ডেসমন্ড টুটু ছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের এক অবিসংবাদিত নেতা।
১৮৯৩ সালে মহাত্মা গান্ধী দক্ষিণ আফ্রিকায় একটি ভারতীয় ফার্ম দাদা আব্দুল্লাহ এন্ড কোম্পানিতে এক বছরের চুক্তিতে চাকরি নিয়ে নাটাল গমন করেন। কিন্তু সেখানকার বর্ণবৈষম্যে তিনি ব্যথিত হন এবং বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলন গড়ে তোলেন।
উদ্দীপকের শ্রেণিভেদ প্রথা বিশ শতকের আমেরিকান সমাজের বর্ণবাদ সমস্যার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
উদ্দীপকে দেখা যায়; ভারতে পরবর্তী বৈদিক যুগে সমাজে শ্রেণিভেদ প্রথা প্রকট আকার ধারণ করে। ব্রাহ্মণরা উঁচু শ্রেণিভুক্ত হওয়ায় অপর তিন শ্রেণিকে ঘৃণার চোখে দেখত। বিশেষত বৈশ্য ও শূদ্র শ্রেণির সঙ্গে তারা পারস্পরিক ও বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন করত না। যদিও সমাজ বিনির্মাণে সকল শ্রেণির অবদান রয়েছে। পাঠ্যবই হতে আমরা জানতে পারি, বিশ শতকের আমেরিকান সমাজের সর্বত্র কৃষ্ণাঙ্গদের প্রতি শ্বেতাঙ্গ মানুষের ঘৃণা, অবহেলা ও বৈষম্য বিরাজ করত। ট্রামে, বাসে, স্কুলে, কলেজে, পথে-ঘাটে, চাকরিতে সর্বত্র কৃষ্ণাঙ্গদের প্রতি ছিল শ্বেতাঙ্গদের ঘৃণা। সর্বক্ষেত্রে শ্বেতাঙ্গরা কৃষ্ণাঙ্গদের তুলনায় বেশি অগ্রাধিকার ভোগ করত। তখন আমেরিকার দক্ষিণ অঞ্চলের অধিকাংশ রাজ্যেই বাসের সামনের দিকে বসবার অধিকার ছিল না নিগ্রোদের। সমস্ত বাসই সুরক্ষিত থাকত শ্বেতাঙ্গদের জন্য। বহু অঙ্গরাজ্যে নিগ্রোদের কোনো ভোটাধিকার ছিল না। সরকারি উচ্চপদে আসীন হওয়ার অধিকার ছিল না নিগ্রোদের। কৃষ্ণাঙ্গ ছাত্ররা শ্বেতাঙ্গ ছাত্রদের সাথে একই সাথে বসে খাবার খাওয়ার অধিকার পেত না। কোনো কোনো দোকানের ক্যান্টিনে কৃষ্ণাঙ্গদের কোনো খাবার অধিকার ছিল না। এভাবে আমেরিকাতে বিশ শতকে নিগ্রোরা সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে শোষণ-বঞ্চনার শিকার হয় বর্ণবাদ প্রচলিত থাকায়।
সুতরাং নিঃসন্দেহে বলা যায়, উদ্দীপকের শ্রেণিভেদ প্রথা বিশ শতকের আমেরিকান সমাজের বর্ণভেদ সমস্যার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
হ্যাঁ, আমি মনে করি, আমেরিকায় মার্টিন লুথার কিং-এর আন্দোলন সমাজের দুই শ্রেণির মধ্যকার বিদ্বেষের কারণে ছিল।
মার্টিন লুথার কিং বাল্যকাল থেকেই তার চারপাশের জগতে কৃষ্ণাঙ্গদের প্রতি শ্বেতাঙ্গ মানুষদের ঘৃণা, অবহেলা ও বৈষম্য | অবলোকন করে ব্যথিত হন। এ বৈষম্য গভীরভাবে বিচলিত করত কিংকে। তাই মার্টিন লুথার ছাত্রজীবন থেকেই নিগ্রোদের দ্বারা পরিচালিত বর্ণবৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে সমর্থন দিয়ে আসছিলেন। ধর্মযাজক হিসেবে যোগদান করার পর থেকে তিনি সরাসরি এ 1 আন্দোলনের প্রতি যুক্ত হন। তিনি নিগ্রোদের মধ্যে ঘুরে ঘুরে তাদের মধ্যে সাহস যুগিয়েছেন ও শক্তির সৃষ্টি করেছেন। ফলে তাঁর বিরুদ্ধে শ্বেতাঙ্গরা সোচ্চার হয়ে ওঠে। কিন্তু কোনো ভয়ভীতি তাকে পিছু হটাতে পারেনি। কিছুদিনের মধ্যে মার্টিন লুথার কিং নিগ্রোদের কাছে প্রতিবাদের মূর্ত প্রতীক হয়ে উঠেন। এসময় শ্বেতাঙ্গরা তাকে বিদুপ করে বলত নিগ্রো ধর্মগুরু। তিনি আমেরিকার বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে প্রচার করেন যে, বর্ণবৈষম্যের বিরুদ্ধে অহিংস আন্দোলনে যোগ দেওয়ার জন্য সমস্ত নিগ্রোর কাছে আহ্বান জানাতে থাকেন। ফলে ধীরে ধীরে প্রায় প্রতিটি অঙ্গরাজ্যে বর্ণবৈষম্য বিরোধী আন্দোলন জোরদার হয়ে ওঠে। মার্টিন লুথার কিং আমেরিকায় সকল নিগ্রো মানুষের অবিসংবাদী নেতায় পরিণত হন। বর্ণবৈষম্যের বিরুদ্ধে আন্দোলন পরিচালনা করায় একসময় তার জীবন বিপন্ন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল। শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের ওপর শ্বেতাঙ্গরা হিংস্রভাবে আক্রমণ করে সামান্যের জন্য রক্ষা পান মার্টিন লুথার কিং।
সার্বিক আলোচনার প্রেক্ষিতে একথা বলাই অধিক যুক্তিসংগত যে, আমেরিকায় মার্কিন লুথার কিং-এর আন্দোলন সমাজের দুই শ্রেণির মধ্যকার বিদ্বেষের কারণে ছিল।
Related Question
View Allমার্টিন লুথার কিং আমেরিকার মন্টগোমারি রাজ্যের আটলান্টা শহরে জন্মগ্রহণ করেন।
ফ্রান্সের অভিজাতগণ দাবি করেন, অভিজাতরা বহিরাগত বিজেতা জাতি ফ্রাঙ্ক-এর বংশধর। ফ্রাঙ্কিশগণ যেহেতু শ্রেষ্ঠ এবং তাদের দ্বারাই ফ্রান্স প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, সেহেতু জন্মগতভাবেই তারা তৃতীয় শ্রেণির চেয়ে শ্রেষ্ঠ। এ কারণে সকল প্রকার রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা, নেতৃত্ব অভিজাতদের প্রাপ্য। তৃতীয় শ্রেণির লোকদের তারা বলে, এরা দাসদের সাথে সংকরায়নের ফলে উদ্ধৃত এজন্য তারা নিকৃষ্ট। আর এভাবে ফ্রান্সে বৈষম্য সৃষ্টি হয়।
উদ্দীপকের বিষয়টি আমার পাঠ্যবইয়ের বর্ণবাদ প্রথার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।
উদ্দীপকে বর্ণিত জুয়েলের গায়ের রং ফর্সা, তমালের গায়ের রং কালো। এ কারণে জুয়েল তমালকে ঘৃণার চোখে দেখে। জুয়েল মনে করে, তমালদের পূর্বপুরুষ নীচু জাতের। এজন্যই তমালের গায়ের রং কালো। উদ্দীপকের এ ঘটনার সাথে পাঠ্যবইয়ের বর্ণবাদ প্রথার সাদৃশ্য রয়েছে। ঔপনিবেশিক শাসন ও শোষণের কারণে বর্ণবাদের ধারণার সৃষ্টি হয়। বর্ণবাদ মানব সমাজে বিদ্যমান একটি ঘৃণ্যপ্রথা। আমেরিকা ও দক্ষিণ আফ্রিকায় এ প্রথা মানবতাকে কলঙ্কিত করেছিল। শ্বেতাঙ্গ ও কৃষ্ণাঙ্গদের মধ্যে আধিপত্যের প্রতিযোগিতা উভয় সম্প্রদায়ের মধ্যে জাতিগত দ্বন্দ্ব ও সংঘাতের বীজ বপন করে দীর্ঘকাল টিকেছিল। বর্ণবাদের মর্মকথা হলো শ্বেতাঙ্গরা জন্মগতভাবে কৃষ্ণাঙ্গদের বা অন্যান্য জাতি অপেক্ষা উৎকৃষ্ট এবং দ্বিতীয় শ্রেণির ওপর কর্তৃত্ব করার অধিকার আছে এবং তাদের প্রতি বৈষম্য আচরণ করা দোষের কিছু নয়।' পরিশেষে বলা যায়, উপনিবেশবাদ ও চরম জাতীয়তাবাদের ধারণা থেকেই বর্ণবাদের সৃষ্টি হয়েছে।
হ্যাঁ, আমি মনে করি উক্ত ধারণার জন্য অর্থাৎ বর্ণবাদ প্রথার জন্য অনেক দেশে সংঘাত সৃষ্টি হয়েছিল।
আমেরিকা ও আফ্রিকা মহাদেশে বর্ণবাদের কারণে সংঘাত সৃষ্টি * হয়েছিল। আমেরিকা মহাদেশে কৃষিকাজ ও অন্যান্য শ্রম কাজের জন্য আফ্রিকা থেকে নিগ্রোদের সেখানে নিয়ে যাওয়া হতো। আফ্রিকার কালো মানুষের প্রতি আমেরিকার শ্বেতাঙ্গরা বর্ণবাদ নীতি অনুসরণ করত। আমেরিকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বাস, ট্রেন, খাবারের দোকান প্রভৃতি ক্ষেত্রে শ্বেতাঙ্গরা কৃষ্ণাঙ্গদের সাথে বর্ণবাদ নীতি অনুসরণ করত। দক্ষিণ আফ্রিকায় ঔপনিবেশিক শাসনামলে শ্বেতাঙ্গরা কৃষ্ণাঙ্গদের ওপর কর্তৃত্ব করত। কৃষ্ণাঙ্গরা খনি এবং কঠিন কাজে নিয়োগ পেত; কিন্তু মজুরি পেত কম আর শ্বেতাঙ্গরা কম পরিশ্রমে বেশি বেতন পেত। এমনকি আমাদের ভারতীয় উপমহাদেশের অভিবাসী শ্বেতাঙ্গরাও শ্বেতাঙ্গ শাসকদের কাছে পক্ষপাতমূলক আচরণ পেত। স্থানীয় ভারতীয় বিচারকরা ইউরোপীয় শ্বেতাঙ্গদের বিচার করতে পারত না। বর্ণবাদ প্রথার কারণে আমেরিকা, দক্ষিণ আফ্রিকাসহ বহুদেশে সংঘাত হয়েছে।পরিশেষে বলা যায়, বর্ণবাদ প্রথার কারণে আমেরিকা ও আফ্রিকাসহ বহু দেশে সংঘাত সৃষ্টি হয়েছে।
নেলসন ম্যান্ডেলা ২৭ বছর জেল খেটেছিলেন।
১৯১২ সালের ৮ জানুয়ারি দক্ষিণ আফ্রিকার কৃষ্ণাঙ্গদের প্রথম জাতীয় পর্যায়ের রাজনৈতিক সংগঠন আফ্রিকান জাতীয় কংগ্রেস সংক্ষেপে ANC প্রতিষ্ঠিত হয়। এ সংগঠন আফ্রিকানদের সংহতি, যাবতীয় ধরনের বর্ণবৈষম্যবাদের বিরোধিতা করে এবং বর্ণবৈষম্যমুক্ত একীভূত ও গণতান্ত্রিক দক্ষিণ আফ্রিকা প্রতিষ্ঠার পক্ষে ঘোষণা দেয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!