নদীর অধিক বিস্তৃত মোহনাকে খাঁড়ি বলে।
উঁচু পর্বত, মালভূমি বা উঁচু কোনো স্থান থেকে বৃষ্টি, প্রস্রবণ, হিমবাহ বা বরফগলা পানির ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র স্রোতধারার মিলিত প্রবাহ মাধ্যাকর্ষণ শক্তির প্রভাবে নির্দিষ্ট খাতে প্রবাহিত হয়। এ প্রবাহ সমভূমি বা নিম্নভূমির উপর দিয়ে কোনো বিশাল জলাশয় বা হ্রদে মিলিত হয়ে নদীর সৃষ্টি হয়।
জাউদ্দীপকে শিক্ষকের প্রথম উক্তি অনুসারে উৎস থেকে মোহনা পর্যন্ত নদীর গতিপথকে তিনভাগে ভাগ করা হয়। যেমন- ঊর্ধ্বগতি, মধ্যগতি ও নিম্নগতি। নিচে এগুলো বর্ণনা করা হলো-
ঊর্ধ্বগতি: এটি নদীর প্রাথমিক অবস্থা, পর্বতের উৎসস্থান থেকে সমভূমিতে পৌঁছানো পর্যন্ত অংশকে নদীর ঊর্ধ্বগতি বলে। ঊর্ধ্বগতিতে নদীর প্রধান কাজ ক্ষয়সাধন।
মধ্যগতি: মধ্যগতিতে নদী সমভূমির উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এসময় নদী বিস্তার লাভ করে কিন্তু গভীরতা কমে যায় এবং নদী সঞ্চয় কাজ শুরু করে।
নিম্নগতি: এটি নদীর জীবনচক্রের শেষ পর্যায়। এ অবস্থায় নিম্নক্ষয় বন্ধ থাকে ও পার্শ্বক্ষয় হয় অল্পপরিমাণে। নদী উপত্যকা খুব চওড়া ও গভীর হয়। স্রোতের বেগ একেবারে কম থাকায় পানিবাহিত বালুকণা কাদা নদীগর্ভে ও মোহনায় সঞ্চিত হয়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত উৎস্থলে নদীর ক্ষয়কার্য দ্বারা সৃষ্ট ভূমিরূপগুলোর গঠন প্রক্রিয়া বর্ণনা করা হলো-
সিন্ধু নদের গিরিখাত: এটি পৃথিবীর অন্যতম বৃহৎ গিরিখাত। ঊর্ধ্বগতি
অবস্থায় নদীর প্রবল স্রোত খাড়া পর্বতগাত্র বেয়ে নিচের দিকে প্রবাহিত হলে ভূপৃষ্ঠ ক্ষয় হয় এবং ভূত্বক থেকে শিলাখন্ড ভেঙ্গে পড়ে। শিলাগুলো পরস্পরের সঙ্গে ও নদী খাতের সঙ্গে সংঘর্ষের ফলে নদীর খাত গভীর ও সংকীর্ণ হয়ে এ ধরনের ভূমিরূপ গঠিত হয়।
গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন: নদী যদি শুষ্ক অঞ্চল দিয়ে প্রবাহিত হয় এবং সেখানে কোমল শিলাস্তর থাকে তাহলে গিরিখাতগুলো অত্যন্ত গভীর ও সংকীর্ণ হয়ে ক্যানিয়নের সৃষ্টি করে। উত্তর আমেরিকার কলোরাডো নদীতে এভাবে গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন গঠিত হয়।
নায়াগ্রা জলপ্রপাত: ঊর্ধ্বগতিতে নদী পর্যায়ক্রমে কঠিন শিলা ও নরম
শিলার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়, ফলে নরম শিলাস্তর বেশি পরিমাণে ক্ষয় হয়। নরম শিলাস্তরের তুলনায় কঠিন শিলাস্তর অনেক উপরে অবস্থান করে বলে পানি খাড়াভাবে নিচে পড়ে জলপ্রপাত সৃষ্টি হয়। উত্তর আমেরিকার সেন্ট লরেন্স নদীতে এভাবে নায়াগ্রা জলপ্রপাত গঠিত হয়েছে।
Related Question
View Allযে খাতের মধ্য দিয়ে নদী প্রবাহিত হয় সে খাতকে নদী উপত্যকা বলে।
উর্ধ্বগতি অবস্থায় নদীর স্রোতের বেগ প্রবল হওয়ার কারণে নদী বড় বড় শিলাখন্ডকে বহন করে নিচের দিকে অগ্রসর হয়। পর্বতগুলো কঠিন শিলা দ্বারা গঠিত হলেও মাঝে মাঝে নরম শিলাও থাকে। নদীখাতে পার্শ্ব অপেক্ষা নিম্নদিকের শিলা বেশি কোমল বলে পার্শ্বক্ষয় অপেক্ষা নিম্নক্ষয় বেশি হয়। এভাবে ক্রমশ ক্ষয়ের ফলে নদী উপত্যকা অনেকটা ইংরেজি 'V' আকৃতির হয়।তাই একে 'V' উপত্যকা বলা হয়।
প্রবাহিত নদী খাতকে উক্ত নদীর উপত্যকা বলে।
ঊর্ধ্বগতিতে নদীর পার্শ্বক্ষয় অপেক্ষা নিম্নক্ষয় বেশি হয় বলে উপত্যকা 'V' আকৃতির হয়।
ঊর্ধ্বগতি অবস্থায় নদীর স্রোতের বেগ প্রবল হওয়ায় তা বড় বড় শিলাখণ্ডকে বহন করে নিচের দিকে অগ্রসর হয়। পর্বতগুলো কঠিন শিলা দ্বারা গঠিত হলেও মাঝে মাঝে নরম শিলাও থাকে। নদীখাতে নিচের শিলা বেশি কোমল বলে পার্শ্ব অপেক্ষা নিম্নক্ষয় বেশি হয়। এভাবে ক্রমশ ক্ষয়ের ফলে নদী উপত্যকা অনেকটা ইংরেজি 'V' আকৃতির হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!