কাছাকাছি বা ঘন সন্নিবিষ্ট অনেকগুলো প্যাঁচযুক্ত লম্বা বেলনাকার কয়েল বা তার কুণ্ডলীকে সলিনয়েড বলে।
দূর দূরান্তে তড়িৎ প্রেরণের জন্য স্টেপ আপ ট্রান্সফর্মার ব্যবহার করা হয়। আমরা জানি, বিদ্যুৎ কেন্দ্রে বিদ্যুৎ শক্তি নিম্ন ভোল্টেজে উৎপাদন করা হয়। পরে এ ভোল্টেজকে স্টেপ আপ ট্রান্সফর্মারের সাহায্যে উচ্চ ভোল্টেজে রূপান্তরিত করা হয়। বিদ্যুৎ সঞ্চালনের জন্য যেসব পরিবাহী তার ব্যবহার করা হয় তাদের একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ রোধ থাকে। ফলে এ রোধকে অতিক্রমের জন্য তড়িৎশক্তির একটি অংশ তাপে রূপান্তরিত হয়। অর্থাৎ, শক্তির লস বা ক্ষয় হয়। এ লসই হলো তড়িতের সিস্টেম লস। উচ্চ ভোল্টেজে বিদ্যুৎ সঞ্চালনের ফলে বিদ্যুৎ গ্রিড তথা পরিবাহীর রোধের কারণে যে লস হয় তা অনেকাংশে কমে যায়। একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ বিদ্যুৎশক্তির জন্য, উচ্চ ভোল্টেজে বিদ্যুৎ সঞ্চালনের ফলে তড়িৎ প্রবাহের মান কম হয়। এর ফলে রোধজনিত লসের পরিমাণও কমে যায়। এজন্যই দূর-দূরান্তে তড়িৎ প্রেরণের জন্য ভোল্টেজ বৃদ্ধি করে তড়িৎ প্রবাহ হ্রাস করা হয়। যা স্টেপ আপ ট্রান্সফর্মারের মাধ্যমে সহজেই করা যায়।
উদ্দীপক থেকে পাই, A যন্ত্রটি শব্দ শক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তর করে। সুতরাং A ডিভাইসটি একটি মাইক্রোফোন।
নিচে এর কার্যপদ্ধতি বর্ণনা করা হলো-
১. মাইক্রোফোনে একটি চলকুণ্ডলী ও ডায়াফ্রাম নামে ধাতুর পাতলা
পাত থাকে। মাইক্রোফোনে কথা বললে শব্দ তরঙ্গ দ্বারা ডায়াফ্রাম কম্পিত হয়।
২. এ কম্পন চৌম্বক ক্ষেত্রের মধ্যে অগ্র-পশ্চাৎ গতিশীল করে। ফলে চলকুন্ডলীতে পর্যায়বৃত্ত তড়িৎ প্রবাহ আবিষ্ট করে।
৩. এভাবেই শব্দ শক্তি, তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
উদ্দীপকের A ডিভাইসটি শব্দ শক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে এবং B ডিভাইসটি তড়িৎ শক্তিকে' শব্দ শক্তিতে রূপান্তর করে। সুতরাং A ও B ডিভাইস দুটি যথাক্রমে মাইক্রোফোন ও স্পীকার। নিচে রেডিওতে অনুষ্ঠান সম্প্রচারের ক্ষেত্রে ডিভাইস দুটির অবদান আলোচনা করা হলো-
তথ্য আদান-প্রদান এবং বিনোদনের মাধ্যম হিসেবে রেডিওর ব্যবহার উল্লেখযোগ্য। বেতার সম্প্রচার স্টেশনের স্টুডিওতে কোনো ব্যক্তি মাইক্রোফোনের সামনে, কথা বললে, মাইক্রোফোন ঐ শব্দকে তড়িত্তরঙ্গরূপে অডিও সংকেতে রূপান্তর করে যার কম্পাঙ্ক 20 থেকে 20000 হার্জের মধ্যে থাকে। বেশি দূর যেতে পারে না' বলে তথ্য বহনকারী কম কম্পাঙ্কের এ তরঙ্গকে তাই এক প্রকার উচ্চ কম্পাঙ্ক বিশিষ্ট তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গের সাথে মিশ্রিত করা হয়। উচ্চ কম্পাঙ্ক বিশিষ্ট এ তরুঙ্গের নাম বাহক তরঙ্গ এবং মিশ্রিত তরঙ্গকে বলা হয় মডুলেটেড বা রূপারোপিত তরঙ্গ বা বেতার তরঙ্গ। বেতার তরঙ্গকে অ্যামপ্লিফায়ারে বিবর্ধিত করে প্রেরক যন্ত্রের এন্টেনার সাহায্যে তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গ হিসেবে শূন্যে প্রেরণ করা হয় যা ভূমি ও আকাশ তরঙ্গে রিক্ত হয়। ভূমি তরঙ্গটি গ্রাহক যন্ত্রের এরিয়েলে পৌঁছায়। অন্যদিকে আকাশ তরঙ্গ আয়নমন্ডলে প্রতিফলিত হয়ে পৃথিবীতে ফিরে এসে গ্রাহক যন্ত্রের এরিয়েলে ধরা পড়ে। গ্রাহক যন্ত্র বেতার তরঙ্গকে তড়িৎপ্রবাহে রূপান্তর করে। এরপর ডি-মডুলেশন প্রক্রিয়ায় বাহক তরঙ্গ হতে শব্দ আলাদা করে নেওয়া হয় এবং অ্যামপ্লিফায়ারের সাহায্যে তড়িৎপ্রবাহকে বিবর্ধিত করে লাউড স্পিকারে প্রেরণ করা হয়। লাউড স্পীকার তড়িৎপ্রবাহকে পুনরায় শব্দে রূপান্তরিত করে, যা আমরা রেডিও সেটে শুনতে পাই।
Related Question
View Allপরমাণুর কেন্দ্রে নিউক্লিয়াস থাকে
নিউট্রন পরমাণুর কেন্দ্রে থাকে
পরমাণুর ব্যাসার্ধ নিউক্লিয়াসের ব্যাসার্ধের প্রায় এক লক্ষ গুণ
পরমাণুর ভর আসলে নিউক্লিয়াসের ভর
প্রোটনের সংখ্যা 82 অতিক্রম করলে নিউক্লিয়াসগুলো তেজস্ক্রিয় হয়
প্রতি সেকেন্ডে একটি তেজস্ক্রিয় বিভাজনকে এক বেকেরেল বলে
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!