বাংলাদেশে SDG বাস্তবায়নের অগ্রগতি ও চ্যালেঞ্জ কী?

Updated: 1 week ago
উত্তরঃ

বাংলাদেশ দারিদ্র্য বিমোচন, খাদ্য নিরাপত্তা, প্রাথমিক শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে উল্লেখযোগ্য SDG অগ্রগতি অর্জন করেছে। তবে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, সুশাসন নিশ্চিতকরণ, বৈষম্য হ্রাস এবং টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে এখনও বড় ধরণের SDG চ্যালেঞ্জ বিদ্যমান। ২০৩০ সালের মধ্যে বাকি লক্ষ্যগুলো অর্জনে এই চ্যালেঞ্জগুলো অতিক্রম করা অত্যন্ত জরুরি।

এসডিজি (SDG) বাস্তবায়নের অগ্রগতি:

  • দারিদ্র্য ও ক্ষুধা হ্রাস: অতিমারী ও বৈশ্বিক সংকটের পরেও সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী এবং বিশেষ কর্মসূচির মাধ্যমে চরম দারিদ্র্যের হার কমানো সম্ভব হয়েছে। সরকার গ্রামীণ অর্থনীতি সচল রাখতে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতা ও বাজেট প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি করেছে।
  • শিক্ষা ও স্বাস্থ্য: প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিট ভর্তি হার বৃদ্ধি এবং শিশুমৃত্যু ও মাতৃমৃত্যুর হার কমানোর ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জিত হয়েছে। স্বাস্থ্য খাতে কমিউনিটি ক্লিনিক ব্যবস্থার সম্প্রসারণ এবং টিকাদান কর্মসূচির অভাবনীয় সাফল্যের কারণে নবজাতক ও মাতৃমৃত্যুর হার হ্রাসে বাংলাদেশ গ্লোবাল স্ট্যান্ডার্ড অর্জন করেছে
  • জেন্ডার সমতা: নারী শিক্ষার প্রসার ও রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশের চেয়ে এগিয়ে। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষায় ছাত্র-ছাত্রীর সমতা অর্জনের পাশাপাশি উচ্চশিক্ষাতেও নারী শিক্ষার্থীর সংখ্যা অভাবনীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। জাতীয় সংসদ থেকে শুরু করে স্থানীয় সরকার প্রশাসন এবং করপোরেট খাতে নারীর অংশগ্রহণ ও নীতি-নির্ধারণী ভূমিকা সুসংহত হয়েছে ।
  • বিদ্যুতায়ন ও অবকাঠামো: দেশের শতভাগ জনগোষ্ঠী বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় এসেছে। একই সাথে পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল ও এক্সপ্রেসওয়ের মতো মেগা অবকাঠামো নির্মাণের ফলে দেশের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ও লজিস্টিকস খাতের বৈপ্লবিক উন্নয়ন ঘটেছে। এই নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ এবং উন্নত অবকাঠামো গ্রামীণ শিল্পায়নকে ত্বরান্বিত করে।

এসডিজি (SDG) বাস্তবায়নের প্রধান চ্যালেঞ্জ:

  • অর্থায়ন ঘাটতি ও সম্পদের অপ্রতুলতা: এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা পূরণের জন্য বিশাল পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন, যা অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণ ও বৈদেশিক সহায়তার মাধ্যমে পূরণ করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য যে বিপুল পরিমাণ দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ এবং অর্থের প্রয়োজন, তার বড় ঘাটতি রয়েছে।
  • বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট: কোভিড-১৯ মহামারি এবং পরবর্তীতে বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতি ও যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট মূল্যস্ফীতি এবং সাপ্লাই চেইনের ব্যাঘাত অর্থনীতিকে ধীরগতির করেছে। ইউক্রেন-রাশিয়া সংঘাত এবং মধ্যপ্রাচ্য সংকটের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি ও খাদ্যশস্যের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় ডলার সংকট তৈরি হয়েছে। এই ডলার সংকটের ফলে আমদানিকৃত কাঁচামাল ও লজিস্টিকস ব্যয় বৃদ্ধি পেয়ে অভ্যন্তরীণ বাজারে উচ্চ মূল্যস্ফীতি বজায় রয়েছে, যা সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমিয়ে দিয়েছে।
  • জলবায়ু পরিবর্তন: ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের মারাত্মক ও চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। বারবার প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও লবণাক্ততা বৃদ্ধির কারণে কৃষি ও জীবনযাত্রার টেকসই উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, যা টেকসই কৃষির জন্য বড় হুমকি।
  • প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা, সুশাসন ও জবাবদিহিতা: দক্ষ জনবলের অভাব এবং দুর্বল প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নে প্রধান অন্তরায়। সরকারি দপ্তরগুলোতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং উপাত্ত বা ডেটা ব্যবস্থাপনার ঘাটতি থাকায় এসডিজি ট্যাকিং ও অগ্রগতি সঠিক সময়ে মূল্যায়ন করা কঠিন হচ্ছে।
  • গুণগত শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ: শুধু তালিকাভুক্তি নয়, শিক্ষার মান বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্যসেবায় বৈষম্য কমানো ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এখনো একটি বড় চ্যালেঞ্জ। স্বাস্থ্য খাতে অবকাঠামো বাড়লেও গ্রামীণ ও দুর্গম অঞ্চলের হাসপাতালগুলোতে দক্ষ চিকিৎসক ও আধুনিক যন্ত্রাংশের ঘাটতি রয়ে গেছে। চিকিৎসা ব্যয়ের সিংহভাগ সাধারণ মানুষকে নিজে বহন করতে হওয়ায় অনেক পরিবার আকস্মিক অসুস্থতার কারণে পুনরায় দারিদ্র্যের সীমার নিচে নেমে যাচ্ছে।
  • কর্মসংস্থান সৃষ্টি: অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হলেও সেই অনুপাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে না। এই বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠীকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করে শ্রমবাজারে যুক্ত করতে না পারলে বাংলাদেশ তার ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবে, যা এসডিজির সামগ্রিক লক্ষ্যমাত্রাকে ব্যাহত করবে।

9

Related Question

View All
উত্তরঃ

বিশ্বব্যাংক এবং আইএমএফ (IMF) হলো ১৯৪৪ সালের ব্রেটন উডস কনফারেন্সের মাধ্যমে সৃষ্ট দুটি জমজ প্রতিষ্ঠান। আপাতদৃষ্টিতে এদের কাজ একই মনে হলেও বৈশ্বিক অর্থনীতিতে এদের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও কার্যপদ্ধতিতে সুনির্দিষ্ট পার্থক্য রয়েছে। নিচে ছক আকারে এদের প্রধান পার্থক্যগুলো আলোচনা করা হলো:

পার্থক্যের বিষয়

বিশ্বব্যাংক

আইএমএফ

১. উদ্দেশ্যএটি মূলত সদস্য দেশগুলোর দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং দারিদ্র্য বিমোচন নিয়ে কাজ করে।এটি মূলত বৈশ্বিক আর্থিক স্থিতিশীলতা, বিনিময় হার নিয়ন্ত্রণ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সহজীকরণে কাজ করে।
২. ঋণের প্রকৃতিউন্নয়নশীল দেশগুলোকে সুনির্দিষ্ট প্রকল্প (যেমন: রাস্তাঘাট, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, মেগা প্রজেক্ট) বাস্তবায়নের জন্য দীর্ঘমেয়াদীঋণ দেয়।কোনো দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে জরুরি সংকট বা লেনদেনের ভারসাম্য ঘাটতি মেটাতে স্বল্পমেয়াদী ঋণ দেয়।
৩. সুদের হারএর ঋণের সুদের হার সাধারণত অনেক কম বা নামমাত্র এবং পরিশোধের সময়সীমা দীর্ঘ (১৫-৪০ বছর) হয়।এর ঋণের সুদের হার ও শর্তাবলী তুলনামূলক কঠোর হয় এবং ঋণ পাওয়ার জন্য দেশীয় অর্থনীতিতে সংস্কার আনতে হয়।
৪. লক্ষ্যভুক্ত দেশটি প্রধানত উন্নয়নশীল, স্বল্পোন্নত এবং দরিদ্র দেশগুলোকে ঋণ ও কারিগরি সহায়তা প্রদান করে।ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে যেকোনো সদস্য দেশ তীব্র অর্থনৈতিক বা রিজার্ভ সংকটে পড়লে আইএমএফ-এর দ্বারস্থ হতে পারে।
৫. পরামর্শের ধরনসদস্য দেশগুলোকে কাঠামোগত উন্নয়ন, সামাজিক খাত ও প্রকল্পভিত্তিক কারিগরি পরামর্শ দিয়ে থাকে।সদস্য দেশগুলোর আর্থিক নীতি, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভব্যবস্থাপনা এবং মুদ্রা নীতি সংস্কারের পরামর্শ দেয়।
6
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews