১৯১৭ সালে রুশ বিপ্লব সংঘটিত হয়।
গণতন্ত্রের ভিত্তিতে স্থাপিত সমাজকর্তৃক উৎপাদন ও সুষ্ঠুভাবে আয় বণ্টন ব্যবস্থাকে সমাজতন্ত্র বলে। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সাম্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই সমাজতন্ত্রের উদ্ভব। সমাজতন্ত্র এমন এক শাসনব্যবস্থাকে বোঝায় যেখনে উৎপাদনের সকল উপকরণের রাষ্ট্রীয় মালিকানা থাকে এবং জনগণের পক্ষে সরকার সেসব পরিচালনা করে।
রাশিায় সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব সংগঠনে দার্শনিকদের ব্যাপক অবদান রয়েছে।
১৯১৭ সালের বলশেভিক বিপ্লব পৃথিবীর ইতিহাসে একটি ঐতিহাসিক - ও যুগান্তকারী গটনা। এ বিপ্লব সমগ্র মানবসভ্যতার ইতিহাসে একটি মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে। তবে এ বিপ্লবের নেপথ্যে সমসাময়িক দার্শনিকরা অনুপ্রেরণার মাধ্যম হিসেবে সর্বদা সক্রিয় ছিল। বলশেভিক বিপ্লবে সবচেয়ে বেশি প্রভাব বিস্তার করেছিল কালজয়ী দার্শনিক কার্ল মার্কস। এ ছাড়া রাশিয়ার সাহিত্যিক পুসফিন, লিও টলস্টয়, দস্তয়ভস্কি, ইভান তুর্গনেভ প্রমুখের লেখায় জার শাসনের স্বৈরচারিতা শোষণ, নির্যাতন আর অত্যাচারের চিত্র ফুটে উঠেছিল। তাদের লেখনী দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে জারবিরোধী মনোভাব সৃষ্টি করেছিল। সামন্তবাদের অবক্ষয়ের সময় লেখক ও দার্শনিকদের লেখনীতে সাম্যের ধারণা ফুটে উঠেছে। যা রুশ বা সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব সংঘটনে কার্যকর প্রভাব বিস্তার করে।
হ্যাঁ, আমার মতে, রুশ বিপ্লব বিশ্বকে দুটি আদর্শিক বলয়ে বিভক্ত করেছিল।
১৯১৭ সালের বলশেভিক বিপ্লব পৃথিবীর ইতিহাসে প্রথম সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব। এ বিপ্লব শুধু রাশিয়াতেই নয়, সারা পৃথিবীর রাজনীতি, সমাজ, সংস্কৃতি ও অর্থনীতিতে বিশাল প্রভাব বিস্তার করে। পৃথিবীর নির্যাতিত, অবহেলিত ও নিপীড়িত মানুষের মুক্তি সংগ্রামে বলশেভিক বিপ্লব একটি আদর্শিক প্রভাব তৈরি করে দেয় আর তা হচ্ছে সমাজতান্ত্রিক আদর্শ। এ আদর্শের বিপরীতে ইউরোপের অনান্য দেশে চলমান ছিল পুঁজিবাদী একনায়কতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা। এ বিপ্লব ইউরোপের পুঁজিবাদী সমাজ, সংস্কৃতি, অর্থনীতি এবং রাষ্ট্রব্যবস্থার ওপর ভীষণ আঘাত হানে। ফলে উন্নত পুঁজিবাদী দেশগুলোতে এর ব্যাপক প্রভাব সৃষ্টি হয়। অতঃপর 'পুঁজিবাদী দেশগুলো সমাজতন্ত্রকে ধ্বংস করার জন্য সর্বশক্তি নিয়োগ করে। ফলে সমগ্র পৃথিবীকে দুটি আদর্শ বলয়ে বিভক্ত করে দেয় তৎকালীন রুশ বা সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব।
সুতরা, উপর্যুক্ত পর্যালোচনার আলোকে বলা যায় যে, রুশ বিপ্লব বিশ্বকে দুটি আদর্শিক বলয়ে বিভক্ত করেছিল।
Related Question
View AllUtopia গ্রন্থের লেখক হলেন টমাস ম্যুর।
রাশিয়ার সমাজ বরাবরই দুটি শ্রেণিতে বিভক্ত ছিল। অভিজাত শ্রেণি ও ভূমিহীন শ্রেণি। আর এ অভিজাত শ্রেণির প্রধান ছিলেন জার। তিনি অনেকটা স্বৈরাচারী শাসকের বেশে আবির্ভূত হন। দেশের সকল জমিই থাকত জারের অধীন। তিনি সকল ক্ষেত্রে অবস্থান অধিপতি হিসেবে পরিগণিত হন।
উদ্দীপকে যে বিপ্লবের কথা বলা হয়েছে তা ইতিহাসে বলশেভিক বিপ্লবের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
বিশ শতকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হলো ১৯১৭ সালের বলশেভিক বিপ্লব। এ বিপ্লবের আগে রাশিয়ার সাধারণ মানুষ সম্রাট তথা জার ও অভিজাতদের হাতে শোষণের শিকার হয়ে আসছিল। বিশেষ করে শ্রমিক ও কৃষক শ্রেণি এবং সাধারণ সৈনিক শ্রেণির মানুষের ন্যূনতম সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অধিকার ছিল না। এই অবস্থা থেকে ১৮৯৮ সালে বিপ্লবী দল সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টি গঠন করেন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধকালীন সময়ে রাজনৈতিক এ সংগঠনকে কাজে লাগিয়ে লেনিন বিপ্লবের জন্য তার দলকে প্রস্তুত করেন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের কারণে সৃষ্ট আর্থিক ও সামরিক দুর্ভোগ রাশিয়ার কৃষক, শ্রমিক ও সৈনিকদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ দানা বাঁধতে থাকে। এরই ফলশ্রুতিতে লেনিনের নেতৃত্বে শ্রমিক, কৃষক ও সেনাবাহিনীর একটা বড় অংশ বিপ্লবে অংশগ্রহণ করে এবং অবশেষে ১৯১৭ সালে বলশেভিক বা বুশ বিপ্লব সংঘটিত হয়।
উদ্দীপকের 'ক' রাষ্ট্রে দেখা যায়, শোষণহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি বিপ্লব সংঘটিত হয়। এ বিপ্লবের পিছনে অনেক মহান নেতার অবদান ছিল। 'ক' রাষ্ট্রের মতো বলশেভিক বিপ্লবেও অনেক মহান নেতা অবদান রেখেছেন। বলশেভিক বিপ্লবের সবচেয়ে বেশি প্রভাব বিস্তার করেছিল কার্ল মার্কসের লেখনি। এছাড়া লেনিন ট্রটস্কি, লিও টলস্টয়, দস্তয়ভস্কি প্রমুখ উল্লেখযোগ্য।
সুতরাং বলা যায়, 'ক' রাষ্ট্রের বিপ্লবের সাথে বলশেভিক বিপ্লবের সাদৃশ্য রয়েছে।
হ্যাঁ, উক্ত বিপ্লব তথা বলশেভিক বিপ্লব আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রভার বিস্তার করেছিল।
সারা পৃথিবীর নির্যাতিত, অবহেলিত ও নিপীড়িত মানুষের মুক্তি সংগ্রামে বলশেভিক বিপ্লব একটি আদর্শ হিসেবে পরিগণিত। 1 বলশেভিক বিপ্লবের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে উপনিবেশের জনগণ স্বাধীনতা ও আত্মনিয়ন্ত্রণের জন্য লড়াই শুরু করে। এ বিপ্লব এশিয়া, আফ্রিকা ও ল্যাটিন আমেরিকার পরাধীন দেশগুলোতে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে। ক্রমান্বয়ে সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ে জাতীয় মুক্তি সংগ্রাম। বিশ শতকের সারা পৃথবীর স্বাধীনতার লড়াই আর জাতীয় মুক্তি সংগ্রামে বলশেভিক বিপ্লব ছিল অফুরন্ত প্রেরণার উৎস। মূলত গোটা পৃথিবীর কৃষক ও শ্রমিক সমাজকে শোষণ ও বঞ্চনার অবসান ঘটিয়ে বিপ্লবের মাধ্যমে সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে উৎসাহিত করে বলশেভিক বিপ্লব। এ বিপ্লবের - ধারাবাহিকতায় ১৯৪৯ সালে চীনে সংঘটিত হয় সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সারা পৃথিবীতে সমাজতান্ত্রিক আন্দোলন একটি প্রধান রাজনৈতিক স্রোতে পরিণত হয়। পৃথিবীব্যাপী সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের কাছে মডেল হিসেবে বিবেচিত ছিল বলশেভিক বিপ্লব।
সুতরাং বলা যায়, এই বিপ্লব শুরু রাশিয়াতেই নয় সারা পৃথিবীর রাজনীতি, সমাজ, সংস্কৃতি ও অর্থনীতিতে বিশাল প্রভাব বিস্তার করেছিল।
Mein Kampf এডলফ হিটলারের রচিত গ্রন্থ।
কার্ল মার্কসকে বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রের জনক বলা হয়। সমাজতন্ত্রকে একটি বিজ্ঞানসম্মত রাজনৈতিক আদর্শে পরিণত করার জন্য তিনি তার জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। রাষ্ট্রীয় নির্যাতন, চরম দারিদ্র্য কিছুই তাকে তার সংগ্রাম থেকে নিবৃত্ত করতে পারেনি। কার্ল মার্কসের সর্বাপেক্ষা বিখ্যাত গ্রন্থের নাম Das Kapital. এ কথা নির্দ্বিধায় বলা যায়। তার লেখনীতে উদ্বুদ্ধ হয়ে ১৯১৭ সালে সংঘটিত হয় রুশ বিপ্লব বা বলশেভিক বিপ্লব। পৃথিবীর প্রথম সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে যাত্রা শুরু করে সোভিয়েত ইউনিয়ন। আর এসব কারণেই - কার্ল মার্কস বিশ্ব বিখ্যাত হয়ে আছেন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!