বাংলার 'ছিয়াত্তরের মনন্তর' এর সময়কাল কত খ্রিস্টাব্দে?

Updated: 8 months ago
উত্তরঃ 1770 খ্রিস্টাব্দে

বাংলার 'ছিয়াত্তরের মনন্তর' ছিল একটি ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ যা ১৭৭০ খ্রিস্টাব্দে (বাংলা ১১৭৬ সনে) তৎকালীন ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনামলে সংঘটিত হয়। এই দুর্ভিক্ষে বাংলার এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি মানুষ মৃত্যুবরণ করে বলে অনুমান করা হয়, যার ফলে জনসংখ্যা ব্যাপক হারে হ্রাস পায় এবং অর্থনীতিতে চরম বিপর্যয় নেমে আসে।

দুর্ভিক্ষের প্রধান কারণগুলির মধ্যে ছিল অনাবৃষ্টি এবং পরপর কয়েক বছর ফসল উৎপাদন ব্যাহত হওয়া। তবে, ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শোষণমূলক ভূমি রাজস্ব নীতি, অতিরিক্ত কর আদায়, এবং খাদ্যশস্যের মজুতদারি ও রপ্তানি পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছিল। কোম্পানি দুর্ভিক্ষের মোকাবিলায় কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি, যা মানবিক বিপর্যয়ের মাত্রাকে বহু গুণ বাড়িয়ে দেয়। এই দুর্ভিক্ষ বাংলার ইতিহাসে একটি কালো অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত এবং এটি কোম্পানির শাসনের নিষ্ঠুরতার একটি বড় দৃষ্টান্ত।

Satt AI
Satt AI
6 days ago
82

ছিয়াত্তরের মন্বন্তর বাংলার ইতিহাসে সর্বাপেক্ষা ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ নামে পরিচিত। ১১৭৬ বঙ্গাব্দে (খ্রি. ১৭৭০) এই দুর্ভিক্ষ হয়েছিল বলে একে 'ছিয়াত্তরের মন্বন্তর' বলা হয়।

১৭৫৬ সালে নবাব সিরাজউদ্দৌলা ২০ জুন কলকাতা দখল করার পর লর্ড ক্লাইভ ও অ্যাডমিরাল ওয়াটসন তামিলনাড়ু থেকে জাহাজযোগে সৈন্য এনে ১৭৫৭ সালের ২ জানুয়ারি কলকাতা পুনর্দখল করেন। এরপর চন্দননগর দখলের পর তারা নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে উৎখাত করার লক্ষ্যে মীরজাফর, উমিচাঁদ, জগত শেঠসহ সিরাজের পরিবারের কয়েকজনের সঙ্গে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। এই ষড়যন্ত্রের ফল হিসেবে নদীয়ার পলাশির প্রান্তরে একটি প্রহসনমূলক যুদ্ধ সংঘটিত হয়, যেখানে সিরাজউদ্দৌলা পরাজিত হয়ে পালানোর সময় ধরা পড়ে নিহত হন। চুক্তি অনুযায়ী মীরজাফর বাংলার নবাব হন এবং ক্লাইভ নগদ ত্রিশ লক্ষ টাকা ও চব্বিশ পরগনার জায়গির লাভ করেন, যা থেকে তার বছরে প্রায় তিন লক্ষ টাকা আয় হতো।

১৭৬০ সালে ক্লাইভ দেশে ফিরে গেলে তার অনুপস্থিতিতে ইংরেজ শাসন দুর্বল হয়ে পড়ে, ফলে ১৭৬৫ সালের মে মাসে তাকে আবার বাংলায় ডেকে আনা হয় এবং গভর্নর নিযুক্ত করা হয়। একই বছরের ১ আগস্ট দিল্লির সম্রাট শাহ আলমের কাছ থেকে ক্লাইভ বাংলা, বিহার ও ওড়িশার দেওয়ানি লাভ করেন। এর ফলে নবাব কেবল নামমাত্র শাসক হিসেবে থেকে যান এবং প্রকৃত শাসনক্ষমতা ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির হাতে চলে যায়। এই নতুন শাসনব্যবস্থাই ‘দ্বৈত শাসন’ নামে পরিচিত, যেখানে নবাব প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করলেও রাজস্ব আদায় ও ব্যয়ের পূর্ণ কর্তৃত্ব কোম্পানির হাতে ন্যস্ত থাকে।

দ্বৈত শাসনের ফলে বাংলার নবাব কার্যত ক্ষমতাহীন হয়ে পড়েন এবং কোম্পানির কর্মচারীরা খাজনা আদায়ের নামে অবাধ লুণ্ঠন ও নির্যাতন শুরু করে। এ অবস্থার মধ্যেই অনাবৃষ্টির কারণে ফসল উৎপাদন কমে যায় এবং ত্রুটিপূর্ণ ভূমিরাজস্ব ব্যবস্থা ও খাদ্যবাজারে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যের ফলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। যদিও কোম্পানি শাসকরা একে প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে ব্যাখ্যা করে, তথাপি বাস্তবে দেখা যায় যে দুর্ভিক্ষের আগের বছরেও রাজস্ব আদায় বেড়েছিল। এর ফলশ্রুতিতে বাংলার বহু অঞ্চল জনশূন্য হয়ে পড়ে এবং জনসংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ, অর্থাৎ প্রায় এক কোটি মানুষ দুর্ভিক্ষে প্রাণ হারায়। এই সময় বাংলার গভর্নর ছিলেন কার্টিয়ার, যার শাসনামলেই দেশে চরম বিপর্যয় ও দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়।

Related Question

View All
উত্তরঃ

'ছিয়াত্তরের মন্বন্তর' নামক দুর্ভিক্ষ বাংলা ১১৭৬ সনে (ইংরেজি ১৭৭০ সাল) ঘটে।

132
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews