প্রকৃতি থেকে প্রাপ্ত সম্পদকে প্রাকৃতিক সম্পদ বলা হয়।
বাংলাদেশ একটি নদীমাতৃক দেশ। নদীগুলোই বাংলাদেশের জীবনকে বাঁচিয়ে রেখেছে। বাংলাদেশে নদনদীর সংখ্যা ৭০০টির মতো। এ নদীগুলোর মধ্যে প্রধান নদীগুলো হচ্ছে পদ্মা, ব্রহ্মপুত্র, যমুনা, মেঘনা, কর্ণফুলী, সাঙ্গু প্রভৃতি। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের ওপর এসব নদীর প্রভাব অপরিসীম। তাই বাংলাদেশকে নদীমাতৃক দেশ বলা হয়।
প্রদত্ত মানচিত্রে 'A' দ্বারা কর্ণফুলী নদীকে নির্দেশ করা হয়েছে। বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের প্রধান নদী কর্ণফুলী। এর উৎপত্তিস্থল লুসাই পাহাড়ে। ৩২০ কি. মি. দৈর্ঘ্যের এ নদীটি চট্টগ্রাম শহরের খুব কাছ দিয়ে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে। কর্ণফুলীর প্রধান উপনদী হচ্ছে কাপ্তাই, হালদা, কাসালং ও রাঙাখিয়ার। বাংলাদেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম কর্ণফুলী নদীর তীরে অবস্থিত। পানি বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং চট্টগ্রাম বন্দরের জন্য এ নদীর গুরুত্ব অধিক। কর্ণফুলী নদীর উপর বাঁধ দিয়ে রাঙামাটি জেলার কাপ্তাই উপজেলায় কাপ্তাই বাঁধ তৈরি করা হয় ১৯৬৪ সালে। এই বাঁধে সঞ্চিত পানি ব্যবহার করে কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপন্ন করা হয়।
অতএব বলা যায়, 'A' চিহ্ন দ্বারা কর্ণফুলী নদীকেই নির্দেশ করা হয়েছে।
বাংলাদেশের প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় 'B' চিহ্নিত স্রোতজ বনভূমি তথা প্রাকৃতিক বনজ সম্পদের গুরুত্ব অত্যধিক।
বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাংশ খুলনা, নোয়াখালী ও চট্টগ্রাম জেলার উপকূলে জোয়ার-ভাটার লোনা ও ভেজা মাটিতে যেসব উদ্ভিজ্জ জন্মায় তাদের স্রোতজ বা গরান, বনভূমি বলা হয়। প্রধানত সুন্দরবনে এসব উদ্ভিদ বেশি জন্মায়। সুন্দরবনে জালের মতো ছড়িয়ে রয়েছে সামুদ্রিক স্রোতধারা, কাদা চর এবং ম্যানগ্রোভ বনভূমির লবণাক্ততাসহ ক্ষুদ্রায়তন দ্বীপমালা। মোট বনভূমির ৩১.১ শতাংশ অর্থাৎ ১.৮৭৪ বর্গকিলোমিটার জুড়ে রয়েছে নদীনালা, খাল, বিল মিলিয়ে জলাকীর্ণ অঞ্চল। বনভূমিটি স্বনামে বিখ্যাত। রয়েল বেঙ্গল টাইগার ছাড়াও নানা ধরনের পাখি, চিত্রা হরিণ, কুমির ও সাপসহ অসংখ্য প্রাণির আবাসস্থল হিসেবে পরিচিত।
উপরিউক্ত আলোচনার মাধ্যমে বলা যায়, সুন্দরবনের প্রাকৃতিক জীববৈচিত্র্য প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
Related Question
View Allতিব্বতের মানস সরোবরে ব্রহ্মপুত্র নদের উৎপত্তি হয়ে আসাম হয়ে বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম জেলায় এটি প্রবেশ করেছে। ১৭৮৭ সালের পূর্বে ব্রহ্মপুত্রের প্রধান ধারাটি ময়মনসিংহের মধ্য দিয়ে উত্তর- পশ্চিম দিক থেকে দক্ষিণ-পূর্বদিকে আড়াআড়িভাবে প্রবাহিত হতো। কিন্তু ১৭৮৭ সালে সংঘটিত ভূমিকম্পে ব্রহ্মপুত্রের তলদেশ উত্থিত হওয়ায় পানি ধারণ ক্ষমতার বাইরে চলে যায় এবং নতুন স্রোতধারার শাখা নদীর সৃষ্টি হয়। আর এ শাখা নদীটি যমুনা নামে পরিচিতি।
অনুচ্ছেদে বর্ণিত বনভূমিটি হলো বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাংশের ক্রান্তীয় চিরহরিৎ এবং পত্রপতনশীল বনভূমি এলাকা।
সাধারণ উষ্ণ ও আর্দ্র ভূমির কিছু এলাকা জুড়ে বিভিন্ন প্রজাতির গাছপালা, তরুলতা, ঝোপঝাড় ও গুল্ম জন্ম নেয়। এসব গাছের পাতা একত্রে ফোটেও না, ঝরেও না। ফলে সারা বছর বনগুলো সবুজ থাকে। অবশ্য সে কারণেই এসব বনকে চিরহরিৎ বা চিরসবুজ বনভূমি বলা হয়। চাপালিশ, ময়না, তেলসুর, মেহগনি, জারুল, সেগুন, গর্জন এ বনভূমির উল্লেখযোগ্য গাছ। তবে বর্তমানে এসব বনভূমি রাবার চাষও হচ্ছে। তাছাড়া এ বনগুলো অনেক সৌন্দর্যের রূপ পরিগ্রহ করে।
উদ্দীপকের জাহিদ তার বিদেশি বন্ধুদের সাথে নিয়ে এই চিরহরিৎ বনভূমিতে বেড়াতে গিয়ে বনের সৌন্দর্য দেখে মুগ্ধ হয়। প্রায় প্রতিনিয়তই সেখানে দেশি-বিদেশি পর্যটকেরা যাওয়া-আসা করে থাকেন।
উদ্দীপকে জাহিদের করা মন্তব্যটি যথার্থ।
উদ্দীপকে বর্ণিত নদীটির নাম কর্ণফুলী। কর্ণফুলি নদী বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের প্রধান নদী। এ নদীর উৎপত্তিস্থল লুসাই নামক পাহাড়ে। ৩২০ কি.মি. দৈর্ঘ্যের এ নদীটি চট্টগ্রাম শহরের খুব নিকট দিয়ে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে। বাংলাদেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর কর্ণফুলী নদীর তীরে অবস্থিত। পানি বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং চট্টগ্রাম বন্দরের জন্য এ নদীর গুরুত্ব অপরিসীম। তাছাড়া এ নদীটি আমাদের জাতীয় অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে। উদ্দীপকে জাহিদ ছুটিতে তার বিদেশি সহপাঠীদের নিয়ে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব অংশের পাহাড়ি অঞ্চলে ফেরার পথে বেড়াতে গিয়ে সে অঞ্চলের প্রধান নদীটি সম্পর্কে যে মন্তব্যটি করে তা কর্ণফুলি নদীকেই বুঝিয়েছে যা আলোচনায় স্পষ্ট।
তাই আমরা নিঃসন্দেহে বলতে পারি, উদ্দীপকে জাহিদের মন্তব্যটি যথার্থ।
বঙ্গোপসাগরের তলদেশে গ্যাস আবিষ্কৃত হয়েছে।
নিরক্ষীয় নিম্ন অক্ষাংশ অঞ্চলে সূর্য বছরের প্রায় সব সময়ই লম্বভাবে কিরণ দেয়। বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার অপরাপর দেশগুলো নিরক্ষীয় বা ক্রান্তীয় অঞ্চলে অবস্থিত। আর তাই দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে প্রচুর সৌরশক্তি পাওয়া যায়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!