ফ্যাসিবাদ (Fascism) বিংশ শতাব্দীর এক বিতর্কিত ও উগ্র রাজনৈতিক মতাদর্শ। এটি মূলত 'এক রাষ্ট্র, এক দল এবং এক নেতা'এই দর্শনে বিশ্বাসী। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে ইতালিতে বেনিতো মুসোলিনি এবং জার্মানিতে হিটলারের হাত ধরে এই মতবাদ পূর্ণতা পায়।
ফ্যাসিবাদের তাত্ত্বিক সংজ্ঞা: এটি একটি দক্ষিণপন্থী উগ্র জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক দর্শন যা উদারনীতিবাদ, গণতন্ত্র এবং সমাজতন্ত্রকে প্রত্যাখ্যান করে। ফ্যাসিবাদ রাষ্ট্রকে ব্যক্তির ঊর্ধ্বে স্থান দেয়। মুসোলিনির ভাষায়, "Everything in the State, nothing outside the State, nothing against the State."
ফ্যাসিস্ট সরকারের বৈশিষ্ট্যসমূহ:
- একনায়কতন্ত্র ও ব্যক্তিবন্দনা (Cult of Personality): রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে নেতার একটি 'দেবতুল্য' ভাবমূর্তি তৈরি করা হয়। নেতার সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত আইন হিসেবে গণ্য হয় এবং তাকে জাতির একমাত্র রক্ষাকর্তা হিসেবে প্রচার করা হয়।
- উগ্র জাতীয়তাবাদ ও অবাস্তব শত্রুভীতি: স্বজাত্যবোধকে শ্রেষ্ঠ প্রমাণ করতে কাল্পনিক শত্রু (যেমন: নির্দিষ্ট ধর্মীয় গোষ্ঠী বা রাজনৈতিক বিরোধী) তৈরি করা হয়। 'জাতীয় নিরাপত্তা'র দোহাই দিয়ে নাগরিকদের মধ্যে ভীতি সঞ্চার করা হয়।
- রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের দলীয়করণ: বিচার বিভাগ, প্রশাসন, পুলিশ এবং নির্বাচন কমিশনকে সরকারের অঙ্গ-প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা হয়। সংবিধান ও আইনকে কেবল ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
- ভয়, ত্রাস ও গুমের সংস্কৃতি: রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীকে ব্যবহার করে বিরোধী মতাবলম্বীদের বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুম এবং নির্যাতনের মাধ্যমে স্তব্ধ করে দেওয়া হয়।
- গণমাধ্যম ও বাক-স্বাধীনতা হরণ: সংবাদপত্রের স্বাধীনতা খর্ব করা হয় এবং সরকারের সমালোচনাকারীদের 'দেশদ্রোহী' হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মতো কঠোর আইনের মাধ্যমে ভিন্নমত দমন করা হয়।
- ক্রনি ক্যাপিটালিজম (Crony Capitalism): সরকার অনুগত কিছু ব্যবসায়ীকে একচেটিয়া সুবিধা দেয়। বিনিময়ে তারা সরকারকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখতে অর্থ ও প্রভাব ব্যয় করে। এতে সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক শোষণ ত্বরান্বিত হয়।
- সাংস্কৃতিক ও ইতিহাস বিকৃতি: পাঠ্যপুস্তক থেকে শুরু করে জাতীয় দিবসগুলো পর্যন্ত একপাক্ষিক ও বিকৃত ইতিহাস প্রচার করা হয় যাতে পরবর্তী প্রজন্ম শাসকের অনুগত থাকে।
ভূমিকা: ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে অন্তর্বর্তী সরকার এক চরম অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে দায়িত্ব গ্রহণ করে। উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি, ব্যাংকিং খাতের অনিয়ম এবং রিজার্ভ সংকটের মুখে সরকার গৃহীত পদক্ষেপগুলো নিম্নরূপ:
- ব্যাংকিং খাত সংস্কার ও শ্বেতপত্র প্রণয়ন: ব্যাংক খাতের প্রকৃত চিত্র জানতে 'অর্থনৈতিক শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটি' গঠন করা হয়েছে। এসআইবিএল ও ন্যাশনাল ব্যাংকের মতো বিতর্কিত ব্যাংকগুলোর পর্ষদ ভেঙে দিয়ে দক্ষ প্রশাসক নিয়োগ করা হয়েছে।
- কঠোর মুদ্রানীতি অনুসরণ: মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে নীতি সুদহার (Policy Rate) ৯.৫০% বা তার ঊর্ধ্বে বৃদ্ধি করা হয়েছে যাতে বাজারে অর্থের সরবরাহ কমে। এটি টাকার মান স্থিতিশীল করতে সাহায্য করছে।
- রাজস্ব নীতিতে পরিবর্তন: নিত্যপণ্যের (যেমন: তেল, চিনি, ডিম) ওপর থেকে আমদানি শুল্ক উল্লেখযোগ্য হারে কমানো হয়েছে। এছাড়া বিলাসদ্রব্য আমদানিতে এলসি (LC) মার্জিন বৃদ্ধি করাহয়েছে।
- পাচারকৃত অর্থ উদ্ধার (Asset Recovery): বিদেশে পাচার হওয়া বিপুল পরিমাণ অর্থ ফিরিয়ে আনতে টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ এবং এফবিআই-এর সাথে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
- বৈদেশিক ঋণের উৎস সন্ধান: আইএমএফ-এর বিদ্যমান ঋণের অতিরিক্ত ৩ বিলিয়ন ডলার এবং বিশ্বব্যাংক ও এডিবি থেকে বাজেট সহায়তা বাবদ কয়েক বিলিয়ন ডলার ঋণের নিশ্চয়তা পাওয়া গেছে, যা রিজার্ভের চাপ লাঘব করছে।
- ব্যয় সংকোচন নীতি: বিগত সরকারের আমলের রাজনৈতিক মেগা প্রকল্পগুলো স্থগিত করে উন্নয়ন বাজেট থেকে অর্থ সাশ্রয় করা হচ্ছে এবং তা উৎপাদনশীল খাতে ব্যয় করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
ভূমিকা: টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDG) ২০৩০ এবং উন্নত বাংলাদেশ ২০৪১ অর্জনে পরিকল্পনায় গুণগত পরিবর্তন আনা জরুরি।
- প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতা ও সুশাসন: উন্নয়ন কেবল অবকাঠামোয় নয়, বরং সুশাসনে নিহিত। সংবিধানের ৭৭অনুচ্ছেদ অনুযায়ী 'ন্যায়পাল' নিয়োগ এবং প্রশাসনকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করা উন্নয়নের পূর্বশর্ত।
- জ্বালানি নিরাপত্তা ও ডাইভার্সিফিকেশন: আমদানিনির্ভর জ্বালানির বদলে অফশোর গ্যাস অনুসন্ধান এবং নবায়নযোগ্য শক্তিকে (সৌর, বায়ু) গ্রিডে যুক্ত করতে হবে। ২০৪১ সালের মধ্যে মোট জ্বালানির ৪০% নবায়নযোগ্য উৎস থেকে আসার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করতে হবে।
- মানবসম্পদ ও কারিগরি শিক্ষা: সাধারণ শিক্ষার বেকারত্ব দূর করতে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের (4IR) উপযোগী শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। প্রতি উপজেলায় কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (TTC) স্থাপন এবং ফ্রিল্যান্সিং খাতকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও সুবিধা দিতে হবে।
- রপ্তানি বহুমুখীকরণ: একক পোশাক খাতের ঝুঁকি এড়াতে চামড়া শিল্প, হালকা প্রকৌশল (Light Engineering) এবং ব্লু ইকোনমিকে কাজে লাগিয়ে সামুদ্রিক সম্পদ রপ্তানিতে জোর দিতে হবে।
- আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক যোগাযোগ: কানেক্টিভিটি বাড়ানোর জন্য কেবল সড়ক নয়, রেল ও নৌ-পথের সংযোগ বৃদ্ধি করে ট্রানজিট ও ট্রানশিপমেন্ট সুবিধার মাধ্যমে রাজস্ব আয় বাড়াতে হবে।
Related Question
View AllBRRI= Bangladesh Rice Research Institute
BRRI is located in Joydevpur, Gazipur.
Bangladesh Rice Research Institute = BRRI
FAO= Food & Agricultural Organization
FAO= Food and Agriculture Organization
It was founded on 16 October 1945. The FAO is composed of 195 members.
Its Headquarter is at Rome,Italy.
Food and Agriculture Organization
Food And Agricultural organisation
Food and agriculture organisation
Food and agriculture Organization
Food and Aagricultural Organization
Food authority organisation
United Nations Educational, Scientific and Cultural Organization
UNESCO= The United Nations Educational, Scientific and Cultural Organization
United nation educational,scientific,cultural organization
Random Access Memory
Random Access Memory
Random access memory
Random Access Memory
BADC=Bangladesh Agricultural Development Corporation
কুয়ালালামপুর
রিংগিত
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!