মূলভাব: অন্যায়ের বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংগ্রামের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের অধিকারী বাঙালি জাতি। অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে ঝরেছে অনেক রক্ত। তবুও বাঙালি এগিয়ে গিয়েছে দৃপ্তপদে।
সম্প্রসারিত ভাব: স্বাধীনচেতা বাঙালি জাতি কোনোদিন কারো অধীনতা মেনে নেয়নি। যতবারই তারা শোষণের শিকার হয়েছে, ততবারই সংগ্রামের মাধ্যমে সেই শেকল ভেঙেছে। বুকের তাজা রক্ত বিলিয়ে দিতে কখনো পিছপা হয়নি। দীর্ঘ দুইশ বছরের ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে তারা বিদ্রোহে লিপ্ত হয়েছে। ১৯৪৭ সালে উপমহাদেশের মানুষ ব্রিটিশ বেনিয়াদের হাত থেকে মুক্তি পেলেও বাঙালির মুক্তি মেলেনি। পাকিস্তানি শোষকদের বিরুদ্ধে তারা আবার আন্দোলন-সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়েছে। '৫২-এর ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে পাকিস্তানি সাম্প্রদায়িক সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই ঘোষণা করেছে। বাংলার রাজপথ রঞ্জিত করে বাংলা ভাষাকে বিশ্বদরবারে মর্যাদার আসন দিয়েছে। পরবর্তী পর্যায়ে ১৯৫৮, ১৯৬৬ ও ১৯৬৯ সালে সামরিক শাসকের বুলেট বুক পেতে গ্রহণ করেছে। শোষকের নির্যাতন তাদের স্বাধীনতার দাবিকে দাবিয়ে রাখতে পারেনি। সবশেষে ১৯৭১ সালে বাঙালির উপর চূড়ান্ত আঘাত হানে হানাদার বাহিনী। মুক্তিকামী বাঙালি জনতা তাদের বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে মুক্তিযুদ্ধে। দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের শেষে বাঙালি ছিনিয়ে আনে লাল-সবুজের পতাকা। দীর্ঘকালের রক্তক্ষরণের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয় স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ। অসংখ্য সাহসী মানুষের আত্মত্যাগের দৃষ্টান্তে ভাস্বর বাংলার ইতিহাস। বাঙালি যে বীরের জাতি তার প্রমাণ রয়েছে ইতিহাসের পাতায়।
মন্তব্য: এক সাগর রক্তের বিনিময়ে এ দেশের মানুষ অর্জন করে একটি স্বাধীন ভূখণ্ড এবং লাল-সবুজের চেতনা-মিশ্রিত পতাকা। এভাবেই রক্তে রঞ্জিত বন্ধুর পথ পাড়ি দিয়ে বাঙালি জাতি অর্জন করে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!