ছোটদের জন্য লেখা নির্মলেন্দু গুণের গ্রন্থটির নাম- 'কালো মেঘের ভেলা'।
'কবির বিরুদ্ধে কবি' বলতে এখানে শুভ শক্তির বিরুদ্ধে অশুভ শক্তির উত্থানকে বোঝানো হয়েছে।
'স্বাধীনতা, এ শব্দটি কীভাবে আমাদের হলো' কবিতায় কবি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চের ভাষণের মূল বিষয়টি তুলে ধরেছেন। এই ভাষণেই তিনি পাকিস্তানি স্বৈরশাসনের নিগড় থেকে বাঙালি জাতির মুক্তি ও স্বাধীনতা সংগ্রামের ডাক দেন। তাঁর এই ভাষণের মধ্য দিয়ে সূচিত হয় আমাদের স্বাধীনতার স্বপ্ন বাস্তবায়ন ও মহান মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার সংগ্রামী চেতনা। বাঙালির শেকড় থেকে জেগে ওঠা এই সংগ্রামী নেতাকে কবি 'রাজনীতির কবি' বলেছেন। তাঁর মৃত্যুর পর এ দেশে অশুভ শক্তির উত্থান ঘটে। যে উত্থানে সব ইতিবাচক ভাবনা, সৌন্দর্যকে সমাহিত করার প্রয়াস চলে। তাই শুভ চেতনার বিরুদ্ধে আজ অশুভ চেতনার উত্থানকে কবি 'কবির বিরুদ্ধে কবি' বলে প্রকাশ করার প্রয়াস পেয়েছেন।
উদ্দীপকটি 'স্বাধীনতা, এ শব্দটি কীভাবে আমাদের হলো' কবিতায় প্রতিফলিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে শত্রুর মোকাবিলা করার আহ্বানের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
জগতের মানুষকে মুক্তির পথ দেখাতে যুগে যুগে বহু মহাপুরুষ, রাষ্ট্রনায়কের আবির্ভাব ঘটেছে। তাঁরা জনগণকে সংঘবদ্ধ করে সংগ্রামের পথে এগিয়ে দিয়েছেন। তাঁদের সময়োচিত সিদ্ধান্ত, সংগ্রামী চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে স্বাধীনতাকামী মানুষ মুক্তির পথ খুঁজে পেয়েছে।
উদ্দীপকে বিপথগামী কিছু সেনাকর্মকর্তার চেষ্টায় সেনা অভ্যুত্থানের চেষ্টা এবং তুরস্কের রাষ্ট্রনায়কের সময়োচিত পদক্ষেপের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। এখানে দেশটির প্রেসিডেন্টের আহ্বানে সাধারণ জনগণ বিপথগামী সেনাকর্মকর্তাদের অভিযানের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায়। তাঁরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে রাতের অন্ধকারে প্রতিরোধ সংগ্রামে নামে এবং সেনা অভ্যুত্থান ব্যর্থ করে দেয়। এ বিষয়টি 'স্বাধীনতা, এ শব্দটি কীভাবে আমাদের হলো' কবিতায় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে এদেশের মানুষের ঐক্যবদ্ধ সগ্রামের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। এদেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে, মহান মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে শত্রুর মোকাবিলা করার জন্য বাঙালির প্রিয় নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আহ্বান জানিয়েছিলেন। তাঁর সেই ডাকে সাড়া দিয়ে এদেশের মানুষ মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অনেক রক্ত ও ত্যাগের বিনিময়ে দেশ স্বাধীন করে।
"জাতির ক্রান্তিলগ্নে এরদোগানের চেয়ে বঙ্গবন্ধুর অবদান অনেক ব্যাপক ও বিস্তৃত"- মন্তব্যটি যথার্থ।
জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করতে যোগ্য নেতৃত্বের কোনো বিকল্প নেই। প্রত্যেক জাতির ভাগ্যেই দুর্যোগ-বিপর্যয় থাকে। তা কাটিয়ে উঠতে প্রয়োজন যোগ্য নেতৃত্বের। নেতৃত্বশূন্য জাতি নানাভাবে শোষণ-বঞ্চনার শিকার হতে পারে। সেই সময় জাতিকে সঠিক পথনির্দেশনা দিতে সাহসী ও তেজোদীপ্তরা এগিয়ে আসেন।
উদ্দীপকে তুরস্কে সেনা অভ্যুত্থান রুখতে সে দেশের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েফ এরদোগানের সময়োচিত পদক্ষেপ ও নেতৃত্বের দিকটি প্রকাশিত হয়েছে। উদ্দীপকে প্রেসিডেন্টের আহ্বানে সে দেশের জনগণের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের সামনে বিপথগামী সেনারা টিকতে পারেনি। ফলে সেনা অভ্যুত্থান ব্যর্থ হয়ে যায়। এ বিষয়টি 'স্বাধীনতা, এ শব্দটি কীভাবে আমাদের হলো' কবিতায় প্রতিফলিত মুক্তির সংগ্রামে এদেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের যোগ্য নেতৃত্বের সঙ্গে তুলনা করা যায়। তবে তা সমতুল্য নয়। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্ব ছিল বাংলাদেশের মানুষকে পরাধীনতার গ্লানি থেকে মুক্তিদান। অন্যদিকে তুরস্কের প্রেসিডেন্টের এ নেতৃত্ব ছিল শুধু একটি সেনা অভ্যুত্থান ব্যর্থ করে দেওয়ার।
'স্বাধীনতা, এ শব্দটি কীভাবে আমাদের হলো' কবিতায় বঙ্গবন্ধু কীভাবে রাজনীতির কবি হয়ে উঠেছিলেন তার পরিচয় আছে। তিনি কীভাবে সময়োচিত নেতৃত্বের মাধ্যমে দেশকে শত্রুমুক্ত ও স্বাধীন করেছেন সে কথাও কবিতায় প্রকাশ পেয়েছে, যা উদ্দীপকে প্রকাশ পায়নি। বাঙালির দীর্ঘদিনের স্বপ্ন স্বাধীনতা অর্জনে তাঁর যে অবদান তা এরদোগানের চেয়ে বহুগুণ ব্যাপক ও বিস্তৃত। তিনি বাঙালিকে ভিতর থেকে জাগিয়ে তুলে একটি সুগঠিত হানাদার বাহিনীকে রুখে দিতে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে অনুপ্রাণিত করেছেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এ নেতৃত্ব দিয়েছেন দীর্ঘ সংগ্রাম-আন্দোলনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের সঙ্গে বুকে বুক মিলিয়ে। আর উদ্দীপকের এরদোগানের আহ্বান ছিল ভিডিওবার্তার মাধ্যমে একটি সাময়িক অভ্যুত্থান রুখে দিতে। এসব বিষয় বিবেচনায় তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
Related Question
View All১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!