অনুমান দুই প্রকার।
যে অনুমান প্রক্রিয়ায় সিদ্ধান্তটি এক বা একাধিক আশ্রয়বাক্য থেকে অনিবার্যভাবে নিঃসৃত হয় এবং যার সিদ্ধান্তটি কখনই আশ্রয়বাক্যের চেয়ে ব্যাপক হতে পারে না তবে অনেক ক্ষেত্রে আশ্রয়বাক্য ও সিদ্ধান্ত সমব্যাপক হয় তাই অবরোহ অনুমান।
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত বিষয়টি হচ্ছে অনুমান। যেমন- বৈশাখ ও জ্যৈষ্ঠ মাসে আকাশে কালো মেঘ জমে এবং কালবৈশাখী ঝড়-বৃষ্টি হয়। এর ফলে শহর-গ্রামে অনেক ক্ষতি হয়। কিন্তু কালবৈশাখী ঝড় সবসময় হয় না। যুক্তিবিদ্যায় অনুমানকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা- অবরোহ অনুমান ও আরোহ অনুমান।
যে অনুমান প্রক্রিয়ায় এক বা একাধিক আশ্রয় বাক্য থেকে সিদ্ধান্ত টানা হয় এবং সিদ্ধান্ত কখনও আশ্রয়বাক্য থেকে অধিক ব্যাপক হতে পারে না, তাকে 'অবরোহ অনুমান' বলে। অবরোহ অনুমানের সিদ্ধান্ত বেশির পক্ষে আশ্রয়বাক্যের সমান ব্যাপক হতে পারে মাত্র, কখনও অধিক ব্যাপক হতে পারে না। যেমন-
সকল মানুষ হয় মরণশীল।
রেজা হয় মানুষ।
রেজা হয় মরণশীল।
অন্যদিকে যে, অনুমান প্রক্রিয়ায় কয়েকটি বিশেষ দৃষ্টান্ত নিরীক্ষণের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে একটি সার্বিক সিদ্ধান্ত ঘটনা টানা হয় এবং সিদ্ধান্ত সকল ক্ষেত্রেই আশ্রয় বাক্য থেকে অধিক ব্যাপক হয়ে থাকে, তাকে 'আরোহ অনুমান' বলে। যেমন-
রেজা হয় মরণশীল।
মধু হয় মরণশীল।
জোসেফ হয় মরণশীল।
হেনরি হয় মরণশীল।
সকল মানুষ হয় মরণশীল।
অবরোহ অনুমান আবার দুই প্রকার হয়ে থাকে। যথা- অমাধ্যম অনুমান ও মাধ্যম অনুমান। আরোহ অনুমানও দুই প্রকার। যথা- প্রকৃত আরোহ ও অপ্রকৃত আরোহ।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে বৈশাখ ও জ্যৈষ্ঠ বাংলা বারো মাসের মধ্যে দুটি মাসের নাম। ঋতু পরিক্রমায় এ দু'মাস গ্রীষ্মকাল। এ সময় আকাশে কালো মেঘ জমে এবং কালবৈশাখী ঝড়বৃষ্টি হয়, কিন্তু কালবৈশাখী ঝড় সবসময় হয় না। প্রকৃতপক্ষে এসব অনুমান আরোহাত্মক এবং অবরোহাত্মক হলেও উভয়ে যুক্তিপদ্ধতির দুটি ভিন্ন চিত্র মাত্র। ঋতু পরিক্রমায় বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাসে, ঝড়বৃষ্টি হওয়ার অনুমান কিংবা ঝড়বৃষ্টিতে ক্ষয়ক্ষতির অনুমান আরোহাত্মক ও অবরোহাত্মক হলেও অবরোহ ও আরোহ পরস্পরবিরোধী নয়। এমনকি দুটি ভিন্ন স্বভাবের অনুমানবিধিও নয়। তবে অবরোহ অনুমানের সিদ্ধান্ত কখনো আশ্রয়বাক্য থেকে অধিক ব্যাপক হতে পারে না। আবার আরোহ অনুমানের সিদ্ধান্ত সব ক্ষেত্রেই আশ্রয়বাক্য থেকে অধিক হয়ে থাকে।
উপর্যুক্ত আলোচনা শেষে বলা যায় যে, উদ্দীপকে যে বিষয়টি ফুটে উঠেছে, অর্থাৎ অনুমান যুক্তিবিদ্যায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। অনুমানের মাধ্যমে আমরা যেকোনো অজানা রহস্যের দ্বার উন্মোচন করতে পারি। তবে সেক্ষেত্রে অনুমানের নিয়মগুলো যথাযথ পদ্ধতিতে অনুসরণ করতে হবে। সাধারণভাবে অনুমান করলে তা থেকে বাস্তব সত্যে উপনীত হওয়া যায় না। তাই সঠিক সত্যের অনুসন্ধান করতে হলে অনুমানের যথাযথ নিয়ম প্রক্রিয়া অনুসরণ করে অগ্রসর হতে হবে। বস্তুত যুক্তিবিদ্যার অনুমানের ভিত্তিতেই মানবজীবন উন্নত করার জ্ঞান লাভ করা যায়।
Related Question
View Allঅমাধ্যম অনুমান হলো যে অবরোহ অনুমানে একটিমাত্র আশ্রয়বাক্য থেকে সিদ্ধান্তটি সরাসরি অনুমিত হয় বা নিঃসৃত হয়।
মাধ্যম অনুমান হলো পরোক্ষ অনুমান। যে অবরোহ অনুমানে একাধিক আশ্রয়বাক্য থেকে সিদ্ধান্তটি নিঃসৃত হয় বা অনুমিত হয় তাকে 'মাধ্যম অনুমান' বলে। মাধ্যম অনুমানে একাধিক আশ্রয়বাক্য থাকা বাধ্যতামূলক। কারণ মাধ্যম অনুমানে একাধিক আশ্রয়বাক্য থেকে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়, একটি আশ্রয়বাক্য থেকে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় না। যেমন-
A – সকল মানুষ হয় মরণশীল।
A – রহিম হয় একজন মানুষ।
A - রহিম হয় মরণশীল।
উদ্দীপকে মিজান সাহেবের বক্তব্য আরোহ অনুমানমূলক। আরোহ অনুমান অনুযায়ী অনুমান প্রক্রিয়ায় কয়েকটি বিশেষ দৃষ্টান্তের ওপর নির্ভর করে একটি সার্বিক সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া যায়। যেমন-
মতিন হয় দানশীল ব্যক্তি এবং ধনী।
মজিদ হয় দানশীল ব্যক্তি এবং ধনী।
মাখন হয় দানশীল ব্যক্তি এবং ধনী।
সকল ধনী ব্যক্তি দানশীল।
মিজান সাহেব বাস্তবে কিছু মানুষকে দেখেছে যে তারা ধনী এবং দানশীল। সুতরাং তিনি সিদ্ধান্তে উপনীত হলেন যে সকল ধনী ব্যক্তি হয় দানশীল। এখানে সিদ্ধান্তটি আশ্রয়বাক্যগুলোর চেয়ে বেশি ব্যাপক হয়েছে। আরোহ অনুমানে সিদ্ধান্তটি আশ্রয়বাক্য থেকে কিছু লোক এর দানশীল ও ধনীর দৃষ্টান্ত উল্লেখ করে সিদ্ধান্তটি প্রমাণ করা যথেষ্ট নয়। এ কারণে আরোহ অনুমান এর সিদ্ধান্ত সব সময় সম্ভাব্য হয়।
সুতরাং উদ্দীপকে মিজান সাহেবের বক্তব্যটি একটি আরোহ অনুমান। যার সিদ্ধান্ত সবসময় সম্ভাব্য হয়। কারণ আরোহ অনুমানে সিদ্ধান্ত আশ্রয়বাক্য থেকে অনিবার্যভাবে নিঃসৃত বা অনুমিত হয় না, সিদ্ধান্তে আশ্রয়বাক্য থেকে নতুন তথ্য প্রকাশ করে।
উদ্দীপকে যে যুক্তিটি দেওয়া আছে তা হলো-
সকল জ্ঞানী হয় ধনী।
সকল কবি হয় ধনী।
সকল কবি হয় জ্ঞানী।
এই যুক্তিটি একটি অবরোহমূলক যুক্তি। এই দৃষ্টান্তে আশ্রয়বাক্য রয়েছে দুটি। আর আশ্রয়বাক্য থেকে সিদ্ধান্ত অনিবার্যভাবে নিঃসৃত হয়েছে। তাই এটি অবরোহ অনুমান। যে অনুমানে এক বা একাধিক আশ্রয়বাক্য থেকে অনিবার্যভাবে সিদ্ধান্ত অনুমিত হয় তাকে 'অবরোহ অনুমান' বলে। এক্ষেত্রে সিদ্ধান্তটি আশ্রয়বাক্যের চেয়ে কম ব্যাপক বা সমান ব্যাপক হতে হবে। উপরোক্ত অনুমানে সমান ব্যাপক সিদ্ধান্ত হয়েছে। উদ্দীপকের উক্ত যুক্তিটি বৈধ। কারণ আশ্রয়বাক্য হতে সিদ্ধান্ত অনিবার্যভাবে নিঃসৃত হয়েছে। তবে যুক্তির আশ্রয় বাক্যগুলোর সত্যতা থেকে সিদ্ধান্তের সত্যতা যদি যাচাই করতে যাই তবে তা মিথ্যা। কারণ 'সকল জ্ঞানী হয় ধনী' আশ্রয়বাক্যটি বস্তুগত মিথ্যা এবং 'সকল কবি হয় ধনী' আশ্রয়বাক্যটি বস্তুগতভাবে মিথ্যা। সকল জ্ঞানী ধনী • নাও হতে পারে, আবার, সকল কবি ধনী নয়। তাই উভয় আশ্রয়বাক্য বস্তুগতভাবে মিথ্যা। সুতরাং সিদ্ধান্তে তথ্য 'সকল কবি হয় জ্ঞানী' বস্তুগতভাবে মিথ্যা। আশ্রয়বাক্য বস্তুগত মিথ্যা হলে সিদ্ধান্ত বস্তুগতভাবে মিথ্যা।
উদ্দীপকের যুক্তিটির আশ্রয়বাক্য, সিদ্ধান্ত বস্তুগতভাবে সত্য মিথ্যার উপর যুক্তির বৈধতা-অবৈধতা নির্ভর করে না। তাই এখানে আশ্রয় বাক্য ও সিদ্ধান্ত বস্তুগতভাবে মিথ্যা হলেও যুক্তিটি বৈধ। কারণ আশ্রয়বাক্য থেকে সিদ্ধান্ত অনিবার্যভাবে নিঃসৃত হলে যুক্তিটি বৈধ হয়। আর উক্ত যুক্তির আশ্রয়বাক্য থেকে সিদ্ধান্ত অনিবার্যভাবে নিঃসৃত হয়েছে। সুতরাং, যুক্তিটি বৈধ।
যে অবরোহ অনুমানে একাধিক আশ্রয়বাক্য থেকে সিদ্ধান্ত নিঃসৃত হয় সেটিই হলো 'মাধ্যম অনুমান'।
যে অনুমান প্রক্রিয়ায় সিদ্ধান্তটি এক বা একাধিক আশ্রয়বাক্য থেকে অনিবার্যভাবে নিঃসৃত হয় এবং যার সিদ্ধান্তটি কখনোই আশ্রয়বাক্যের চেয়ে ব্যাপক হতে পারে না, তবে অনেক ক্ষেত্রে আশ্রয়বাক্য ও সিদ্ধান্ত সমব্যাপক হয় সেটিই হলো 'অবরোহ অনুমান'। যেমন-
সকল মানুষ হয় মরণশীল।
রহিম হয় একজন মানুষ।
রহিম হয় মরণশীল।
উপরের দৃষ্টান্তে সিদ্ধান্তটি দুটি আশ্রয়বাক্য থেকে অনিবার্যভাবে নিঃসৃত হয়েছে এবং সিদ্ধান্তটি আশ্রয়বাক্যের চেয়ে কম ব্যাপক।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!