বেবিলন ছাই হয়ে গেছে।
'পৃথিবীর এইসব গল্প বেঁচে রবে চিরকাল' বলতে কবি নশ্বর মানবজীবনে অবিনশ্বর প্রকৃতির প্রবাহ চেতনাকে বুঝিয়েছেন।
'সেইদিন এই মাঠ' কবিতায় কবি প্রকৃতির চিরকালীন সৌন্দর্যের এবং মানুষের স্বপ্নের অমরত্বের দিকটি তুলে ধরেছেন। বিচিত্রভাবে বিবর্তনের মধ্যেও রূপ-রস-গন্ধ নিয়ে প্রকৃতি টিকে থাকে। জাগতিক নিয়মে নশ্বর মানবজীবনস্রোত চলে অবিনশ্বর প্রকৃতির বিপরীতে। মানুষের সাধারণ মৃত্যু রহিত করতে পারে না পৃথিবীর বহমানতা। এই বহমানতা এবং মানুষের স্বপ্ন দেখার গল্প চিরকাল বেঁচে থাকে। এখানে সেই প্রসঙ্গেই কবি এ কথা বলেছেন।
উদ্দীপকের প্রকৃতি জানার সঙ্গে 'সেইদিন এই মাঠ' কবিতার প্রকৃতির বর্ণনা সাদৃশ্যপূর্ণ।
পৃথিবীতে কেউই চিরস্থায়ী নয়। মানুষের গড়া পৃথিবীর অনেক সভ্যতাই আজ বিলীন হয়ে গেছে। কিন্তু প্রকৃতি তার বিচিত্র বিবর্তনের মধ্যেও রূপ, রস, গন্ধ নিয়ে অম্লান। প্রকৃতির এ বহমানতা চিরকালীন।
উদ্দীপকে অবিনশ্বর প্রকৃতির কথা বলা হয়েছে। প্রকৃতি চিরকালই নতুন, অভিনব। মানুষের গড়া সভ্যতা হারিয়ে গেলেও প্রকৃতি টিকে থাকে। বিখ্যাত কথাশিল্পীরা তাঁদের লেখায় প্রকৃতিকে যে অমর-অক্ষয়ভাবে উপস্থাপন করেন তা নিছক কল্পনা নয়। কারণ প্রকৃতি চিরকালই শাশ্বত, অম্লান, অক্ষয়। 'সেইদিন এই মাঠ' কবিতায় বর্ণিত হয়েছে- যুগ-যুগান্তর ধরে চলে আসা-যাওয়ার খেলা, প্রকৃতির স্নেহধন্য মানুষের হাসি-কান্না, আনন্দ-বেদনা চির ভাষর করে রাখে প্রকৃতি। প্রকৃতি নিজে অক্ষয় ও অমলিন বলেই তা সম্ভব হয়। প্রকৃতির সঙ্গে মানুষ মিশে গিয়ে যে স্বপ্ন দেখে, সেই স্বপ্নেরও মৃত্যু নেই। মানুষ চলে যায় কিন্তু তার স্বপ্ন বেঁচে থাকে। তাই উদ্দীপকের জানা প্রকৃতি ও কবিতার জানা প্রকৃতি পরস্পর সাদৃশ্যপূর্ণ।
কবিতায় উল্লিখিত সভ্যতার বিবর্তনের সঙ্গে প্রকৃতির সম্পর্কটি অত্যন্ত নিবিড়। উভয় ক্ষেত্রেই প্রকৃতির অমর-অক্ষয় রূপটি উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে।
মানুষই বিভিন্ন আবিষ্কারের মধ্য দিয়ে নানাভাবে পৃথিবীর বুকে সভ্যতা গড়ে তুলেছে। প্রকৃতির আঘাতে বা কালের গর্ভে সেই সভ্যতা আবার কখনো কখনো ম্লানও হয়েছে। কিন্তু তাতে তাদের সভ্যতার নির্মাণকাজ থেমে থাকেনি, থেমে থাকেনি প্রকৃতির বহমানতা। ভাঙা-গড়ার মধ্য দিয়ে টিকে আছে প্রকৃতি। আর প্রকৃতির রূপমুগ্ধ হয়ে বেঁচে আছে মানুষের স্বপ্ন।
মানুষই বিভিন্ন আবিষ্কারের মধ্য দিয়ে নানাভাবে পৃথিবীর বুকে সভ্যতা গড়ে তুলেছে। প্রকৃতির আঘাতে বা কালের গর্ভে সেই সভ্যতা আবার কখনো কখনো ম্লানও হয়েছে। কিন্তু তাতে তাদের সভ্যতার নির্মাণকাজ থেমে থাকেনি, থেমে থাকেনি প্রকৃতির বহমানতা। ভাঙা-গড়ার মধ্য দিয়ে টিকে আছে প্রকৃতি। আর প্রকৃতির রূপমুগ্ধ হয়ে বেঁচে আছে মানুষের স্বপ্ন।
উদ্দীপকে প্রকৃতির চিরকাল প্রাণময় হয়ে বিরাজমান থাকার বিষয়টি প্রতিফলিত। প্রকৃতির এই চিরকালীন সৌন্দর্য ফুরিয়ে যাওয়ার নয়। উদ্দীপকের এই বোধের সঙ্গে 'সেইদিন এই মাঠ' কবিতায় বর্ণিত অফুরন্ত সৌন্দর্যবোধ সাদৃশ্যপূর্ণ। সভ্যতা বিবর্তনের সঙ্গে এ সৌন্দর্যের পরিবর্তন হয় না। বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে কেবল রূপ বদলায়, ধ্বংস হয় না। উদ্দীপকে অপু, দুর্গা প্রকৃতির শাশ্বত সন্তান হয়ে উঠলেও তাদের যেমন আসা-যাওয়া আছে, তেমনই কবিতায়ও মানুষের তৈরি বা গড়া সভ্যতার বিলীন বা ধ্বংস লক্ষ করা যায়। কিন্তু উভয় ক্ষেত্রে প্রকৃতি চির অমর, অবিনশ্বর।
উদ্দীপক ও কবিতায় প্রকৃতির অমরত্বের দিকটি ফুটে উঠেছে। কবিতায় প্রকৃতির চিরকালের ব্যস্ততা, মাঠের চঞ্চলতা, চালতাফুলে পড়ে থাকা শীতের শিশিরবিন্দু, লক্ষ্মীপেঁচার মঙ্গলধ্বনি প্রভৃতি অমরত্বের প্রতীক। উদ্দীপকে এই বিষয়টিই প্রকৃতির নানা রূপ-রসে, গন্ধ- বর্ণে বিরাজমান থাকার সঙ্গে সম্পর্কিত। কাজেই সভ্যতার বিবর্তনে প্রকৃতির যে পরিবর্তন নেই সেই সত্যটি উদ্দীপক ও কবিতায় সমানভাবে ধরা পড়ে।
Related Question
View All১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!