সিপাহি বিপ্লব শুরু হয় ব্যারাকপুর সেনানিবাসে।
মুসলমানদের সচেতন করার জন্য স্যার সৈয়দ আমীর আলীর ভূমিকা ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
সৈয়দ আমীর আলী ছিলেন দূরদর্শী চিন্তাবিদ ও সমাজসেবক। তিনি মুসলমানদের পাশ্চাত্য শিক্ষা গ্রহণ ও ব্রিটিশ সরকারের সাথে সহযোগিতা নীতিতে বিশ্বাসী ছিলেন। তিনি মুসলমানদেরকে রাজনৈতিকভাবে সংগঠিত করেন। তিনি মনে করতেন পাশ্চাত্য শিক্ষার পাশাপাশি রাজনৈতিকভাবে সংগঠিত না হলে মুসলমানদের অস্তিত্ব বিপন্ন হবে। এজন্য তিনি ১৮৭৭সালে কলকাতায় Central National Muhammedan Association এবং পরবর্তীতে লন্ডনে মুসলিম লীগের শাখা গঠন করেন।
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত রাজনৈতিক দল কংগ্রেস-এর প্রতিষ্ঠার সময় লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ছিল ভারতীয়দের ন্যায্য দাবি আদায়।
ভারতের বিশেষ রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে শিক্ষিত জাতীয়তাবাদীদের মধ্যে সৃষ্ট উত্তেজনা হ্রাস, প্রশাসনিক ব্যাপারে শিক্ষিত ভারতীয়দের মনোভাব সম্পর্কে সরকারকে সচেতন করা এবং তদুপরি ভারতীয় জনমতকে হিংসাত্মক বিপ্লবের পথ থেকে নিয়মতান্ত্রিক পথে পরিচালিত করার অভিপ্রায় নিয়েই অ্যালান অক্টোভিয়ান হিউম কংগ্রেস প্রতিষ্ঠায় উদ্যোগী হয়েছিলেন। অবশ্য সভাপতি উমেশচন্দ্র ব্যানার্জি তার ভাষণে কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার চারটি উদ্দেশ্যের কথা ঘোষণা করেন। যথা- (১) ভারতের বিভিন্ন প্রদেশের দেশপ্রেমিকদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ. ও সৌহার্দ্য স্থাপন করা; (২) দেশপ্রেমিক ভারতীয়দের মধ্যকার জাতি, ধর্ম ও প্রাদেশিকতার সংকীর্ণতা দূর করে জাতীয় ঐক্য ও সংহতির পথ প্রশস্ত করা; (৩) ভারতীয় শিক্ষিত সমাজের সাথে আলাপ-আলোচনা করে বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের পথ নির্দেশ করা এবং (৪) পরবর্তী এক বছরের জন্য রাজনৈতিক নীতি ও কর্মসূচি নির্ধারণ করা।
ভারতীয়দের ন্যায্য দাবি আদায়ের লক্ষ্যে কংগ্রেস প্রতিষ্ঠিত হয়।
ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠা কোনো আকস্মিক ঘটনা ছিল না। বস্তুত - উনবিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময় থেকে ভারতের ইংরেজি শিক্ষিত - মধ্যবিত্ত শ্রেণি তাদের ন্যায্য দাবি-দাওয়া ও অধিকার আদায়ের জন্য সর্বভারতীয় পর্যায়ে একটি রাজনৈতিক দল গঠনের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আঞ্চলিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার মাধ্যমে সর্বভারতীয় রাজনৈতিক দল গঠনের প্রাক-প্রস্তুতি চলতে থাকে এবং এ অবস্থায় ভারতীয় রাজনীতির কিছু ঘটনাপ্রবাহ জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার বিষয়টিকে ত্বরান্বিত করে।
ন ব্রিটিশ সরকারের নেওয়া কিছু পদক্ষেপ দেশপ্রেমিক ভারতীয় জাতীয়তাবাদীদের বিক্ষুব্ধ করে তোলে। 'ইলবার্ট বিল' বিতর্ক ভারতীয়দের ৪ ক্ষোভের মাত্রাকে আরো বৃদ্ধি করে। উল্লেখ্য যে, ভারতে অবস্থানরত ব্রিটিশ নাগরিকদের অপরাধের বিচার কাজ শুধু ইউরোপীয় বিচারকদের দ্বারা সম্পন্ন হতো। ১৮৮৩ সালে ভাইসরয় কাউন্সিলের সদস্য সিভিল ইলবার্ট এ নিয়ম পরিবর্তন করে ভারতীয় বিচারকদেরও ব্রিটিশদের বিচার করার ক্ষমতা দানের প্রস্তাব করেন। তার এ প্রস্তাবটি 'ইলবার্ট বিল' নামে পরিচিত। তবে ব্রিটিশ নাগরিকদের বিরোধিতা ও বিক্ষোভের কারণে সরকার ইলবার্ট বিলটি কার্যকর করতে পারেনি। ইলবার্ট বিল প্রত্যাখ্যানের এ ঘটনা ভারতীয়দের তীব্র অসন্তোষের কারণ হয়ে দাঁড়ায় এবং এই সময় আদালত অবমাননার অভিযোগে ভারতীয় জাতীয়তাবাদী নেতা সুরেন্দ্রনাথ ব্যানার্জিকে কারাদণ্ড প্রদান করা হলে সারাদেশ প্রতিবাদমুখর হয়ে ওঠে। কারামুক্তির পর সুরেন্দ্রনাথ ব্যানার্জি ও তার রাজনৈতিক সহযোদ্ধারা একই রাজনৈতিক আদর্শে অনুপ্রাণিত ভারতীয়দের ঐক্যবদ্ধ করে একটি রাজনৈতিক সংগঠন প্রতিষ্ঠার বিষয়ে নজর দেন।
উপরের পরিস্থিতিতে ১৮৮৫ সালে হিউম কর্তৃক আহূত সম্মেলনে ভারতীয়দের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় আত্মপ্রকাশ করে জাতীয় কংগ্রেস
Related Question
View Allভারতে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনের অবসান হয় ১৮৫৮ সালে।
ভারতে ব্রিটিশ শাসনামলে নির্ধারিত তারিখে সূর্যাস্তের আগে সরকারি রাজস্ব পরিশোধে ব্যর্থ হলে ভূমি নিলামে তুলে বকেয়া আদায়ের যে কঠোর আইন ছিল তাকে সূর্যাস্ত আইন বলে।
১৭৯৩ সালে সূর্যাস্ত আইন প্রণয়ন করা হয়। এ আইন অনুযায়ী জমিদারদের নির্দিষ্ট দিনে সূর্যাস্তের আগে সরকারি রাজস্ব পরিশোধ করতে হতো। যেসব জমিদার ঐ সময়ের মধ্যে রাজস্ব আদায়ে ব্যর্থ হতেন, তাদের জমিদারি নিলামে তোলা হতো। সূর্যাস্ত আইনের কবলে পড়ে বাংলার অসংখ্য জমিদার, বিশেষ করে মুসলমান ভূস্বামীরা তাদের জমিদারি হারান।
উদ্দীপকে ভাইসরয় লর্ড রিপনের কথা বলা হয়েছে। লর্ড রিপন মূলত সংস্কার কার্যক্রমের জন্যই অধিক পরিচিত। নিম্নে তার তিনটি সংস্কারমূলক কাজ তুলে ধরা হলো:
লর্ড রিপন ১৮৮২ সালে তার পূর্ববর্তী ভাইসরয় লর্ড লিটন কর্তৃক প্রবর্তিত সংবাদপত্র আইন রহিত করে দেশীয় ভাষায় প্রকাশিত সংবাদপত্রগুলোকে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিষয়ে মতামত প্রকাশে পূর্ণ স্বাধীনতা দেন। লর্ড রিপনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কীর্তি হলো ১৮৮৫ সালের রাজস্ব ও প্রজাস্বত্ব আইন। বাংলাদেশ ও অযোধ্যার রায়তদের অবস্থার উন্নতির জন্য তিনি এ প্রজাস্বত্ব আইন প্রণয়ন করেন। লর্ড রিপনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কীর্তি হলো ইলবার্ট বিল প্রণয়ন। এ বিলের মাধ্যমে তিনি ভারতীয় এবং ইউরোপীয়দের মধ্যে জাতিগত বৈষম্য নিরসনে মাধ্যমে ভারতীয় বিচারকদের ইউরোপীয় অপরাধীদের বিচার করার ক্ষমতা প্রদান করেন, যা ইতিপূর্বে ছিল না। যদিও পরবর্তীতে এ বিল সংশোধিত হয়। কিন্তু এ বিল নিয়ে ভারত ও ইউরোপীয়দের মধ্যে দ্বন্দ্ব ভারতবাসীর মাঝে জাতীয়তাবাদের সৃষ্টি করে।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, ভারতে একজন ভাইসরয় ছিলেন যিনি ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী গ্লাডস্টোনের উদারনৈতিক দলের সদস্য ছিলেন। Bengal Municiple Act প্রণয়ন তার অবিস্মরণীয় কীর্তি। উদ্দীপকের এই ভাইসরয় মূলত লর্ড রিপনেরই প্রতিচ্ছবি। কেননা উদ্দীপকের তথ্য লর্ড রিপনের সাথেই সাদৃশ্যপূর্ণ। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে ভাইসরয় লর্ড রিপনের কথা বলা হয়েছে।
লর্ড রিপন ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদী নীতির ঘোর বিরোধিতা করে ভারতীয়দের আশা-আকাঙ্ক্ষার মর্যাদা দেন।
উদ্দীপকে যে শাসকের কথা বলা হয়েছে তিনি সাম্রাজ্যবাদ নীতির বিরোধী ছিলেন। ভারতবাসীর আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতি শ্রদ্ধাশীল এই শাসক রাজনীতির ক্ষেত্রে উদারনীতি অবলম্বন করে জনসাধারণকে স্থানীয় স্বায়ত্তশাসনে উৎসাহিত করেন। লর্ড রিপনের ক্ষেত্রেও অনুরূপ দৃষ্টান্ত পরিলক্ষিত হয়।
লর্ড রিপন কলকাতা আসার পূর্বে ইংল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী গ্লাডস্টোনের উদারনৈতিক দলের সদস্য ছিলেন ১৮৫২ থেকে ১৮৭৯ সাল পর্যন্ত। পরবর্তীতে লর্ড লিটনের পদত্যাগের পর তিনি ভারতের ভাইসরয় নিযুক্ত হন ১৮৮০ সালে। তিনি সাম্রাজ্যবাদী নীতির বিরোধী ছিলেন। পাশাপাশি ভারতবাসীর রাজনৈতিক আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে রাজনীতির ক্ষেত্রে উদারনীতি অবলম্বন করে জনসাধারণকে স্থানীয় স্বায়ত্তশাসনে উৎসাহিত করেন। এভাবে অতি অল্প সময়ের মধ্যেই লর্ড রিপন একজন উদারপন্থি ও শান্তিপ্রিয় শাসক হিসেবে ভারতবাসীর নিকট পরিচিতি লাভকরেন।
উপরের আলোচনা শেষে বলা যায়, যেখানে লর্ড রিপনের পূর্ববর্তী শাসকরা সাম্রাজ্যবাদী নীতিকে প্রাধান্য দিয়েছিলেন সেখানে লর্ড রিপন এর ঘোর বিরোধী ছিলেন। তাই বলা যায়, তিনি ভারতীয়দের রাজনৈতিক আশা-আকাঙ্ক্ষার মর্যাদা দিয়েছেন।
১৯৪৬ সালে 'মন্ত্রিমিশন পরিকল্পনা' পেশ করা হয়।
বলর্ড রিপন তার উদারনৈতিক শাসনের জন্য 'Ripon the Good' নামে সুপরিচিত।
লর্ড বেন্টিংক মহীশূর রাজ্যটি ব্রিটিশ সাম্রাজ্যভুক্ত করেছিলেন। লর্ড রিপন পুনরায় এটি মহীশরের হিন্দু রাজবংশের নিকট হস্তান্তর করেন। ১৮৮২ সালে তিনি পূর্ববর্তী ভাইসরয় লর্ড লিটন প্রবর্তিত সংবাদপত্র আইন (Vernacular Press Act) রহিত করে সংবাদপত্রগুলোকে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিষয়ে মতামত প্রকাশের সুযোগ করে দেন। ভারতবর্ষে শিক্ষা বিস্তারের জন্য লর্ড রিপন ১৮৮২ সালে হান্টার কমিশন (Hunter Commission) গঠন করেন। তিনি স্থানীয় স্বায়ত্তশাসনমূলক আইন (Bengal Municipal Act) এবং রাজস্ব ও প্রজাস্বত্ব আইন করেন। এছাড়া তিনি লবণ ও অন্যান্য বাণিজ্য দ্রব্যের ওপর থেকে শুল্ক হ্রাস করে ভারতবাসীর প্রশংসা অর্জন করেন। তাই তিনি ভারতবাসীর জন্য ছিলেন 'Ripon the Good' |
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!