বর্ষাকাল বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঋতু।
বাংলাদেশে জুন থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত বর্ষাকাল। মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে বর্ষাকালে বাংলাদেশে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়। বাংলাদেশের মোট বৃষ্টিপাতের ৮০% এ ঋতুতে হয়ে থাকে। এসময় গড় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ১১৯-৩৪০ সে.মি.। বাংলাদেশে বর্ষায় দক্ষিণ-পশ্চিম অয়ন বায়ুর প্রভাবে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়। এতে বিভিন্ন রকমের ফল ও ফসল প্রচুর জন্মে। অধিক বৃষ্টিপাতের কারণে সৃষ্ট বন্যার পানিবাহিত পলি কৃষি জমিগুলোর উর্বরতা বাড়ায়। এতে ফসল ভালো হয়। নদীপথের নাব্যতা বৃদ্ধি পায়। ফলে নৌযান চলাচল সহজ হয়। কৃষি জমিতে সেচ কম দিতে হয়। ফলে উৎপাদন খরচ কম হয়। মৎস্য সম্পদ আহরণের পরিমাণ বাড়ে। ভূগর্ভস্থ পানির উচ্চতা কিছুটা বাড়ে। প্রাকৃতিক জলাধারের পানিতে অক্সিজেনের পরিমাণ বাড়ার কারণে মাছের প্রজনন বেশি হয়। নদীভিত্তিক পর্যটন শিল্পের বিকাশ ঘটে। প্রচুর পরিমাণে শাকসবজি উৎপাদিত হয়। চারণভূমিতে গবাদি পশুর জন্য প্রচুর ফসল উৎপন্ন করা যায়। উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে প্রচুর বৃষ্টিপাতের কারণে চা-চাষের জন্য অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হয়। বর্ষাকালে খালবিলে পাট পচানোর জন্য পানির পর্যাপ্ততা থাকে। বর্ষা ঋতুতে পেয়ারা, আমড়াসহ প্রচুর দেশীয় ফল জন্মে। বর্ষাকালে রাস্তাঘাটের ধুলোবালি পরিষ্কার হয়ে মনোরম পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
Related Question
View Allবাংলাদেশের মাঝামাঝি স্থান দিয়ে কর্কটক্রান্তি রেখা অতিক্রম করেছে।
বস্তুত বাংলাদেশের উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বাংশের পাহাড়িয়া অংশ ব্যতীত প্রায় সমগ্র দেশটিই বঙ্গোপসাগরে প্রবাহিত নদ-নদীর পলল দ্বারা গঠিত সমভূমি। বাংলাদেশের ভূখণ্ড উত্তর হতে দক্ষিণ দিকে ক্রমশ ঢালু হয়ে অবস্থিত। ফলে বাংলাদেশের নদনদী, উপনদী ও শাখানদীগুলো উত্তর দিক হতে দক্ষিণে অর্থাৎ বঙ্গোপসাগরের অভিমুখে প্রবাহিত হয়।
মানচিত্রের 'A' চিহ্নিত অঞ্চলটি হচ্ছে প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ বা চত্বরভূমি।
বাংলাদেশের মোট ভূমির ৮% এলাকা নিয়ে এ অঞ্চল গঠিত। আনুমানিক ২৫,০০০ বছর পূর্বের সময়কে প্লাইস্টোসিনকাল বলা হয়। এ সময়ের আন্তঃবরফগলা পানিতে প্লাবনের সৃষ্টি হয়ে এসব চত্বরভূমি গঠিত হয়েছিল বলে অনুমান করা হয়। প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা- বরেন্দ্রভূমি, মধুপুর ও ভাওয়ালের গড় এবং লালমাই পাহাড়। নওগাঁ, রাজশাহী, বগুড়া, জয়পুরহাট, রংপুর, দিনাজপুর জেলার অংশবিশেষ নিয়ে বরেন্দ্রভূমি গঠিত। এর আয়তন ৯,৩২০ বর্গকিলোমিটার। প্লাবন সমভূমি থেকে এর উচ্চতা ৬ থেকে ১২ মিটার। এ অঞ্চলের মাটি ধূসর ও লালচে বর্ণের।
চিত্রের 'B' চিহ্নিত স্থানটি টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহকে নির্দেশ করায় এখানে ছোটবড় পাহাড়-পর্বত অধিক পরিলক্ষিত হবে এবং 'C' চিহ্নিত অঞ্চলটি সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি বিধায় এখানে নদীনালাসহ অধিক ঘনবসতি পরিলক্ষিত হবে।
'B' স্থানটি টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ যা বাংলাদেশের মোট ভূমির ১২% এলাকা নিয়ে গড়ে উঠেছে। রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম জেলার পূর্বাংশ এ অঞ্চলের অন্তর্গত। আবার ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা জেলার উত্তরাংশ, সিলেট জেলার উত্তর ও উত্তর-পূর্বাংশ এবং মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার দক্ষিণের পাহাড়গুলো নিয়ে এ অঞ্চল গঠিত। ফলে বর্তমানে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ তাজিওডংসহ ছোটবড় বেশকিছু টিলা জাতীয় পাহাড় টারশিয়ারি যুগের পাহাড় হিসেবে আমাদের ভূখন্ডে শোভা পাচ্ছে। আর 'C' চিহ্নিত অঞ্চলটি হলো সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি। বাংলাদেশের প্রায় ৮০% ভূমি নদীবিধৌত এক বিস্তীর্ণ সমভূমি। তবে এ সমভূমি একদিনে সৃষ্টি হয়নি। সমতল ভূমির ওপর দিয়ে অসংখ্য নদী প্রবাহিত হওয়ার কারণে বর্ষাকালে বন্যার সৃষ্টি হয়। বছরের পর বছর এভাবে বন্যার সঙ্গে পরিবাহিত পলিমাটি সঞ্চিত হয়ে এ প্লাবন সমভূমি গঠিত হয়েছে। এ প্লাবন সমভূমির আয়তন প্রায় ১,২৪,২৬৬ বর্গ কিলোমিটার। সমগ্র সমভূমির মাটির স্তর খুব গভীর এবং ভূষি খুবই উর্বর। ফলে কৃষিজাত দ্রব্য উৎপাদনের ক্ষেত্রে তা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে। আর তাই সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমিতে ঘনবসতি অধিক পরিলক্ষিত হবে এটাই স্বাভাবিক।
বাংলাদেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহের মধ্যে অন্যতম একটি পাহাড় হচ্ছে চিকনাগুল।
কালবৈশাখি এক প্রকার ঝড়। গ্রীষ্মকালে সূর্য উত্তর গোলার্ধের কর্কটক্রান্তি রেখার নিকটবর্তী হওয়ায় বায়ুর চাপের পরিবর্তন হয় এবং বাংলাদেশের ওপর দিয়ে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু প্রবাহিত হতে থাকে। একই সময়ে পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিক হতে শুষ্ক ও শীতল বায়ু প্রবাহিত হয়ে যে ঝড়ের সৃষ্টি করে সে ঝড়কেই কালবৈশাখি ঝড় বলা হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!