শহিদের ঝলকিত রক্তের বুদ্বুদ স্মৃতিগন্ধে ভরপুর।
এখন সে রঙে ছেয়ে গেছে পথ-ঘাট' বলতে বাঙালির উপর সর্বক্ষেত্রে পাকিস্তানিদের শোষণের বিষয়টি বোঝানো হয়েছে।
দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে পাকিস্তান ও ভারত নামক দুটি রাষ্ট্রের জন্ম হলেও পশ্চিম পাকিস্তানিরা ক্ষমতা লাভ করে বাঙালির উপর শোষণ-নিপীড়ন, অন্যায়-অত্যাচার চালাতে থাকে। বাঙালির জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে তাদের শোষণের কালো থাবা বিস্তার লাভ করে। উল্লিখিত চরণে সেই বিষয়কেই বোঝানো হয়েছে।
উদ্দীপকের রক্তাপ্লুত শার্ট 'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতার ভাষা আন্দোলনের শহিদদের আত্মত্যাগের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।`
'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতাটি বাংলার দামাল ছেলেদের সংগ্রামী চেতনা ধারণ করে আছে। বিশেষ করে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের আত্মত্যাগের প্রসঙ্গটিও উঠে এসেছে আমাদের চেতনার রং হিসেবে। ভাষা শহিদদের রক্তকে প্রতীকায়িত করে তোলা হয়েছে থরে থরে সাজানো কৃষ্ণচূড়া ফুলের লাল রঙের মধ্য দিয়ে।-
উদ্দীপকের কবিতাংশে বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনে দামাল ছেলেদের ভূমিকার দিকটি উঠে এসেছে। ১৯৫২ সালে বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার দাবিতে রাজপথে নেমেছিল এদেশের দামাল ছেলেরা। বাংলার গ্রাম ও শহরে ছড়িয়ে পড়েছিল প্ল্যাকার্ড হাতে সাহসী তরুণেরা। ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে সেদিনের থমথমে পরিবেশ কল্লোলিত করেছিল এদেশের ছাত্র-জনতা। তাদের সে মিছিলে গুলি চালিয়ে ঢাকার রাজপথ রক্তান্ত করে পাকিস্তানি শাসকরা। রক্তাপ্লুত শার্ট সে কথাই আমাদের বারবার স্মরণ করিয়ে দেয়। উদ্দীপকের এই রক্তাপ্লুত শার্ট 'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতার ভাষা আন্দোলনের রক্তাক্ত ইতিহাসই নির্দেশ করে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত সংগ্রামী মানুষের আত্মদান ও আত্মাহুতির বিষয়টি 'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতার সমগ্র বিষয় প্রতিফলিত করতে পারেনি।"- মন্তব্যটি যথার্থ বলেই প্রতীয়মান হয়।
'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতাটি উনসত্তরের গণ আন্দোলনের সংগ্রামী চেতনার কবিতা। এ কবিতায় ভাষা আন্দোলন চেতনা হিসেবে উঠে এসেছে। তবে মূল আলোচ্য বিষয় হলো, ১৯৬৯ সালে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা গণ আন্দোলন।
উদ্দীপকে ভাষাআন্দোলনের ঐতিহাসিক ও সংগ্রামী চেতনার প্রতিবিম্ব ফুটে উঠেছে। সেখানে ভাষার দাবিতে সংগ্রামী মানুষ যে আত্মদান ও আত্মাহুতি দিয়েছে তাই প্রকাশ পেয়েছে। রাজপথে দামাল ছেলেদের নীরবতা ভেঙে উত্তাল আন্দোলনের চিত্রই সেখানে দৃশ্যমান। রক্তাপ্লুত শার্ট ভাষা শহিদদের রক্তাক্ত দেহকেই যেন ইঙ্গিত করে। উদ্দীপকের এই বিষয়টি 'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতার সমগ্র বিষয় নয়।
'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতাটি মূলত ১৯৬৯ সালে পাকিস্তানি শাসকদের জাতিগত শোষণ ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে বাঙালির বিদ্রোহী চেতনার দলিলস্বরূপ। সেসময় পাকিস্তানের অন্যায়ের বিরুদ্ধে এদেশের সাধারণ মানুষ ফুঁসে উঠেছিল। প্রত্যন্ত গ্রাম-গঞ্জ, হাট-বাজার, কলকারখানা, স্কুল-কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অসংখ্য ছাত্র-জনতা ঢাকার রাজপথে জড়ো হয়েছিল। বিচিত্র শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত সংগ্রামী চেতনার এক অসাধারণ চিত্র ফুটে উঠেছে এ কবিতাটিতে। দেশকে ভালোবেসে মানুষের আত্মদান ও আত্মাহুতির বিষয়টি এখানে ফুটে উঠেছে। মানুষের এই চেতনা যে ঐতিহাগত সে বিষয়টি বোঝাতে ভাষা আন্দোলনের চেতনা কবিতায় মূর্ত করা হয়েছে। উদ্দীপকে এই ভাষা আন্দোলনের চেতনার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে মাত্র, যা কবিতার সামগ্রিক বিষয় তুলে ধরতে পারেনি।
Related Question
View All১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!