ভূমিকা: সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলার নাম ক্রিকেট। বিশেষ করে এই উপমহাদেশে ক্রিকেট নিয়ে মাতামাতির অন্ত নেই। বাংলাদেশেও এই খেলার প্রসার ঘটেছে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে। বিশ্ব ক্রিকেটে বাংলাদেশ প্রতিনিয়ত জন্ম দিচ্ছে বিস্ময়কর ঘটনার। ক্রিকেটীয় পরাশক্তি হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে অনেক দূর এগিয়ে গেছি আমরা।
ক্রিকেটের সূচনা: ক্রিকেটের জন্ম সুদূর ব্রিটেনে। এমন একটা সময় ছিল যখন ক্রিকেট খেলত শুধুই ব্রিটিশরা। পরবর্তীকালে ব্রিটিশদের হাত ধরেই ক্রমে তা ছড়িয়ে পড়ে সারা বিশ্বে। বিশ্বের অনেক দেশই আজ এ খেলার মধ্য দিয়ে বিশ্ববাসীর সামনে নিজেদের উপস্থাপন করেছে।
বাংলাদেশে ক্রিকেট: ক্রিকেটের প্রচলন ঘটিয়েছিল ব্রিটিশরাই। অবিভক্ত বাংলায় ১৭৯২ সালে কলকাতা ক্রিকেট ক্লাব প্রতিষ্ঠিত হয়। তখন অবশ্য ধনী ও অভিজাত ব্যক্তিরাই কেবল ক্রিকেট খেলতেন। পাকিস্তান আমলেও এই ধারা অব্যাহত ছিল। মূলত, বাংলাদেশে ক্রিকেটচর্চা পরিপূর্ণভাবে শুরু হয় সত্তর দশকের শেষার্ধে। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত বিশ্বকাপ জয় করার পর বাংলাদেশের ক্রিকেট গতিশীলতা লাভ করে। এরপর সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিপক্বতা লাভ করে বর্তমান পর্যায়ে উপনীত হয়েছে বাংলাদেশের ক্রিকেট।
বাংলাদেশে ক্রিকেটের অগ্রযাত্রা: আইসিসি-র পূর্ণ সদস্য না হয়েও বিশ্ব ক্রিকেট অঙ্গনে বাংলাদেশের যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৯৭৯ সালে। এ বছরই বাংলাদেশ প্রথম আইসিসি ট্রফি চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নেয় এবং ফিজি ও মালয়েশিয়ার বিরুদ্ধে জয় পায়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশের ক্রিকেট যে অভিজ্ঞতা লাভ করেছিল, তার প্রথম সফল প্রকাশ ঘটেছিল ১৯৯৭ সালের আইসিসি ট্রফি জয়ের মাধ্যমে। এরই পথ ধরে বাংলাদেশ লাভ করে ওয়ানডে স্ট্যাটাস। এর কয়েক বছর পর ২০০০ সালে বাংলাদেশ টেস্ট ক্রিকেট দলের মর্যাদা লাভ করে। টেস্ট ক্রিকেটের সূচনালগ্নেই বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে অভূতপূর্ব প্রতিদ্বন্দ্বিতা সৃষ্টি করে। গোটা বিশ্ববাসীকে বাংলাদেশ তার সাফল্যে তাক লাগিয়ে দেয়। ওয়ানডে স্ট্যাটাস পাওয়ার পর থেকে বাংলাদেশ আজ পর্যন্ত প্রায় সব দলকেই ন্যূনতম একবার করে হারিয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশের অস্ট্রেলিয়াকে পরাজিত করা বিশ্ব ক্রিকেটের ইতিহাসে অন্যতম সেরা অঘটন হিসেবে লেখা হয়ে আছে। ওয়ানডে পারফরম্যান্সের তুলনায় বাংলাদেশের টেস্ট পারফরম্যান্স এখনো সন্তোষজনক অবস্থায় পৌঁছেনি। তবে টেস্ট খেলুড়ে দুই একটি দেশ বাদে সব কয়টি দেশকে তারা হারিয়েছে। অন্যান্য দলগুলোর সঙ্গেও গড়েছে চরম প্রতিদ্বন্দ্বিতা। তাই প্রতিটি দলই বাংলাদেশের সঙ্গে খেলার সময় সতর্ক থাকে।
বিশ্বকাপ ক্রিকেটে বাংলাদেশ: বাংলাদেশ প্রথম বিশ্বকাপ ক্রিকেটে অংশ নেয় ১৯৯৯ সালে। এই আসরে শক্তিশালী পাকিস্তানকে হারিয়ে বাংলাদেশ চমক দেখায়। ২০১১ সালে বাংলাদেশ ভারত ও শ্রীলঙ্কার সঙ্গে যৌথভাবে বিশ্বকাপ আয়োজনের গৌরব লাভ করে। ২০১৫ সালের বিশ্বকাপে বাংলাদেশ তাদের শ্রেষ্ঠ নৈপুণ্য প্রদর্শন করে। ইংল্যান্ডের মতো শক্তিধর দলকে পরাস্ত করে তারা কোয়ার্টার ফাইনাল পর্বে উত্তীর্ণ হয়। ২০১৯ সালের বিশ্বকাপে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল দক্ষিণ আফ্রিকা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও আফগানিস্তানকে হারালেও শেষ পর্যন্ত সেমিফাইনালে পৌঁছাতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত আট নম্বরে থেকে শেষ করতে হয়েছে বিশ্বকাপ। এই বিশ্বকাপে বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ অর্জন সাকিব আল হাসানের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স। সর্বশেষ বিশ্বকাপেও বাংলাদেশ তেমন সন্তোষজনক সাফল্য বয়ে আনতে পারেনি।
বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় ক্রিকেটার: টেস্ট পরিবারের নবীনতম এবং বয়সের গড়ে সবচেয়ে তরুণ বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। নবীন বাংলাদেশ দলের অনেকেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিতি পেয়েছেন। তামিমের ঝোড়ো ব্যাটিং, মুশফিকের দুর্দান্ত উইকেট কিপিং, সাকিবের স্পিন কিংবা মুস্তাফিজের কাটার- এসবই বাংলাদেশ দলকে ক্রিকেট বিশ্বে স্বমহিমায় করেছে উজ্জ্বল। তাসকিন, লিটন দাস, মেহেদি হাসান, এবাদত হোসেনসহ আরও অনেক উদীয়মান খেলোয়াড় বাংলাদেশের ক্রিকেটকে করেছেন সমৃদ্ধ।
উপসংহার: অদূর ভবিষ্যতে একসময় বাংলাদেশ তাদের পারফরম্যান্স দিয়ে বিশ্বকাপ জয় করবে- এটি সবার প্রত্যাশা। এজন্য প্রয়োজন কঠোর পরিশ্রম, পর্যাপ্ত অবকাঠামোগত সুবিধা, আন্তর্জাতিক মানের কোচিং এবং সর্বোপরি সরকারের সুনজর। জাতীয় দলের খেলোয়াড়রা আরও দায়িত্বশীল হলেই বাংলাদেশ আরও ভালো নৈপুণ্য প্রদর্শন করতে পারবে বলে আমাদের বিশ্বাস।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!