বাংলার মুখ আমি দেখিয়াছি, তাই আমি পৃথিবীর রূপ 

খুঁজিতে যাই না আর, অন্ধকারে জেগে উঠে ডুমুরের গাছে 

চেয়ে দেখি ছাতার মতন বড় পাতাটির নিচে বসে আছে

ভোরের দোয়েল পাখি- চারদিকে চেয়ে দেখি পল্লবের স্তূপ 

জাম-বট কাঁঠালের-হিজলের-অশ্বত্থের করে আছে চুপ।

Updated: 9 months ago
উত্তরঃ

কবি তাঁর স্বদেশে স্বাপ্নিক নিয়মে থাকেন।

উত্তরঃ

অভাবের কারণে জমিলার মায়ের রান্নাঘর শূন্য খাঁ খাঁ।

'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতায় কবি জমিলার মায়ের মতো অভাবী ও অসহায় মানুষের দুর্দশার কথা বলেছেন। তাদের ঘরে খাবার নেই। রান্না হয় না। শূন্য রান্নাঘর খাঁ খাঁ করে। খাবারের থালা সেখানে শুকনো পড়ে থাকে। কাজ জোটাতে পারে না বলে তারা খাদ্যও জোটাতে পারে না। এসব নিম্নশ্রেণির অভাবী মানুষের সঙ্গে কবির পরিচয় অত্যন্ত নিবিড় এবং গভীর। প্রশ্নোক্ত লাইনটিতে এই বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে।

উত্তরঃ

উদ্দীপকে ফুটে ওঠা চিত্রের সঙ্গে 'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতার সাদৃশ্যের দিকটি হলো এদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। 

বাংলাদেশ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক লীলানিকেতন। প্রকৃতি যেন নিজ হাতে সাজিয়েছে এই দেশকে। চারদিকে সবুজের সমারোহ, ছবির মতো সারি সারি গ্রাম, সর্পিল নদী, দিগন্তবিস্তৃত ফসলের মাঠ, বন-বনানী, পাখির ডাক সব মিলিয়ে মনোমুগ্ধকর এক দেশ।

উদ্দীপকে বাংলার সবুজ প্রকৃতির প্রতি কবির গভীর অনুরাগ প্রকাশ পেয়েছে। এখানে বাংলার চির সবুজ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য প্রকাশ পেয়েছে। উদ্দীপকের কবিতাংশের কবি বাংলার সৌন্দর্যে এতই মুগ্ধ যে অন্য কোনো দেশের রূপ দেখার ইচ্ছা তার নেই। অন্ধকারে জেগে ওঠা ডুমুরের গাছ, জাম, বট, কাঁঠাল, হিজল, অশ্বত্থের পাতায় তাঁর মন ভরে যায়। ভোরের দোয়েল বসে থাকে ডুমুরের গাছে। 'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতায়ও অনুরূপভাবে প্রকৃতির বর্ণনা আছে। জমিনের ফুল, জোনাকি, পুকুর, মাছরাঙা, পাখি, কার্তিকের ধান, নদীর কিনার, গ্রামীণ জনপদ, জনপদের সাধারণ মানুষ প্রভৃতি কবির অস্তিত্বের সঙ্গে মিশে আছে। এভাবে উদ্দীপকে ফুটে ওঠা চিত্রের সঙ্গে কবিতার সাদৃশ্য বিদ্যমান।

উত্তরঃ

না, উদ্দীপকটি 'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতার সমগ্র ভাব প্রকাশ করে না। 

প্রকৃতি আপন সৌন্দর্যে মানুষকে তার কাছে টানে। জন্মভূমির রূপে মুগ্ধ মানুষ নানাভাবে তার মুগ্ধতা প্রকাশ করে। এই প্রকাশ ভিন্ন ভিন্ন হলেও অনুভূতির জগতে তারা এক। কারণ প্রকৃতি তার দান তাদেরকে সমানভাবে দিয়ে থাকে। সেই দানে প্রকৃতির কৃপণতা নেই।

'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতায় কবি আত্মপরিচয় দিয়েছেন। কবি বলেছেন- এই মাটি ও বাংলারই তিনি একজন মানুষ। এখানেই তাঁর জন্ম, বেড়ে ওঠা। তিনি এই আসমান, জমিনের ফুল, জোনাকি, পুকুর, মাছরাঙা, কার্তিকের ধানের উপর পড়ে থাকা শিশির দেখেছেন, এদেশের রূপ-বৈচিত্র্য উপভোগ করেছেন। এই জনপদের মানুষ, পরিবেশ সবই চেনেন। তারাও তাকে চেনে। তিনি যদি ভিন্ন দেশি হতেন তাহলে তিনি এগুলো চিনতেন না। এদেশের অভাব-অনটন তিনি খুব ভালো করে জানেন। অন্যদিকে উদ্দীপকে বর্ণিত কবিও তার স্বদেশের রূপ-সৌন্দর্য বর্ণনা করেছেন। জাম, বট, কাঁঠাল, হিজল ও অশ্বত্থ গাছের কথা বলেছেন। অন্ধকারের ডুমুরের গাছে চাতক পাখির মতো বসে আছে ভোরের দোয়েল। এই প্রকৃতির সৌন্দর্যের দিক দিয়ে কবিতার সঙ্গে উদ্দীপকের মিল রয়েছে।

উদ্দীপকে বর্ণিত স্বদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য 'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতায় প্রকাশ পেলেও কবি কবিতায় নিজেকে এ মাটিরই একজন প্রমাণের যে চেষ্টা করেছেন তা উদ্দীপকে নেই। উদ্দীপকে অভাবী মানুষের জীবনচিত্রও অনুপস্থিত। তাই বলা যায়, উদ্দীপকটি 'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতার সমগ্র ভাব প্রকাশ করে না।

303

আসমানের তারা সাক্ষী

সাক্ষী এই জমিনের ফুল, এই

নিশিরাইত বাঁশবাগান বিস্তর জোনাকি সাক্ষী

সাক্ষী এই জারুল জামরুল, সাক্ষী

পুবের পুকুর, তার ঝাকড়া ডুমুরের ডালে স্থির দৃষ্টি

মাছরাঙা আমাকে চেনে

আমি কোনো অভ্যাগত নই

খোদার কসম আমি ভিনদেশি পথিক নই

আমি কোনো আগন্তুক নই ।

আমি কোনো আগন্তুক নই, আমি

ছিলাম এখানে, আমি স্বাপ্নিক নিয়মে

এখানেই থাকি আর

এখানে থাকার নাম সর্বত্রই থাকা

সারা দেশে।

আমি কোনো আগন্তুক নই ৷

এই খর রৌদ্র জলজ বাতাস মেঘ ক্লান্ত বিকেলের

পাখিরা আমাকে চেনে

তারা জানে আমি কোনো অনাত্মীয় নই ।

কার্তিকের ধানের মঞ্জরী সাক্ষী

সাক্ষী তার চিরোল পাতার

টলমল শিশির – সাক্ষী জ্যোৎস্নার চাদরে ঢাকা

        নিশিন্দার ছায়া

অকাল বার্ধক্যে নত কদম আলী

তার ক্লান্ত চোখের আঁধার –

আমি চিনি, আমি তার চিরচেনা স্বজন একজন । আমি

জমিলার মা'র

শূন্য খা খা রান্নাঘর শুকনো থালা সব চিনি

সে আমাকে চেনে।

হাত রাখো বৈঠায় লাঙলে, দেখো

আমার হাতের স্পর্শ লেগে আছে কেমন গভীর । দেখো

মাটিতে আমার গন্ধ, আমার শরীরে

লেগে আছে এই স্নিগ্ধ মাটির সুবাস।

আমাকে বিশ্বাস করো, আমি কোনো আগন্তুক নই ।

দু'পাশে ধানের খেত

       সরু পথ

সামনে ধু ধু নদীর কিনার

আমার অস্তিত্বে গাঁথা । আমি এই উধাও নদীর

মুগ্ধ এক অবোধ বালক ৷
 

Related Question

View All
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews