বাংলা নারী জাগরণের অগ্রদূত হিসেবে বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন কে গণ্য করা হয়। তিনি ১৯ শতকের শেষ এবং ২০ শতকের শুরুর দিকে বাংলার নারী শিক্ষার উন্নয়ন, নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং সমাজে নারীর অবস্থান পরিবর্তনে অসামান্য ভূমিকা পালন করেন। বেগম রোকেয়ার রচনাবলি, যেমন "সুলতানার স্বপ্ন" ও "অবরোধবাসিনী," নারীদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়াতে এবং তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করতে বড় ভূমিকা রেখেছে।
বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন বাংলা সাহিত্যের প্রথম নারীবাদী লেখিকা ও মুসলিম নারী জাগরণের অগ্রদূত। নারীদের কুসংস্কারমুক্ত ও শিক্ষিত করতে এবং সমাজে প্রচলিত কুসংস্কারের বিরুদ্ধে তিনি লেখনী ধারণ করেছিলেন। নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন।
রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন ৯ ডিসেম্বর, ১৮৮০ সালে রংপুর জেলার পায়রাবন্দ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
১৮৯৭ সালে ১৬ বছর বয়সে উর্দুভাষী ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট বিপত্নীক সৈয়দ সাখাওয়াত হোসেনের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। বিয়ের পর তিনি রোকেয়া খাতুন এর সাথে স্বামীর নাম সাখাওয়াত হোসেন যোগ করেন এবং আর. এস হোসেন নামে লিখতেন।
তিনি মুসলিম নারী মুক্তি আন্দোলনের অগ্রদূত ছিলেন তাই তাকে 'মুসলিম নারী জাগরণের অগ্রদূত' বলা হয়।
১৯০২ সালে তাঁর প্রথম গল্প 'পিপাসা' প্রকাশিত হয় 'নবপ্রভা' পত্রিকায়।
তার নামানুসারে 'রোকেয়া হল' নামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি হল আছে।
৩ মে, ১৯০৯ সালে স্বামীর মৃত্যুর পর ১৯১০ সালে কলকাতায় গমন করেন এবং নারী মুক্তির লক্ষ্যে তিনি ১৬ মার্চ, ১৯১১ সালে 'সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস স্কুল' ও ১৯১৬ সালে 'আঞ্জুমানে খাওয়াতীনে ইসলাম' (মুসলিম মহিলা সমিতি) প্রতিষ্ঠা করেন।
তিনি ৯ ডিসেম্বর, ১৯৩২ সালে মারা যান।
বেগম রোকেয়ার উপন্যাস দুটি 'পদ্মরাগ' (১৯২৪), 'Sultana's Dream'- এটি ইংরেজিতে লেখা।
সুলতানার স্বপ্নঃ
বাংলা সাহিত্যে নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন রচিত 'সুলতানার স্বপ্ন' গ্রন্থটি ইংরেজি 'Sultana's Dream' শিরোনামে রচিত। এখানে মূল চরিত্র Sultana একজন অবরুদ্ধা নারী। গৃহের চতুষ্কোণ হচ্ছে তার বিচরণ ও কর্মক্ষেত্র, বাইরের সকল সুযোগ-সুবিধা ভোগ করার অধিকার তার ছিল না। তিনি স্বপ্ন দেখেন, তিনি তার বোন সারার মতো অপরিচিতা এক নারীর সাথে অন্তঃপুর ত্যাগ করে উন্মুক্ত প্রকৃতির মধ্যে ফুল-বাগান দেখতে বের হয়েছেন যাকে স্বপ্নরাজ্য 'Lady Land' বলা হয়েছে। এ গ্রয়ে রোকেয়া একটি নারীবাদী স্বপ্নরাজ্য বা ইউটোপিয়ার বর্তনা দিয়েছেন। এ কল্পরাজ্যে সমাজের সকল কর্মকাণ্ডে নারীর হবেন প্রধান চালিকাশক্তি আর পুরুষরা হবেন গৃহবনী এখানে থাকবে না কোন অপরাধ, প্রচলিত থাকার 'ভালোবাসা ও সত্যের' ধর্ম।