যে অভিক্ষেপে কোনো আলোকসম্পাত না করে শুধু গাণিতিক হিসাবের সাহায্যে গ্রাটিকুলগুলো তৈরি ও অঙ্কন করা হয় তাই অদৃশ্যানুগ অভিক্ষেপ।
সরল বেলন অভিক্ষেপ একটি আলোকসম্পাতবিহীন অভিক্ষেপ। এ অভিক্ষেপ অঙ্কন পদ্ধতি সহজ। এতে কল্পনা করা হয় যে, বেলন বা নলটি পৃথিবীকে নিরক্ষরেখা বরাবর স্পর্শ করে আছে। নলটিকে এর অক্ষরেখা বরাবর কেটে বিছিয়ে ধরলে নিরক্ষরেখার দৈর্ঘ্য নলের দৈর্ঘ্যের সমান হবে এবং বৃত্তাকার নিরক্ষরেখা সরলরেখায় রূপান্তরিত হবে। এ অভিক্ষেপে অক্ষরেখা ও দ্রাঘিমারেখাগুলো পরস্পর সমান দূরত্বে অবস্থান করে।
উদ্দীপকের শিক্ষক জনাব মুজিবুর রহমান পাটোয়ারীর নির্দেশমতো একটি সরল শাঙ্কব অভিক্ষেপ অঙ্কন করা হলো-


= ১.৫" (প্রায়)
ভূগোলকের পরিধি বা নিরক্ষরেখার দৈর্ঘ্য =
= ৯.৪৩''
ব্যবধানের জন্য চাপ দূরত্ব =
= ০.৩৯"
চিত্রে মোটা দাগের অক্ষরেখাটি পরিমিত অক্ষরেখা।
গ'-তে অঙ্কিত চিত্রের আলোকে সরল শাঙ্কব অভিক্ষেপের অঙ্কন পদ্ধতি বিশ্লেষণ করা হলো-
প্রথম চিত্র, ১.৫" ব্যাসার্ধ নিয়ে একটি বৃত্ত অঙ্কন করে বিষুবরেখা 'কখ' অঙ্কন করা হলো। বৃত্তের কেন্দ্র ক। এবার <ঙকখ = ৪৫° পরিমিত অক্ষরেখা ও <ঘকখ = ১৫° দ্রাঘিমার ব্যবধান চিহ্নিত হলো। এছাড়া <গকখ = ৯০° চিহ্নিত হয়েছে। এখন বৃত্তের ৪৫° পরিমিত অক্ষরেখার সাথে সমকোণে একটি 'ঙঙ' স্পর্শক অঙ্কন করতে হবে। এরপর ব্যবধানে বৃত্তের কেন্দ্র থেকে একটি অর্ধবৃত্ত চাপ অঙ্কন করতে হবে যা ৪৫° পরিমিত অক্ষরেখাকে 'ছ' বিন্দুতে ছেদ করে। উক্ত ছেদবিন্দু হতে 'কগ' রেখার সাথে বিষুব রেখার সমান্তরাল করে একটি রেখা 'চছ' অঙ্কন করতে হবে।
দ্বিতীয় চিত্র, একটি উল্লম্ব রেখা অঙ্কন করতে হবে। এটা অভিক্ষেপের মধ্য দ্রাঘিমা হিসেবে পরিচিত। উল্লম্ব রেখার শীর্ষবিন্দু কে কেন্দ্র করে ১ম চিত্রের 'ঙঙ' স্পর্শকের সমান ব্যাসার্ধ নিয়ে একটি বৃত্তচাপ অঙ্কন করতে হবে। উক্ত বৃত্তচাপের ওপর 'চছ' এর সমান ব্যবধান নিয়ে মূল দ্রাঘিমার উভয় পাশে বিন্দু চিহ্নিত করতে হবে। ব্যবধানে (খঘ) দ্বিতীয় চিত্রে মধ্য দ্রাঘিমারেখায় পরিমিত অক্ষরেখার বৃত্তচাপের উপরে পরপর দুইটি বৃত্তচাপ ও নিচে পরপর তিনটি বৃত্তচাপ অঙ্কন করতে হবে। ৪৫° পরিমিত অক্ষরেখার বৃত্তচাপের ওপর চিহ্নিত বিন্দুগুলো 'প' শীর্ষ বিন্দুর সাথে যোগ করে দ্রাঘিমারেখাগুলোর মান চিহ্নিত করা যায়। সবশেষে অক্ষরেখা চিহ্নিত করতে বৃত্তচাপগুলোর মান যথাক্রমে এবং দ্রাঘিমা রেখাগুলোর মান যথাক্রমে শিখতে হয়। দুইটি চিত্রের নিচের মাঝামাঝিতে প্র. অ. ১: ১৬৭,০০০,০০০ লিখতে হয়।
Related Question
View Allভৌগোলিক তথ্য সংরক্ষণ ও বিশ্লেষণ ব্যবস্থাকে সংক্ষেপে জিআইএস বলা হয়।
মানচিত্র অভিক্ষেপ বলতে কোনো সমতলের ওপর সৃষ্ট গ্রাটিকুলকে বোঝায়।
কোনো সমতল কাগজের উপর সমগ্র পৃথিবী বা এর কোনো অংশের মানচিত্র অঙ্কন করার জন্য নির্দিষ্ট স্কেলে অক্ষরেখা ও দ্রাঘিমারেখাগুলো জালের ন্যায় ছকে প্রকাশ করা হয়। একে অভিক্ষেপ বলে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত অভিক্ষেপটি হচ্ছে সরল শাঙ্কব অভিক্ষেপ।
উক্ত অভিক্ষেপের ক্ষেত্রে ব্যবধানে ১: ১,৪৭,০০,০০০ স্কেলে এবং পরিমিত অক্ষরেখা (এক পরিমিত) নিয়ে অভিক্ষেপটির গাণিতিক হিসাব নিচে নির্ণয় করা হলো-
হিসাব নিরূপণ :
পৃথিবীর ব্যাসার্ধ, r = পৃথিবীর প্রকৃত ব্যাসার্ধ
প্রদত্ত স্কেল
= ১.৭ ইঞ্চি।
IN.B: পৃথিবীর প্রকৃত ব্যাসার্ধ ৪০০০ মাইল বা () ইঞ্চি যা পূর্ণ সংখ্যায় ২৫০,০০০,০০০ ইঞ্চি ধরা হয়।।

= ০.৪৫% ইঞ্চি।
অতএব, অক্ষরেখাগুলোর মধ্যবর্তী পরস্পর দূরত্ব হবে ০.৪৫ ইঞ্চি। অর্থাৎ ০.৪৫ ইঞ্চি দূরে দূরে অক্ষরেখা নিয়ে একটি সরল শাঙ্কব অভিক্ষেপ আঁকতে হবে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত অভিক্ষেপটি হচ্ছে সরল শাঙ্কব অভিক্ষেপ। নিচে এর বৈশিষ্ট্য ও প্রয়োগ বিশ্লেষণ করা হলো-
এ অভিক্ষেপে দ্রাঘিমাগুলো সর্বদা সমান এবং একই কেন্দ্র হতে বিচ্ছুরিত। কিন্তু অক্ষরেখাগুলো চাপের ন্যায় দৈর্ঘ্য উত্তরে ক্রমশ কম ও দক্ষিণে বেশি। সকল দ্রাঘিমা বরাবর স্কেল ঠিক থাকে কিন্তু কেবল পরিমিত অক্ষরেখা (Standard Parallel) ছাড়া অন্যান্য অক্ষরেখা বরাবর স্কেল ঠিক থাকে না। পরিমিত অক্ষরেখা তথা অভিক্ষেপের মধ্যভাগে স্কেল ঠিক থাকায় সেখানকার মানচিত্রের বিকৃতি খুবই কম। কিন্তু অন্যান্য অঞ্চলের মানচিত্রে যথেষ্ট বিকৃতি ঘটে। এ অভিক্ষেপে কেবল একটি গোলার্ধ দেখানো সম্ভব হয়। একই সাথে দুটি গোলার্ধ দেখানো সম্ভব নয়।
পরিমিত অক্ষরেখা বরাবর ও তার উভয় পার্শ্বে স্বল্প পরিসর স্থানের আয়তন কিছুটা নির্ভুল হয় বলে এর সাহায্যে কোনো ক্ষুদ্রাকৃতি দেশের বা কোনো দেশের অল্পস্থানের মানচিত্র নির্ভুলভাবে অঙ্কন করা যায়। এ কারণে ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড, নেদারল্যান্ড প্রভৃতি ক্ষুদ্রাকৃতি দেশগুলোর মানচিত্র অঙ্কন করার জন্য এটি বিশেষভাবে উপযোগী।
সমগ্র পৃথিবী বা তার অংশবিশেষের মানচিত্র অঙ্কন করার জন্য নির্দিষ্ট স্কেলে পৃথিবীর অক্ষরেখা ও দ্রাঘিমারেখাগুলো সঠিকভাবে অঙ্কন করাকে অভিক্ষেপ বলে।
পৃথিবী ও এর অংশবিশেষকে কোনো সমতল ক্ষেত্রে প্রতিরূপ প্রদান করাকে মানচিত্র (Map) বলা হয়। মানচিত্র একজন ভূগোলবিদের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার। এর সাহায্যে ঘরে বসে অল্প সময়ে সমগ্র পৃথিবী সম্পর্কে সম্যক ধারণা পাওয়া যায়।
মানচিত্র শব্দটির ইংরেজি প্রতিশব্দ Map যা ল্যাটিন শব্দ Mappa থেকে এসেছে; যার অর্থ কাপড়ের টুকরা। অতীতে মূলত কাপড়ের টুকরার উপরই মানচিত্র অঙ্কন করা হতো।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!