বাঙালির মুক্তিযুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং গণচীনের বিরোধিতার বেশকিছু কারণ রয়েছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র: বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় আমেরিকার সরকারি নীতি ছিল পাকিস্তানের পক্ষে। প্রথম দিকে অস্ত্র এবং সমর্থন দিয়ে মার্কিন সরকার পাকিস্তানকে সহায়তা করে। তবে নিজ দেশে বিরোধী দলের চাপে মার্কিন সরকার ভারতে অবস্থানরত বাঙালি শরণার্থীদেরও আর্থিক সহায়তা করেছিল। ১৯৭১ সালের ৩ ডিসেম্বর পাকিস্তানের সঙ্কো ভারতের যুদ্ধ শুরুর পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র প্রচণ্ড ভারত বিরোধী ও পাকিস্তান ঘেঁষা নীতি অনুসরণ করতে থাকে। স্বভাবতই তাদের এ ভূমিকা বাংলাদেশের বিপক্ষে যায়। তবে মার্কিন আইনসভা, কংগ্রেস ও সিনেটের অনেক সদস্য, বিভিন্ন সংবাদপত্র, বুদ্ধিজীবী, রাজনীতিবিদসহ প্রায় সর্বস্তরের জনগণ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে ভূমিকা পালন করে।
গণচীন: গণচীন ছিল ভারত বিরোধী পাকিস্তানের বন্ধুরাষ্ট্র।
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময়ে দেখা যায় চীন দখলদার, একনায়ক, স্বৈরাচার ও আগ্রাসী পাকিস্তানি প্রেসিডেন্টকে নিরঙ্কুশ সমর্থ দিয়েছে। প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়ার প্রতিটি কার্যক্রমে চীন অন্ধের মতো সমর্থন দিয়েছে। চীন পাকিস্তানকে প্রচুর পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ সরবরাহ করেছিল এবং লাখ লাখ মানুষের প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা লাভের পর বাংলাদেশ জাতিসংঘে সদস্যপদের আবেদন করলে চীন সেখানেও বিরোধিতা করেছিল।
তাই বলা যায়, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন প্রশাসন বিপক্ষে অবস্থান করেছিল।
Related Question
View All১৯৭১ সালে মুজিবনগর থেকে সর্বপ্রথম 'দৈনিক জয়বাংলা' নামে একটি পত্রিকা প্রকাশিত হয়।
মুক্তিযুদ্ধকালীন ভারত সরকার বাংলাদেশকে অর্থনৈতিক, কূটনৈতিক, সামরিক দিক দিয়ে নানাভাবে সহায়তা করে।
পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যার বিরুদ্ধে ভারত মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির পাশাপাশি শরণার্থী সমস্যা মোকাবিলাসহ সামরিক, রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমর্থন দিয়ে সাহায্য করে। এছাড়া কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান যেমন, বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকার, স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্র ও মুক্তিবাহিনী গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও ভারত সরকার ব্যাপকভাবে সহায়তা করেছিল।
রিফাতের লেখাটি মূলত চীনকে ইঙ্গিত করে লেখা। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে চীনের প্রথম পর্যায়ের ভূমিকা হলো স্বাধীনতা যুদ্ধের শুরু থেকে ১৯৭১ সালের ৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত।
মুক্তিযুদ্ধের শুরু হতে ১৯৭১ সালের ৩ ডিসেম্বর পাক-ভারত যুদ্ধ শুরুর পূর্ব পর্যন্ত চীন পাকিস্তানপন্থি থাকলেও মোটামুটিভাবে বাঙালির সংগ্রাম বিরোধী কোনো মন্তব্য করেনি। তবে গোপনে সে পাকিস্তানের সামরিক চক্রকে নৈতিক শক্তি ও সাহস যুগিয়েছিল এবং সরাসরি সামরিক উপকরণ সরবরাহ করেছিল। ১৯৭১ সালের ৯ আগস্ট ভারত- েচুক্তি স্বাক্ষরের পর চীনের পাকিস্তানপন্থি নীতি আরও প্রকট হয়ে ওঠে। সেপ্টেম্বর মাসে চীন-পাকিস্তানকে এই বলে আশ্বস্ত করে যে, জাতীয় স্বার্থরক্ষায় চীন পাকিস্তানকে সাহায্য করবে। তখন পর্যন্তও চীনের বক্তব্যে বাঙালি বিরোধী তেমন কিছু খুঁজে পাওয়া যায়নি। ১৯৭১ সালের ৫ নভেম্বর চীনাদের আস্থাভাজন ভুট্টোর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল চীন সফরে যায় চীন থেকে অতিরিক্ত অঙ্গীকার বা সাহায্য পাওয়ার আশায়। কিন্তু চীনের ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী চি পেঙ ফি পূর্ব পাকিস্তানের সমস্যার একটি ন্যায়সঙ্গত সমাধান খুঁজে বের করার জন্য আহ্বান জানিয়েছিলেন। বাঙালিবিরোধী বক্তব্য না রাখলেও পশ্চিম পাকিস্তান সীমান্ত দিয়ে চীন নিয়মিতভাবে পাকিস্তানকে সমরাস্ত্র দিয়ে সহযোগিতা করে।
তাই বলা যায়, রিফাতের ইঙ্গিতকৃত দেশটি হলো চীন।
বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের প্রথম পর্যায়ে এই দেশটি অর্থাৎ চীনের বিরোধিতার কোনো ছাপ না পাওয়া গেলেও দ্বিতীয় পর্যায়ের ভূমিকা স্বাধীনতা যুদ্ধের পুরোপুরি বিরোধী ছিল।
পাকিস্তান ১৯৭১ সালের ৩ ডিসেম্বর ভারতের পূর্বাঞ্চলে সামরিক হামলা করলে শুরু হয় সরাসরি পাক-ভারত যুদ্ধ। এ সময় হতে চীন জাতিসংঘে সরাসরি বাঙালিবিরোধী ভূমিকা পালন করতে শুরু করে। পাক-ভারত যুদ্ধের জন্য চীন সোভিয়েত ইউনিয়নকে দায়ী করে। যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে পূর্ব পাকিস্তানের জন্য একটি রাজনৈতিক সমাধান খুঁজে বের করা এবং পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বরতার ফলে সৃষ্ট ধ্বংসযজ্ঞ বন্ধ করার লক্ষ্যে ৫ ও ৭ ডিসেম্বর সোভিয়েত ইউনিয়ন জাতিসংঘে দুটি প্রস্তাব উপস্থাপন করে। কিন্তু প্রস্তাব দুটোর বিরুদ্ধে চীন প্রথম ভেটো প্রয়োগ করে এবং চীনের নিজস্ব প্রস্তাবে ভারতকে আগ্রাসী পক্ষ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এখানে একটি বিষয় উল্লেখ্য যে, চীন জাতিসংঘের সদস্যপদ লাভের মাত্র ৪০ দিনের মাথায় নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী আসন লাভের পর প্রথম প্রস্তাবেই ভেটো প্রয়োগ করেছিল। এছাড়া, ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ স্বাধীন হলে চীন এক বিবৃতিতে 'তথাকথিত' বাংলাদেশের সৃষ্টির জন্য সোভিয়েত ইউনিয়ন ও ভারতের তীব্র সমালোচনা করে। তবে পরবর্তীতে চীন তার নীতি পরিবর্তন করে বাংলাদেশকে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
পরিশেষে বলা যায়, এই দেশটির অর্থাৎ চীনের দ্বিতীয় পর্যায়ের ভূমিকা বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের পুরোপুরি বিরোধী উক্তিটি যথার্থ।
মুজিবনগর সরকারের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তাজউদ্দীন আহমদ।
১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বরে বাঙালি জাতিকে মেধাশূন্য করার জন্য। পরিচালিত হত্যাকাণ্ডই হলো বুদ্ধিজীবী হত্যাকান্ড।
ঢাকার মিরপুরের শিয়ালবাড়ি, মোহাম্মদপুরের রায়ের বাজার বদ্ধভূমিসহ বিভিন্ন স্থানে বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড চালানো হয়। জাতির সূর্য সন্তানদের তারা অত্যন্ত নির্মমভাবে হত্যা করে। যুদ্ধের পর বিভিন্ন বধ্যভূমিতে যেসব লাশ পাওয়া যায় তাদের কারও হাত-পা বাঁধা ছিল, কারও জিহ্বা কাটা ছিল, চক্ষু উপড়ানো ছিল কিংবা হাত-পা ভাঙা ছিল। বুদ্ধিজীবী হত্যার দিনটিকে অর্থাৎ ১৪ ডিসেম্বর 'বুদ্ধিজীবী দিবস' ঘোষণা করা হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!