সামাজিক সম্পর্কের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সমাজকর্ম জ্ঞানের পাঁচটি শাখা হলো- মনোবিজ্ঞান, সমাজবিজ্ঞান, নৃ-বিজ্ঞান, অর্থনীতি ও রাজনীতি বিজ্ঞান।
জীব হিসেবে বা সামাজিক জীব হিসেবে মানুষ এবং মানুষের সমাজ ও সংস্কৃতি নিয়ে যে বিজ্ঞান আলোচনা করে তাই নৃবিজ্ঞান।
সংক্ষেপে নৃবিজ্ঞান হলো জীব হিসেবে মানুষ ও তার সামাজিক কর্মকাণ্ডের বিজ্ঞানভিত্তিক আলোচনা। নৃবিজ্ঞান একদিকে যেমন জীবজগতে মানুষের স্থান ও বিবর্তন প্রক্রিয়া সম্পর্কে আলোচনা করে, অন্যদিকে সামাজিক প্রেক্ষাপটে সাংস্কৃতিক জীবন সম্পর্কেও আলোচনা করে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত কর্মসূচিগুলো সমাজকর্মের অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় এ কর্মসূচিগুলোর সাথে তথা সমাজকর্মের সাথে চিকিৎসা পেশা ও আইন পেশার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বিদ্যমান।
চিকিৎসা পেশা অনুশীলনে হাসপাতাল ও চিকিৎসা কেন্দ্রগুলোতে সমাজকর্ম পরোক্ষ ভূমিকা পালন করে। রোগ চিকিৎসার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সামাজিক কারণ ও উপাদানগুলো চিহ্নিতকরণ এবং সেগুলো সম্পর্কে চিকিৎসকদের তথ্য সরবরাহ ও অসুস্থ ব্যক্তিকে প্রয়োজনীয় সাহায্য প্রদানের মাধ্যমে চিকিৎসা ব্যবস্থাকে অর্থবহ করে তুলতে সমাজকর্মীরা সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
সমাজকর্ম অনুশীলনে আইন পেশা সহায়ক ভূমিকা পালন করে। রাষ্ট্রীয় আইনগত কাঠামোর আওতায় সমাজকর্মীদের মানবকল্যাণে পেশাগত সেবাদান করতে হলে অবশ্যই মৌলিক আইন বিষয়ে জ্ঞানার্জন করতে হয়। অনেক সময় দেখা যায়, আইনগত প্রতিবন্ধকতার কারণে মানুষের সামাজিক সম্পর্ক এবং সামাজিক ভূমিকা পালন ক্ষমতা ব্যাহত হয়। এমতাবস্থায় সমাজকর্মীরা আইন পেশার সাহায্য গ্রহণের মাধ্যমে পেশাগত দায়িত্ব পালন করে। প্রবেশন, প্যারোল, কিশোর আদালত, আফটার কেয়ার সার্ভিস, লিগ্যাল এইড বা আইনগত সহায়তা প্রভৃতি আইনগত কার্যক্রমে সমাজকর্ম সহায়ক ভূমিকা পালন করে। সুতরাং দেখা যাচ্ছে, সমাজকর্ম আইন এবং চিকিৎসা পেশার কর্মসূচির সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় গড়ে ওঠে সুখী ও সমৃদ্ধ সমাজ।
উদ্দীপকে উল্লিখিত কর্মসূচিগুলোর সফল বাস্তবায়নে সমাজকর্ম জ্ঞানের বিভিন্ন শাখা এবং পেশার সমন্বিত প্রয়োগ আবশ্যক-কথাটি অত্যন্ত যৌক্তিক।
মানুষের চাহিদা বহুমুখী ও বিচিত্র ধরনের। আবার মানব চাহিদাগুলো প্রকৃতিগতভাবে পরস্পর নির্ভরশীল ও সম্পর্কযুক্ত। তাই সর্বোচ্চ পর্যায়ে মানবসেবা প্রদানের জন্য মানবসেবা প্রদানকারী পেশাগুলো সমন্বিতভাবে অনুশীলন করতে হয়। মানবিক চাহিদা এবং মানবিক সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত সমাজকর্ম জ্ঞানের বিভিন্ন বিশেষায়িত শাখা রয়েছে। এসব শাখার মধ্যে চিকিৎসা সমাজকর্ম, ক্লিনিক্যাল সমাজকর্ম, সাইকিয়াট্রিক সমাজকর্ম, শিল্প সমাজকর্ম, বিদ্যালয় সমাজকর্ম, প্রবীণকল্যাণ সমাজকর্ম, পল্লি সমাজকর্ম ইত্যাদি। সমাজকর্ম জ্ঞান অনুশীলনের এসব শাখাগুলো সংশ্লিষ্ট খাতে সেবা প্রদানে নিয়োজিত অন্যান্য পেশার সঙ্গে সমন্বিত উপায়ে প্রয়োগ করা হয়। কারণ সমাজে এমন অনেক সেবাখাত রয়েছে, যেখানে একাধিক পেশা সমমর্যাদা নিয়ে পেশাগত দায়িত্ব পালন করে। যেমন- প্রবীণসেবা, মানসিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র, মাদকাসক্ত। নিরাময় কেন্দ্র প্রভৃতি সেবাখাতে একাধিক সাহায্যকারী পেশা সম-অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে পেশাগত সেবা দিয়ে থাকে। মানসিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসক, নার্স, মনোচিকিৎসক, জনস্বাস্থ্যকর্মী, মনোচিকিৎসা সমাজকর্মী সমন্বিতভাবে ভূমিকা পালন করেন। কোনো একটি পেশা এককভাবে অনুশীলনের মাধ্যমে মনোচিকিৎসা করা সম্ভব নয়। পরিশেষে বলা যায়, সমাজের সার্বিক কল্যাণ সাধনে সমাজকর্ম জ্ঞানের বিভিন্ন শাখা যেমন চিকিৎসা সমাজকর্ম, স্কুল সমাজকর্ম, মনোচিকিৎসা সমাজকর্ম, ক্লিনিক্যাল সমাজকর্ম প্রভৃতি অন্যান্য পেশার সঙ্গে সমন্বিতভাবে প্রয়োগ করা হয়। বিভিন্ন পেশার সমন্বিত প্রয়োগের মাধ্যমেই সমস্যার কার্যকর সমাধান সম্ভব।
Related Question
View All১৯৪২ সালের বিভারিজ রিপোর্টের ভিত্তিতে সমাজকর্মের সূচনা হয়।
সুশাসন বলতে অংশীদারিত্বমূলক, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, আইনের শাসন, দক্ষতা, ন্যায়পরায়ণতা প্রভৃতি বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন প্রশাসনকে বোঝায়।
সুশাসন একটি গতিশীল ও চলমান ধারণা। এটি শাসনব্যবস্থার রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং আন্তর্জাতিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে। মূলত বলিষ্ঠ ও ন্যায়ানুগ উন্নয়নকে পৃষ্ঠপোষকতা দেয়ার জন্য একটি সুষ্ঠু নীতিমালার মাধ্যমে অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা এবং তা বজায় রাখাই হলো সুশাসন।
উদ্দীপকে উল্লেখিত সমস্যাটির সমাধান কার্যক্রম অর্থাৎ কিশোর অপরাধ সংশোধন কার্যক্রম সমাজকর্মের আওতাভুক্ত।.
আধুনিক সমাজকর্ম যেসব কার্যক্রম পরিচালনা করে সংশোধনমূলক কার্যক্রম সেগুলোর অন্যতম। এক্ষেত্রে সমাজকর্ম মূলত সামাজিক শৃঙ্খলা ও শান্তি বিনষ্টকারী অপরাধী এবং কিশোর অপরাধীদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার জন্য বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে। এ ধরনের কার্যক্রমের মধ্যে কিশোর অপরাধ সংশোধন, কিশোর আদালত, প্রবেশন, প্যারোল, মুক্ত কয়েদি পুনর্বাসন প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। এতে অপরাধীরা স্বাভাবিক জীবনযাপনে ফিরে আসার সুযোগ পায়।
উদ্দীপকে বর্ণিত কিশোর আলিফের বন্ধুরা ঈগল গ্যাংয়ের সদস্য। তারা বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজ করে। একদিন ক্রিকেট খেলাকে কেন্দ্র করে তাদের সাথে অন্য গ্যাংয়ের মারামারি হলে একজন কিশোর খুন হয়। এক্ষেত্রে দুই গ্যাংয়ের সদস্যরাই কিশোর এবং এরা সবাই কিশোর অপরাধী। এসব কিশোর অপরাধমূলক সমস্যা সমাধানে সমাজকর্ম কাজ করে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে উল্লেখিত সমস্যা সমাধান কার্যক্রম সমাজকর্মের অন্তর্ভুক্ত।
আলিফের চাচার পেশা তথা আইন পেশার সাথে উক্ত বিষয় অর্থাৎ সমাজকর্মের গভীর সম্পর্ক বিদ্যমান।
আইন পেশা একটি সেবা প্রদানকারী পেশা। এ পেশার প্রধান দিক হলো আইনজীবীরা সাহায্যার্থীর সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি তাদের স্বার্থ ও অধিকার সংরক্ষণে কাজ করেন। বর্তমানে সমাজকর্ম পেশায় সমাজকর্মীদের মানুষের স্বার্থ ও অধিকার রক্ষায় আইনবিষয়ক জ্ঞান অর্জন করতে হয়। অনেক সময় সমাজকর্মীরা মানুষের স্বার্থ ও অধিকার রক্ষায় সরাসরি আইন পেশার সাহায্য নেন। তবে বৃহত্তর পরিসরে আইন পেশা সমাজকর্মের একটি অংশ। তাই অনেক সময় ব্যক্তি একাধারে সমাজকর্মী ও আইনজীবী উভয় পেশাই গ্রহণ করতে পারেন। এখানে সমাজকর্মের লক্ষ্য পূরণে তিনি আইন পেশাকে সহায়ক হিসেবে বিবেচনা করেন। আধুনিক সমাজকর্ম অপরাধ ও কিশোর অপরাধ নিরসনে শাস্তির পরিবর্তে সংশোধনমূলক ব্যবস্থাকে বেশি গুরুত্ব দেয়। এক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের সংশোধনমূলক কার্যক্রম যেমন- প্রবেশন, প্যাারোল, কিশোর আদালত প্রভৃতিতে সমাজকর্মীদের পাশাপাশি আইনজীবীরা বিশেষ ভূমিকা পালন করেন। এতে দেখা যায়, আইন পেশা ও সমাজকর্ম ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত।
উদ্দীপকে কিশোর আলিফের বন্ধুরা ঈগল গ্যাংয়ের সদস্য। তারা বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজ করে। ক্রিকেট খেলাকে কেন্দ্র করে অন্য গ্যাংয়ের সাথে মারামারি হলে একজন কিশোর মারা যায়। এরপর পুলিশ এসে আলিফ ও তার বন্ধুদের থানায় নিয়ে যায়। আলিফের আইনজীবী চাচা আলিফকে সহায়তার জন্য সবরকম ব্যবস্থা করেন। এক্ষেত্রে আলিফের মতো কিশোরদের সংশোধন ও মুক্তির জন্য সমাজকর্মী এবং আইনজীবী একসাথে কাজ করবে।
উপরের আলোচনা থেকে তাই বলা যায়, আলিফের চাচার পেশা অর্থাৎ আইন পেশার সাথে সমাজকর্মের খুবই ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।
১৯৫৭ সালে সুইজারল্যান্ডে 'Study Group' সমাজকর্মীদের জন্যে পেশাগত নীতিমালা নির্ধারণ করে।
ইংল্যান্ডে সামাজিক বিমা পদ্ধতি মূলত সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির ভিত্তি হিসেবে স্বীকৃত।
সামাজিক বিমা কর্মসূচির মাধ্যমে জনগণ কিছু সুবিধা ও সেবা পায়। এই সেবার মধ্যে রয়েছে সাধারণত অবসরভোগীদের জন্য পেনশন ব্যবস্থা, অক্ষমতা বিমা, বেঁচে থাকার সুযোগ-সুবিধা, সাধারণ ভবিষ্যৎ তহবিল এবং বেকারত্ব বিমা। এ বিমায় সমহারে চাঁদার পরিবর্তে আয়ভিত্তিক চাঁদা ও সুবিধা প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!