সাধারণ শেয়ারহোল্ডাররাই কোম্পানির মালিক।
কোম্পানি কর্তৃক ইস্যুকৃত দীর্ঘমেয়াদি ঋণের হাতিয়ার হচ্ছে বন্ড ও ডিবেঞ্চার।
নিচের ছকে এদের মধ্যে পার্থক্যগুলো দেওয়া হলো:
পার্থক্যের বিষয় | বন্ড | ডিবেঞ্চার |
১. সংজ্ঞা | যে দলিল বা চুক্তিপত্রের মাধ্যমে কোম্পানি বিনিয়োগকারীদের থেকে ঋণ মূলধন সংগ্রহ করে তাকে বন্ড বলে। | জামানতবিহীন ঋণের দলিলকে ডিবেঞ্চার বলে। |
২. জামানত | বন্ডের বিপরীতে স্থায়ী সম্পত্তি বা দলিলপত্রাদি জামানত রাখা হয়। | ডিবেঞ্চারের বিপরীতে কোনো জামানত রাখা হয় না। |
পার্থক্যের বিষয় | বন্ড | ডিবেঞ্চার |
৩. মুনাফা ও সম্পদে অধিকার | মুনাফা প্রাপ্তি ও অবসায়নে বন্ড মালিকদের পাওনা সর্বপ্রথম পরিশোধ করা হয়। | মুনাফা বণ্টন ও অবসায়নে বন্ড মালিকদের পাওনা পরিশোধের পর ডিবেঞ্চার মালিকদের পাওনা পরিশোধ করা হয়। |
৪. ঝুঁকি | জামানত থাকে বিধায় বন্ডে বিনিয়োগ অপেক্ষাকৃত কম ঝুঁকিপূর্ণ। | জামানত থাকে না বিধায় ডিবেঞ্চারে বিনিয়োগ বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। |
তমার মত বিনিয়োগকারীর জন্য বন্ডে বিনিয়োগ করা উপযোগী।
বন্ডের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে ঋণ মূলধন সংগ্রহ করে। এর বিপরীতে সাধারণত দলিল বা স্থায়ী সম্পত্তি জামানত রাখা হয়। বন্ড থেকে নির্দিষ্ট হারে আয় পাওয়া যায়।
উদ্দীপকের তমা তার জমানো ২ লাখ টাকা বিনিয়োগ করতে চান। কিন্তু বিনিয়োগ থেকে তিনি নিশ্চিতভাবে আয় করতে চান। বন্ডে বিনিয়োগকারীরা নির্দিষ্ট হারে সুদ পায়। প্রতিষ্ঠান বন্ডে বিনিয়োগকারীদের টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হতে পারে। সেক্ষেত্রে বিনিয়োগকারী জামানতকৃত সম্পদ বিক্রি করে তার দাবি আদায় করতে পারে। এছাড়াও প্রতিষ্ঠানের মুনাফা বণ্টনের সময় সর্বপ্রথম বন্ডে বিনিয়োগকারীদের দাবি পরিশোধ করা হয়। তাই বলা যায়, তমার মতো বিনিয়োগকারীদের বন্ডে বিনিয়োগ করা উচিত।
বিনিয়োগ থেকে সর্বোচ্চ আয় পেতে তমার জন্য সারণিতে উল্লিখিত সাধারণ শেয়ার উপযোগী হবে।
সাধারণ শেয়ারে বিনিয়োগ করে প্রতিষ্ঠানের মালিকানা পাওয়া যায়। ফলে প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে অংশগ্রহণ করা যায়। এ ধরনের শেয়ারের আয়ের হার নির্দিষ্ট থাকে না। তাই এ শেয়ারে ঝুঁকির পাশাপাশি সর্বোচ্চ আয়ও করা সম্ভব।
উদ্দীপকে তিনটি বিনিয়োগ হাতিয়ারের কথা উল্লেখ আছে। বিনিয়োগ ক্ষেত্রগুলোর ঝুঁকি, আয় ও নিরাপত্তা উল্লেখ করা হয়েছে। উৎসগুলোর মধ্যে বন্ডের ঝুঁকি সবচেয়ে কম এবং আয়ও নির্দিষ্ট। অপরদিকে, সাধারণ শেয়ারের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। ফলে আয় হওয়ার সম্ভাবনাও বেশি।
অগ্রাধিকার শেয়ার এবং বন্ডের আয় নির্দিষ্ট। অর্থাৎ, প্রতিষ্ঠানের বেশি মুনাফা হলেও এদের মুনাফা বাড়ে না। শুধু সাধারণ শেয়ারের ক্ষেত্রে আয় বাড়ে। তাই এ শেয়ার থেকে সবচেয়ে বেশি আয় করা সম্ভব। তবে এক্ষেত্রে ঝুঁকিও থাকে। তাই বেশি আয় পেতে উদ্দীপকের তমার জন্য সাধারণ শেয়ারে বিনিয়োগই উপযুক্ত বিনিয়োগ হবে।
Related Question
View Allযে নীতি অনুযায়ী লাভ বা মুনাফার অংশ শেয়ার মালিকদের মধ্যে বণ্টন করা হয় তাকে লভ্যাংশ নীতি বলে। সব কোম্পানিকে প্রতিবছর লভ্যাংশ সংক্রান্ত বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিতে হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
