিলেন। তাই গোয়ালিনীকে তিনি মা বলে ডাকতেন।
'কৃষ্ণস্ত ভগবান স্বয়ম'-এই কথাটির অর্থ হলো শ্রীকৃষ্ণ হচ্ছে ষয়ং ভগবান। জগতের কল্যাণের জন্য তিনি অবতরণ করেছিলেন এই ধরাধমে। দুষ্টকে দমন করে তিনি শিষ্টের পালন করেছিলেন।
কংস যখন তার বোন দেবকীকে রথে করে তার স্বামী বসুদেবের ঘরে পৌঁছে দিতে যাচ্ছিলেন, তখন কংস একটি অদ্ভুত দৈববাণী শুনতে পেল। দৈববাণীটি এরকম-'শোন কংস, দেবকীর অষ্টম গর্ভের সন্তান তোমায় হত্যা করবে।' এ কথা শুনে কংস ক্ষেপে গিয়ে দেবকীকে হত্যা করতে উদ্যত হন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!