কবি তাঁর স্বদেশে স্বাপ্নিক নিয়মে থাকেন।
অভাবের কারণে জমিলার মায়ের রান্নাঘর শূন্য খাঁ খাঁ।
'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতায় কবি জমিলার মায়ের মতো অভাবী ও অসহায় মানুষের দুর্দশার কথা বলেছেন। তাদের ঘরে খাবার নেই। রান্না হয় না। শূন্য রান্নাঘর খাঁ খাঁ করে। খাবারের থালা সেখানে শুকনো পড়ে থাকে। কাজ জোটাতে পারে না বলে তারা খাদ্যও জোটাতে পারে না। এসব নিম্নশ্রেণির অভাবী মানুষের সঙ্গে কবির পরিচয় অত্যন্ত নিবিড় এবং গভীর। প্রশ্নোক্ত লাইনটিতে এই বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে।
উদ্দীপকে ফুটে ওঠা চিত্রের সঙ্গে 'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতার সাদৃশ্যের দিকটি হলো এদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য।
বাংলাদেশ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক লীলানিকেতন। প্রকৃতি যেন নিজ হাতে সাজিয়েছে এই দেশকে। চারদিকে সবুজের সমারোহ, ছবির মতো সারি সারি গ্রাম, সর্পিল নদী, দিগন্তবিস্তৃত ফসলের মাঠ, বন-বনানী, পাখির ডাক সব মিলিয়ে মনোমুগ্ধকর এক দেশ।
উদ্দীপকে বাংলার সবুজ প্রকৃতির প্রতি কবির গভীর অনুরাগ প্রকাশ পেয়েছে। এখানে বাংলার চির সবুজ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য প্রকাশ পেয়েছে। উদ্দীপকের কবিতাংশের কবি বাংলার সৌন্দর্যে এতই মুগ্ধ যে অন্য কোনো দেশের রূপ দেখার ইচ্ছা তার নেই। অন্ধকারে জেগে ওঠা ডুমুরের গাছ, জাম, বট, কাঁঠাল, হিজল, অশ্বত্থের পাতায় তাঁর মন ভরে যায়। ভোরের দোয়েল বসে থাকে ডুমুরের গাছে। 'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতায়ও অনুরূপভাবে প্রকৃতির বর্ণনা আছে। জমিনের ফুল, জোনাকি, পুকুর, মাছরাঙা, পাখি, কার্তিকের ধান, নদীর কিনার, গ্রামীণ জনপদ, জনপদের সাধারণ মানুষ প্রভৃতি কবির অস্তিত্বের সঙ্গে মিশে আছে। এভাবে উদ্দীপকে ফুটে ওঠা চিত্রের সঙ্গে কবিতার সাদৃশ্য বিদ্যমান।
না, উদ্দীপকটি 'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতার সমগ্র ভাব প্রকাশ করে না।
প্রকৃতি আপন সৌন্দর্যে মানুষকে তার কাছে টানে। জন্মভূমির রূপে মুগ্ধ মানুষ নানাভাবে তার মুগ্ধতা প্রকাশ করে। এই প্রকাশ ভিন্ন ভিন্ন হলেও অনুভূতির জগতে তারা এক। কারণ প্রকৃতি তার দান তাদেরকে সমানভাবে দিয়ে থাকে। সেই দানে প্রকৃতির কৃপণতা নেই।
'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতায় কবি আত্মপরিচয় দিয়েছেন। কবি বলেছেন- এই মাটি ও বাংলারই তিনি একজন মানুষ। এখানেই তাঁর জন্ম, বেড়ে ওঠা। তিনি এই আসমান, জমিনের ফুল, জোনাকি, পুকুর, মাছরাঙা, কার্তিকের ধানের উপর পড়ে থাকা শিশির দেখেছেন, এদেশের রূপ-বৈচিত্র্য উপভোগ করেছেন। এই জনপদের মানুষ, পরিবেশ সবই চেনেন। তারাও তাকে চেনে। তিনি যদি ভিন্ন দেশি হতেন তাহলে তিনি এগুলো চিনতেন না। এদেশের অভাব-অনটন তিনি খুব ভালো করে জানেন। অন্যদিকে উদ্দীপকে বর্ণিত কবিও তার স্বদেশের রূপ-সৌন্দর্য বর্ণনা করেছেন। জাম, বট, কাঁঠাল, হিজল ও অশ্বত্থ গাছের কথা বলেছেন। অন্ধকারের ডুমুরের গাছে চাতক পাখির মতো বসে আছে ভোরের দোয়েল। এই প্রকৃতির সৌন্দর্যের দিক দিয়ে কবিতার সঙ্গে উদ্দীপকের মিল রয়েছে।
উদ্দীপকে বর্ণিত স্বদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য 'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতায় প্রকাশ পেলেও কবি কবিতায় নিজেকে এ মাটিরই একজন প্রমাণের যে চেষ্টা করেছেন তা উদ্দীপকে নেই। উদ্দীপকে অভাবী মানুষের জীবনচিত্রও অনুপস্থিত। তাই বলা যায়, উদ্দীপকটি 'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতার সমগ্র ভাব প্রকাশ করে না।
Related Question
View All১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!