'এলাটিং বেলাটিং' শামসুর রাহমানের লেখা।
গহিন গাঙে সুজন মাঝি জীবিকার তাগিদে আনন্দচিত্তে নাও বাইছেন।
আমাদের দেশে বিভিন্ন পেশার মানুষের বসবাস। কেউ তাঁতি, কেউ চাষি, কেউ শ্রমিক, আবার কেউ মাঝি। মাঝিরা মনের আনন্দে জীবিকার অন্বেষণে গহিন গাঙে নাও বেয়ে চলেন। এতে তারা স্বাধীনতার আনন্দ পান বলে তাদের কোনো ক্লান্তি বা অবসাদ থাকে না। কবির মতে, তাদেরকে স্বাধীনভাবে নাও বাওয়ার অধিকার দিতে হবে যেন মনের আনন্দে তারা কাজ করতে পারেন।
উদ্দীপকের বলাইয়ের প্রতিবাদে 'বাঁচতে দাও' কবিতার প্রকৃতিতে সব প্রাণীর স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকার প্রয়োজনীয়তার দিকটি ফুটে উঠেছে।
প্রাকৃতিক নানা অনুষঙ্গ নিয়েই পৃথিবীর পরিবেশ। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করতে হলে প্রাকৃতিক জীবজন্তু, তরুলতা-বৃক্ষ ইত্যাদির বেঁচে থাকার স্বাধীনতা দিতে হবে। তবেই পরিবেশের সৌন্দর্য মোহনীয়রূপে ফুটে উঠবে।
উদ্দীপকে বর্ণিত হয়েছে বলাই নামের এক শিশুর প্রকৃতির প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসার কথা। তার কাকা একটি গাছ কাটতে চাইলে বলাই তার কাকির কাছে গিয়ে আকুতি জানায় গাছটির বেঁচে থাকার অধিকার ও প্রয়োজনীয়তা রক্ষার্থে। 'বাঁচতে দাও' কবিতায়ও কবি সব প্রাণীর স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকার বিষয়টি তুলে ধরেছেন। কবির মতে, প্রকৃতিতে প্রাণীর বিকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে পারলে পরিবেশের সৌন্দর্য যেমন বজায় থাকবে, প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের হাত থেকেও আমরা রক্ষা পাব। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকের বলাইয়ের প্রতিবাদে 'বাঁচতে দাও' কবিতার প্রাণিজগতের স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকার দিকটি ফুটে উঠেছে।
"উদ্দীপকে বর্ণিত বিষয়টি 'বাঁচতে দাও' কবিতার সামগ্রিক ভাবের ধারক না হলেও মূল সুরের দিক থেকে অভিন্ন।"- মন্তব্যটি যথার্থ।
আনন্দময় জীবন ও স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকার অধিকার প্রতিটি প্রাণীর রয়েছে। এ অধিকার সুনিশ্চিত করা গেলে প্রকৃতিতে প্রাণের বিকাশ সুন্দরভাবে ঘটতে থাকবে।
উদ্দীপকে একটি গাছকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য ছোট বালক বলাইয়ের আকুতি প্রকাশ পেয়েছে। সে গাছটির স্বাভাবিক বেড়ে ওঠার পথে বাধা হয়ে না দাঁড়াতে তার কাকাকে অনুরোধ করেছে। 'বাঁচতে দাও' কবিতায় কবি সব প্রাণীর স্বাভাবিক বিকাশের কথা বলেছেন। তিনি মনে করেন, প্রকৃতির নিয়মে সব প্রাণীর যদি স্বাভাবিকভাবে বেড়ে ওঠা নিশ্চিত হয় তাহলে পরিবেশের সজীবতা আরও বৃদ্ধি পাবে। কারণ পরিবেশের সৌন্দর্য ও ভারসাম্য রক্ষার জন্য কোনো প্রাণীর অবদান কম নয়।
উদ্দীপকের বলাইয়ের মিনতিতে গাছের বেড়ে ওঠার স্বাধীনতার দিকটি সুস্পষ্টভাবে উপস্থাপিত হয়েছে। 'বাঁচতে দাও' কবিতায়ও শুধু বৃক্ষের স্বাধীনতার কথাই বলা হয়নি, বরং প্রাণীর বিকাশের স্বাধীনতার কথাও বলা হয়েছে। সুতরাং বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
Related Question
View Allপ্রতিদিন জোনাক পোকা আলোর খেলা খেলছে।
কাজল বিলে পানকৌড়িকে নাইতে দেওয়ার আহ্বান দ্বারা কবি প্রাণিজগতের স্বাভাবিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত না করার কথা বুঝিয়েছেন।
প্রকৃতি ও পরিবেশ প্রাণিজগতের বেঁচে থাকার প্রধান আশ্রয়। কিন্তু মানুষের হাতেই দিন দিন এগুলো ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। ফলে বিপন্ন হচ্ছে প্রাণীর জীবন। পানকৌড়ি জলচর প্রাণী। বিলে-ঝিলে তাদের জীবনের স্বাভাবিক বিকাশ ঘটে। কিন্তু বিল ভরাট করা হলে তাদের বিকাশ বাধাগ্রস্ত হবে। তাই বিলে যেন পানকৌড়ি নাইতে পারে তার ব্যবস্থা করার কথা বলা হয়েছে।
উদ্দীপকের সাঁতার কাটার সঙ্গে 'বাঁচতে দাও' কবিতার শিশুর কাজটির সাদৃশ্য রয়েছে।
প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের সহজ-স্বাভাবিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। প্রকৃতি ও পরিবেশ মানুষের বেড়ে ওঠার পথে সহায়ক ভূমিকা রাখে।
উদ্দীপকে নাজির সাহেব ছোটবেলায় সাঁতার শিখেছিলেন। গ্রামের বাড়িতে আগের মতো খাল-বিল-পুকুর না থাকাতে সন্তানদের সাঁতার কাটা শেখাতে পারছেন না। 'বাঁচতে দাও' কবিতায়- কবি শিশুর স্বাভাবিক বিকাশের কথা বলেছেন। শিশু তার স্বাভাবিক পরিবেশ পেলে সুস্থভাবে বেড়ে উঠবে। এসব দিক দিয়েই উদ্দীপকের সাঁতার কাটার সঙ্গে 'বাঁচতে দাও' কবিতার শিশুর কাজে সাদৃশ্য রয়েছে।
উদ্দীপকের নাজির সাহেবের আক্ষেপের মধ্যে 'বাঁচতে দাও' 'কবিতার মূল সুরটি ফুটে উঠেছে।- মন্তব্যটি যথার্থ।
আধুনিক জীবনযাপনের জন্য মানুষ নগরায়নের দিকে ঝুঁকছে। আর এই নগরায়নসহ মনুষ্যসৃষ্ট নানা কারণে পরিবেশ বিপর্যস্ত হচ্ছে।
উদ্দীপকের নাজির সাহেব নিজে সাঁতার কাটা শিখতে পেরেছিলেন, কিন্তু তার সন্তানদের শেখাতে পারছেন না। কারণ বর্তমানে মানুষ তার প্রয়োজনে অপ্রয়োজনে প্রাকৃতিক পরিবেশের বিপর্যয় ঘটাচ্ছে, যার ফলে প্রাকৃতিক দুর্যোগে মানুষের দুর্গতি বাড়ছে। 'বাঁচতে দাও' কবিতায় কবি পরিবেশের যে বিপর্যয় অবস্থা এটার ক্ষতিকর দিকটা উপস্থাপন করেছেন। প্রকৃতি তার আপন নিয়মে চলে। এ নিয়মের ব্যতিক্রম ঘটলে মানুষের জন্য বিপর্যয় ডেকে আনে।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, এক সময় নদী-নালা-খাল-বিল-পুকুরে ভরা ছিল এদেশ। কিন্তু বিভিন্ন কারণে পরিবেশের বিপর্যয় ঘটেছে। উদ্দীপকের নাজির সাহেবের এই আক্ষেপে 'বাঁচতে দাও' কবিতার কবির পরিবেশ সম্পর্কে আশঙ্কা প্রতিধ্বনিত হয়েছে। তাই বলা যায়, মন্তব্যটি যথার্থ।
সুজন মাঝি গহিন গাঙে নৌকা বাইছে।
'ফুটতে দাও, ছুটতে দাও'- এ কথাগুলো দ্বারা কবি জীবনের স্বাভাবিক বিকাশের পথে বাধাহীনতার কথা বোঝাতে চেয়েছেন।
প্রত্যেক মানুষ ও প্রাণী তার উপযোগী পরিবেশেই বসবাস করে। আর সেই পরিবেশ যদি পরিবর্তন হয়ে যায় তবে তার বেঁচে থাকার আনন্দই বৃথা হয়ে যাবে। তাই গোলাপ যেভাবে ফোটে, তাকে সেভাবে। ফুটতে দিতে হবে এবং বালক যেভাবে ঘুড়ির পেছনে ছোটে, তাকে সেভাবেই ছুটতে দিতে হবে, তা না হলে উভয়ের স্বাভাবিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হবে। আলোচ্য কথাগুলো দ্বারা কবি এটিই বোঝাতে চেয়েছেন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!