সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর

Updated: 8 months ago
উত্তরঃ

শ্রীকৃষ্ণ জন্মের পূর্বে মাথুরায় কংস রাজা জনগণের ওপর নানা ধরনের অত্যাচার করছিল। নিজের পিতাকে বন্দি করে কংস সিংহাসন দখল করে। এই কংসকে ধ্বংস করে জগতের কল্যাণের জন্য তিনি মানবরূপে জন্মগ্রহণ করেন। শ্রীকৃষ্ণ স্বয়ং ভগবান। জগতে যখন অধর্ম বেড়ে যায় তখন ধর্মকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য অবতাররূপে ভগবান পৃথিবীতে অবতরণ করেন। আর এ কারণেই শ্রীকৃষ্ণ মধুরা রাজ্যকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য মানবরূপে জন্মগ্রহণ করেন।

উত্তরঃ

'রানি রাসমনি জমিদারির পাশাপাশি জনকল্যাণ ও ধর্মচর্চা সমানভাবে করে গেছেন। তিনি পুণ্যভূমি জগন্নাথ ক্ষেত্রে যান। সেখানকার রাস্তাঘাট ছিল জরাজীর্ণ। বর্ষাকালে সেখানে প্রচুর কাদামাটি তৈরি হতো। এ কারণে তীর্থযাত্রীদের খুব কষ্ট হতো চলাফেরা করতে। রাসমনি তাঁদের সুবিধার কথা চিন্তা করে সমস্ত রাস্তা - সংস্কার করেন। শুধু তা-ই নয়, ষাট হাজার টাকা ব্যয় করে তিনি জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রা এ তিন বিগ্রহের জন্য হীরকখচিত তিনটি মুকুট তৈরি করে দেন। তিনি জগন্নাথদেবের জন্য ১,২২,১১৫ টাকা ব্যয় করে জন্য রূপার রথ তৈরি করেন।

উত্তরঃ

বামাক্ষেপা তারামায়ের ভক্ত হলেও নিজের মাকে খুব শ্রদ্ধা করতেন। মা রাজকুমারী মারা যাওয়ার পর তাঁর দেহ তারাপীঠে আনা হয়। বামা তখন দ্বারকা নদীর ওপারে তারাপীঠ শ্মশানে। বর্ষাকালে নদীতে প্রচন্ড ঢেউ। তাই ভয়ে কেউ মৃতদেহ ওপারে শ্মশানে নিতে চাইছে না। এপারেই দাহ করার আয়োজন করছে। কিন্তু মায়ের আত্মার সদ্গতির জন্য তারাপীঠের শ্মশানেই তাঁকে দাহ করা দরকার। এ কথা ভেবে বামাক্ষেপা মা তারার নাম নিয়ে নদীতে ঝাঁপ দিলেন। এপারে এসে মায়ের শরীর নিজের সঙ্গে বেঁধে সাঁতার কেটে ওপারে গেলেন এবং তারাপীঠ শ্মশানে মায়ের দেহ দাহ করলেন। এভাবে বামা মায়ের আত্মার সদ্‌গতি করেন।

উত্তরঃ

লোকনাথকে এক গোয়ালিনী দুধ দিতেন তিনি গোয়ালিনীকে মা বলে ডাকতেন। কারণ লোকনাথ জাতি, ধর্ম, বর্ণের বিচার করতেন না। তাঁর কাছে সব মানুষই ছিল সমান। সমাজের উঁচু-নিচু সবাইকে সমান মর্যাদা দিতেন তিনি। জীবের সেবা করতেন। তিনি বিশ্বাস করতেন জীবসেবাই ইশ্বর সেবা। তিনি জীবের মধ্যেই ব্রহ্মের উপস্থিতি উপলব্ধি করতেন। জীবের কল্যাণে তিনি আনন্দ পেতেন। আর এ কারণে তিনি ছোট-বড়, উঁচু-নিচু ভেদাভেদ করতেন না। তাছাড়া গোয়ালিনীকে তিনি স্বপ্নে মা রূপে দেখেছিলেন। তাই গোয়ালিনীকে তিনি মা বলে ডাকতেন।

উত্তরঃ

'কৃষ্ণস্ত ভগবান স্বয়ম'-এই কথাটির অর্থ হলো শ্রীকৃষ্ণ হচ্ছে ষয়ং ভগবান। জগতের কল্যাণের জন্য তিনি অবতরণ করেছিলেন এই ধরাধমে। দুষ্টকে দমন করে তিনি শিষ্টের পালন করেছিলেন।

উত্তরঃ

কংস যখন তার বোন দেবকীকে রথে করে তার স্বামী বসুদেবের ঘরে পৌঁছে দিতে যাচ্ছিলেন, তখন কংস একটি অদ্ভুত দৈববাণী শুনতে পেল। দৈববাণীটি এরকম-'শোন কংস, দেবকীর অষ্টম গর্ভের সন্তান তোমায় হত্যা করবে।' এ কথা শুনে কংস ক্ষেপে গিয়ে দেবকীকে হত্যা করতে উদ্যত হন।

উত্তরঃ

বলরাম হলেন দেবকীর সপ্তম সন্তান এবং ভগবান শ্রীকৃষ্ণের বড় ভাই। ভগবান বলরামকে দেবকীর গর্ভ থকে বসুদেবের প্রথম স্ত্রী রোহিনীর গর্ভে নিয়ে যান।

উত্তরঃ

বসুদেব তার শিশুপুত্র কৃষ্ণকে গোকুলে রেখে যশোদার কন্যা সন্তানকে নিয়ে আসেন। তখন কংস সেই কন্যাটিকে দেবকীর অষ্টম সন্তান মনে করে হত্যা করার জন্য আছাড় দিতে গেলে কন্যাটি আকাশে উঠে কংসকে বলল, 'তোমাকে বাধিবে যে গোকুলে বাড়িছে সে'। আর এজন্যই কংস ভয় পেয়ে ক্রোধিত হয়ে গোকুলের সকল শিশুকে হত্যার আদেশ দেন।

উত্তরঃ

প্রচুর স্বর্ণমুদ্রার বিনিময়ে পুতনাকে গোকুলের সমস্ত শিশুকে হত্যার আদেশ দেন কংস। পুতনা ছল করে রূপ পরিবর্তন করে কৃষ্ণকে স্তনের বিষমাখানো দুধ পান করাতে লাগল। কিন্তু কৃষ্ণ ভগবান হওয়ায়; সেই তীব্র বিষ তাঁর কোনো ক্ষতি করল না, বরং দুধপান করার ছলে তিনি পুতনাকে বধ করলেন।

উত্তরঃ

তৃণাবর্ত অসুর ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে মারার জন্য গোকুলে গিয়ে প্রচণ্ড ঘূর্ণিবায়ুর সৃষ্টি করল। সমস্ত গোকুল ভীষণ ঝড়ে অন্ধকার হয়ে গেল। তৃণাবর্তের উদ্দেশ্য ছিল কৃষ্ণকে অনেক উঁচুতে তুলে আছড়ে মারবে। কিন্তু আছড়ে মারার পূর্বেই ভগবান শ্রীকৃষ্ণই সেই অসুরের বুকে ভীষণ চাপ মেরে তাকে মাটিতে ফেলে হত্যা করেন।

উত্তরঃ

আমরা ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জীবনী থেকে এই শিক্ষা পাই যে, তিনি সর্বদা দুষ্টের দমন করেন এবং শিষ্টের পালন করেন। তিনি দুর্জনদের হত্যা করে জগতের মঙ্গল করেন। তিনি 'সহায় থাকলে দুষ্টরা কিছু করতে পারে না। তিনিই সবাইকে রক্ষা করেন। তাই আমরা সবাই তাঁকে ভক্তি করব।

উত্তরঃ

ভগবান শ্রীকৃষ্ণ তাঁর বাল্যলীলায় পুতনা রাক্ষসীকে হত্যা করেন। এরপর কংসের একজন শক্তিশালী পুরুষ অনুচরকে হত্যা করেন। এরপর তৃণাবর্তাসুরকে ভীষণ চাপ দিয়ে মেরে ফেলেন। আর প্রত্যেকবারই তিনি গোকুলের শিশু ও লোকজনদের কল্যাণ সাধন করেন। এজন্যই ভগবান শ্রীকৃষ্ণ হলেন দুষ্টের দমনকারী, শিষ্টের পালনকারী।

উত্তরঃ

পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার বারাসাত মহকুমার চাকলা গ্রামে লোকনাথ ব্রহ্মচারী জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা রামকানাই চক্রবর্তী এবং মাতা কমলা দেবী। তিনি তার পিতামাতার চতুর্থ পুত্র। পিতার ইচ্ছায় তিনি সন্যাস গ্রহণ করেন।

উত্তরঃ

লোকনাথের যোগশক্তির প্রভাবে অনেক রুগ্ম মানুষ সুস্থ হন। অনেকে বিপদ থেকে নিস্তার পান। বিভিন্নভাবে তিনি মানুষের জাগতিক কল্যাণ সাধন করেন। সাধকেরা তার উপদেশে সিদ্ধি লাভকরেন। এইভাবেই লোকনাথ 'বাবা লোকনাথ ব্রহ্মচারী' হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।

উত্তরঃ

লোকনাথ ব্রহ্মচারীর জীবনী থেকে এই নৈতিক শিক্ষা পাওয়া যায় যে, পিতা-মাতাকে শ্রদ্ধা করতে হবে। মানুষ, পশুপাখি, সকল জীবকে ভালোবাসতে হবে। জাতি-ধর্ম-বর্ণ কোনোরূপ ভেদাভেদ করা যাবে না। সমাজের উঁচু-নীচু সবাইকে সমান মর্যাদা দিতে হবে। সকলের মধ্যে যে আত্মা আছে, তার সঙ্গে নিজের আত্মাকে এককরে দেখতে হবে।

উত্তরঃ

১৭৯৩ খ্রিস্টাব্দে রাণী রাসমণি কলকাতার উত্তরে গঙ্গার পূর্বতীরে হালিশহরের নিকট কোনা নামক গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম হরেকৃষ্ণ দাস। মাতার নাম রামপ্রিয়া দাসী। জমিদার রাজচন্দ্র দাসের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। তিনি কখনো বিলাসী জীবনযাপন করেননি। আজীবন ধর্মচর্চা ও জনকল্যাণমূলক কাজ করে গেছেন।

উত্তরঃ

পবিত্র গঙ্গা নদীতে যাওয়ার রাস্তা এবং ঘাটের অবস্থা খুবই শোচনীয় ছিল। তাই তিনি তাঁর স্বামী রাজচন্দ্রকে অনুরোধ করেন গঙ্গায় যাতায়াতের জন্য রাস্তা এবং গঙ্গাতীরে ঘাট তৈরির জন্য। এই রাস্তা ও পবিত্র গঙ্গার ঘাটের নাম হলো 'বাবু রোড' ও 'বাবু ঘাট'।

উত্তরঃ

রাণী রাসমণি কাশীধামে যাওয়ার কথা ভাবলে মা কালী তাঁকে স্বপ্নে বলেন, "কাশী যাওয়ার আবশ্যকতা নেই, গঙ্গার তীরে আমার মূর্তি প্রতিষ্ঠা করে পূজা ও ভোগের ব্যবস্থা কর। আমি ওই মূর্তিকে আশ্রয় করে আবির্ভূত হয়ে তোমার নিকট নিত্য পূজা গ্রহণ করব।" তাই রাণী রাসমণি দক্ষিণেশ্বরে কালী মন্দির স্থাপন করেন।

উত্তরঃ

রাণী রাসমণির জীবনী থেকে আমরা এই শিক্ষা লাভ করি যে, মানুষের জন্মের চেয়ে তার কর্মই বড়। জন্ম যেখানেই হোক, কর্মের দ্বারা মানুষ চিরস্মরণীয় হয়ে থাকতে পারে। শুধু নিজের সুখই নয়, অপরের সুখের জন্য সম্পদ ও ক্ষমতার ব্যবহার করতে হবে। কর্মের পাশাপাশি ধর্মচর্চায় মন দিতে হবে। তবেই জীবন সার্থক হবে।

উত্তরঃ

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের হুগলী জেলার কামারপুকুর গ্রামে রামকৃষ্ণের জন্ম হয়। তার পিতা ক্ষুদিরাম চট্টোপাধ্যায় এবং মাতা চন্দ্রমণি দেবী। তার পিতা তার নাম দেন গদাধর। পরে এই গদাধরই রামকৃষ্ণ নাম ধারণ করে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন।

উত্তরঃ

রামকৃষ্ণের দুটি উপদেশ হলো-
১. মা গুরুজন, ব্রহ্মময়ী-স্বরূপা। যতক্ষণ মা আছেন, মাকে দেখতে হবে।
২. পিতাকে ভক্তি কর, পিতার সঙ্গে প্রীতি কর। জগগ্রুপে যিনি সর্বব্যাপী হয়ে আছেন, তিনিই মা। জননী, জন্মস্থান, বাপ-মাকে ফাঁকি দিয়ে যে ধর্ম করবে, তার ধর্ম ছাই হয়ে যাবে।

উত্তরঃ

'যত মত তত পথ'- উক্তিটি দ্বারা বোঝায় ধর্মীয় মত ও পথ ভিন্ন হলেও সকল মানুষের উদ্দেশ্য ও গন্তব্য এক। তা হলো ঈশ্বর লাড। বিভিন্ন ধর্ম সাধনার মাধ্যমে ঈশ্বরকে উপলব্ধি করেই তিনি বলেছেন, ধর্মসমূহের পথ ও মত ভিন্ন হলেও সকলের মুখ্য উদ্দেশ্য এক ও অভিন্ন ঈশ্বরের নৈকট্য লাভ করা। ঈশ্বরকে সন্তুষ্ট করার মাধ্যমে তার সেবা ও আরাধনা করা।

উত্তরঃ

শ্রীরামকৃষ্ণের জীবনী থেকে আমাদের এই শিক্ষা নেওয়া উচিত যে, প্রকৃতিকে ভালোবাসতে হবে। জীবের সেবা করতে হবে। পিতা-মাতা এবং জন্মভূমিকে শ্রদ্ধা করতে হবে। সকল ধর্মকেই শ্রদ্ধা করতে হবে। তাহলে ধর্মীয় সংঘাত দেখা দেবে না।

উত্তরঃ

পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলায় তারাপীঠের নিকটে অটলা গ্রামে বামাক্ষেপা জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা সর্বানন্দ চট্টোপাধ্যায় এবং মাতা রাজকুমারী দেবী। বামাক্ষেপা তাঁর পিতা-মাতার দ্বিতীয় সন্তান। বামাক্ষেপার আসল নাম বামাচরণ চট্টোপাধ্যায়। পরে তিনি তান্ত্রিক মতে সাধনা করে সিদ্ধি লাভ করেন।

উত্তরঃ

বামাক্ষেপার পিতামাতার দেওয়া নাম হলো বামাচরণ চট্টোপাধ্যায়। কিন্তু পরে তারামায়ের সাধনায় তাঁর ক্ষেপামি বা একরোখা ভাব দেখে সবাই তাঁকে বামাক্ষেপা বলেই ডাকতেন। তিনি 'জয়তারা জয়তারা' বলে মাটিতে লুটোপুটি খান।

উত্তরঃ

বামাক্ষেপার তন্ত্রসাধনার গুরু দুইজন। তন্ত্রসাধক ও বেদজ্ঞ মোক্ষাদানন্দ ও কৈলাসপতি। কৈলাসপতি তাঁকে দীক্ষা দেন। আর মোক্ষাদানন্দ তাকে সাধনার শিক্ষা দেন। এভাবেই, বামাক্ষেপার তন্ত্রসাধনা শুরু হয়।

উত্তরঃ

বামাক্ষেপা ছিলেন খুবই সহজ-সরল এক আত্মভোলা মানুষ। খা্যাখাদ্য, পূজা-মন্ত্র কোনো কিছুই তিনি মানতেন না। 'এই বেলপাতা লে মা, এই অন্ন লে মা, এই জল লে মা, এই ফুল-ধূপ লে মা'। এই ছিল বামার পূজা।

উত্তরঃ

বামাক্ষেপার কয়েকটি উপদেশ হলো-
১. ধর্ম অন্তরের জিনিস, বেশি আড়ম্বর করলে নষ্ট হয়।
২. মায়াকে জয় করতে পারলেই মহামায়ার কৃপা পাওয়া যায়।
৩. কলিযুগে মুক্তিসাধনা হরিনাম ছাড়া জীবের গতি নেই।
৪. দিনরাত যে কালী তারা, রাধাকৃষ্ণ নাম করে পাপ তাকে স্পর্শ করতে পারে না।

উত্তরঃ

বামাক্ষেপার জীবনী থেকে আমরা এই নৈতিক শিক্ষা পাই যে, মনে প্রাণে কোনো কিছু চাইল তা পাওয়া যায়। ধর্ম অন্তর দিয়ে পালন করতে হয়। বাইরে তা নিয়ে বাড়াবাড়ি করা ঠিক নয়। দেব-দেবীর পূজার ভক্তিই প্রধান। মন্ত্র-তন্ত্র, নিয়ম-কানুন প্রধান বিষয় নয়। পিতা-মাতাকে শ্রদ্ধা করতে হবে।

উত্তরঃ

ভাদ্র মাসের কৃষ্ণা অষ্টমী তিথিতে শ্রীকৃষ্ণ জন্মগ্রহণ করেন।

উত্তরঃ

শ্রীকৃষ্ণ স্বয়ং ভগবান।

উত্তরঃ

দেবকী কংসের খুড়তুত বোন।

উত্তরঃ

বসুদেব রাজা শূরের পুত্র এবং পরবর্তীতে দেবকীর স্বামী।

উত্তরঃ

দেবকীর সপ্তম সন্তান বলরাম।

উত্তরঃ

দেবকীর অষ্টম গর্ভের সন্তান হলেন শ্রীকৃষ্ণ।

উত্তরঃ

নন্দরাজের স্ত্রীর নাম যশোদা।

উত্তরঃ

শ্রীকৃষ্ণকে মারার জন্য কংস যে অসুরকে পাঠালেন তার নাম তৃণাবর্ত।

উত্তরঃ

সন্ন্যাসী তোতাপুরি সন্ন্যাসমন্ত্রে দীক্ষিত করে গদাধরের নাম রাখেন শ্রীরামকৃষ্ণ।

উত্তরঃ

নরেন্দ্রনাথ-হলেন শ্রীরামকৃষ্ণের শ্রেষ্ঠ শিষ্য স্বামী বিবেকানন্দ।

উত্তরঃ

রানি রাসমণি কোলকাতার উত্তরে গঙ্গর পূর্বতীরে হালিশহরের নিকট কোনা নামক গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

উত্তরঃ

পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলায় তারাপীঠ অবস্থিত।

উত্তরঃ

পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার অন্তর্গত বারাসাত মহকুমার চাকলা নামক গ্রামে শ্রীশ্রী লোকনাথ ব্রহ্মচারী জন্মগ্রহণ করেন।

উত্তরঃ

বাবা লোকনাথ অশেষ কৃপাবাণ মহাপুরুষ ছিলেন।

উত্তরঃ

শ্রীকৃষ্ণ স্বয়ং ভগবান- 'কৃষ্ণস্তু ভগবান স্বয়ম' জগতের কল্যাণের জন্য তিনি মানবরূপে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। দুষ্টকে দমন করে তিনি শিস্টকে পালন করেছিলেন।

উত্তরঃ

কংসের খুড়তুত বোন দেবকী। দেবকীকে কংস খুব ভালোবাসতেন। তাই আদর করে রাজা শূরের পুত্র বসুদেবের সঙ্গে তাঁর বিয়ে দেন। বসুদেবের সঙ্গে বোনের বিয়ে হওয়ায় কংস খুব খুশি হলেন। তাই নিজে রথ চালিয়ে কংস তাঁদেরকে শূররাজ্যে পৌছে দিচ্ছিলেন। এমন সময় দৈববাণী হলো- "শোন কংস, দেবকীর অষ্টম গর্ভের সন্তান তোমায় হত্যা করবে"।

উত্তরঃ

শ্রীকৃষ্ণের জীবনী থেকে যে নীতিশিক্ষা পাওয়া যায় তা হলো এমন যে, ভগবান সর্বদা দুষ্টের দমন করেন এবং শিষ্টের পালন করেন। মানবরূপে জন্ম নিয়ে তিনি দুর্জনদের হত্যা করে জগতের মঙ্গল করেন। ভগবান সহায় থাকলে দুষ্টরা কিছু করতে পারে না। তিনিই সবাইকে রক্ষা করেন।

উত্তরঃ

রানি রাসমণি একদিন বিশ্বেশ্বর দর্শনের জন্য কাশীধামে যাওয়া স্থির করেন। যাত্রার পূর্বরাত্রে মা কালী তাঁকে স্বপ্নে বলেন, "কাশী যাওয়ার আবশ্যকতা নেই, গঙ্গার তীরে আমার মূর্তি প্রতিষ্ঠা করে পূজা ও ভোগের ব্যবস্থা করো। আমি ঐ মূর্তিকে আশ্রয় করে আবির্ভূত হয়ে তোমার নিকট থেকে নিত্য পূজা গ্রহণ করবো।" মায়ের এ আদেশ পেয়ে রাসমণি গঙ্গার তীরে জমি কিনে মন্দির নির্মাণ করেন।

100

ভারতবর্ষে অনেক মহাপুরুষ ও মহীয়সী নারী জন্মগ্রহণ করেছেন। আজীবন তাঁরা জগতের কল্যাণ করেছেন। মানুষের মঙ্গল করেছেন। তাঁদের জীবনী থেকে আমরা অনেক কিছু শিখতে পারি। আমাদের জীবন সুন্দরভাবে গড়ে তোলার অনুপ্রেরণা লাভ করতে পারি। তাই তাঁদের জীবনী আমাদের কাছে আদর্শ জীবনচরিত হিসেবে বিবেচ্য। এ অধ্যায়ে পাঁচজন আদর্শ মহাপুরুষ এবং মহীয়সী নারীর জীবনচরিত বর্ণনা করা হলো। তাঁরা হলেন শ্রীকৃষ্ণ, শ্রীলোকনাথ ব্রহ্মচারী, রাণী রাসমণি, শ্রীরামকৃষ্ণ ও বামাক্ষেপা।

এ অধ্যায় শেষে আমরা-

  • শ্রীকৃষ্ণের শৈশবকালের জীবনাদর্শ বর্ণনা করতে পারব
  • নৈতিক চরিত্র গঠনে শ্রীকৃষ্ণের জীবনাদর্শের শিক্ষা ব্যাখ্যা করতে পারব
  • নৈতিকতা গঠনে শ্রীলোকনাথ ব্রহ্মচারীর জীবনাদর্শের শিক্ষা বর্ণনা করতে পারব
  • রাণী রাসমণির জীবনাদর্শ সম্পর্কে জানতে পারব
  • রাণী রাসমণির সংস্কারমূলক কার্য বর্ণনা করতে পারব
  • নৈতিক চরিত্র গঠনে শ্রীরামকৃষ্ণের জীবনাদর্শ বর্ণনা করতে পারব
  • নৈতিক চরিত্র গঠনে বামাক্ষেপার জীবনাদর্শ বর্ণনা করতে পারব
  • মহাপুরুষ ও মহীয়সী নারীদের জীবনাদর্শের শিক্ষা নিজ জীবনাচরণে মেনে চলতে উদ্বুদ্ধ হব
  • পাঠ্যপুস্তক বহির্ভূত মহাপুরুষ-মহীয়সী নারীদের জীবনী ও অবদান সম্পর্কে অনুসন্ধান পরিচালনা করতে পারব।

Related Question

View All

শ্রীকৃষ্ণ কেন মানবরূপে জন্মগ্রহণ করেছিলেন? (সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর)

Updated: 8 months ago
উত্তরঃ

শ্রীকৃষ্ণ জন্মের পূর্বে মাথুরায় কংস রাজা জনগণের ওপর নানা ধরনের অত্যাচার করছিল। নিজের পিতাকে বন্দি করে কংস সিংহাসন দখল করে। এই কংসকে ধ্বংস করে জগতের কল্যাণের জন্য তিনি মানবরূপে জন্মগ্রহণ করেন। শ্রীকৃষ্ণ স্বয়ং ভগবান। জগতে যখন অধর্ম বেড়ে যায় তখন ধর্মকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য অবতাররূপে ভগবান পৃথিবীতে অবতরণ করেন। আর এ কারণেই শ্রীকৃষ্ণ মধুরা রাজ্যকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য মানবরূপে জন্মগ্রহণ করেন।

90

রাণী রাসমণি জগন্নাথ ক্ষেত্রে গিয়ে কী ভূমিকা রাখেন? (সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর)

Updated: 8 months ago
উত্তরঃ

'রানি রাসমনি জমিদারির পাশাপাশি জনকল্যাণ ও ধর্মচর্চা সমানভাবে করে গেছেন। তিনি পুণ্যভূমি জগন্নাথ ক্ষেত্রে যান। সেখানকার রাস্তাঘাট ছিল জরাজীর্ণ। বর্ষাকালে সেখানে প্রচুর কাদামাটি তৈরি হতো। এ কারণে তীর্থযাত্রীদের খুব কষ্ট হতো চলাফেরা করতে। রাসমনি তাঁদের সুবিধার কথা চিন্তা করে সমস্ত রাস্তা - সংস্কার করেন। শুধু তা-ই নয়, ষাট হাজার টাকা ব্যয় করে তিনি জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রা এ তিন বিগ্রহের জন্য হীরকখচিত তিনটি মুকুট তৈরি করে দেন। তিনি জগন্নাথদেবের জন্য ১,২২,১১৫ টাকা ব্যয় করে জন্য রূপার রথ তৈরি করেন।

107

বামাক্ষেপা মায়ের আত্মার সদ্‌গতির জন্য কী করেছিলেন? (সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর)

Updated: 8 months ago
উত্তরঃ

বামাক্ষেপা তারামায়ের ভক্ত হলেও নিজের মাকে খুব শ্রদ্ধা করতেন। মা রাজকুমারী মারা যাওয়ার পর তাঁর দেহ তারাপীঠে আনা হয়। বামা তখন দ্বারকা নদীর ওপারে তারাপীঠ শ্মশানে। বর্ষাকালে নদীতে প্রচন্ড ঢেউ। তাই ভয়ে কেউ মৃতদেহ ওপারে শ্মশানে নিতে চাইছে না। এপারেই দাহ করার আয়োজন করছে। কিন্তু মায়ের আত্মার সদ্গতির জন্য তারাপীঠের শ্মশানেই তাঁকে দাহ করা দরকার। এ কথা ভেবে বামাক্ষেপা মা তারার নাম নিয়ে নদীতে ঝাঁপ দিলেন। এপারে এসে মায়ের শরীর নিজের সঙ্গে বেঁধে সাঁতার কেটে ওপারে গেলেন এবং তারাপীঠ শ্মশানে মায়ের দেহ দাহ করলেন। এভাবে বামা মায়ের আত্মার সদ্‌গতি করেন।

148

লোকনাথ কাকে 'মা' বলে ডাকতেন এবং কেন? (সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর)

Updated: 8 months ago
উত্তরঃ

লোকনাথকে এক গোয়ালিনী দুধ দিতেন তিনি গোয়ালিনীকে মা বলে ডাকতেন। কারণ লোকনাথ জাতি, ধর্ম, বর্ণের বিচার করতেন না। তাঁর কাছে সব মানুষই ছিল সমান। সমাজের উঁচু-নিচু সবাইকে সমান মর্যাদা দিতেন তিনি। জীবের সেবা করতেন। তিনি বিশ্বাস করতেন জীবসেবাই ইশ্বর সেবা। তিনি জীবের মধ্যেই ব্রহ্মের উপস্থিতি উপলব্ধি করতেন। জীবের কল্যাণে তিনি আনন্দ পেতেন। আর এ কারণে তিনি ছোট-বড়, উঁচু-নিচু ভেদাভেদ করতেন না। তাছাড়া গোয়ালিনীকে তিনি স্বপ্নে মা রূপে দেখেছিলেন। তাই গোয়ালিনীকে তিনি মা বলে ডাকতেন।

103

'কৃষ্ণস্তু ভগবান স্বয়ম্'- এ কথাটি বুঝিয়ে লেখ। (সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর)

Updated: 8 months ago
উত্তরঃ

'কৃষ্ণস্ত ভগবান স্বয়ম'-এই কথাটির অর্থ হলো শ্রীকৃষ্ণ হচ্ছে ষয়ং ভগবান। জগতের কল্যাণের জন্য তিনি অবতরণ করেছিলেন এই ধরাধমে। দুষ্টকে দমন করে তিনি শিষ্টের পালন করেছিলেন।

220

কংস তার বোন দেবকীকে কেন হত্যা করতে উদ্যত হন? (সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর)

Updated: 8 months ago
উত্তরঃ

কংস যখন তার বোন দেবকীকে রথে করে তার স্বামী বসুদেবের ঘরে পৌঁছে দিতে যাচ্ছিলেন, তখন কংস একটি অদ্ভুত দৈববাণী শুনতে পেল। দৈববাণীটি এরকম-'শোন কংস, দেবকীর অষ্টম গর্ভের সন্তান তোমায় হত্যা করবে।' এ কথা শুনে কংস ক্ষেপে গিয়ে দেবকীকে হত্যা করতে উদ্যত হন।

105
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews