বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার লক্ষ্যে অন্তর্বর্তী সরকার কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে?

Updated: 1 month ago
উত্তরঃ

ভূমিকা: ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে অন্তর্বর্তী সরকার এক চরম অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে দায়িত্ব গ্রহণ করে। উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি, ব্যাংকিং খাতের অনিয়ম এবং রিজার্ভ সংকটের মুখে সরকার গৃহীত পদক্ষেপগুলো নিম্নরূপ:

  • ব্যাংকিং খাত সংস্কার ও শ্বেতপত্র প্রণয়ন: ব্যাংক খাতের প্রকৃত চিত্র জানতে 'অর্থনৈতিক শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটি' গঠন করা হয়েছে। এসআইবিএল ও ন্যাশনাল ব্যাংকের মতো বিতর্কিত ব্যাংকগুলোর পর্ষদ ভেঙে দিয়ে দক্ষ প্রশাসক নিয়োগ করা হয়েছে।
  • কঠোর মুদ্রানীতি অনুসরণ: মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে নীতি সুদহার (Policy Rate) ৯.৫০% বা তার ঊর্ধ্বে বৃদ্ধি করা হয়েছে যাতে বাজারে অর্থের সরবরাহ কমে। এটি টাকার মান স্থিতিশীল করতে সাহায্য করছে।
  • রাজস্ব নীতিতে পরিবর্তন: নিত্যপণ্যের (যেমন: তেল, চিনি, ডিম) ওপর থেকে আমদানি শুল্ক উল্লেখযোগ্য হারে কমানো হয়েছে। এছাড়া বিলাসদ্রব্য আমদানিতে এলসি (LC) মার্জিন বৃদ্ধি করাহয়েছে।
  • পাচারকৃত অর্থ উদ্ধার (Asset Recovery): বিদেশে পাচার হওয়া বিপুল পরিমাণ অর্থ ফিরিয়ে আনতে টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ এবং এফবিআই-এর সাথে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
  • বৈদেশিক ঋণের উৎস সন্ধান: আইএমএফ-এর বিদ্যমান ঋণের অতিরিক্ত ৩ বিলিয়ন ডলার এবং বিশ্বব্যাংক ও এডিবি থেকে বাজেট সহায়তা বাবদ কয়েক বিলিয়ন ডলার ঋণের নিশ্চয়তা পাওয়া গেছে, যা রিজার্ভের চাপ লাঘব করছে।
  • ব্যয় সংকোচন নীতি: বিগত সরকারের আমলের রাজনৈতিক মেগা প্রকল্পগুলো স্থগিত করে উন্নয়ন বাজেট থেকে অর্থ সাশ্রয় করা হচ্ছে এবং তা উৎপাদনশীল খাতে ব্যয় করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
24

শেখ হাসিনার পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার গঠন: ড. মুহাম্মদ ইউনূস প্রধান উপদেষ্টা

শেখ হাসিনার সরকার দ্রুত পতনের পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র নেতারা আগেই নতুন সরকারের প্রস্তুতি শুরু করেছিলেন। অগাস্টের শুরু থেকেই তারা নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন, কারণ সম্ভাব্য পরিস্থিতিতে তিনি সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নিতে পারেন।

৫ আগস্ট দুপুরে গণমাধ্যমে খবর আসে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারত পলায়ন করেছেন। একই দিনে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান ঘোষণা করেন, একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করা হবে।

সেনা সদর দফতরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক এবং ছাত্র নেতাদের উপস্থিতিতে আলোচনা হয়। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র নেতারা নিশ্চিত হন যে, জাতীয় সরকারের বিষয়ে বিএনপির আগ্রহ নেই। এরপর তারা জনগণের মাধ্যমে সরকারের প্রস্তাবনা আনা ও উপদেষ্টা চূড়ান্ত করার উদ্যোগ নেন।

ছাত্র নেতারা ৫ আগস্ট টেলিভিশন চ্যানেলের মাধ্যমে ড. ইউনূসকে যোগাযোগ করেন। দীর্ঘ আলোচনা শেষে ড. ইউনূস সম্মতি দেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার জন্য। রাতেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার নাম ঘোষণা করা হয়।

৬-৭ আগস্ট রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন, তিন বাহিনী প্রধান, ছাত্র নেতা ও শিক্ষাবিদদের সঙ্গে বৈঠক করে নতুন সরকারের রূপরেখা চূড়ান্ত করেন। ছাত্র ও নাগরিক সমন্বয়কারীরা রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে তালিকা আলোচনা করে ১৫ সদস্যের প্রাথমিক উপদেষ্টা তালিকা তৈরি করেন।

৮ আগস্ট দুপুরে ড. মুহাম্মদ ইউনূস ফ্রান্স থেকে দেশে এসে বঙ্গবন্ধু ভবনে শপথ গ্রহণ করেন। তার সঙ্গে ১৬ জন উপদেষ্টা তালিকাভুক্ত ছিলেন, শপথ গ্রহণ করেন প্রথমে ১৩ জন, বাকিদের পরবর্তীতে। উপদেষ্টা তালিকায় ছাত্র আন্দোলনের দুইজন সমন্বয়কও অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।

ড. ইউনূস সরকার গ্রহণের সময় বলেন, “ছাত্ররা তাদের প্রাথমিক নিয়োগকর্তা; তারা যখন বলবে, তখন উপদেষ্টারা চলে যাবেন।”

শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তিনদিন ধরে সরকার বিহীন থাকার পর অন্তর্বর্তী সরকার কার্যক্রম শুরু করে। পরবর্তীতে সুপ্রিম কোর্টও সংবিধান অনুসারে এই সরকারের বৈধতা নিশ্চিত করে।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন বৈধ: সুপ্রিম কোর্ট

সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ লিভ টু আপিল খারিজ করে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন বৈধ ঘোষণা করেছিলো। প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন সাত বিচারপতির বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে গণঅভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ অনুসারে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের মতামত চেয়ে রেফারেন্স পাঠান। আপিল বিভাগের সুপারিশে অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয় এবং উপদেষ্টারা শপথ নেন।

হাইকোর্টে দায়ের করা রিট এবং এর লিভ টু আপিল খারিজ করা হয়। আদালত উল্লেখ করে, এক ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের উপদেশ গ্রহণ করেছেন, যা আইনি এবং জনগণের স্বার্থের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ।

সারসংক্ষেপে, রাষ্ট্রপতির রেফারেন্স এবং সুপ্রিম কোর্টের মতামতের ভিত্তিতে অন্তর্বর্তী সরকার গঠন ও শপথ আইনগতভাবে বৈধ।

সূত্রঃ বিবিসিবাংলা, বাসস ও আপিল বিভাগ

Related Question

View All
উত্তরঃ

অর্ন্তবর্তী সরকার গঠিত 'বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশন' এর প্রধান শাহ আবু নাঈম মমিনুর রহমান । 

358
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews