ডিহাইড্রেশন হলো শরীরে পানির পরিমাণ অনেক কমে যাওয়া।
দেহে পানির চাহিদা নির্ভর করে কী ধরনের শারীরিক পরিশ্রম করা হচ্ছে, কী খাওয়া হচ্ছে ইত্যাদি বিষয়ের ওপর। প্রতিদিন যে পরিমাণ পানি শরীর থেকে বেরিয়ে যায় সেই পরিমাণ পানি পান করা প্রয়োজন। দৈনিক ৬-৮ গ্লাস পানি পান করা প্রয়োজন।
বেগমের শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দিয়েছে। শরীরে পানির পরিমাণ খুব কমে গেলে সাধারণত এরূপ অবস্থার সৃষ্টি হয়। অতিরিক্ত গরমে ঘামতে শুরু করলে তার শরীর থেকে প্রচুর পানি বেরিয়ে যায়। ফলে পানিশূন্যতার কারণে সে মাথা ঘুরে পড়ে যায়। অন্যান্য যে সকল কারণে এমন অবস্থা দেখা দিতে পারে তা হলো-
১. অতিরিক্ত গরম আবহাওয়া, আর্দ্রতা, ব্যায়াম অথবা জ্বরের কারণে ঘাম বেশি হলে।
২. পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান না করলে।
৩. ডায়রিয়া হলে।
৪. অতিরিক্ত বমি হলে।
এরূপ কোনো অবস্থার সম্মুখীন হলে দ্রুত পানি পান করতে হবে। পানি না থাকলে পানি জাতীয় ফল বা খাবারের ব্যবস্থা করতে হবে।
বেগমের স্বাস্থ্য ও কর্মক্ষমতা অটুট রাখতে ভিটামিন জাতীয় খাদ্য উপাদানগুলো জরুরি। তিনি সবজি, সামুদ্রিক মাছ, টক জাতীয় ফল ইত্যাদি খেতে পছন্দ করেন না। ফলে তার সুষ্ঠু স্বাভাবিক বিকাশ সম্ভব হয় না এবং ভিটামিনের অভাবজনিত বিভিন্ন রোগ দেখা যায়। ভিটামিন দেহের বিভিন্ন অঙ্গোর বৃদ্ধি সাধন করে, গর্ভাবস্থায় শিশুর গঠন ও স্বাভাবিক বৃদ্ধিতে সহায়তা করে, স্নায়ু ও মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা ঠিক রাখে। চোখ ও ত্বকের বিভিন্ন অংশের সুস্থতা রক্ষা করে এবং রক্ত গঠনে সাহায্য করে। এটি শরীরে বিভিন্ন পুষ্টি উপাদানের যথাযথ ব্যবহার করে স্বাস্থ্য ও কর্মক্ষমতা অটুট রাখে।
এছাড়া ভিটামিন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে শরীরকে সুস্থ, সবল ও কর্মক্ষম রাখে। তাই বেগমকে ভিটামিন জাতীয় খাদ্য গ্রহণ করতে হবে।
Related Question
View Allখাদ্যের মধ্যে বিভিন্ন প্রকার জটিল জৈব রাসায়নিক যৌগ রয়েছে যা জীবদেহে খুব সামান্য পরিমাণে প্রয়োজন হয়, সেগুলোকে ভিটামিন বলে।
মানবদেহের যে অঙ্গগুলো পরিপাক ও শোষণের কাজ করে তাদেরকে পরিপাকতন্ত্র বলে। আমরা যে খাবারগুলো খাই সেগুলোকে পরিপাকের মাধ্যমে শরীরের শোষণ উপযোগী করতে পরিপাকতন্ত্রের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।
১নং চিত্রের খাদ্যগুলো হলো দুধ, ডিম, মাংস ও ভাত।
দুধ, ডিম ও মাংস প্রোটিন জাতীয় খাদ্য। আর ভাত কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাদ্য। এ খাদ্যগুলো আমাদের দেহের জন্য বিশেষভাবে প্রয়োজন। যেমন-
- আমাদের দেহের অস্থি, রক্তকণিকা হতে শুরু করে দাঁত, চুল, নখ তৈরিতে প্রোটিন প্রয়োজন।
- ক্ষয়প্রাপ্ত কোষকলার গঠন ও ক্ষতস্থান সারাতে প্রোটিনের ভূমিকা রয়েছে।
- দেহে ফ্যাট ও কার্বোহাইড্রেটের ঘাটতি থাকলে প্রোটিন তাপ উৎপাদনের কাজ করে থাকে।
- শরীরে অ্যান্টিবডি (antibody) তৈরি করতে প্রোটিন সাহায্য করে।
- মানসিক বিকাশ বা মস্তিষ্কের বিকাশের জন্য প্রোটিন অপরিহার্য।
- প্রোটিন শিশুদের দেহের বৃদ্ধি ঘটায়।
'২' নং চিত্রের খাদ্যগুলো হলো স্নেহজাতীয় খাদ্য। এ খাদ্যগুলো হলো ঘি, মাখন, সরিষার তেল ও নারকেল। এগুলো প্রয়োজনের তুলনায় কম খেলে মানবদেহে ক্ষতিকর প্রভাব পড়তে পারে বলে আমি মনে করি। স্নেহ জাতীয় খাদ্য আমাদের শরীরে তাপ ও শক্তি সরবরাহ করে। এ জাতীয় খাদ্য দেহ হতে তাপের অপচয় রোধ, চর্মরোগ থেকে রক্ষা এবং দেহের অভ্যন্তরীণ অঙ্গগুলোকে সংরক্ষণ করে। এছাড়া এটি চর্বিতে দ্রবণীয় ভিটামিনগুলো যেমন- এ, ডি, ই ও কে দ্রবীভূত করে দেহের গ্রহণ উপযোগী করে তোলে। এটি কোষ প্রাচীরের সাধারণ উপাদান হিসেবে ভূমিকা পালন করে। এর অভাব হলে শরীরে প্রয়োজনীয় তাপশক্তির ঘাটতি দেখা দেয়। এছাড়া এর অভাবে চর্বিতে দ্রবণীয় ভিটামিনগুলোর ঘাটতি এবং চর্মরোগ দেখা দিতে পারে। এটি স্বল্প পরিমাণে গ্রহণ করলে যেমন শরীরের ক্ষতি হয় তেমনি প্রয়োজনের অধিক গ্রহণ করলে ওজন খুব তাড়াতাড়ি বৃদ্ধি পায়। তাই এটি পর্যাপ্ত পরিমাণে গ্রহণ করা উচিত।
খাবার খাওয়ার পর তা ভেঙে গিয়ে জটিল অবস্থা থেকে সরল অবস্থায় পরিণত হওয়াই হলো পরিপাক।
ডায়রিয়া হলে বার বার পাতলা পায়খানা হয়। তখন এর সাথে শরীর থেকে প্রচুর পানি বের হয়ে যায়। তাছাড়া ডায়রিয়ায় বমি হলেও এর সাথে শরীর থেকে পানি বের হয়ে যায়। এর ফলে ডিহাইড্রেশন দেখা দেয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
