উত্তরঃ Wireless Fidelity

ওয়াইফাই (WiFi) এর পূর্ণরূপ হলো Wireless Fidelity। এটি একটি ওয়্যারলেস নেটওয়ার্কিং প্রযুক্তি যা ইলেক্ট্রনিক ডিভাইসগুলোকে রেডিও তরঙ্গের মাধ্যমে একটি লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্ক (LAN) বা ইন্টারনেট সংযোগের সাথে সংযুক্ত করতে সক্ষম করে। আইইইই (IEEE) ৮০২.১১ স্ট্যান্ডার্ডের উপর ভিত্তি করে ওয়াইফাই কাজ করে, যা ডিভাইসগুলোকে তারবিহীনভাবে ডেটা আদান-প্রদান করতে দেয়। আধুনিক ওয়াইফাই প্রযুক্তি উচ্চ গতি এবং বর্ধিত পরিসীমা প্রদান করে, যা স্মার্টফোন, ল্যাপটপ, ট্যাবলেট এবং অন্যান্য স্মার্ট ডিভাইসগুলোতে ইন্টারনেট ব্যবহারের জন্য অপরিহার্য।

Satt AI
Satt AI
11 hours ago
উত্তরঃ

Liquid Petroleum Gas


LPG এর পূর্ণরূপ হলো Liquid Petroleum Gas (তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস)। এটি প্রোপেন (Propane) এবং বিউটেন (Butane) গ্যাসের একটি দাহ্য মিশ্রণ, যা সাধারণত উচ্চচাপে তরল আকারে সিলিন্ডারে সংরক্ষণ করা হয়। এটি একটি হাইড্রোকার্বন জ্বালানি যা গ্যাসক্ষেত্রের প্রাকৃতিক গ্যাস প্রক্রিয়াকরণ এবং তেল শোধনাগারের উপজাত (by-product) হিসেবে উৎপাদিত হয়।

LPG প্রধানত রান্নার জ্বালানি (cooking fuel), গরম করার কাজে (heating), যানবাহনের জ্বালানি (vehicular fuel) এবং বিভিন্ন শিল্প কারখানায় ব্যবহৃত হয়। এর কিছু গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো এটি তুলনামূলকভাবে পরিষ্কার জ্বালানি (clean fuel), সহজে পরিবহনযোগ্য এবং উচ্চ তাপ উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন। বাংলাদেশে এটি সিলিন্ডার গ্যাসবাহী যানবাহনে এবং গৃহস্থালির কাজে বহুল ব্যবহৃত হয়।

Satt AI
Satt AI
11 hours ago
69

আইসিটি নির্ভর উৎপাদন ব্যবস্থা (ICT-based Production System) হলো এমন একটি উৎপাদন প্রক্রিয়া যেখানে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (ICT) ব্যবহার করে উৎপাদন ব্যবস্থার উন্নয়ন, অটোমেশন, এবং কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করা হয়। এটি আধুনিক উৎপাদন ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যা উৎপাদন খরচ কমায়, গুণগত মান উন্নত করে, এবং উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করতে সহায়ক। আইসিটি নির্ভর উৎপাদন ব্যবস্থায় কম্পিউটারাইজড মেশিন, অটোমেশন, রোবোটিক্স, সেন্সর, এবং ইন্টারনেট অফ থিংস (IoT) ব্যবহার করা হয়, যা পুরো প্রক্রিয়াকে আরও স্মার্ট এবং কার্যকর করে তোলে।

আইসিটি নির্ভর উৎপাদন ব্যবস্থার উপাদান:

১. অটোমেশন এবং রোবোটিক্স (Automation and Robotics):

  • আইসিটি নির্ভর উৎপাদন ব্যবস্থায় রোবট এবং অটোমেটেড মেশিন ব্যবহার করে উৎপাদন প্রক্রিয়াকে স্বয়ংক্রিয় করা হয়। এর মাধ্যমে মেশিনগুলো কম্পিউটার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়ে নির্ভুলতা এবং দ্রুততা নিয়ে কাজ করতে পারে।
  • উদাহরণ: অটোমেটেড অ্যাসেম্বলি লাইন, প্যাকেজিং রোবট।

২. সেন্সর এবং ইন্টারনেট অফ থিংস (IoT):

  • সেন্সর এবং IoT ডিভাইস ব্যবহার করে উৎপাদন ব্যবস্থার তথ্য সংগ্রহ করা হয় এবং সিস্টেমগুলোর সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়। এর মাধ্যমে উৎপাদন প্রক্রিয়ার প্রতি ধাপে মনিটরিং করা এবং প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা সহজ হয়।
  • উদাহরণ: তাপমাত্রা, আর্দ্রতা, এবং গতি সেন্সর; IoT ডিভাইস যা মেশিনের অবস্থান এবং কার্যক্ষমতা ট্র্যাক করে।

৩. কম্পিউটার এডেড ডিজাইন এবং ম্যানুফ্যাকচারিং (CAD/CAM):

  • কম্পিউটার এডেড ডিজাইন (CAD) এবং কম্পিউটার এডেড ম্যানুফ্যাকচারিং (CAM) সফটওয়্যার ব্যবহার করে পণ্য ডিজাইন এবং উৎপাদন প্রক্রিয়া সহজ করা হয়। CAD/CAM সিস্টেমের মাধ্যমে সঠিক ডিজাইন তৈরি করা এবং উৎপাদন মেশিনে তা প্রয়োগ করা হয়।
  • উদাহরণ: অটোমোবাইল এবং ইলেকট্রনিক পণ্য ডিজাইনের জন্য CAD সফটওয়্যার এবং উৎপাদন লাইন কন্ট্রোল করার জন্য CAM সিস্টেম।

৪. মেশিন লার্নিং এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI):

  • আইসিটি নির্ভর উৎপাদন ব্যবস্থায় মেশিন লার্নিং এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে উৎপাদন কার্যক্রমের পূর্বাভাস দেওয়া, মেশিনের রক্ষণাবেক্ষণ করা, এবং অপটিমাইজেশন করা হয়।
  • উদাহরণ: প্রেডিক্টিভ মেইনটেনেন্স সিস্টেম, যা মেশিনের সম্ভাব্য ত্রুটি পূর্বাভাস দেয় এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে রক্ষণাবেক্ষণ পরিকল্পনা করে।

৫. এন্টারপ্রাইজ রিসোর্স প্ল্যানিং (ERP):

  • ERP সফটওয়্যার ব্যবহারের মাধ্যমে একটি প্রতিষ্ঠানের সমস্ত উৎপাদন কার্যক্রম, রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট, ইনভেন্টরি এবং লজিস্টিকস ট্র্যাক করা যায়। এটি পুরো উৎপাদন চেইনকে সঠিকভাবে পরিচালনা করতে এবং তথ্য শেয়ারিং সহজ করতে সহায়ক।

আইসিটি নির্ভর উৎপাদন ব্যবস্থার সুবিধা:

১. দক্ষতা এবং উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি:

  • আইসিটি ব্যবহার করে উৎপাদন প্রক্রিয়াকে স্বয়ংক্রিয় করা যায়, যা সময় এবং খরচ উভয়ই সাশ্রয় করে। এটি কম সময়ে বেশি উৎপাদন করতে সহায়ক।

২. উচ্চ মানের এবং নির্ভুলতা:

  • অটোমেশন এবং রোবোটিক্স ব্যবহারের মাধ্যমে প্রতিটি ধাপে নির্ভুলতা নিশ্চিত করা যায়, যা পণ্যের গুণগত মান উন্নত করে এবং ত্রুটি কমায়।

৩. ডেটা মনিটরিং এবং বিশ্লেষণ:

  • IoT এবং সেন্সরের মাধ্যমে উৎপাদন প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপ পর্যবেক্ষণ করা যায় এবং ডেটা সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ করা যায়। এটি সমস্যা সনাক্ত করা এবং উৎপাদন কার্যক্রম উন্নত করতে সহায়ক।

৪. খরচ কমানো এবং সম্পদের অপটিমাইজেশন:

  • ERP এবং মেশিন লার্নিং সফটওয়্যার ব্যবহার করে উৎপাদন চেইন এবং রিসোর্স অপটিমাইজ করা যায়, যা খরচ কমায় এবং লাভজনকতা বাড়ায়।

৫. রিয়েল-টাইম মনিটরিং এবং রেসপন্স:

  • আইসিটি নির্ভর উৎপাদন ব্যবস্থায় রিয়েল-টাইম মনিটরিং করা যায় এবং কোনো সমস্যার ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া যায়, যা সময়মত রক্ষণাবেক্ষণ এবং সিস্টেমের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করে।

আইসিটি নির্ভর উৎপাদন ব্যবস্থার চ্যালেঞ্জ:

১. প্রযুক্তিগত জটিলতা:

  • আইসিটি নির্ভর উৎপাদন ব্যবস্থায় প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং উন্নত প্রযুক্তির প্রয়োজন হয়। অনেক সময় নতুন প্রযুক্তি বা সফটওয়্যার সিস্টেম ম্যানেজ করা এবং মেইনটেন করতে জটিলতা সৃষ্টি হয়।

২. প্রাথমিক বিনিয়োগ:

  • অটোমেশন এবং আইসিটি সিস্টেম স্থাপনের জন্য উচ্চ প্রাথমিক বিনিয়োগ প্রয়োজন হয়, যা ছোট প্রতিষ্ঠান বা উন্নয়নশীল দেশের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ।

৩. নিরাপত্তা ঝুঁকি:

  • আইসিটি নির্ভর উৎপাদন ব্যবস্থায় সাইবার নিরাপত্তা একটি বড় চ্যালেঞ্জ, কারণ হ্যাকিং এবং ম্যালওয়্যারের আক্রমণের সম্ভাবনা থাকে। সিস্টেমে সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ প্রয়োজন।

৪. প্রযুক্তিগত উন্নয়নের দ্রুত পরিবর্তন:

  • প্রযুক্তি দ্রুত পরিবর্তিত হয়, এবং নতুন প্রযুক্তি গ্রহণে অনেক প্রতিষ্ঠান পিছিয়ে থাকতে পারে। এছাড়া, বিদ্যমান সিস্টেমে আপডেট করা অনেক সময় ব্যয়বহুল হতে পারে।

উদাহরণ:

১. স্মার্ট ফ্যাক্টরি:

  • স্মার্ট ফ্যাক্টরিতে আইসিটি ব্যবহার করে প্রতিটি উৎপাদন ইউনিটের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপন করা হয়, যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ডেটা শেয়ার করে এবং উৎপাদন প্রক্রিয়া অপটিমাইজ করে।

২. রিয়েল-টাইম ইনভেন্টরি ম্যানেজমেন্ট:

  • IoT এবং ERP সফটওয়্যার ব্যবহার করে রিয়েল-টাইম ইনভেন্টরি ট্র্যাকিং করা হয়, যা সময়মত উপকরণ সরবরাহ নিশ্চিত করে এবং অতিরিক্ত ইনভেন্টরি খরচ কমায়।

সারসংক্ষেপ:

আইসিটি নির্ভর উৎপাদন ব্যবস্থা হলো এমন একটি উৎপাদন প্রক্রিয়া যেখানে অটোমেশন, রোবোটিক্স, IoT, এবং মেশিন লার্নিং ব্যবহার করে উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এটি উৎপাদনশীলতা এবং কার্যক্ষমতা বাড়ায়, তবে সঠিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতা নিশ্চিত করা জরুরি, যাতে উৎপাদন ব্যবস্থার সর্বোচ্চ সুবিধা নেওয়া যায়।

Related Question

View All
উত্তরঃ

ব্লু ইকোনমি বা সমুদ্র অর্থনীতির প্রথম ধারণা দেন অধ্যাপক গুন্টার পাওলি ১৯৯৪ সালে তাঁর “The open Source from the Source.” গ্রন্থে। বিষয়টি সবার নজর কাড়ে ২০১০ সালে গ্রন্থটি প্রকাশিত হলে। সমুদ্র নির্ভর খাদ্য, জ্বালানি, ব্যবসা ও বিনোদনই ব্লু ইকোনোমি। আন্তর্জাতিক আদালতের রায়ে ২০১২ সালে মিয়ানমারের সাথে এবং ২০১৪ সালে ভারতের সাথে সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তি হওয়ায় বাংলাদেশ লাভ করেছে ১ লাখ ১৮ হাজার ৮১৩ বর্গ কিঃমিঃ টেরিটোরিয়াল সমুদ্র এলাকা এবং ৩৫৪ নটিক্যাল মাইল মহীসোপান এবং ২০০ নটিক্যাল মাইল একচ্ছত্র অর্থনৈতিক এলাকা ।

811
উত্তরঃ

১৯৯৪ সালে অধ্যাপক গুন্টার পাউলি ভবিষ্যতের অর্থনীতির রূপরেখা প্রণয়নের জন্য জাতিসংঘ কর্তৃক আমন্ত্রিত হন। বিস্তারিত আলোচনা, গবেষণা আর নিজের অধীত জ্ঞানের মিশ্রণ ঘটিয়ে পাউলি একটি টেকসই ও পরিবেশবান্ধব মডেল হিসেবে ব্লু ইকোনমির ধারণা দেন। গত দুই দশকের নানা পরিমার্জন-পরিবর্ধনের মধ্য দিয়ে ব্লু-ইকোনমি মডেল আজ একটি প্রতিষ্ঠিত ধারণা। ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে সমুদ্রসীমা নির্ধারণ-সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির পর বাংলাদেশের কাছে বর্তমানে ব্লু-ইকোনমির বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে। এ অর্থনীতিকে সমুদ্র অর্থনীতিও বলা হয়।

PRONAY TIRKI
PRONAY TIRKI
2 years ago
357
উত্তরঃ

সুনীল অর্থনীতি বা Blue Economy অর্থনীতির এমন একটি বিষয় যেখানে একটি দেশের সামুদ্রিক পরিবেশ কিংবা সামুদ্রিক সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার ও রক্ষণাবেক্ষন নিয়ে আলোচনা করা হয়। সুনীল অর্থনীতি বা ব্লু ইকোনমি হচ্ছে সমুদ্রের সম্পদনির্ভর অর্থনীতি। সমুদ্রের বিশাল জলরাশি ও এর তলদেশের বিভিন্ন প্রকার সম্পদকে কাজে লাগানোর অর্থনীতি।

JASMIN AKTER
JASMIN AKTER
2 years ago
381
উত্তরঃ

ব্লু- ইকোনমি বা সুনীল অর্থনীতি হচ্ছে সমুদ্রের সম্পদনির্ভর অর্থনীতি। সমুদ্র পৃথিবীর অন্যতম মূল্যবান একটি প্রাকৃতিক সম্পদ। মৎস্যসম্পদের মাধ্যমে সমুদ্র খাবারের চাহিদা মেটায় এবং পণ্য পরিবহনের মাধ্যম হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। ২০১২ সালে আন্তর্জাতিক আদালতের রায়ে মিয়ানমার এবং ২০১৪ সালে ভারতের সঙ্গে সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তি হওয়ায় মোট ১ লাখ ১৮ হাজার ৮১৩ বর্গ কিলোমিটারের বেশি সমুদ্র এলাকা এখন বাংলাদেশের। এছাড়া ২০০ নটিক্যাল মাইল একচ্ছত্র অর্থনৈতিক অঞ্চল ও চট্টগ্রাম উপকূল থেকে ৩৪৫ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত মহীসোপানের তলদেশে সব ধরনের প্রাণীজ-অপ্রাণীজ সম্পদের ওপর বাংলাদেশের সার্বভৌম অধিকার প্রতিষ্ঠা হয়েছে।

 

সমুদ্রসীমা বিজয়ের ফলে ব্লু ইকোনমির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ দুই ধরনের সম্পদ অর্জন করেছে। এর একটি হলো প্রাণিজ, অপরটি অপ্রাণিজ। প্রাণিজের মধ্যে রয়েছে মৎস্যসম্পদ, সামুদ্রিক প্রাণী, আগাছা-গুল্মলতা ইত্যাদি। বঙ্গোপসাগরের বিপুল পরিমাণ আগাছা প্রক্রিয়াজাতকরণ করে বিভিন্ন রোগের ওষুধ তৈরি করা যায়। এসব আগাছার মধ্যে ইসপিরুলিনা যা অত্যাধিক মূল্যবান। সমুদ্রে শুধু মাছ রয়েছে প্রায় ৫০০ প্রজাতির, ৩৬ প্রজাতির চিংড়ি, ২০ প্রজাতির কাকড়া ও ৩৩৬ প্রজাতির শামুক-ঝিনুক রয়েছে। সেই সাথে রয়েছে শ্যালফিশ ,অক্টোপাস, হাঙ্গরসহ বিভিন্ন ধরনের সামুদ্রিক প্রাণী। অপ্রাণিজ সম্পদের মধ্যে রয়েছে খনিজ ও খনিজ জাতীয় সম্পদ যেমন তেল, গ্যাস, চুনাপাথর ইত্যাদি। আরো রয়েছে ১৭ ধরনের মূল্যবান খনিজ বালু। যেমন জিরকন, রোটাইল, সিলিমানাইট, ইলমেনাইট, ম্যাগনেটাইট, গ্যানেট, কায়ানাইট, মোনাজাইট, লিক্লোসিন ইত্যাদি। যার মধ্যে মোনাজাইট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তা ছাড়া সিমেন্ট বানানোর উপযোগী প্রচুর ক্লে রয়েছে সমুদ্রের তলদেশে।

JASMIN AKTER
JASMIN AKTER
2 years ago
701
উত্তরঃ

সমুদ্র অর্থনীতির সম্ভাবনার খোঁজে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি ২৬ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে সরকার।

 

সমুদ্র সম্পদ কাজে লাগিয়ে এর মাধ্যমে রফতানি শিল্পের প্রসার ঘটানো হবে। এ লক্ষ্যে সরকারি-বেসরকারি অংশিদারিত্বের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট ১৫টি মন্ত্রণালয়, সংস্থা ও সংগঠন তাদের নিজ নিজ অবস্থানে থেকে এসব কর্মপরিকল্পনা সমন্বিতভাবে বাস্তবায়ন করবে।

পাশাপাশি এসব পদক্ষেপের যথাযথ বাস্তবায়নের স্বার্থে সরকারের অগ্রাধিকারমূলক প্রকল্পের আওতায় মনিটরিং করা হবে। যার সাফল্য-ব্যর্থতা পর্যালোচনায় এরই মধ্যে গঠন করা হয়েছে মূল্যায়ন কমিটিও। এই কমিটি এখন প্রতি তিন মাস অন্তর অগ্রগতি প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়কে অবহিত করছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ মাসুকুর রহমান সিকদার স্বাক্ষরিত সমুদ্র সম্পদ আহরণ ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা সম্পর্কিত কর্মপরিকল্পনায় তৈরি করা কার্যবিরণী পর্যালোচনা করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

এতে দাবি করা হয়, স্বল্পমেয়াদি এক বছরের মধ্যে ৫টি পদক্ষেপ, মধ্যমেয়াদি এক থেকে দুই বছর মেয়াদে ১৩টি ও দীর্ঘমেয়াদি তিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে ৭টি কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।

জানা গেছে, সমুদ্রে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনায় জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সমস্যা মোকাবেলা এবং অন্যান্য সমস্যা নিরসনকল্পে বিভিন্ন গবেষণা এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বিত কার্যক্রম গ্রহণ ও বাস্তবায়নও সমুদ্র অর্থনীতির সক্ষমতা বাড়ানোর বড় নিয়ামক। এ বাস্তবতা থেকেই প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থাকে এ বিষয়ে সমন্বিত উদ্যোগে কাজ শুরু করার তাগিদ দেয়। পরে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এ ইস্যুতে উদ্যোগী ভূমিকা নিয়ে এই কর্মপরিকল্পনা তৈরি করে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ, অর্থ, পররাষ্ট্র, শিল্প, নৌ, খনিজ ও জ্বালানি, বাংলাদেশ ব্যাংক, এনবিআর, রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো, বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ, বাণিজ্যিক সংগঠন ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও গবেষণা সংস্থা সমন্বিতভাবে এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে।

স্বল্পমেয়াদে সমস্যা চিহ্নিতকরণ ও নীতি প্রণয়ন : সমুদ্র সম্পদের মজুদ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ, নৌপরিবহন এবং জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় যৌথভাবে এ কাজ পরিচালনা করবে।

সম্ভাব্য রফতানিকারক চিহ্নিতকরণ এবং রফতানি বাজার সম্পর্কে অবহিতকরণ ও বিনিয়োগে উদ্বুদ্ধকরণ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো, বিদেশে বাণিজ্যিক মিশন ও দেশের বাণিজ্যিক সংগঠনগুলো।

স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কার্যক্রম বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় প্রকল্প তৈরি করবে। এতে সহযোগী হয়ে কাজ করবে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ, অর্থ, নৌ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়, এনবিআর ও রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো। এক বছর সময়সীমার মধ্যে এসব কর্মকাণ্ড সম্পন্ন করবে।

মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনা : সমুদ্র সম্পদের উৎপাদন, রফতানি ও বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে আগামী এক থেকে দুই বছরের মধ্যে এসব কর্মকাণ্ড পরিচালনা করবে। এসব কর্মকাণ্ডের মধ্যে রয়েছে- সমুদ্র সম্পদ ব্যবহার করে অন্যান্য দেশের অর্থনৈতিক ও ব্যবসায়িক অগ্রগতি সম্পর্কে বাস্তব ধারণা লাভ।

সমুদ্র থেকে আহরিত মৎস্য, সি-সল্ট, সি উইড, মুক্তাসহ অন্যান্য সম্পদ প্রক্রিয়াজাতকরণের সঙ্গে সম্পৃক্ত বেসরকারি খাতকে আর্থিক প্রণোদনা ও অন্যান্য নীতি সহায়তা প্রদান। সমুদ্র সম্পদের আহরণ, সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তি সংগ্রহের লক্ষ্যে শুল্কমুক্ত আমদানি সুবিধা প্রদান।

শুল্ক প্রত্যর্পণ ও বন্ড সুবিধা প্রদান। সামুদ্রিক মৎস্য আহরণে মৎস্যজীবীসহ সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের নগদ সহায়তা প্রদান। বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার লক্ষ্যে বাণিজ্যিক প্রতিনিধি দলকে বিদেশে প্রেরণ। সমুদ্র সম্পদ ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে অন্যান্য দেশের অভিজ্ঞতা আহরণ করা।

বিশেষ করে ফিলিপাইন, থাইল্যান্ড, নিউজল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, মরিশাস এসব দেশের সমুদ্র সম্পদ আহরণের সম্পর্কিত কর্মসূচি আয়ত্ত করা। এসব বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে অর্থ, পররাষ্ট্র খনিজ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়, এনবিআর, বাংলাদেশ ব্যাংক, বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ।

দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা : সমুদ্র সম্পদ আহরণের পর তা থেকে রূপান্তরিত পণ্যের উৎপাদন বা রফতানি বহুমুখীকরণের লক্ষ্যে ৩-৫ বছর মেয়াদি বেশ কিছু পদক্ষেপ নেয়া হবে। এ লক্ষ্যে গভীর সমুদ্রবন্দর থেকে মৎস্য আহরণের জন্য সরকারি ও বেসরকারি খাতের যৌথ উদ্যোগে উপযুক্ত প্রযুক্তি সংগ্রহ ও সংযোজন, সামুদ্রিক মৎস্যের ওপর ভিত্তি করে পণ্যের বহুমুখীকরণ ও মান উন্নয়ন করে রফতানি করার লক্ষ্যে একটি বিজনেস প্রমোশন কাউন্সিল গঠন, বহির্বিশ্বে বাজার খোঁজার ক্ষেত্রে বিদেশে বাণিজ্যিক উইংয়ের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হবে। গভীর সমুদ্রে মৎস্য আহরণে নিযুক্ত জাহাজগুলোকে ভর্তুকিতে জ্বালানি সরবরাহ, মাছ ধরার জন্য নির্মিত জাহাজ নির্মাণ খাতকে উৎসাহিত করতে বিশেষ প্রণোদনার পাশাপাশি জ্বালানি ও খনিজসম্পদ আহরণে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি ও জাহাজ আমদানিতে শুল্ক ও বন্ড সুবিধা প্রদান করা হবে।

 


 

JASMIN AKTER
JASMIN AKTER
2 years ago
727
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews