দীর্ঘকালীন অর্থের যোগানে গঠিত বাজারকে পুঁজিবাজার বা মূলধন বাজার বলে।
কোম্পানির অনুমোদিত মূলধনের অংশকে শেয়ার বলে এবং শেয়ার দ্বারা কোম্পানির মালিকানা নির্দেশিত হয়। অপরদিকে কোম্পানির ঋণ গ্রহণের দলিলকে ঋণপত্র বা বন্ড বলে এবং ঋণপত্র দ্বারা কোম্পানির ঋণের স্বীকৃতি প্রকাশ পায়।
তাই বলা যায়, শেয়ার ও বন্ড একে অপরের থেকে আলাদা।
উদ্দীপক অনুসারে প্রাথমিক অবস্থায় পদ্মা সেতুর জন্য সরকার বাহ্যিক বা বিদেশি উৎসসমূহ থেকে অর্থসংস্থানের পরিকল্পনা করেন। নিচে অর্থায়নের বিদেশি উৎসসমূহ চিহ্নিত করা হলো-
উন্নয়নশীল দেশগুলো দ্রুত শিল্পায়নের উদ্দেশ্যে উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নে অভ্যন্তরীণ উৎস হতে অর্থ সংগ্রহে ব্যর্থ হওয়ার প্রেক্ষিতে ক্রমশ অধিক মাত্রায় বৈদেশিক উৎসের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। সাধারণভাবে বিদেশি উৎসকে দু'ভাগে ভাগ করা যায়; যথা- (১) বিদেশি সাহায্য এবং (২) প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগ।
১। বিদেশি সাহায্য: বৈদেশিক সাহায্য সাধারণত সময় সাপেক্ষ এবং সুদসহ পরিশোধযোগ্য। বৈদেশিক ঋণ/অনুদানসূত্রে ও কারিগরি সহায়তার আওতায় উন্নয়নশীল দেশগুলো নগদ অর্থ, বিভিন্ন কাঁচামাল, যন্ত্রপাতি, প্রকল্প সমর্থন, কারিগরি জ্ঞান ইত্যাদি লাভ করে থাকে। এ ধরনের সাহায্য বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান যেমন: বিশ্ব ব্যাংক (World Bank), আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিল (IMF), আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (IDA), এশিয়া উন্নয়ন ব্যাংক (ADB), ইসলামি উন্নয়ন ব্যাংক (IDB) প্রদান করে।
২। প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগ: বাংলাদেশে বেশ কিছুকাল থেকেই বিদেশি উদ্যোক্তারা বিভিন্ন শিল্পে বিনিয়োগ করছে। শিল্পে বিদেশি পুঁজি আকৃষ্ট করার জন্য 'সরকার বেশ কিছু সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে। এ লক্ষ্যে দেশে রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (Export Processing Zone) : ট্যাক্স হলিডে (Tax holiday) ইত্যাদি ধরনের সুযোগ-সুবিধা অন্যতম।
অতএব বলা যায়, উপরে উল্লিখিত উৎসগুলো থেকে সরকার দেশের উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে বিদেশি সাহায্য গ্রহণ করে থাকে।
উদ্দীপক অনুসারে পরবর্তী অবস্থার প্রেক্ষিতে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। নিচে নিজস্ব অর্থায়নের উৎসসমূহের বিবরণ দেওয়া হলো-
রাজস্ব আয়: রাজস্ব আয় সরকারি অর্থায়নের অন্যতম প্রধান উৎস। রাজস্ব আয়, কর রাজস্ব ও করবহির্ভূত রাজস্বের সমন্বয়ে গঠিত। করবহির্ভূত রাজস্বে প্রশাসনিক আয় ও বাণিজ্যিক আয় অন্তর্ভুক্ত।
ঋণ: সরকার আর্থিক ও অ-আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ গ্রহণ করে অর্থের সংস্থান করে থাকে। ফলে ঋণ গ্রহণ সরকারি অর্থসংস্থানের অভ্যন্তরীণ উৎস হিসেবে বিবেচিত।
নিট মূলধনী আয়: সরকার জনসাধারণের নিকট বন্ড ও বিভিন্ন
প্রকার ঋণপত্র বিক্রি করে অর্থসংস্থান করে থাকে। রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের সংরক্ষিত তহবিল ও সঞ্চয় হতেও সরকার অর্থসংস্থান করে। এই অর্থসংস্থান নিট মূলধন হিসেবে চিহ্নিত।
জাতীয় সঞ্চয় প্রকল্প সরকার জাতীয় সঞ্চয় প্রকল্পের অধীনে সঞ্চয়পত্র, প্রাইজ বন্ড প্রভৃতি বিক্রি করে সরকারি অর্থায়ন করে থাকে।
মুদ্রা ছাপানো: সরকার নতুন মুদ্রা ইস্যু করে অর্থসংস্থান করতে পারে। অন্য কোনো উৎস থেকে অর্থসংস্থান সমস্যাজনক হলে সরকার নতুন মুদ্রা ছাপিয়ে সরকারি অর্থায়ন করে।
অতিরিক্ত কর আরোপ: প্রয়োজনে সরকার বাজেটবহির্ভূত অতিরিক্ত কর আরোপ করে অর্থসংস্থান করতে পারে।
অবণ্টিত মুনাফা: কারবারে অর্জিত মুনাফার একটি অংশ
শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে বণ্টন না করে সংরক্ষণ করলে তাকে অবণ্টিত মুনাফা বলে। সাধারণ সঞ্চিতি, বোনাস শেয়ার, লভ্যাংশ সমতাকরণ তহবিল, নিমজ্জমান তহবিলরূপে অবণ্টিত মুনাফা সংরক্ষিত হয়।
সবশেষে বলা যায়, নিজস্ব অর্থায়নের ক্ষেত্রে সরকার অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন উৎস থেকে অর্থসংস্থান করে।
Related Question
View Allপ্রয়োগগত দিক থেকে অর্থায়নকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়; যথা- (১) সরকারি অর্থায়ন, (২) বেসরকারি অর্থায়ন।
ব্যাংক জনগণের অর্থ গ্রহণ করে ব্যবসায় করে। আমানত গ্রহণ করার সময় ব্যাংক তেমন কোনো বিচার-বিবেচনা করে না, কিন্তু ঋণ প্রদানের সময় নানা রকম বিচার-বিবেচনা করে ঋণ প্রদান করে। ঋণ প্রদানের সময় যে বিষয়গুলো বিবেচনা করা হয় তাকে Five C's দ্বারা বোঝানো যেতে পারে; যথা-Character (চরিত্র), Capacity (ক্ষমতা), Collatoral (জামানত) Contract (চুক্তি), Capital (মূলধন)।
উদ্দীপকের অনুপম বাবু রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণ
করেছেন। নিচে উক্ত ব্যাংকের ঋণ কার্যক্রমের বর্ণনা করা হলো-অর্থসংস্থানে বাণিজ্যিক ব্যাংক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাণিজ্যিক ব্যাংক স্বল্পমেয়াদি ও মধ্যমেয়াদি ঋণ প্রদান করে। তবে ক্ষেত্রবিশেষে দীর্ঘমেয়াদি ঋণও প্রদান করে। বাংলাদেশে তিন ধরনের বাণিজ্যিক ব্যাংক রয়েছে। যথা: রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক, বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক ও বিদেশি বাণিজ্যিক ব্যাংক। বাংলাদেশে বাণিজ্যিক ব্যাংক, বিশেষত রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক বিভিন্ন শিল্পের কার্যকরী ঋণ প্রদান করে থাকে। বিভিন্ন শিল্প স্বল্প মেয়াদে চলতি সম্পদ সংগ্রহের জন্য ব্যাংক থেকে এরূপ ঋণ সংগ্রহ করে। আবার অনেক সময় কনসোর্টিয়াম ব্যবস্থার অধীনে একাধিক বাণিজ্যিক ব্যাংক নতুন শিল্প প্রতিষ্ঠার জন্য বড় অঙ্কের ঋণ সরবরাহ করে।
কোনো কোনো রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক এককভাবে এরূপ ঋণ দীর্ঘ মেয়াদের জন্য প্রদান করে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত ব্যাংকটি সোনালী ব্যাংক, যা বাংলাদেশের রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক। অর্থসংস্থানে এই ব্যাংক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ ধরনের ব্যাংক স্বল্প ও মধ্যমেয়াদি ঋণ
প্রদান করে। ক্ষেত্রবিশেষে এই ব্যাংক দীর্ঘমেয়াদি ঋণও প্রদান করে থাকে। আবার অনেক সময় কনসোর্টিয়াম ব্যবস্থার অধীনে একাধিক বাণিজ্যিক ব্যাংক নতুন শিল্প প্রতিষ্ঠার জন্য বড় অঙ্কের ঋণ সরবরাহ করে। পক্ষান্তরে, বিনিয়োগ ব্যাংক দীর্ঘমেয়াদি ঋণ প্রদান করে থাকে। বিনিয়োগ ব্যাংক অবলেখকের কাজও করে থাকে। বাংলাদেশে Investment Corporation of Bangladesh (ICB) একটি উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ ব্যাংক। এই ব্যাংক পুঁজিবাজার উন্নয়নে সহায়তাদান, পরামর্শ প্রদান, মূলধনের স্বল্পতা পূরণে সহায়তা করে থাকে। এছাড়া জনগণের সঞ্চয়কে একীভূতকরণ ও তার সঠিক বিনিয়োগ নিশ্চিত করে। এই ব্যাংক সাবসিডিয়ারি কোম্পানি গঠন ও উন্নয়নও করে থাকে।
সময়গত দিক থেকে অর্থায়ন তিন প্রকার, যথা : স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি।
স্থায়ী সম্পত্তি ক্রয় অথবা দীর্ঘদিনের জন্য বিনিয়োগের উদ্দেশ্যে যে অর্থায়ন করা হয়, তাকে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন বলে। এ ধরনের অর্থায়ন সাধারণত ৭ থেকে ২০ বছর পর্যন্ত উঠানামা করতে পারে। সাধারণত বড় বড় শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপন ও বড় বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন করা হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!