যে এলাকায় এক বা একাধিক দেশ শুল্কমুক্তভাবে ব্যবসায়-বাণিজ্য পরিচালনা করে, তাকে মুক্তবাণিজ্য এলাকা বলে।
বিশ্ববাণিজ্যকে সকলের জন্য কল্যাণকর করতে যে প্রতিষ্ঠান সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, তাকে WTO বা বিশ্ববাণিজ্য সংস্থা বলে। বিশ্বব্যাপী অবাধ বাণিজ্য এবং উন্নয়নের উদ্দেশ্য নিয়েই বিশ্ববাণিজ্য সংস্থা গঠিত হয়।
বিশ্ববাণিজ্যের অবাধ প্রবাহকে সুনিশ্চিত করাই হচ্ছে বিশ্ববাণিজ্য সংস্থার মূল কাজ। এছাড়া WTO মুক্ত বাজার ও বাণিজ্য চুক্তি সম্পাদন, বিরোধ মীমাংসা, বাণিজ্য নীতি পর্যালোচনা ফোরাম হিসেবে কাজ ইত্যাদি কার্যাদি সম্পাদন করে থাকে।
বাংলাদেশের সাথে বিভিন্ন দেশের বাণিজ্যিক বৈষম্য দূরীকরণে -দেশসমূহ যেরূপ সহায়তা সংস্থা গঠন করেছে সেটি হলো সাপটা।
SAPTA এর পূর্ণরূপ হলো South Asian Preferential Trade Arrangement. যার অর্থ হচ্ছে দক্ষিণ এশীয় অগ্রাধিকার বাণিজ্য চুক্তি। মূলত দক্ষিণ এশিয়ার গরিব রাষ্ট্রগুলোর অর্থনৈতিকভাবে কীভাবে স্বাবলম্বী হবে এ চেতনা থেকে সাপটা বা অর্থনৈতিক জোট গঠন করা হয়।
১৯৮৫ সালে ঢাকায় প্রথম অনুষ্ঠিত SARC সম্মেলন থেকে দক্ষিণ এশিয়ার গরিব দেশগুলো নিয়ে পৃথক অর্থনৈতিক জোট গঠনের কথা চিন্তা করে সাফটা চুক্তি শুরু হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ৭ম সার্ক শীর্ষ সম্মেলনে দক্ষিণ এশিয়ার ৭টি দরিদ্র দেশের স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে SAPTA চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। দেশগুলো হলো- বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, ভুটান, শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপ। এই SAPTA চুক্তির মাধ্যমে সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে আমদানি ও রপ্তানিতে শুল্ক প্রতিবন্ধকতা বিদ্যমান বিধিনিষেধ ও শুল্ক রেয়াতের মাধ্যমে মুক্তবাজার প্রতিষ্ঠিত হয়। সাফটা চুক্তি বাণিজ্যের ক্ষেত্রে দক্ষিণ এশিয়ার উন্নয়নশীল দেশগুলোর বিশেষ সহায়তা দান করে মুক্তবাণিজ্য এলাকায় ভালো প্রতিযোগিতা সৃষ্টিতে সহায়তা করে থাকে। সুতরাং বলা যায়, বাংলাদেশের সাথে বিভিন্ন দেশের বাণিজ্যিক বৈষম্য দূরীকরণে দেশসমূহ যেরূপ সহায়তা সংস্থা গঠন করেছে সেটি হলো সাপটা।
বাণিজ্যিক বৈষম্য দূরীকরণে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের গঠিত সংস্থাটি অর্থাৎ সাপটা তার নীতি ও পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে সক্ষম হবে।
সাপটা বলতে বোঝায় এমন একটি সংগঠনকে যে সংগঠনটি দক্ষিণ এশিয়ার ব্যবসায়-বাণিজ্যের উন্নয়নের স্বার্থে গঠিত ও পরিচালিত হয়। বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ, নেপাল, ভুটান, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান প্রভৃতি দেশসমূহের মধ্যে সাপটা (SAPTA) চুক্তি সম্পাদিত হয়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, বাংলাদেশের সাথে ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কাসহ বিভিন্ন দেশের বাণিজ্যিক বৈষম্য রয়েছে। এ অবস্থা মোকাবিলার জন্য একটি বাণিজ্যিক জেটি অর্থাৎ সাপটা গঠন করা হয়েছে। কিন্তু চুক্তি মোতাবেক রাষ্ট্রগুলো কার্যক্রম পরিচালনা না করায় এটি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না। সাপটা মূলত অবাধ বাণিজ্যসংক্রান্ত একটি আঞ্চলিক চুক্তি। দক্ষিণ এশিয়া সাতটি দেশের মধ্যে সুসম্পর্ক এবং অবাধে বাণিজ্য সম্প্রসারণের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত হয় সাপটা। সাপটা এর সদস্যভুক্ত দেশগুলোর মধ্যকার আন্তঃদেশীয় বাণিজ্যে বৈষম্য থাকলে তা আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে দূর করে নেওয়া হবে বলে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। তাই স্বল্প সময়ের মধ্যে দেশগুলোর বাণিজ্যিক বৈষম্য দূর করার লক্ষ্যে সাপটা কাজ করছে।
সুতরাং বলা যায়, বাণিজ্যিক বৈষম্য দূরীকরণে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের গঠিত সংস্থাটি অর্থাৎ সাপটা তার নীতি ও পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে সক্ষম হবে।
Related Question
View All১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!