বাঁচতে দাও
শামসুর রাহমান
এই তো দ্যাখো ফুলবাগানে গোলাপ ফোটে,
ফুটতে দাও।
রঙিন কাটা ঘুড়ির পিছে বালক ছোটে,
ছুটতে দাও।
নীল আকাশের সোনালি চিল মেলছে পাখা,
মেলতে দাও।
জোনাক পোকা আলোর খেলা খেলছে রোজই,
খেলতে দাও।
মধ্য দিনে নরম ছায়ায় ডাকছে ঘুঘু,
ডাকতে দাও।
বালির ওপর কত্ত কিছু আঁকছে শিশু,
আঁকতে দাও।
কাজল বিলে পানকৌড়ি নাইছে সুখে,
নাইতে দাও।
গহিন গাঙে সুজন মাঝি বাইছে নাও,
বাইতে দাও।
নরম রোদে শ্যামা পাখি নাচ জুড়েছে,
নাচতে দাও।
শিশু, পাখি, ফুলের কুঁড়ি-সবাইকে আজ
বাঁচতে দাও।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
রঙিন কাটা ঘুড়ি জোনাক পোকা আলোর খেলা - ঘুড়ি উড়িয়ে কাটাকাটির লড়াইয়ে সুতো কেটে যাওয়া রঙিন ঘুড়ি।
খেলছে রোজই - সন্ধ্যার অন্ধকারে জোনাকিরা আলো জ্বালিয়ে যেন খেলায় মাতে।
সবাইকে আজ বাঁচতে দাও - প্রকৃতি কেবল মানুষের বসবাসের জায়গা নয়-গাছপালা, পশুপাখি সকলেরই আছে বাঁচার সমান অধিকার। তা না হলে মানুষের অস্তিত্বও হুমকির মুখে পড়বে।
পানকৌড়ি - কালো রঙের হাঁস জাতীয় মাছ-শিকারি পাখি।
নাইতে - গোসল করতে। স্নান করতে।
গহিন - গভীর। অতল। গহন।
গাঙে - নদীতে।
প্রকৃতি ও পরিবেশ মানুষের বেঁচে থাকার প্রধান আশ্রয়। মানুষ ও প্রকৃতি পরিবেশের অংশ। অথচ মানুষের হাতেই দিন দিন এগুলো ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। ফলে বিপন্ন হচ্ছে মানুষ ও প্রাণীদের জীবন। আমাদের চারপাশ যদি সজীব ও সুন্দর না হয় তাহলে বেঁচে থাকার আনন্দই বৃথা হয়ে যাবে।
কবি শামসুর রাহমান 'বাঁচতে দাও' কবিতায় প্রকৃতি, পরিবেশ ও প্রাণিজগতের সুস্থ ও স্বাভাবিক বিকাশের কথা বলেছেন। একটি শিশুর বেড়ে ওঠার সঙ্গে তার চারপাশের সুস্থ পরিবেশের সম্পর্ক রয়েছে। যদি পৃথিবীতে ফুল না থাকে, পাখি না থাকে, সবুজ ধ্বংস হয়ে যায় তাহলে শিশুর স্বাভাবিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হবে। কবিতায় এইসব প্রতিকূলতাকে জয় করার কথাই সুন্দর করে তুলে ধরা হয়েছে।
শামসুর রাহমানের কবিতায় নাগরিক জীবন, মুক্তিযুদ্ধ, গণ-আন্দোলন নানা অনুভূতিতে রূপায়িত হয়েছে। তাঁর কবিতা তাই দেশপ্রেম ও সমাজ সচেতনতায় সতেজ ও দীপ্ত। তিনি বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান কবি।
শামসুর রাহমান পেশায় সাংবাদিক। বিভিন্ন সময়ে তিনি 'মর্নিং নিউজ', 'রেডিও বাংলাদেশ', 'দৈনিক গণশক্তি' ইত্যাদিতে সাংবাদিক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রায় এক দশক ধরে তিনি ছিলেন 'দৈনিক বাংলা'র সম্পাদক। কবিতা অনুবাদেও তিনি সিদ্ধহস্ত। এছাড়া তিনি উপন্যাস, প্রবন্ধ, স্মৃতিকথা লিখেছেন।
শিশুদের জন্যও শামসুর রাহমান চমৎকার কবিতা লিখেছেন। 'এলাটিং বেলাটিং', 'ধান ভানলে কুঁড়ো দেবো', 'গোলাপ ফোটে খুকীর হাতে' ইত্যাদি তাঁর উল্লেখযোগ্য ছড়া কবিতার বই।
সাহিত্য-সাধনার স্বীকৃতি হিসেবে কবি শামসুর রাহমান অনেক পুরস্কার ও পদকে ভূষিত হয়েছেন। এসব পুরস্কারের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: বাংলা একাডেমি পুরস্কার, একুশে পদক ও মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন স্বর্ণপদক।
শামসুর রাহমানের জন্ম ঢাকায় ১৯২৯ সালে। তাঁর পৈতৃক নিবাস নরসিংদী জেলার পাড়াতলী গ্রামে। তিনি ২০০৬ সালে ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।
প্রিয় শিক্ষার্থীবৃন্দ, চলো আমরা মজা করে কবিতাটি আবৃত্তি করি। এ জন্য প্রথমেই আমাদের উপস্থিত বন্ধুদের দুই দলে ভাগ করে নিতে হবে। 'ক' দলের বন্ধুরা কবিতার একটি অংশ সমবেতভাবে আবৃত্তি করবে, সাথে সাথে 'খ' দলের বন্ধুরা পরের নির্ধারিত অংশ আবৃত্তি করবে। এ নিয়মটি আমরা পরের বার উল্টে দিতে পারি। তাহলে চলো বৃন্দ-আবৃত্তিটি করি।
ক-দল
এই তো দ্যাখো ফুল বাগানে গোলাপ ফোটে
রঙিন কাটা ঘুড়ির পিছে বালক ছোটে
নীল আকাশের সোনালি চিল মেলছে পাখা
জোনাক পোকা আলোর খেলা খেলছে রোজই
মধ্যদিনে নরম ছায়ায় ডাকছে ঘুঘু
বালির ওপর কত্ত কিছু আঁকছে শিশু
কাজল বিলে পানকৌড়ি নাইছে সুখে
গহিন গাঙে সুজন মাঝি বাইছে নাও
নরম রোদে শ্যামা পাখি নাচ জুড়েছে
শিশু, পাখি, ফুলের কুঁড়ি- সবাইকে আজ
খ-দল
ফুটতে দাও
ছুটতে দাও
মেলতে দাও
খেলতে দাও
ডাকতে দাও
আঁকতে দাও
নাইতে দাও
বাইতে দাও
নাচতে দাও
বাঁচতে দাও
এবার চলো যে কোনো একজন কবিতাটির ভাবার্থ পাঠ করে শোনাই। লক্ষ করো, কবিতাটির আবৃত্তি ও পাঠের মধ্যে কী কী পার্থক্য রয়েছে। এবার নিচের ছকে পাঠ ও আবৃত্তির মধ্যে পার্থক্যগুলো তুলে ধরার চেষ্টা করো (প্রথমটি করে দেয়া আছে)।
| আবৃত্তির বৈশিষ্ট্য | পাঠের বৈশিষ্ট্য |
১ | আবৃত্তি কবিতা বা ছড়ার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য | পাঠ সাধারণত গদ্যের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য |
২ |
|
|
৩ |
|
|
৪ |
|
|
৫ |
|
|
Read more