উদ্দীপকের শাহেদের ঘটনার আলোকে উত্ত সংস্থাটির অর্থাৎ বেসরকারি সংস্থার কুটিরশিল্প উন্নয়নের কার্যক্রম সম্পর্কে বলা হয়েছে।
বেসরকারি সংস্থা বা এনজিওসমূহ গ্রামীণ কুটির শিল্পসমূহের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। ঋণদান ও প্রশিক্ষণ ছাড়াও উৎপাদিত পণ্য বাজারজাতকরণে এনজিওসমূহ সহায়তা করে থাকে। বাংলাদেশের এনজিওগুলো প্রথমদিকে ত্রাণ তৎপরতা পরিচালনা করলেও বর্তমানে গ্রামীণ দরিদ্র ও বিভিন্ন অবহেলিত জনগোষ্ঠীকে সংগঠিত করার মাধ্যমে অকৃষিখাতে কর্মসংস্থান এবং কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা প্রভৃতি সামাজিক সেবাসমূহকে কার্যকর করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বাংলাদেশের গ্রামীণ দারিদ্র্য বিমোচনে এনজিও কার্যক্রম পরিচালিত হয় মূলত ভূমিহীন কৃষিশ্রমিক, নারী ও প্রান্তিক কৃষকদের কেন্দ্র করে'। শাহেদও ব্রহ্মপুত্রের করাল গ্রাসে ভিটেমাটি হারিয়ে বর্তমানে ভূমিহীন। ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন নিয়ে সে একটি বেসরকারি সংস্থায় প্রশিক্ষণ নিয়ে সেখান থেকে কিছু টাকা ঋণ নিয়েছেন এবং ধীরে ধীরে নিজের আর্থসামাজিক উন্নয়নের চেষ্টা করছেন। তাই বলা যায়, শাহেদের ঘটনার আলোকে বেসরকারি সংস্থার কুটির শিল্প উন্নয়নের কার্যক্রম সম্পর্কে প্রতিফলিত হয়েছে।
বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে বেসরকারি সংস্থার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশ প্রতিনিয়ত খরা, ঝড়, জলোচ্ছ্বাস, বন্যাসহ নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগের শিকার হয়। এক্ষেত্রে সরকারের পাশাপাশি এনজিওসমূহ ত্রাণ কাজে ব্যাপক ভূমিকা রাখে। বেসরকারি সংস্থা গ্রামের দরিদ্র মানুষগুলোকে ক্ষুদ্রঋণ প্রদান এবং ক্ষেত্রবিশেষে জামানতবিহীন ক্ষুদ্রঋণ প্রদান করে গরিব মানুষকে মূলধন সরবরাহ করছে। ফলে দেশে আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে। দেশের সার্বিক উন্নতির জন্য কৃষি উন্নয়ন খুবই জরুরি। বাংলাদেশের কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে এনজিওসমূহ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এদেশের এনজিওসমূহ অজ্ঞ, অশিক্ষিত, দরিদ্র নারী সমাজকে ঋণদান এবং নানামুখী প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষিত এবং স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলছে। এনজিওসমূহ বাংলাদেশে বেকার সমস্যা সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
বেসরকারি সংস্থাসমূহ দেশে শিশু ও বয়স্ক শিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে নিরক্ষরতামুক্ত দেশ গড়তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। দেশে বেসরকারি সংস্থা কর্তৃক পরিচালিত গ্রামোন্নয়ন কমংসূচির মাধ্যমে টার্গেট গ্রুপ পদ্ধতি বা অংশগ্রহণমূলক কৌশলের প্রবর্তন ঘটে। এই কৌশলের আওতায় গ্রামীণ দরিদ্রদেরকে (প্রান্তিক কৃষক, ভূমিহীন ক্ষেতমজুর, গ্রামীণ কারিগর, দুঃস্থ মহিলা) টার্গেট গ্রুপ হিসেবে সংগঠিত করে দারিদ্রদ্র্য মোচনে কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এক্ষেত্রে বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাক, প্রশিকা, গ্রামীণ ব্যাংক প্রভৃতি অগ্রণী ভূমিকা পালন করে।
উপরিউক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায় যে, বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে বেসরকারি সংস্থা কার্যকরী ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
Related Question
View Allবাংলাদেশের মুসলিম সমাজব্যবস্থায় বিধবা বিবাহের স্বীকৃতি রয়েছে।
১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক গুরুত্ব অপরিসীম।
'৬৯' এর গণ আন্দোলনের ফলে পাকিস্তানের সামরিক শাসক আইয়ুব খান পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়। এর আগে তিনি ঐতিহাসিক আগরতলা মামলা তুলে নেন। ১৯৭০ সালে পাকিস্তানে সাধারণ নির্বাচন দিতে জেনারেল ইয়াহিয়া খানের নতুন সামরিক সরকার বাধ্য হয়। গণঅভ্যুত্থানের ফলে পূর্ব বাংলার জনগণের মধ্যে জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক চিন্তাভাবনার বিকাশ ঘটে।
উদ্দীপকের 'আলোর দিশারী' সংস্থাটি একটি বেসরকারি সংস্থা।
বেসরকারি সংস্থা বলতে কোনো অলাভজনক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাকে বোঝায়, যা উন্নয়ন সহযোগিতা অথবা শিক্ষা ও নীতিগত কার্যক্রমে নিয়োজিত থাকে। বাংলাদেশে বেসরকারি সংস্থাসমূহ বিভিন্ন আর্থ- সামাজিক কর্মকাণ্ড যেমন- দারিদ্র্য বিমোচন, নারীর ক্ষমতায়ন, শিক্ষার বিস্তার, স্বাস্থ্যসেবা, পরিবেশ সুরক্ষা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, মানবাধিকার ইত্যাদি বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে গ্রামীণ পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে এ সংস্থাসমূহ জামানতবিহীন ক্ষুদ্র ঋণ প্রদান, বিনামূল্যে শিক্ষার ব্যবস্থা, কৃষি উন্নয়নসহ নানা ফলপ্রসু পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। বর্তমানে দেশে রেজিস্ট্রিকৃত প্রায় ২,৫০০ দেশি-বিদেশি বেসরকারি সংস্থা প্রায় দুই কোটি উপকারভোগী তৈরি এবং অসংখ্য মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছে। যেমনটি উদ্দীপকেও দেখা যায়।
উদ্দীপকে লক্ষণীয় যে, নিরক্ষরতা, অনুর্বর জমি, মূলধনের অভাব ইত্যাদি কারণে নীলফামারী জেলার খানাবাড়ি গ্রামের মানুষ দারিদ্র্যের শিকার। এমতাবস্থায় 'আলোর দিশারী' নামক স্থানীয় একটি সংস্থা গ্রামের মানুষের মাঝে শিক্ষার বিস্তার, মূলধন যোগান, ফসলের চারা বিতাড়ন ইত্যাদি কার্যক্রম গ্রহণ করে। ফলে কিছুদিন পর দেখা যায়, গ্রামের অধিকাংশ মানুষ সচ্ছলভাবে জীবনযাপন করছে। পূর্বোক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে এটা স্পষ্ট যে, 'আলোর দিশারী' নামক সংস্থাটি একটি বেসরকারি সংস্থা।
বাংলাদেশের সামাজিক পরিবর্তনে উদ্দীপকে উল্লেখিত সংস্থা অর্থাৎ বেসরকারি সংস্থাগুলো উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করছে।
সমকালীন বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিবর্তনে অনেক বেসরকারি সংস্থা তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। এসব সংস্থা গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর আর্থিক উন্নয়নের পাশাপাশি তাদের মানসিক, দৈহিক, পারিবারিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নয়নের প্রচেষ্টা চালায়। পাশাপাশি এসব বেসরকারি সংস্থা গ্রামীণ অবকাঠামোগত উন্নয়নেও প্রচুর অর্থ ব্যয় করে। ফলে গ্রামে রাস্তাঘাট, বাজার, স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। এ কারণে সমকালীন বাংলাদেশের সমাজকাঠামো নানাভাবে পরিবর্তিত হয়ে নতুন রূপ লাভ করছে। বিশেষ করে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশ সংরক্ষণ, দুর্যোগ মোকাবিলা, দারিদ্র্য বিমোচন প্রতিটি ক্ষেত্রে বেসরকারি সংস্থাসমূহের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। যা বাংলাদেশের সামাজিক পরিবর্তনে ভূমিকা রাখছে।
উপরের আলোচনার প্রেক্ষিতে তাই বলা যায়, বাংলাদেশের সামাজিক পরিবর্তনে বেসরকারি সংস্থাসমূহের ভূমিকা অনস্বীকার্য।
মনোবিজ্ঞানীদের মতে, নিজেকে বয়স্ক ভাবা একটি মানসিক রোগ।
স্থানীয় সরকারব্যবস্থার প্রথম সোপান ইউনিয়ন পরিষদ। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও মেম্বাররা গ্রামীণ সমাজে ক্ষমতার সর্বোচ্চ শিখরে অবস্থান করেন। এদের বেশিরভাগই ধনী লোক, প্রভাবশালী পরিবার থেকে আগত। এরা মূলত গ্রামীণ জনগণের সাথে রাষ্ট্রের সম্পর্কের ক্ষেত্রে মধ্যবর্তী অবস্থান নেয়। গ্রামের নানা রকম উন্নয়নমূলক কাজ ক্ষমতাসীন সরকার এদের মাধ্যমেই সম্পন্ন করে থাকে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!