'শতাব্দী' শব্দের অর্থ একশ বছর।
সাধারণ মানুষের মুখের ভাষাকে প্রাকৃত ভাষা বলে।
বৈদিক যুগে সাধারণ মানুষের কথ্য ভাষা ছিল প্রাকৃত ভাষা। এ সময় সংস্কৃত ভাষা ছিল সমাজের উঁচু শ্রেণির মানুষের লেখার ভাষা। সাধারণ মানুষ এ ভাষায় কথা বলত না। তারা তাদের দৈনন্দিন জীবনের প্রায় সমস্ত কাজেই প্রাকৃত ভাষা ব্যবহার করত। তাই প্রাকৃত ভাষা বলতে বোঝায় সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের কথ্য ভাষা।
উদ্দীপকের সঙ্গে 'বাংলা ভাষার জন্মকথা' প্রবন্ধের দৃষ্টান্তগত পার্থক্য আছে।
ভাষা হঠাৎ করে সৃষ্টি হয় না। ধীরে ধীরে বিবর্তনের মাধ্যমে ভাষার রূপ বদলে যেতে থাকে। ভাষার ভেতরে যে শব্দের সমষ্টি থাকে, সেই শব্দ সমষ্টি থেকে শব্দের রূপ ও অর্থ পরিবর্তন হতে থাকে। সেই পরিবর্তনই এক সময় ভাষার পরিবর্তনে রূপ নেয়।
উদ্দীপকে ভাষার জন্মের কথা বলা হয়েছে। বলা হয়েছে ভাষা জীবের মতো জন্মগ্রহণ করে না। নদী প্রবাহের মতো তার রূপ বা গতিপথ বদলায়। তবে উদ্দীপকে ভাষার পরিবর্তনের কোনো দৃষ্টান্ত নেই। কিন্তু 'বাংলা ভাষার জন্মকথা' প্রবন্ধে বাংলা ভাষার উৎপত্তি বিশ্লেষণ করতে গিয়ে নানা দৃষ্টান্ত দেওয়া হয়েছে। সেখানে প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা থেকে কীভাবে বিভিন্ন স্তরের মাধ্যমে বিবর্তনের মধ্য দিয়ে বাংলা ভাষাসহ একই শাখার অন্যান্য ভাষার জন্ম হয়েছে তার বর্ণনা করা হয়েছে। উদ্দীপকে যে বক্তব্য উপস্থাপিত হয়েছে 'বাংলা ভাষার জন্মকথা' প্রবন্ধে তা দৃষ্টান্তসহ দেখানো হয়েছে। এ দৃষ্টান্তগত পার্থক্যই উদ্দীপক ও 'বাংলা ভাষার জন্মকথা' প্রবন্ধের মধ্যে বৈসাদৃশ্য সৃষ্টি করে।
উদ্দীপকের বক্তব্য 'বাংলা ভাষার জন্মকথা' প্রবন্ধের আলোকে যথাযথ সত্য।
কোনো এক বিশেষ জাতি-গোষ্ঠীর ভাব প্রকাশের সম্মিলিত ও স্বীকৃত ধ্বনি উচ্চারণের মধ্য দিয়ে ভাষার সূত্রপাত। তবে ভাষার এ জন্মরূপ পরবর্তীতে আর থাকে না। ক্রমেই তা পরিবর্তিত হতে থাকে।
উদ্দীপকে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর ভাষার জন্ম বিষয়ক বক্তব্যের একটি অংশ প্রকাশ পেয়েছে। সেখানে তিনি বলেছেন, ভাষা জীবের মতো নির্দিষ্ট সময় অনুযায়ী জন্মগ্রহণ করে না। আবার ভাষ্য তার পরিবর্তনশীল বৈশিষ্ট্যের কারণে ওই ভাষীগোষ্ঠীর কাছেই সেই ভাষার আদি বা মধ্য রূপ অপরিচিত মনে হয়। 'বাংলা ভাষার জন্মকথা' প্রবন্ধে বাংলা ভাষার উৎপত্তির বিভিন্ন মতবাদসহ এ ভাষার পরিবর্তনের দীর্ঘ ধারাবাহিক বিবর্তনের রূপটি দেখানো হয়েছে। ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষাবংশ থেকে ক্রমান্বয়ে প্রাকৃত, এরপর অপভ্রংশের মধ্য দিয়ে বাংলা ভাষার জন্মের ইতিহাসটি এ প্রবন্ধে বিবৃত হয়েছে।
'বাংলা ভাষার জন্মকথা' প্রবন্ধে বাংলা ভাষার জন্মের যে ইতিহাস বর্ণনা করা হয়েছে, বাংলা ভাষা পরবর্তীতে তার জন্মরূপ হুবহু আর ধরে রাখতে পারেনি। আজকের বাংলা ভাষা তার আদি রূপ থেকে অনেকাংশেই আলাদা। উদ্দীপকে ভাষার জন্ম ও তার পরিবর্তনের যে বৈশিষ্ট্য তুলে ধরা হয়েছে, আলোচিত প্রবন্ধে ভাষার জন্ম ইতিহাস আলোচনার মাধ্যমে তা-ই দেখানো হয়েছে। এ কারণেই বলা যায় যে, উদ্দীপকের বক্তব্য 'বাংলা ভাষার জন্মকথা' প্রবন্ধের আলোকে যথাযথ সত্য।
Related Question
View All'সংস্কৃত' শব্দের আভিধানিক অর্থ মার্জিত, সংশোধিত বা পরিমার্জিত করা হয়েছে এমন।
সংস্কৃত ভাষার অনেক শব্দ বাংলা ভাষায় এসেছে, এ কারণেই একদল লোক বাংলাকে সংস্কৃতের মেয়ে মনে করত।
একদল লোক মনে করত বাংলা সংস্কৃতের দুষ্টু মেয়ে। সংস্কৃত শব্দ থেকেই জন্ম নেয় বাংলা শব্দ। তবে দুষ্টু মেয়ে মায়ের কথামতো চলেনি। ফলে পরিবর্তন হতে হতে অন্য রকম হয়ে গেছে। তবে বাংলা ভাষার বিবর্তনের ক্ষেত্রে অধিকাংশ ভাষাবিদ এ মত স্বীকার করেননি।
অনুচ্ছেদের ১ নং বৈশিষ্ট্যটির মধ্য দিয়ে 'বাংলা ভাষার জন্মকথা' প্রবন্ধের ভাষার পরিবর্তনশীলতার দিকটি প্রকাশ পেয়েছে।
ভাষা নিয়ত পরিবর্তনশীল। সৃষ্টির শুরু থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত ভাষা সর্বদা পরিবর্তন হচ্ছে। এ কারণেই পূর্বে ভাষা যেমন ছিল বর্তমানে ঠিক তেমন নেই। ভাষার অনেক পরিবর্তন সাধিত হয়েছে।
'বাংলা ভাষার জন্মকথা' প্রবন্ধে হুমায়ুন আজাদ বলেছেন, 'ভাষার ধর্মই বদলে যাওয়া।' বর্তমানে আমরা যে বাংলা ভাষায় কথা বলি, পূর্বে তা এমন ছিল না, ভবিষ্যতেও আজকের মতো এমন থাকবে না। দিনের পর দিন মানুষের মুখে মুখে ভাষা ব্যবহৃত হতে হতে তার রূপ, অর্থ বা ধ্বনি বদলে যায়। আলোচ্য উদ্দীপকেও বলা হয়েছে, ভাষা যত কঠিনই হোক, ক্রমান্বয়ে ব্যবহারের ফলে তা সহজ ও সরল হয়ে ওঠে অর্থাৎ ভাষার শব্দগুলোর ধ্বনি বা রূপ পরিবর্তন হয়। যেমন- চক্র > চক্ক> চাকা। তাই বলা যায় যে, অনুচ্ছেদের ১ নং বৈশিষ্ট্যের মধ্য দিয়ে আলোচ্য প্রবন্ধের ভাষার পরিবর্তনশীলতার দিকটি প্রকাশ পেয়েছে।
ইফতি পিয়ার পঠিত ২ নং বৈশিষ্ট্যটি 'বাংলা ভাষার জন্মকথা' প্রবন্ধের আলোকে যথার্থ।
ভাষা গতিশীল। মানুষের মুখে মুখে বদলাতে থাকে ভাষা। পৃথিবীর প্রতিটি ভাষার বর্তমান রূপ সেই ভাষার পূর্ব রূপের পরিবর্তিত ফল।
'বাংলা ভাষার জন্মকথা' প্রবন্ধটিতে লেখক বাংলা ভাষার উৎপত্তি ও বিকাশ সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। লেখক বলেছেন, মানুষের মুখে মুখে বদলে যায় ভাষার ধ্বনি, রূপ বা অর্থ। বিভিন্ন স্তরের মধ্য দিয়ে ভাষার রূপ পরিবর্তন হয়, পরিবর্তন ঘটে স্থান ও কালের জন্য। এই বিষয়টি উদ্দীপকের ইফতি পিয়ার পঠিত ২. নং বৈশিষ্ট্যেও প্রকাশ পেয়েছে। সেখানে ইফতি পিয়া জেনেছে কালের পরিক্রমায় একটি ভাষার স্থানিক ও কালিক বৈশিষ্ট্য ধারণ করে বহুরূপী হয়ে ওঠে।
উদ্দীপকের ২ নং বৈশিষ্ট্যে প্রকাশ পেয়েছে ভাষার স্থানিক ও কালিক বৈশিষ্ট্য ধারণ করে বহুরূপী হয়ে ওঠার কথা। এছাড়াও বলা হয়েছে ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষাবংশের কথা। আলোচ্য প্রবন্ধেও বলা হয়েছে, ইউরোপ ও এশিয়ার বেশকিছু ভাষার ধ্বনিতে শব্দে মিল রয়েছে। ভাষাতাত্ত্বিকদের মতে, এ ভাষাবংশটির নাম ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষাবংশ। যে ভাষাবংশ থেকে সৃষ্টি হয়েছে হাজার হাজার ভাষা। অর্থাৎ স্থান ও কালের বৈশিষ্ট্যে ভাষার পার্থক্য সৃষ্টি হলেও একই ভাষাবংশের হওয়ায় এগুলোর মধ্যে গভীর মিলও পরিলক্ষিত হয়। তাই বলা যায় যে, ইফতি পিয়ার পঠিত ২ নং বৈশিষ্ট্যটি আলোচ্য প্রবন্ধের আলোকে যথার্থ।
'অলৌকিক ইস্টিমার' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা হুমায়ুন আজাদ।
ভাষার বদলে যাওয়া ধর্মের কারণে এক হাজার বছর পর বাংলা ভাষা বর্তমানে রূপে আছে ঠিক এমন থাকবে না।
ভাষার ধর্মই বদলে যাওয়া। বাংলা ভাষার জন্ম কোনো গাছ বা মানুষের মতো হয়নি বা কোনো কল্পিত স্বর্গ থেকেও আসেনি। ভাষার বদলের মধ্য দিয়েই জন্ম হয়েছে বাংলা ভাষার। মানুষের মুখে মুখে ব্যবহারের ফলে বদলে যায় ভাষার ধ্বনি। এখন আমরা যে বাংলা ভাষায় কথা বলি তা এক হাজার বছর আগে এমন ছিল না। আর এ কারণেই এক হাজার বছর পরও বাংলা ভাষা ঠিক এমন থাকবে না।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!