জন স্টুয়ার্ট মিল জনমতের সংজ্ঞায় বলেন, "কোনো সুনির্দিষ্ট জাতীয় সমস্যার ওপর জনগণের সংগঠিত অভিমতের নাম জনমত।"
জনমত সংগঠনের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। রাজনৈতিক দল সংবাদপত্র, প্রচার-পুস্তিকা, প্রাচীরপত্র, সভা-সমিতি ইত্যাদির মাধ্যমে নিজ নিজ দলীয় নীতি-ও কর্মসূচি প্রচার করে জনসমর্থন লাভের চেষ্টা করে। সরকারি দল নিজের সফলতাকে প্রকাশ ও প্রচার করে জনমত গঠনের চেষ্টা করে। বিরোধী দলগুলো সরকারের ত্রুটিবিচ্যুতি জনগণের সামনে তুলে ধরে জনমতকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করে।
আধুনিক প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের সাফল্য নির্ভর করে সুষ্ঠু ও সচেতন জনমতের ওপর। বাংলাদেশে জনমত গঠনের বিভিন্ন মাধ্যম রয়েছে। সংবাদপত্র হচ্ছে এর মধ্যে অন্যতম। জনমত গঠনে সবচেয়ে কার্যকর ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে সংবাদপত্র। এজন্যই বলা হয়, "প্রেস যেভাবে বলে জনমত সেভাবেই গড়ে ওঠে।" অধ্যাপক লাস্কি বলেন, "রাজনৈতিক স্বাধীনতা সংরক্ষণের জন্য সৎ ও অবিকৃত সংবাদ পরিবেশন আবশ্যক।" তাছাড়া রেডিও-টেলিভিশন ইত্যাদি দেশ-বিদেশের খবরাখবর, সংবাদ পর্যালোচনা, সমীক্ষা, টক শো, সমাজসচেতন নাটক ইত্যাদি প্রচার করে সুষ্ঠু জনমত গঠনে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করে। আইনসভায় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তর্ক-বিতর্ক ও আলোচনা-সমালোচনা হয়। এসব তর্ক-বিতর্ক মূল্যায়ন করে জনগণ স্বাধীনভাবে নিজেদের মতামত গঠন করতে পারে। এছাড়া জনমত গঠনের উল্লেখযোগ্য আরও কয়েকটি মাধ্যম হচ্ছে সভাসমিতি, চলচ্চিত্র, রাজনৈতিক দল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পরিবার, ধর্মীয় সংঘ, পেশা বা ব্যবসায়ভিত্তিক সংঘ ইত্যাদি।
উদ্দীপকে দেখা যায়, কিছু দৈনিক পত্রিকা রাজনৈতিক নেতা, বুদ্ধিজীবী, পরিবেশবিদসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের বিভিন্ন ইস্যুতে দেওয়া বক্তব্যের ওপর জরিপ চালান। মানুষের কাছ থেকে এসব বক্তব্য সম্পর্কে মতামত চাওয়া হয়। তাছাড়া দেশের চলমান সংকট বা গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়েও এরূপ জরিপ চালানো হয় এবং তা প্রকাশ করা হয়। এভাবে সুষ্ঠু জনমত গড়ে ওঠে। স্থানীয়, জাতীয়, আন্তর্জাতিক রাজনীতি, অর্থনীতি ও সংস্কৃতি সম্পর্কে সংবাদপত্রই মানুষকে অবগত করে। সংবাদপত্র পাঠের মাধ্যমে জনগণ দেশ-বিদেশের যাবতীয় খবরাখবর, অভাব-অভিযোগ ও দাবি-দাওয়া সম্পর্কে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে থাকে। সংবাদপত্রের গঠনমূলক সমালোচনার ভয়ে সরকারকে সংযত থাকতে হয়। এজন্যই বলা হয়, প্রেস যেভাবে বলে জনমত সেভাবে গড়ে ওঠে। সৎ ও অবিকৃত সংবাদ পরিবেশনের মধ্য দিয়েই গড়ে ওঠে যথার্থ ও শক্তিশালী জনমত। সুতরাং বলা যায়, সংবাদপত্র বা দৈনিক পত্রিকার মাধ্যমে যথার্থ জনমত গড়ে ওঠে, তবে তা জনমত গঠনের একমাত্র মাধ্যম নয়।
Related Question
View Allমানব জীবনের প্রথম শিক্ষালয় হলো পরিবার।
গণতন্ত্র হলো জনগণের শাসন যা পরিচালিত হয় জনমতের ভিত্তিতে। গণতন্ত্রে সরকার জনমতকে উপেক্ষা করে শাসনকার্য পরিচালনা করতে পারে না। বর্তমান গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় আইন প্রণয়ন, সরকারের নিয়ন্ত্রণ, ব্যক্তিস্বাধীনতার সংরক্ষণসহ সকল কাজে জনমতের ভূমিকা দেখা যায়। এজন্য জনমতকে গণতন্ত্রের ভিত্তি বলা হয়।
উদ্দীপকের সমস্ত আবহে জনমতের ভূমিকা সম্পর্কে বলা হয়েছে। জনমত যেকোনো বিষয়ের ওপর প্রভাব বিস্তার করতে পারে। জনমতের চাপে সরকার অনেক কাজ করতে বাধ্য থাকে। উদ্দীপকে গার্মেন্টস কারখানার পরিবেশ উন্নয়নে গড়ে উঠা জনমতের প্রভাবে সরকার এ বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণে বাধ্য হয়।
সাধারণ অর্থে, জনমত অর্থ সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামত। অন্যদিকে পৌরনীতির ভাষায় কোনো গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় বিষয়ে প্রভাবশালী যুক্তিসঙ্গত, স্পষ্ট এবং কল্যাণকামী মতামতকে জনমত বলা হয়। জনমত সাধারণ জনগণের বৃহত্তর স্বার্থসংশ্লিষ্ট সুনির্দিষ্ট, জনকল্যাণমূলক এবং যুক্তিভিত্তিক হয়। এটি পরিবর্তনশীল একটি বিষয়। কেননা এখন যা জনমতের পক্ষে কিছুদিন পর এর পক্ষে জনমত নাও থাকতে পারে। আবার যে ইস্যু নিয়ে এখন জনমত গড়ে উঠেছে, কিছুদিন পরে তার গুরুত্ব নাও থাকতে পারে। পরিবার, সমাজ, গণমাধ্যম, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক দল, সাহিত্য, সভা সমাবেশ জনমত গঠনের পক্ষে কাজ করে। বর্তমানকালের ইন্টারনেটভিত্তিক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো (যেমন- facebook, twitter, blooger প্রভৃতি) জনমত গঠনের এক শক্তিশালী মাধ্যম
জনকল্যাণমূলক গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য যতগুলো শর্ত আছে, জনমত তার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। জনমত সরকারের চলার পথের নির্দেশনা দান করে থাকে। জনমতকে উপেক্ষা করে কোনো কর্মকাণ্ড গ্রহণ করা হলে তা কখনই কার্যকরী ও ফলপ্রসূ হয় না।
গণতন্ত্র হলো জনগণের শাসন। জনগণের জন্য, জনগণ দ্বারা পরিচালিত শাসনব্যবস্থা। বর্তমান বৃহত্তর জনসংখ্যা অধ্যুষিতদেশগুলোর জনগণের পক্ষে প্রত্যক্ষভাবে শাসনকার্যে অংশগ্রহণ করা অসম্ভব ব্যাপার। পরোক্ষভাবে প্রতিনিধি পাঠিয়ে জনগণ শাসনকার্যে অংশগ্রহণ করে থাকে। এরূপ শাসনব্যবস্থায় জনগণ সরাসরি কোনো ভূমিকা পালন করতে পারে না। জনগণের মতামতকে সরকার কোনো কোনো ক্ষেত্রে আমলে আনতে চায় না।
সরকার দলীয় স্বার্থে কিংবা নিজেদের স্বার্থে কোনো কাজ করতে চায় বা বৃহত্তর কোনো কাজ করতে অনীহা প্রকাশ করতে পারে। জনমত এসব কাজগুলো সরকারকে করতে বা না করতে বাধ্য করতে পারে। জনমত জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্রের গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে পারে। জনমতের ভিত্তিতেই একটি সরকার অধিকতর জনকল্যাণকামী, কার্যকরী ও ফলপ্রসূভাবে কাজ করতে পারে। জনমতের ভিত্তিতে পরিচালিত শাসনব্যবস্থাই কল্যাণমূলক শাসন প্রতিষ্ঠা করতে পারে।
Voice of people is the voice of God" উক্তিটি জ্যাঁ জ্যাঁক রুশোর।
জনমত গঠনের প্রথম ও প্রাথমিক মাধ্যম হলো পরিবার।
পারিবারিক পরিবেশে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে দেশ-বিদেশের সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক বিষয় সম্পর্কে শিশু জানতে পারে। শিশুরা পিতামাতার বিশ্বাস, রাজনৈতিক দর্শনকে অনুসরণ করতে শেখে। পারিবারিক এ ভিত্তি শিশুরা সারা জীবন বহন করে। এভাবে পরিবার শক্তিশালী জনমতের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!