যে বসতি অঞ্চলে অধিকাংশ অধিবাসী প্রত্যক্ষ ভূমি ব্যবহার ব্যাতীত, অন্যান্য অকৃষিকার্য পেশায় নিয়োজিত থাকে তাকে নগর বসতি বলে।
গ্রামীণ বসতির সংখ্যাগরিষ্ঠ অধিবাসী প্রথম পর্যায়ের অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের সাথে জড়িত। গ্রামীণ বসতির একটির উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো গ্রামীণ বসতিতে পথঘাটের প্রাধান্য থাকে খুব কম। কারণ গ্রাম প্রধানত খাদ্য উৎপাদক অঞ্চল।
বিজয়ের চাকরিস্থলের খামারটি বিক্ষিপ্ত বসতির অন্তর্গত।
অবস্থানের প্রেক্ষিতে ও বাসগৃহসমূহের পরস্পরের ব্যবধানের ভিত্তিতে গ্রামীণ বসতিকে তিনটি ভাগ করা যায়। বিক্ষিপ্ত বসতি এর মধ্যে একটি। এ ধরনের বসতিতে পরিবারগুলো ছড়ানো-ছিটানো অবস্থায় বসবাস করে।
উদ্দীপকের বিজয় তার চাকরিস্থলে এরূপ বসতিই দেখেছে। পৃথিবীর অধিকাংশ বিক্ষিপ্ত বসতি বন্ধুর ভূপ্রাকৃতিক অঞ্চলে গড়ে উঠেছে। এ ধরনের বসতির বৈশিষ্ট্য হচ্ছে- i. দুটি বাসগৃহ বা বসতির মধ্যে যথেষ্ট ব্যবধান, ii. অতি ক্ষুদ্র পরিবারভুক্ত বসতি, iii. অধিবাসীদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিচ্ছিন্নতা প্রভৃতি।
বিজয়ের গ্রামের বসতি গোষ্ঠীবদ্ধ বা সংঘবদ্ধ বসতি এবং অম্লানের গ্রামের বসতি রৈখিক বসতির অন্তর্গত।
সংঘবদ্ধ বা গোষ্ঠীবদ্ধ বসতিতে কোনো এক স্থানে বেশ কয়েকটি পরিবার একত্রিত হয়ে বসবাস করে। এই ধরনের বসতি আয়তনে ছোট গ্রাম হতে পারে, আবার পৌর বসতিও হতে পারে। সংঘবদ্ধ বা গোষ্ঠীবদ্ধ বসতির বৈশিষ্ট্য হলো, এক বাড়ি থেকে অন্য বাড়ির দূরত্ব কম ও বাসগৃহের একত্র সমাবেশ। সামাজিক বন্ধন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য বাসগৃহগুলোর মধ্যে পরস্পরের যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে ওঠে। যদি স্থানটি অর্থনৈতিক দিক দিয়ে উন্নত হয়, তবে সেখানে আরও বসতি ও রাস্তা গড়ে উঠবে। এভাবে একাধিক রাস্তার সংযোগস্থলে বর্ধিষ্ণু বসতিটি কালক্রমে শহর বা নগরে রূপান্তরিত হয়।
এছাড়া ভূপ্রকৃতি, উর্বর মাটি ও পানির উৎসের উপর নির্ভর করেও সংঘবদ্ধ বা গোষ্ঠীবদ্ধ বসতি গড়ে ওঠে।
আবার, রৈখিক বসতি নদী বা রাস্তার কিনারায় গড়ে ওঠে। ফলে সেখানে কৃষিকাজের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে সুবিধাজনক স্থানে জমি পাওয়া যায় না, যদিও বিস্তীর্ণ ভূমি থাকে। বসতির মধ্যে পারস্পরিক উন্নত যোগাযোগ ও বাজার ব্যবস্থা গড়ে তোলাও সম্ভব হয় না। এ বসতি বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ (নদীভাঙন, বন্যা) দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
সুতরাং, উপরোক্ত আলোচনা থেকে যায় বলা যায়, রৈখিক বসতির তুলনায় সংঘবদ্ধ বসতি অধিক জনপ্রিয়।
Related Question
View Allমুসলিম সভ্যতায় (অষ্টম শতাব্দী থেকে) নগরায়ণের প্রসার ঘটে।
মাটির উর্বরাশক্তির ওপর নির্ভর করে বসতি স্থাপন করা হয়।
উর্বর মাটিতে পুঞ্জীভূত বসতি গড়ে ওঠে। মানুষ কৃষিজমির পাশে বসতি গড়ে তোলে যাতে করে সহজে ও কম খরচে ফসল ফলাতে পারে এবং খাদ্যের চাহিদা মেটাতে পারে। যেমন- যমুনা নদীর তীরবর্তী অঞ্চল। কিন্তু মাটি অনুর্বর বা অসমতল হলে বিক্ষিপ্ত জনবসতি গড়ে ওঠে। যেমন- চট্টগ্রামের পাহাড়ি অঞ্চল।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!