কবর্তমানে জনমত গঠনের ও প্রচারের শ্রেষ্ঠতম বাহন হলো ইন্টারনেট ভিত্তিক সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুক, টুইটার, অরকুট, গুগুলপ্লাস, ইউ টিউব ইত্যাদি মাধ্যমগুলো।
গণতন্ত্রের বিকাশ ও প্রসারে জনমতের গুরুত্ব অত্যধিক। কেননা গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় সরকারের গঠন, সরকারের পরিচালনা ও সরকারের পরিবর্তন জনমতের ওপর নির্ভরশীল। নির্বাচনের মাধ্যমে জনমতের রায় নিয়েই প্রতিনিধি নির্বাচিত হয় এবং প্রতিনিধিরা সরকার গঠন করে। যার ফলে জনমতই প্রকৃতপক্ষে সরকার গঠন করে। জনমতকে উপেক্ষা করে কোনো গণতান্ত্রিক সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারে না। জনমত হলো গণতান্ত্রিক আদর্শ বাস্তবায়নের মূল চাবিকাঠি। তাই গণতন্ত্রের বিকাশ ও প্রসারে জনমতের গুরুত্ব অত্যধিক।
উদ্দীপকে উল্লিখিত ঘটনাটি ব্রিটেনের উন্নত রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রতি ইঙ্গিত বহন করে। নিচে রাজনৈতিক সংস্কৃতির বৈশিষ্ট্যসমূহ দেওয়া হলো-
১. রাজনৈতিক সংস্কৃতি হচ্ছে রাজনৈতিক অনুভূতিসমূহের সমষ্টি। একটি রাজনৈতিক সমাজে মানুষ যা ভাবে বা অনুভব করে তার সমন্টিই হচ্ছে রাজনৈতিক সংস্কৃতি।
২. একটি রাজনৈতিক সমাজের মানুষ রাজনৈতিক বিষয়ে কী চিন্তা করে এবং কীভাবে চিন্তা করে অর্থাৎ তাদের মনোভাব ও দৃষ্টিভঙ্গি কীরূপ তাই হচ্ছে একটি সমাজ বা দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি।
৩. রাজনৈতিক সংস্কৃতি হচ্ছে রাজনৈতিক ব্যবস্থার দর্পণ বা প্রতিচ্ছবি। রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রতিচ্ছবি ফুটে ওঠে রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে। একটি দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থার গতি-প্রকৃতি দেখে সে দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি কীরূপ তা সহজেই অনুমান করা যায়।
৪. রাজনৈতিক ব্যবস্থায় ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের পরিকল্পনা রীতিনীতি, লক্ষ ও দৃষ্টিভঙ্গি, বিরোধ মীমাংসার অনুসৃত নীতি-পদ্ধতি, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিষয়সমূহের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি প্রভৃতি বিষয়ে ঐক্য ও সমঝোতা বিষয়ক জ্ঞান সম্পর্কিত দৃষ্টিভঙ্গিই হচ্ছে রাজনৈতিক সংস্কৃতি।
৫. রাজনৈতিক সংস্কৃতি রাজনৈতিক ব্যবস্থার গভীরে প্রবেশ করে এবং অন্তর্নিহিত ও মনস্তাত্ত্বিক দিকের প্রকাশ ঘটায়। রাজনৈতিক সংস্কৃতি রাজনৈতিক ব্যবস্থায় প্রত্যেক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের দাবি যথাযথ স্থানে পেশ করতে সাহায্য করে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত রাজনৈতিক সংস্কৃতির ক্ষেত্রে গণতন্ত্র ও রাজনৈতিক দলের জোরালো ভূমিকা রয়েছে-
নিম্নোক্ত গণতন্ত্র হলো জনপ্রতিনিধি কর্তৃক পরিচালিত শাসনব্যবস্থা। পারিবারিক বিশ্বাস, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, সমঝোতার মনোভাব এবং গণরায়ের ওপর নির্ভরশীলতাই হলো গণতন্ত্রের সাফল্যের চাবিকাঠি। এদিক থেকে বলা যায়, রাজনৈতিক সংস্কৃতি যদি সংকীর্ণ হয় অথবা অধীন হয় তাহলে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা সুন্দরভাবে কার্যকর হয় না। গণতন্ত্রের জন্যে প্রয়োজন অংশগ্রাহক রাজনৈতিক সংস্কৃতি। এ ব্যবস্থায় সকলের অংশগ্রহণের মানসিকতা বিদ্যমান থাকে। ভিন্নমত থাকলেও থাকবে না কোনো বৈরিতা। প্রতিপক্ষ থাকবে কিন্তু প্রতিপক্ষকে সবসময় শত্রু হিসেবে দেখার মানসিকতা থাকবে না। শুধু থাকবে সুস্থ প্রতিদ্বন্দ্বিতা কিন্তু থাকবে না কোনো প্রতিহিংসা। তাই বলা যায়, সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতির জন্যে চাই উন্নত গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি।
প্রতিনিধিত্বমূলক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের রাজনৈতিক সংস্কৃতির ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলের ভূমিকা যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। রাজনৈতিক সংস্কৃতি হলো মানুষের মনোভাব, বিশ্বাস, অনুভূতি ও মূল্যবোধের সমষ্টি। এগুলোকে কেন্দ্র করেই রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে ওঠে। রাজনৈতিক সংস্কৃতির এসব উপাদান রাজনৈতিক দল গঠনেও সাহায্য করে। কেননা রাজনৈতিক দল গড়ে ওঠে সমমনা মানুষদের নিয়ে। মনোভাব, বিশ্বাস, অনুভূতি ও মূল্যবোধের মিল থাকলেই কিছুসংখ্যক মানুষ ন্যূনতম ঐক্যবদ্ধ কর্মসূচির ভিত্তিতে একতাবদ্ধ হয় এবং রাজনৈতিক দল গড়ে তোলে। এজন্যেই একটি রাজনৈতিক দলের সাথে অপর একটি রাজনৈতিক দলের বিশ্বাস ও দৃষ্টিভঙ্গিজনিত পার্থক্য লক্ষ করা যায়। যে দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি যত বেশি উন্নত, সে দেশের রাজনীতির মানও ততো উন্নত। উন্নত রাজনৈতিক সংস্কৃতিসম্পন্ন দেশের রাজনৈতিক দলগুলোও ততো বেশি সুসংহত, আদর্শকেন্দ্রিক ও কর্মসূচিভিত্তিক। সুতরাং বলা যায়, রাজনৈতিক সংস্কৃতির ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলের ভূমিকা অনস্বীকার্য।
Related Question
View Allমানব জীবনের প্রথম শিক্ষালয় হলো পরিবার।
গণতন্ত্র হলো জনগণের শাসন যা পরিচালিত হয় জনমতের ভিত্তিতে। গণতন্ত্রে সরকার জনমতকে উপেক্ষা করে শাসনকার্য পরিচালনা করতে পারে না। বর্তমান গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় আইন প্রণয়ন, সরকারের নিয়ন্ত্রণ, ব্যক্তিস্বাধীনতার সংরক্ষণসহ সকল কাজে জনমতের ভূমিকা দেখা যায়। এজন্য জনমতকে গণতন্ত্রের ভিত্তি বলা হয়।
উদ্দীপকের সমস্ত আবহে জনমতের ভূমিকা সম্পর্কে বলা হয়েছে। জনমত যেকোনো বিষয়ের ওপর প্রভাব বিস্তার করতে পারে। জনমতের চাপে সরকার অনেক কাজ করতে বাধ্য থাকে। উদ্দীপকে গার্মেন্টস কারখানার পরিবেশ উন্নয়নে গড়ে উঠা জনমতের প্রভাবে সরকার এ বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণে বাধ্য হয়।
সাধারণ অর্থে, জনমত অর্থ সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামত। অন্যদিকে পৌরনীতির ভাষায় কোনো গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় বিষয়ে প্রভাবশালী যুক্তিসঙ্গত, স্পষ্ট এবং কল্যাণকামী মতামতকে জনমত বলা হয়। জনমত সাধারণ জনগণের বৃহত্তর স্বার্থসংশ্লিষ্ট সুনির্দিষ্ট, জনকল্যাণমূলক এবং যুক্তিভিত্তিক হয়। এটি পরিবর্তনশীল একটি বিষয়। কেননা এখন যা জনমতের পক্ষে কিছুদিন পর এর পক্ষে জনমত নাও থাকতে পারে। আবার যে ইস্যু নিয়ে এখন জনমত গড়ে উঠেছে, কিছুদিন পরে তার গুরুত্ব নাও থাকতে পারে। পরিবার, সমাজ, গণমাধ্যম, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক দল, সাহিত্য, সভা সমাবেশ জনমত গঠনের পক্ষে কাজ করে। বর্তমানকালের ইন্টারনেটভিত্তিক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো (যেমন- facebook, twitter, blooger প্রভৃতি) জনমত গঠনের এক শক্তিশালী মাধ্যম
জনকল্যাণমূলক গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য যতগুলো শর্ত আছে, জনমত তার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। জনমত সরকারের চলার পথের নির্দেশনা দান করে থাকে। জনমতকে উপেক্ষা করে কোনো কর্মকাণ্ড গ্রহণ করা হলে তা কখনই কার্যকরী ও ফলপ্রসূ হয় না।
গণতন্ত্র হলো জনগণের শাসন। জনগণের জন্য, জনগণ দ্বারা পরিচালিত শাসনব্যবস্থা। বর্তমান বৃহত্তর জনসংখ্যা অধ্যুষিতদেশগুলোর জনগণের পক্ষে প্রত্যক্ষভাবে শাসনকার্যে অংশগ্রহণ করা অসম্ভব ব্যাপার। পরোক্ষভাবে প্রতিনিধি পাঠিয়ে জনগণ শাসনকার্যে অংশগ্রহণ করে থাকে। এরূপ শাসনব্যবস্থায় জনগণ সরাসরি কোনো ভূমিকা পালন করতে পারে না। জনগণের মতামতকে সরকার কোনো কোনো ক্ষেত্রে আমলে আনতে চায় না।
সরকার দলীয় স্বার্থে কিংবা নিজেদের স্বার্থে কোনো কাজ করতে চায় বা বৃহত্তর কোনো কাজ করতে অনীহা প্রকাশ করতে পারে। জনমত এসব কাজগুলো সরকারকে করতে বা না করতে বাধ্য করতে পারে। জনমত জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্রের গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে পারে। জনমতের ভিত্তিতেই একটি সরকার অধিকতর জনকল্যাণকামী, কার্যকরী ও ফলপ্রসূভাবে কাজ করতে পারে। জনমতের ভিত্তিতে পরিচালিত শাসনব্যবস্থাই কল্যাণমূলক শাসন প্রতিষ্ঠা করতে পারে।
Voice of people is the voice of God" উক্তিটি জ্যাঁ জ্যাঁক রুশোর।
জনমত গঠনের প্রথম ও প্রাথমিক মাধ্যম হলো পরিবার।
পারিবারিক পরিবেশে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে দেশ-বিদেশের সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক বিষয় সম্পর্কে শিশু জানতে পারে। শিশুরা পিতামাতার বিশ্বাস, রাজনৈতিক দর্শনকে অনুসরণ করতে শেখে। পারিবারিক এ ভিত্তি শিশুরা সারা জীবন বহন করে। এভাবে পরিবার শক্তিশালী জনমতের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!