বিশেষ আইনসমূহের ক্ষেত্রে The Limitation Act, 1908 এর ৫ ধারার প্রয়োগ সম্পর্কে আলোকপাত করুন। 

টাকার মোকদ্দমায় Y এর বিরুদ্ধে গত ১০/৫/২০২৫ তারিখ সহকারী জজ রায় ও ডিক্রি প্রদান করেন এবং সে মোতাবেক গত ১৫/৫/২০২৫ তারিখ ডিক্রি প্রস্তুত হয়। Y গত ২২/৫/২০২৫ তারিখ রায় ও ডিক্রির প্রত্যয়িত অনুলিপি প্রাপ্ত হয়। জেলা জজের নিকট সর্বশেষ কত তারিখ পর্যন্ত আপিল দায়ের করা যাবে তা জানার জন্য Y ২৮/৫/২০২৫ তারিখ আপনার নিকট পরামর্শের জন্য আসে। The Limitation Act, 1908 এর সংশ্লিষ্ট বিধানসমূহ উল্লেখে Y কে আপনার পরামর্শ প্রদান করুন।

Updated: 1 year ago
উত্তরঃ

১. বিশেষ আইনের ক্ষেত্রে তামাদি আইন, ১৯০৮ এর ৫ ধারার প্রয়োগ:

তামাদি আইন, ১৯০৮ এর ৫ ধারা আপিল, রিভিউ আবেদন, রিভিশন আবেদন এবং অন্যান্য কতিপয় আবেদনের ক্ষেত্রে সময়সীমা বৃদ্ধির সুযোগ দেয়, যদি আপিলকারী বা আবেদনকারী উক্ত সময়সীমার মধ্যে আপিল বা আবেদন দাখিল না করার জন্য 'যথেষ্ট কারণ' (sufficient cause) প্রমাণ করতে পারেন। তবে, এই ধারা সাধারণত মূল মোকদ্দমা বা ডিক্রি জারির আবেদনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। বিশেষ আইনের (Special Law) ক্ষেত্রে ৫ ধারার প্রয়োগ একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। সাধারণ নীতি হলো, বিশেষ আইনের দ্বারা নির্ধারিত তামাদির সময়সীমার ক্ষেত্রে তামাদি আইনের ৫ ধারা প্রযোজ্য হবে না, যদি না বিশেষ আইনে স্পষ্টভাবে এর প্রয়োগের কথা বলা থাকে অথবা বিশেষ আইনটি একটি সম্পূর্ণ কোড না হয় এবং এর মধ্যে তামাদি বৃদ্ধির নিজস্ব বিধান না থাকে।

অনেক সময় বিশেষ আইনে নিজেই যদি তামাদির সময়সীমা উল্লেখ করে এবং সেটিকে একটি সম্পূর্ণ কোড হিসেবে গণ্য করা হয়, তবে তামাদি আইনের ৫ ধারার সাধারণ বিধান সেখানে প্রযোজ্য হবে না। তবে, যদি কোনো বিশেষ আইন তামাদির সময়সীমা নির্ধারণ করে কিন্তু সেই আইনটি সম্পূর্ণ না হয় অথবা সে আইনে তামাদি আইনের কিছু ধারাকে প্রযোজ্য বলা হয়, তবে সেক্ষেত্রে ৫ ধারার প্রয়োগ সম্ভব হতে পারে। এটি প্রতিটি বিশেষ আইনের গঠন এবং সংশ্লিষ্ট আদালতের ব্যাখ্যার উপর নির্ভরশীল।


২. Y কে আইনি পরামর্শ প্রদান:

Y এর মামলার তথ্য অনুযায়ী, সহকারী জজ কর্তৃক রায় ও ডিক্রি প্রদান করা হয়েছে ১০/০৫/২০২৫ তারিখে, ডিক্রি প্রস্তুত হয়েছে ১৫/০৫/২০২৫ তারিখে এবং Y প্রত্যয়িত অনুলিপি প্রাপ্ত হয়েছেন ২২/০৫/২০২৫ তারিখে। Y জেলা জজের নিকট আপিল দায়েরের শেষ তারিখ জানতে ২৮/০৫/২০২৫ তারিখে আপনার নিকট এসেছেন।

তামাদি আইন, ১৯০৮ এর ১৫৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, দেওয়ানী আদালতের রায় ও ডিক্রির বিরুদ্ধে জেলা জজের নিকট আপিলের সময়সীমা হলো ৩০ দিন। এই সময়সীমা ডিক্রির তারিখ হতে গণনা করা হয়।

তামাদি আইন, ১৯০৮ এর ১২(২) ধারা অনুযায়ী, আপিলের তামাদি গণনা করার ক্ষেত্রে রায় বা ডিক্রি প্রদানের দিন এবং ডিক্রির প্রত্যয়িত অনুলিপি প্রাপ্তির জন্য প্রয়োজনীয় সময় বাদ দিতে হবে।

এখানে হিসাবটি নিম্নরূপ:

        
  • ডিক্রি প্রদানের তারিখ: ১০/০৫/২০২৫।
  •     
  • ডিক্রির প্রত্যয়িত অনুলিপি প্রাপ্তির জন্য প্রয়োজনীয় সময়: ১৫/০৫/২০২৫ (ডিক্রি প্রস্তুতের তারিখ) থেকে ২২/০৫/২০২৫ (অনুলিপি প্রাপ্তির তারিখ) = ৭ দিন।
  •     
  • তামাদি সময়: ৩০ দিন (অনুচ্ছেদ ১৫৬)।

তামাদি গণনার পদ্ধতি:

        
  1. ডিক্রি প্রদানের দিন (১০/০৫/২০২৫) বাদ যাবে।
  2.     
  3. তাহলে, ৩০ দিনের সময়সীমা ১১/০৫/২০২৫ তারিখ থেকে শুরু হবে।
  4.     
  5. ১১/০৫/২০২৫ থেকে ৩০ দিন গণনা করলে শেষ হবে ০৯/০৬/২০২৫ তারিখে (মে মাসে ৩১ দিন থাকায়, মে মাসে (৩১-১০)=২১ দিন এবং জুন মাসে ৯ দিন)।
  6.     
  7. এখন, অনুলিপি প্রাপ্তির জন্য প্রয়োজনীয় ৭ দিন যোগ করতে হবে।
  8.     
  9. ০৯/০৬/২০২৫ + ৭ দিন = ১৬/০৬/২০২৫।

সুতরাং, Y জেলা জজের নিকট সর্বশেষ ১৬/০৬/২০২৫ তারিখ পর্যন্ত আপিল দায়ের করতে পারবেন। Y কে এই সময়ের মধ্যে আপিল দায়ের করার জন্য পরামর্শ দেওয়া হলো।

Satt AI
Satt AI
3 weeks ago
237

Related Question

View All
উত্তরঃ

১৯০৮ সালের তামাদি আইনের ৫ ধারাটি আপিল ও কতিপয় দরখাস্ত দাখিলের ক্ষেত্রে বিলম্ব মওকুফের বিধান আলোচনা করে। এই ধারার মূল উদ্দেশ্য হলো ন্যায়বিচারের স্বার্থে আদালতকে এমন ক্ষমতা প্রদান করা, যাতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আপিল বা দরখাস্ত দাখিল করতে ব্যর্থ হওয়া সত্ত্বেও, যদি এর পেছনে পর্যাপ্ত ও যথাযথ কারণ থাকে, তবে আদালত সেই বিলম্ব মওকুফ করতে পারে।

৫ ধারার পরিধি:

তামাদি আইনের ৫ ধারার পরিধি আপিল, রিভিউ আবেদন, রিভিশন আবেদন এবং অন্যান্য কিছু দরখাস্তের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। তবে, এর একটি গুরুত্বপূর্ণ সীমাবদ্ধতা হলো, এটি সাধারণত দেওয়ানি কার্যবিধির ২১ আদেশের অধীনে দায়েরকৃত ডিক্রি জারির দরখাস্তের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। এছাড়াও, ৫ ধারা সরাসরি কোনো মামলা (suit) দায়েরের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। এই ধারাটি আদালতের স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা (discretionary power) প্রদান করে, যা আদালত ন্যায়বিচার ও সুবিচারের স্বার্থে প্রয়োগ করতে পারে, তবে এই ক্ষমতা অযৌক্তিকভাবে ব্যবহার করা যায় না। "যথাযথ কারণ" (sufficient cause) কী, তা প্রতিটি মামলার ঘটনা ও পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে আদালত নির্ধারণ করে থাকে। এই ধারার মূল লক্ষ্য হলো, কোনো পক্ষকে তার নিয়ন্ত্রণের বাইরের পরিস্থিতির কারণে সৃষ্ট বিলম্বের জন্য ক্ষতিগ্রস্ত হতে না দেওয়া, যদি তার মামলায় মেধার ভিত্তি থাকে।

বিলম্ব মওকুফের যথাযথ কারণসমূহ:

বিলম্ব মওকুফের জন্য "যথাযথ কারণ" কী, তা তামাদি আইনে সুনির্দিষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়নি। তবে, বিভিন্ন মামলার নজির (judicial precedents) এবং আদালতের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে কিছু কারণকে সাধারণত "যথাযথ কারণ" হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এগুলি হলো:

        
  • বাদী বা তার আইনজীবীর গুরুতর অসুস্থতা।
  •     
  • আইনজীবীর সদ্ভাবপূর্ণ ভুল বা অসঙ্গতিপূর্ণ পরামর্শ, যদি বাদী সেই পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করে থাকে।
  •     
  • দেওয়ানি কার্যবিধির ২১ আদেশের অধীন নয়, এমন কোনো দরখাস্তের ক্ষেত্রে সরকারি বিভাগের প্রশাসনিক বিলম্ব।
  •     
  • আদালতের কোনো কর্মচারীর ভুল বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রদান।
  •     
  • ডিক্রি বা আদেশের প্রত্যয়িত নকল পেতে অপ্রত্যাশিত বিলম্ব।
  •     
  • কারাগারে আটক বা বিনা বিচারে আটকে থাকার কারণে আপিল বা দরখাস্ত দাখিল করতে না পারা।
  •     
  • বাদী বা আবেদনকারীর দারিদ্র্য বা চরম অভাব, যা তাকে সময়মতো আইনি পদক্ষেপ নিতে বাধা দিয়েছে।
  •     
  • বাদী বা আবেদনকারীর মৃত্যু এবং তার আইনি উত্তরাধিকারীদের দ্বারা রেকর্ডভূক্ত হতে বিলম্ব।
  •     
  • তামাদি গণনা ভুল হওয়া, যদি তা সদ্ভাবপূর্ণ ভুল (bona fide mistake) হয়।
  •     
  • কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা অপ্রত্যাশিত ঘটনা যা সময়মতো আদালতে উপস্থিত হতে বা কাগজপত্র দাখিল করতে বাধা দিয়েছে।
  •     
  • সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে আইনের জ্ঞান না থাকা (তবে আইনজীবীর ক্ষেত্রে এটি সাধারণত প্রযোজ্য নয়)।
  •     
  • আইনি সহায়তার অভাব বা আইনি সহায়তা পেতে বিলম্ব।
  •     
  • অন্যান্য কোনো কারণ যা আদালতের মতে, আপিল বা দরখাস্ত পেশ করতে পক্ষকে বাধা দিয়েছে এবং যা যুক্তিসঙ্গত ও সদ্ভাবপূর্ণ ছিল।

এই কারণগুলি উদাহরণ মাত্র এবং আদালত প্রতিটি মামলার নির্দিষ্ট তথ্য ও পরিস্থিতি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেয় যে, বিলম্ব মওকুফের জন্য "যথাযথ কারণ" বিদ্যমান আছে কিনা।

Satt AI
Satt AI
3 weeks ago
258
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews